ঢাকা, সোমবার, ১৪ অক্টোবর ২০১৯, ২৯ আশ্বিন ১৪২৬, ১৪ সফর ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

শিশুদের উপযোগী সমাজ তৈরি হয়নি -মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:৩০ পিএম

স্বাধীনতার ৪৮ বছরেও দেশে শিশুদের উপযোগী সমাজ তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেন, খবরের কাগজ খুললেই, টেলিভিশনের সামনে বসলেই এখন শিশু নির্যাতনের খবর দেখতে হয়। তাতে হতাশ হতে হয়, কষ্ট পেতে হয়। কোন সমাজ আমরা নির্মাণ করছি, যে সমাজে আমাদের এই ফুলের মতো শিশুদের আমরা ভালোবাসতে পারি না, তাদের জন্যে সুন্দর ভবিষ্যৎ তৈরি করে দিতে পারি না। স্বাধীনতার ৪৮ বছর হয়ে গেছে, যেখানে আমাদের শিশুরা মানুষকে ভালোবাসবে, পরস্পর পরস্পরকে ভালোবাসবে, দেশকে ভালোবাসবে, তার মাটিকে ভালোবাসবে- এমন সমাজ আমরা তৈরি করতে পারছি না। মঙ্গলবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কাকরাইলের ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউটে ‘জিয়া শিশু একাডেমীর’ একাদশ জাতীয় শিশু শিল্পী প্রতিযোগিতা ‘শাপলাকুঁড়ির’ প্রাথমিক নির্বাচনের উদ্বোধনে অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

কেবল শিশুরা নয়, সমাজের চারদিকেই এখন ‘অনিশ্চিয়তা, অস্থিতিশীলতা, ভীতি, শঙ্কা’ কাজ করছে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ১৯৭১ সালে আমরা যখন যুদ্ধ করেছিলাম, আমি তখন যুবক ছিলাম, আজকে আমি প্রায় বৃদ্ধ। ৪৮ বছর হয়েছে, এই স্বাধীনতা, এই বাংলাদেশের স্বপ্ন কিন্তু আমরা দেখিনি। এই বাংলাদেশের চিত্র- এটা আমরা আশা করিনি। এজন্য আমরা অস্ত্র তুলে নিয়ে যুদ্ধ করিনি। তিনি বলেন, আমরা যুদ্ধ করেছিলাম সত্যিকার অর্থে যে গানটি আমাদের অনুপ্রাণিত করেছিল, ‘একটি ফুলকে বাঁচাবো বলে যুদ্ধ করি’ সেই ফুল ফোটাতে চেয়েছিলাম আমরা। আমরা এমন একটি বাসযোগ্য ভূমি তৈরি করতে চেয়েছিলাম, যেখান আমরা সবাই সুখে-শান্তিতে আনন্দে বাস করতে পারব। আমাদের সেই স্বপ্ন সফল হয়নি।

মির্জা ফখরুল বলেন, দেশে অনেক রাস্তা-ঘাট হয়েছে, অট্টালিকা তৈরি হয়েছে, জীবন-যাত্রার মান অনেক বদলে গেছে, কিন্তু শিশুদের জন্যে একটি নিরাপদ বাসভূমি তৈরি হয়নি। সেরকম একটি বাসভূমি তৈরির আহ্বান জানিয়ে বলেন, আসুন, আমরা কাজ করি আমাদের শিশুদের জন্য যেন একটা শান্তির পৃথিবী তৈরি করতে পারি, আনন্দের পৃথিবী তৈরি করতে পারি। হিংসা-বিদ্বেষ বাদ যেন একটা ভালোবাসার পৃথিবী তৈরি করতে পারি।

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান সম্পর্কে ‘ইতিহাস বিকৃতি’ করছে অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, শিশুরা তোমরা জানো- জিয়াউর রহমান কে ছিলেন? আজকে তো তার সম্পর্কে অনেক বিকৃত-খারাপ কথা আমাদের শিশুদের শুনতে হয়- সেটা সঠিক নয়। দুর্ভাগ্য আমাদের যে আমরা অনেকে আজকে তাকে ছোট করতে চাই। ছোট করা যায় না। যার যেটা অবদান জাতি সেটা অবশ্যই মনে রাখে, স্মরণ করে এবং মূল্য তাকে দেয়। জিয়াউর রহমানের পথ অনুসরণ করে খালেদা জিয়া প্রধানমন্ত্রী থাকাকালে শিশুদের জন্য যেসব পদক্ষেপ নিয়েছিলেন, তার বিবরণও অনুষ্ঠানে তুলে ধরেন বিএনপি মহাসচিব।

তিনি বলেন, আজকে রাজনীতির বিভিন্ন কারণে তিনি কারাগারে, অন্যায়ভাবে। আমরা চাইব তিনি মুক্ত হয়ে আসুন। শাপলাকুঁড়ির তিন দিনের এই প্রাথমিক নির্বাচনে সারাদেশ থেকে ২২ হাজারের বেশি শিশু-কিশোর শিল্পীরা ক্বেরাত, আবৃত্তি, সংগীত, নৃত্য ও চিত্রাঙ্কন প্রতিযোগিতায় অংশ নিচ্ছে। জিয়া শিশু একাডেমীর মহাপরিচালক এম হুমায়ুন কবিরের সভাপতিত্বে উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কণ্ঠ শিল্পী খুরশীদ আলম, জিনাত রেহেনা, অভিনেত্রী রিনা খান, ক্বারী মাওলানা মো. জহিরুল হক উপস্থিত ছিলেন। ইভান শাহরিয়ার সোহাগের ক্যারিওগ্রাফি এবং সামিনা আখতার সম্পার পরিচালনায় ক্ষুদে শিল্পীরা শাপলা কুঁড়ির থিম সং ‘আমরা এনেছি, সোনালী সূর্য, আমরা এনেছি ভোর’ এবং ‘একটাই গল্প শোনো বার বার’ গান দুটি পরিবেশন করে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Miah Muhammad Adel ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৭:৫৩ পিএম says : 0
বড়রাই যেখানে বিভ্রান্ত হচ্ছে সেখানে শিশুদের অবস্থা তো তথৈবচ।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন