ঢাকা, রোববার, ১৫ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩১ ভাদ্র ১৪২৬, ১৫ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

আন্তর্জাতিক সংবাদ

ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের পরবর্তী টার্গেট ভারত

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৯ জুন, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

‘যে বনে বাঘ নেই, সে বনে শিয়ালই বাঘ’ প্রবাদের মতো ভারত যেন দক্ষিণ এশিয়ার বাঘ হয়ে গেছে। বাংলাদেশসহ প্রতিবেশি দেশগুলোর সঙ্গে ভারতের হস্তক্ষেপমূলক আচরণে মনে হয় দেশটি বিশাল ক্ষমতাধর। কিন্তু বিশ্ব রাজনীতিতে অবস্থা শেয়ালের মতো। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পররাষ্ট্রনীতিতে ভারত চরম বিপর্যয়ের মুখে। এমনকি পররাষ্ট্রনীতিতে দ্বিমুখী নীতি গ্রহণ করায় ‘ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের পরবর্তী টার্গেট ভারত হতে যাচ্ছে’ আশঙ্কা প্রকাশ করে গতকাল মঙ্গলবার প্রতিবেদন ছেপেছে ভারত থেকে প্রকাশিত সাউথ এশিয়া মনিটর। ‘মোদি ঝামেলাপূর্ণ পররাষ্ট্রনীতিতে উভয় সঙ্কটে’ শিরোনামে প্রতিবেদনটি ইনকিলাব পাঠকদের জন্য হুবহু তুলে ধরা হলো।

ইরানের বিরুদ্ধে মার্কিন নিষেধাজ্ঞা অনুসরণের মাধ্যমে ভারত যদি মনে করে থাকে যে, যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের রফতানি ও আমদানির মাত্রা স্থিতিশীল অবস্থায় থাকবে, তাহলে তারা এরই মধ্যে ব্যর্থ হয়েছে, কারণ মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্প্রতি ভারতকে সেই সব দেশের তালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন, যাদেরকে যুক্তরাষ্ট্রে রফতানির ব্যাপারে বিশেষ সুবিধা দেয়া হয়েছে। সেই অনুসারে, যুক্তরাষ্ট্রের সামনে ভারতের আত্মসমর্পণের উদ্দেশ্য যদি এটা হয়ে থাকে যে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে তাদের শক্তিশালী সম্পর্ক তৈরি হবে, সেই উদ্দেশ্যও এখানে নড়বড়ে হয়ে গেছে। কারণ এরই মধ্যে এমন ধারণা ছড়িয়েছে যে, ট্রাম্পের বাণিজ্য যুদ্ধের পরবর্তী টার্গেট হতে যাচ্ছে ভারত।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শুধুমাত্র প্রশান্ত মহাসাগরীয় এলাকায় চীনবিরোধী নৌ-মহড়ায় অংশ নিয়ে ভারত যদি যুক্তরাষ্ট্রের সাথে কৌশলগত ও প্রতিরক্ষা সম্পর্কের উন্নতি করতে চায়, তাহলে সে উদ্দেশ্যটাও এরই মধ্যে একটা বড় আঘাত পেয়েছে। কারণ দুই দেশের বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্কের মধ্যে বড় ধরনের ফাটল তৈরি হয়েছে।
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত এসসিও সম্মেলনে সদস্য হিসেবে অংশ নিয়েছিল ভারত। এসসিও প্রতিষ্ঠা করেছিল চীন। যেটা এখন ক্রমেই শক্তিশালী আঞ্চলিক ব্লক হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং অঞ্চলের বাইরেও এখন এর প্রভাব ছড়িয়ে গেছে। বিশেষ করে, এসসিও ক্রমশই একটি শক্তিশালী যুক্তরাষ্ট্রকেন্দ্রীক বিশ্ব ব্যবস্থার বিরুদ্ধে একটা প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি যেখানে এখন এক ধরণের স্থবিরতার মধ্যে রয়েছে এবং যে উদ্দেশ্য তারা হাসিলের চেষ্টা করছে, সেটা স্ববিরোধী। ভারত যুক্তরাষ্ট্রের সাথে শক্তিশালী ও গভীর প্রতিরক্ষা সম্পর্ক বজায় রাখতে চায় এবং একই সাথে এই ব্লক থেকেও পূর্ণ সুবিধা পেতে চায়, যে ব্লকটি কার্যত যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য যুদ্ধের বিরোধী।

চীন নিজের স্বার্থেই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে বাণিজ্য যুদ্ধে ভারতকে নিজের পক্ষে রাখতে চায় এবং সে কারণেই ইন্দো-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে ভারতকে যুক্তরাষ্ট্রের চীনবিরোধী তৎপরতা থেকে বের করে আনতে চায়। মার্কিন ইন্দো-প্রশান্ত কৌশলের উপর প্রকাশিত সাম্প্রতিক এক রিপোর্টে বলা হয়েছে যে, চীনবিরোধী গুরুত্বপূর্ণ সামরিক অংশীদার হিসেবে ভারতের সাথে প্রতিরক্ষা সম্পর্ক গভীর করতে চায় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু ভারতের উভয় সঙ্কটের জায়গাটা হলো তারা এই কৌশলে অংশ নিলেই তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থ উদ্ধার হবে না। বরং মার্কিন সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের উপযুক্ত কোনো প্ল্যাটফর্ম থাকলে সেটা হলো এসসিও।

সম্মেলনের আগে চীনের ভাইস পররাষ্ট্রমন্ত্রী ঝাং হানহুই ব্যাখ্যা করে বলেন যে, ‘বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ এবং একতরফা নীতি এখন সক্রিয়ভাবে গতি পেয়েছে এবং কিভাবে মার্কিন চাপ ও বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের বিরুদ্ধে জবাব দেয়া হবে, সেটা শুধু চীনের জন্যই গুরুত্বপূর্ণ নয়, এটা যুক্তিসঙ্গত হবে যদি দুই দেশের (চীন ও ভারত) নেতারা এ ব্যাপারে মতবিনিময় করে। এবং আমরা আশা করি তারা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা এবং বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের বিরোধিতায় ব্যাপক মতৈক্যের জায়গায় পৌঁছতে পারবে।

কিন্তু ‘বাণিজ্য সংরক্ষণবাদের’ বিরুদ্ধে লড়াই করার অর্থ শুধু এটা নয় যে, মুখে শুধু এর বিরোধিতা করলেই হবে। এসসিও’র প্রধান দুই দেশ চীন ও রাশিয়া এখন যুক্তরাষ্ট্রের ডলার সিস্টেমের বাইরে সম্পূর্ণ স্বাধীন একটি অর্থনৈতিক সিস্টেম প্রণয়নের জন্য কাজ করছে যাতে মার্কিন ‘বাণিজ্য সংরক্ষণবাদ’ ও মার্কিন নিষেধাজ্ঞাকে মোকাবেলা করা যায়।

সম্প্রতি সেন্ট পিটার্সবার্গে অনুষ্ঠিত সম্মেলনে এইসব বিষয়ের উপর আলোকপাত করা হয়েছে। সেখানে যে সব পরিকল্পনা নিয়ে আলোচনা হয়েছে বলে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়েছে, তাতে বলা হয়েছে যে আন্তর্জাতিক আর্থিক সংস্থাগুলোকে ডলারের ভূমিকার বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আহ্বান জানানো হয়েছে। যেটা ক্রমাগত চাপ সৃষ্টির একটা অস্ত্রে পরিণত হয়েছে। রাশিয়ার পুতিন আরও বলেছেন যে, রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংক এরই মধ্যে স্বর্ণ-ভিত্তিক একটি ক্রিপ্টোকারেন্সির প্রস্তাব বিবেচনা করছে, যেটা আন্তর্জাতিক লেনদেনের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হবে। নতুন একটি অর্থনৈতিক সিস্টেম, যেটা আঞ্চলিকভাবে তৈরি হলেও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যেটার সাড়া জাগানোর সম্ভাবনা রয়েছে এবং সেক্ষেত্রে এটা কার্যকর হতে পারে। বর্তমান এসসিও সম্মেলনেও এটাই প্রাধান্য পাবে।
মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ দ্বারা গভীরভাবে ক্ষতিগ্রস্ত ভারত কি সেক্ষেত্রে যুদ্ধ মোকাবেলার জন্য চীন ও রাশিয়ার দিকে ফিরবে? তাহলে ভারত কিভাবে তাদের প্রতিরক্ষা চাহিদা পূরণ করবে?

সা¤প্রতিক বছরগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে ভারতের প্রতিরক্ষা সম্পর্ক অনেকটাই বেড়েছে। ভারতের মার্কিন অস্ত্র ও প্রতিরক্ষা সিস্টেম কেনার মাত্রা উল্লেখযোগ্য হারে বাড়ছে। এমনকি এখন ভারত বাইরের বিমান হামলা থেকে নয়াদিল্লিকে ‘সুরক্ষার’ জন্য যুক্তরাষ্ট্রে তৈরি মিসাইল সিস্টেম কেনার পরিকল্পনা করছে। লকহিড মার্টিন স¤প্রতি ভারতের জন্য বিশেষভাবে তৈরি এফ-২১ বানিয়ে দেয়ার প্রস্তাব দিয়েছে।

ভারতের পররাষ্ট্রনীতি এখন যেন দুই বিপরীত ঝামেলার মাঝখানে পড়ে গেছে। দুটো বিপরীত বøক থেকে তারা তাদের কৌশলগত/সামরিক ও অর্থনৈতিক প্রয়োজন মেটাতে চায়- যুক্তরাষ্ট্র আর চীন/রাশিয়া। ফলে তাদের নীতি-নির্ধারকদের জন্য এই দুই বিপরীত মেরুর মধ্যে ভারসাম্য রক্ষাটা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। কারণ চীনের বিরুদ্ধে চলমান মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ এবং রাশিয়ার বিরুদ্ধের তাদের নিষেধাজ্ঞার কারণে দুইপক্ষ এখন দুই মেরুতে অবস্থান করছে।

এই মুহূর্তে ভারতের জন্য মার্কিন বাণিজ্য যুদ্ধ মোকাবেলার জন্য এসসিও-ই সম্ভবত সবচেয়ে ভালো উপায়। যদি তারা রাশিয়ার সাথে তাদের প্রতিরক্ষা সম্পর্কটা ফিরিয়ে আনতে পারে; তাহলে তারা হয়তো এই উভয়সঙ্কট কাটিয়ে উঠে অচলাবস্থাটা উৎরাতে পারবে। কিন্তু প্রশ্নটা হলো: মোদি সরকার কি সেই পদক্ষেপটা নেবে? সময়ই একমাত্র এই প্রশ্নের উত্তর দিতে পারে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Alaudin Alo ১৯ জুন, ২০১৯, ১:৫৮ এএম says : 0
Good job
Total Reply(0)
Mohammad Rubel Shah ১৯ জুন, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
সেই হবে,,, এর থেকে ভাল খবর আজ মনে হয় আর পাই নি।
Total Reply(0)
MH Moon ১৯ জুন, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
Akhon thekei suru hok ...
Total Reply(0)
Md Bolbol Hosen ১৯ জুন, ২০১৯, ১:৫৯ এএম says : 0
marhaba marhaba..taratare koren balo kajj to..
Total Reply(0)
Rahul Reza ১৯ জুন, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
আমেরিকার সাথে ভারতের সম্পর্ক নষ্ট হলে চীনের সাথে ভারতের সম্পর্ক উন্নতি হবে? তাহলে পাকিস্তানের কিছুটা চীনেরসাথে সম্পর্কের ঘাটতি হবে? তারমানে একচেটিয়া যেমন সম্পর্ক সেটা কমবে? কারন ইন্ডিয়া ১২০কোটি মানুষের দেশ, চীনের স্বার্থ ভারতের বাজার?
Total Reply(0)
Subhajit Dhali ১৯ জুন, ২০১৯, ২:০১ এএম says : 0
ভারত তার জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সকলের সাথেই ভারসাম্য রেখে চলবে নেহেরুর জোট নিরপেক্ষ নীতি নিয়ে, যদিও ওই নীতি র আদি অবস্থা এখন আর নেই,তবে তার আদর্শ অনুযায়ী ভারত চলে।
Total Reply(0)
Kazi Zobayer Ahmed ১৯ জুন, ২০১৯, ২:০৪ এএম says : 0
কিছুদিন আগে পত্রিকায় পেলাম, চীন তার মুল সীমানা সাথে তিব্বতে র মধ্য সামরিক বাহিনী রশদ সহ সামরিক যান চলাচলের একটা রাস্তা করেছে যা ভারতকে প্রতিকুলতায় ফেলেছে। ভৌগোলিক দিক থেকে চীন সহজে ভারতে প্রবেশ করতে পারে, কিন্তু ভারতের জন্য চীনে ঢুকা সম্পুর্ন উল্টো। বোধ করি এই কারনে বন্ধুত সম্পর্ক বেশি গাড়ো হচ্ছে।
Total Reply(0)
ash ১৯ জুন, ২০১৯, ৭:৫০ এএম says : 0
DONT THINK USA WILL LET IT GO THEIR 2 BIG DUM ARMS BUYERS ! SAWDI & INDIA. THATS NOT MATTER PEOPLE OF INDIA WILL STAY POOR, FARMERS WILL HANG THEM SELF, BUT MODI WILL KEEP BUYING ARMS, HE JUST BECOME LIKE ARMSOHOLICK
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন