ঢাকা, মঙ্গলবার, ২০ আগস্ট ২০১৯, ০৫ ভাদ্র ১৪২৬, ১৮ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

ইসলামী জীবন

মাতা-পিতার খেদমত

মো:শামসুল ইসলাম সাদিক | প্রকাশের সময় : ১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৯, ১২:৪১ এএম

এক

মানুষ আশরাফুল মাখলুকাতের অন্যতম সৃষ্টি। আর মানব জাতিকে মাতা-পিতার মাধ্যমেই এই সুন্দর ধরনীর আলো বাতাস দেখিয়েছেন। এই জগতের মাঝে মাতা-পিতাই হচ্ছেন সন্তানের সব থেকে বড় আপনজন। সন্তানের জন্য মাতা-পিতার মতো সবচেয়ে আপনজন এই পৃথিবীর মাঝে দ্বিতীয় কেউ নেই। সন্তান জন্ম নেয়ার পর মাতা-পিতা সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করে সকল প্রকার আরাম- আয়েশ বিস্বর্জন দিয়ে সন্তানদের কে লালন-পালন করে তোলেন। সে বিষয় অনেক মর্যাদা ও পূর্ণের হওয়া রাব্বে কারিম মাতা-পিতার খেদমত করার জন্য সর্বাধিক তাগিদ দিয়েছেন। মহান রাব্বে কারিম তাঁর ইবাদতের পর পরই মানুষকে মাতা-পিতার খেদমত করার নির্দেশ দিয়েছেন।
মুসলিম জাতির উপর মহান রাব্বুল আলামীনের ইবাদত করা যেমনি ফরজ ঠিক মাতা-পিতার খেদমত করা প্রত্যেক মানুষের উপর তেমনি ভাবে ফরজ। সর্বাস্থায় যেমন রাব্বে কারিমের সকল হুকুমের বাধ্য থাকতে হবে তেমনি জীবনের প্রতিক্ষেত্রে মাতা-পিতার অনুগত থাকতে হবে এবং সকল সময় তাঁদের খেদমত করতে হবে। মাতা-পিতার সাথে উন্নত ও সুন্দর আচরণ করার এবং তাঁদের খেদমত করার জন্য রাব্বে কারিম সূরা- বণিইসরাঈলের ২৩-২৫ নং আয়াতে সুস্পষ্ট ভাষায় ইরশাদ করেন- তোমাদের প্রতিপালক নির্দেশ দিয়েছেন যে, তিনি ব্যতীত তোমরা অন্য কারো ইবাদত করোনা, এবং মাতা-পিতার প্রতি সর্বদা সদ্ব্যবহার কর। তাদের একজন বা উভয়েই তোমাদের জীবদ্দশায় বার্ধ্যকে উপনীত হলে তাদেরকে ‘উফ’ শব্দ বলোনা (বিরক্তি, উপেক্ষা, অবজ্ঞা, ক্রোধ ও ঘৃণাসূচক কোনো কথা বলো না) এবং তাদেরকে ধমক দিওয়া, তাদের সাথে সম্মান সূচক ন¤্র কথা বল। মমতাবশে তাদের প্রতি ন¤্রতার পক্ষপুট অবনমিত কর এবং বল “হে আমার রব ! তাদের প্রতি দয়া কর যেভাবে শৈশবে তাঁরা আমাকে প্রতিপালন করেছিলেন। তোমাদের অন্তরে যা আছে তা তোমাদের প্রতিপালক ভাল করেই জানেন। যদি তোমরা সৎ হও, তবে তিনি তওবাকারীদের জন্য ক্ষমাশীল”।
মাতা-পিতার সাথে উত্তম ব্যবহার করার নির্দেশ দিয়ে সূরা- নিসার ৩৬ নং আয়াতে রাব্বে কারিম ইরশাদ করেন- “তোমরা তোমাদের রবের ইবাদত করবে ও কোন কিছুকে তাঁর সাথে শরীক করবেনা এবং মাতা-পিতা, আত্মীয়-স্বজন, এতিম-অনাথ, অভাবগ্রস্থ, নিকটাত্মীয়, দূর, প্রতিবেশী, সঙ্গি-সাথী পথচারী এবং তোমাদের অধিকারভুক্ত দাস-দাসীদের প্রতি সদ্ব্যবহার করবে” । মানুষের সম্পদ রাব্বে কারিমের রাহে ব্যয় যেমনি করতে হবে ঠিক সন্তানরাও সাথে সাথে মাতা-পিতার খেদমতের জন্য ব্যয় করতে হবে। মাতা-পিতার খেদমতের জন্য সম্পদ ব্যয় করার নির্দেশ দিয়ে সূরা- বাকারার ২১৫ নং আয়াতে রাব্বে কারিম ইরশাদ করেন- “লোকেরা সম্পদ কিভাবে ব্যয় করবে সে সম্পর্কে প্রশ্ন কওে বল, যে ধন- সম্পদ তোমরা ব্যয় করবে তা মাতা-পিতা , আত্মীয়- স্বজন, এতিম- অনাথ, অভাবগ্রস্থ এবং মুসাফিরদের জন্য ব্যয় করবে। উত্তম কাজের যা কিছু তোমরা করনা কেন রাব্বে কারিম সে সম্বন্ধে অবহিত”।
মাতা-পিতা হচ্ছেন সন্তানের অতি আপনজন। তাঁদের সর্বাবস্থায় সন্তুষ্ট রাখতে হবে, তাদের সম্মানপ্রদর্শন করতে হবে- তাঁদের সেবা করে আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন করতে হবে। আমাদের সমাজের অবস্থা অত্যন্ত করুণ। অশিক্ষিত লোকেরা তো মাতা-পিতার সাথে দুর্ব্যবহার করছেই; আধুনিক শিক্ষায় শিক্ষিত লোকদের অবস্থা আরো করুণ ও ভয়াবহ। অশিক্ষিত লোকদের চেয়ে শিক্ষিত লোকেরাই আধুনিকতার দম্ভে মাতা-পিতার সাথে বেশি করে দুর্ব্যবহার করছেন। দু:খজনক হলেও সত্য শিক্ষিত ছেলেরা যদি শিক্ষিত স্ত্রী পেয়ে যান তাহলে এটা মাতা-পিতার জন্য আরো কাল হয়ে দাঁড়ায়। কারণ বয়োবৃদ্ধ মাতা-পিতার সেবায় এগিয়ে এলে তাদের বর্তমান আধুনিক স্টাইল নষ্ট হয়ে যাবে। বিধায় তারা মাতা-পিতার খেদমতের ধারে কাছে আসতে রাজি হননা- তারা তাই অনেক দূরে দূরে থাকতে চান।
অনেক শিক্ষিত- অশিক্ষিত ছেলেরা তারা তাদের প্রিয়তমা স্ত্রীর কুপরামর্শে তাদের শ্রেষ্ঠ সম্পদ আপনজন সেই প্রিয় মাতা-পিতার স্বগীয় সাহচর্য চিন্ন করতে বাধ্য হন। যা অনেক হৃদয় বিদারক ও মর্মস্পর্শী। বর্তমান সমাজের এহেন করুণ অবস্থা আমাদের সকলের ভালোই বোধগম্য। এটার অন্যতম কারণ আমরা মনে করি ইসলামি সুশিক্ষা ও নৈতিক মূল্যবোধের অভাব। একজন শিক্ষিত লোক মাতা-পিতার সাথে দুর্ব্যবহার করবে কেন ? স্ত্রীর সুপরামর্শ সায় না দিয়ে কুপরামর্শে সায় দেবে কেন ? শিক্ষিত ছেলেমেয়েরা মাতা-পিতার অবাধ্য হলে জাতি নৈতিকতা শিখবে কোথায় ? সন্তানের উজ্জ্বল ভবিষ্যতের জন্য নিশ্চয় মাতা-পিতার বাধ্য থাকতে হবে এবং তাঁদের খেদমতে অবশ্যই আত্মনিয়োগ করতে হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন