ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৪ আশ্বিন ১৪২৬, ১৯ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

ধর্ম দর্শন

প্রশ্ন : নফসের কু-প্রবৃত্তি দমনের আমল ও তাৎপর্য সম্পর্কে বলুন?

আপনাদের জিজ্ঞাসার জবাব

উত্তর দিচ্ছেন : ফিরোজ আহমাদ | প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৪ এএম

উত্তর : নফস সম্পর্কে মানুষের জানার আগ্রহের অন্ত নেই। বিশেষ করে, যারা আধ্যাত্মবাদ নিয়ে চর্চা করেন। তাদের নিকট নফসের আলোচনা খুবই গুরুত্ববহন করে। নফস এমন একটি সুক্ষ বস্তু, যা কেবল পার্থিব ভোগ বিলাস মায়া মোহের প্রতি মানুষকে উৎসাহিত করে। কুরআনুল কারীমে মানুষের বিভিন্ন ধরনের নফসের বর্ণনা এসেছে। নফসে আম্মারাহ, নফসে লাউয়ামাহ, নফসে মোলহেমা, নফসে মোতমায়িন্নাহ, নফসে রাজিয়া, নফসে মর্জিয়া প্রভৃতি। মানুষের মন সব সময় মন্দ কাজের দিকে ধাবিত হয়। জাগতিক সুখ-শান্তির ধোঁকায় পড়ে, মানুষ পরকালীন জীবনের অসীম ও অনন্ত সুখকে ইহকালেই ধুলোয় মিশিয়ে দেয়, খালি হাতে প্রভ‚র দিকে ধাবিত হয়। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘প্রবৃত্তি মন্দের দিকে ঝুঁকি থাকে, কিন্তু তার কথা আলাদা, যার প্রতি আমার প্রভ‚ দয়া করেন।’ (সূরা ইউসূফ:৫৩)।
নফসের কু-প্রবৃত্তির পথ হলো, আল্লাহতায়ালার লানত তথা শয়তানের পথ। অভিশপ্ত শয়তান কাজ মানুষকে ধোঁকা দেয়া বা বিপথগামী করা। শয়তান যতক্ষণ পর্যন্ত না একজন মুমিন বান্দাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে, সে ততক্ষণ পর্যন্ত পার্থিব সুখ-শান্তি ও রঙ তামাশাকে মানুষের চোখের সামনে নানানভাবে তোলে ধরতে থাকে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে ঈমানদারগণ! তোমরা পুরোপুরিভাবে ইসলামে প্রবেশ কর এবং কোন অবস্থায়ই শয়তানের পদাংক অনুসরণ করো না, কেননা শয়তান হচ্ছে তোমাদের প্রকাশ্যতম দুশমন!’ (সূরা বাকারা:২০৮)।
শয়তানের কুমন্ত্রণা সম্পর্কে সজাগ না থাকলেই বিপদের সম্ভাবনা। শয়তানের কুমন্ত্রণা থেকে বেঁেচ থাকার একমাত্র উপায় হলো আল্লাহর নিকট সাহায্য প্রার্থনা করা এবং অশ্লীল কাজ থেকে দূরে থাকা। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘কখনো যদি শয়তান কুমন্ত্রণা আপনাকে প্ররোচিত করে, সাথে সাথে আপনি আল্লাহ পাকের নিকট আশ্রয় চান।’ (সূরা আরাফ:২০০)। ‘আপনি বলুন, আমি উজ্জ্বল প্রভাতের প্রভ‚র কাছে আশ্রয় চাই। তাঁর সৃষ্টি করা অনিষ্ট থেকে। আমি আশ্রয় চাই রাতের অনিষ্ট থেকে, যখন রাত তার অন্ধাকার বিছিয়ে দেয়। গিরায় ফুঁক দিয়ে যাদুটোনাকারিণীদের অনিষ্ট থেকে। হিংসুক ব্যক্তির অনিষ্ট থেকেও যখন সে হিংসা করে।’ (সূরা ফালাক্ব:১-৫)। ‘আপনি বলুন, আমি আশ্রয় চাই মানুষের সৃষ্টিকর্তার কাছে। মানুষের বাদশার কাছে। মানুষের মাবুদের কাছে। কুমন্ত্রণাদানকারী অনিষ্ট থেকে, যে গা ঢাকা দেয়। যে মানুষের অন্তরে কুমন্ত্রণা দেয়। জি¦নদের মধ্য থেকে মানুষের মধ্য থেকে হোক।’ (সূরা নাস: ১-৬)।
যে সকল মানুষ সৎকর্মশীল ব্যক্তিদের সোহবতে থেকে নিজেকে সকল প্রকার মন্দ কাজ থেকে দূরে রাখতে পারবে। তাদের উপর আল্লাহ রাজি খুশি থাকবেন। ঐ সমস্ত বান্দাদেরকে আল্লাহ তায়ালা জান্নাতীদের দলে শামীল হওয়ার জন্য আহŸান করতে থাকবেন। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘হে প্রশান্ত আত্মা। তুমি তোমার রবের দিকে ফিরে যাও সন্তেÍাষ্ট চিত্তে ও তাঁর প্রিয়ভাজন হয়ে। অতঃপর তুমি আমার প্রিয় বান্দাদের দলে শামিল হয়ে যাও। প্রবেশ কর আমার জান্নাতে।’ (সূরা ফজর:২৭-৩০)।
জাহান্নামের আগুন থেকে আত্মাকে মুক্ত করতে চাইলে, অতীত জীবনের মন্দ কাজের বিষয় নিয়ে অনুতাপ করতে হবে। এবং আল্লাহর নিকট ক্ষমা প্রার্থণা করতে হবে। নিজেকে নিজের অতীত জীবনের মন্দ কাজ গুলোর জন্য তিরস্কার করতে হবে। কোরআনে এরশাদ হয়েছে, ‘আরও আমি কসম করছি, সে নফসের, যে (ত্রæটি বিচ্যুতির জন্য) নিজেকে ধিক্কার দেয়।’ (সূরা কিয়ামাহ:২)।
আত্মশুদ্ধি অর্জনকারী ব্যক্তি ইনসানে কামেল তথা আশরাফুল মাখলুকাত। কোরআনে এরশাদ হয়েছে,‘নিঃসন্দেহে মানুষের মধ্যে সেই সফলকাম যে তাকে পরিশুদ্ধ করেছে। আর যে তাকে কলুষিত করেছে সে ব্যর্থ হয়েছে।’ (সূরা শামস: ৯-১০)। ‘যে ব্যক্তি তার মনের লোভ লালসা থেকে বিরত রয়েছে তারাই সফলকাম হবে।’ (সূরা তাগাবুন: ১৬)। আল্লাহতায়ালা নফসের কু-প্রবৃত্তি থেকে বেঁচে আত্মশুদ্ধি অর্জনের জন্য তৌফিক দান করুক। আমীন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Khaled Reza ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৬:০১ এএম says : 0
Very nice.
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন