শনিবার, ২৭ এপ্রিল ২০২৪, ১৪ বৈশাখ ১৪৩১, ১৭ শাওয়াল ১৪৪৫ হিজরী

সারা বাংলার খবর

শেবাচিম হাসপাতালে ওষুধ কোম্পানির প্রতিনিধিদের ঠেকাতে ছোরা দিয়ে কোপানোর হুমকি

বরিশাল ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ১০ জুন, ২০১৯, ৮:১১ পিএম | আপডেট : ৮:১৩ পিএম, ১০ জুন, ২০১৯

ওষুধ কোম্পানীর রিপ্রেজেন্টেটিভদের ‘ছোরা’ দিয়ে কোপানোর নির্দেশ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে বরিশাল শের ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. বাকীর হোসেনের বিরুদ্ধে। হাসপাতালের এক কর্মচারীর বিরুদ্ধে নালিশ জানাতে তার কক্ষে গেলে তিনি এই নির্দেশ দেন বলে অভিযোগ করেছেন রিপ্রেজেন্টেটিভদের সংগঠন ‘ফাড়িয়া’। তবে পরিচালক ডা. বাকির হোসেন অভিযোগ প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের বলেছেন, রিপ্রেজেন্টেটিভরা বেঁধে দেওয়া নির্ধারিত সময় অমান্য করে হাসপাতাল চত্বরে ঘোরাফেরা করায় তিনি কথার ছলে এমনটা বলেছেন।

স্কয়ার ফার্মাসিউটিক্যালসের প্রতিনিধি মো. মেজবাহউদ্দিন বলেন, সোমবার সকাল ৯টায় শেবাচিম হাসপাতালের শিশু বহির্বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফালাহ আলদ্বীনকে হাসপাতালের প্রধান ফটকে নামিয়ে দিয়ে তিনি মোটরসাইকেল ঘোরাচ্ছিলেন। এ সময় হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেনীর কর্মচারী মামুন পরিচালকের বরাত দিয়ে তাকে ধরে নিয়ে যেতে উদ্যত হয়। তিনি হাসপাতাল ভবনে প্রবেশ করেননি বলে জানান। একজন চিকিৎসককে হাসপাতাল ফটকে নামিয়ে দিয়েছেন মাত্র। এতে কি অপরাধ হয়েছে জানতে চাইলেই মামুন উত্তেজিত হয়ে তার শার্টের কলার ধরে টানাটানি এবং অশ্রাব্য ভাষায় গালাগাল করে। আশপাশে উপস্থিত বিভিন্ন ওষুধ কোম্পানীর প্রতিনিধিরা এগিয়ে এসে তাৎক্ষনিকভাবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রন করেন।
এ ঘটনার পর ফাড়িয়ার প্রতিনিধি দল পরিচালকের কক্ষে গিয়ে কর্মচারীর মামুনের বিচার দাবী করেন। অভিযুক্ত মামুনের উপস্থিতিতে পরিচালক বলেন, ‘লাঠি নয় এরপর ছুরি নিয়ে ঘুরে বেড়াবে’। যাকে সামনে পাবে তাকেই কোপাবে। কাউকে হাসপাতাল কম্পাউন্ডে পেলে কুপিয়ে মাটিতে শুইয়ে দিতে নির্দেশ দেন পরিচালক। এতে রিপ্রেজেন্টেটিভরা হতভম্ব হয়ে পরিচালকের কক্ষ থেকে বেরিয়ে যান।
ফারিয়ার বরিশাল বিভাগীয় সভাপতি রেনেটার জোনাল ম্যানেজার শহীদ হোসেন মুন্না জানান, সোমবার সকালে তাদের এক সদস্য লাঞ্ছিত হওয়ার পর তারা জরুরী বৈঠক করেন। সেখানে কোন সিদ্ধান্ত না হওয়ায় বুধবার ফের সভা আহ্বান করা হয়েছে। ওই সভার পরে তারা কার্যকর পদক্ষেপ নেবেন।
হাসপাতালের পরিচালক ডা. মো. বাকীর হোসেন সাংবাদিকদের বলেন, সকাল ৯টা থেকে বেলা ১টা পর্যন্ত হাসপাতাল কম্পাউন্ডে কোন রিপ্রেজেন্টেটিভ কিংবা মোটরসাইকেল প্রবেশ নিষেধ। তিনি সিসি ক্যামেরায় দেখছিলেন প্রধান গেটের সামনে কিছু রিপ্রেজেন্টেটিভ ঘোরাফেরা করছে। এরপর তিনি মামুন সহ ৩জন কর্মচারীকে তাদের ডেকে আনতে পাঠান। তার কথা বলার পরও তারা আসেনি এবং কর্মচারীদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করেছেন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে কর্মচারী মামুন একজনের শার্টের কলার ধরে। এ ঘটনার পর রিপ্রেজেন্টেটিভরা নালিশ করতে গেলে তিনি উপমা হিসেবে বলেছেন, ‘কথা না শুনলে তো দা-ছুরি নিয়ে নামতে হবে। ‘ছুরি দিয়ে কোপানো’ কোন নির্দেশ নয়, ‘এটা কথার কথা’ বলেও দাবী করেন পরিচালক।
উল্লেখ্য ওষুধ কোম্পানীর বিক্রয় প্রতিনিধিদের জন্য হাসাপাতালের চিকিৎসক ও রোগীরা দীর্ঘদিন যাবত যথাযথ সেবা দিতে পারছেন না এবং রোগীরাও সেবা পাচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তাই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ বাধ্য হয়ে তাদের জন্য সময়সূচী বেঁেধ দিয়েছে। তবে কিছু চিকিৎসকও ঐসব রিপ্রেজেন্টটিভদের কাছ থেকে নানা ধরনের সুযোগ সুবিধা নিয়ে থাকেন বলেও অভযোগ রয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন