ঢাকা, রোববার, ২০ অক্টোবর ২০১৯, ০৪ কার্তিক ১৪২৬, ২০ সফর ১৪৪১ হিজরী

সাহিত্য

সমসাময়িক ভাবনার সাথে মানবিক বোধ ও সৌন্দর্যের প্রকাশ

নিঃশব্দ আহামদ | প্রকাশের সময় : ৪ অক্টোবর, ২০১৯, ১২:০২ এএম

কবিতা আমার কাছে রহস্যময় না বরং আমার প্রতিটি শব্দের সাথে আমার যাপনের অনুসংযোগ। যা আমি স্পর্শ করতে পারিনা, তা অনুভব করি আমার রোজকার জীবনে। আর তাই, শব্দে শব্দে হয়ে উঠে আমারই একটা শরীর, যা কবিতা শরীর। কবিতা বরাবরই আমার কাছে একটা কাছে থাকা সঙ্গির মতো,যে আমার সাথে কথা বলে দৃশ্য, অদৃশ্য নানাবিধ জিজ্ঞাসার। তা হতে পারে দর্শণ, সমাজ বাস্তবতা কিংবা মানবিকতা। একটা উপলক্ষ্যের মতো, যার জন্য আমি তা ই যখন আমার কাছে ধরা দেয় কখনো অবসরে কিংবা কোলাহলের পাশে কখনো তমিস্রার রাতে, সে আমাকে ডাকে। আমিও বাধ্যতার মতো ধরা দিই,বাড়ে আমাদের সংযোগ, মেলবন্ধন। নিবিড় সংলাপ। আর তাই কবিতা যেনো আমি ও আমার ভেতরকার অন্তর্সংলাপ, যা গেঁথে দিই শব্দে,ছন্দোবদ্ধ ভঙিমায় কখনো গদ্যের মতো বাড়তে থাকে সংলাপ আর তাই আমি যা খুব বেশি অসম্ভব তাই রেখেছি অনিয়ন্ত্রিত। তা হলো, আমার যা ভেতরে সাড়া হয়ে যাচ্ছে, বারবার একটা অস্থিরতার মতো তাই আমি লিখি। ফলে, আমি খুঁজিনি আলাদা কোনো লেখনি কৌশল, বাঁধনছেঁড়া করে লিখে নিই সমস্ত হাহাকার, দীর্ঘশ্বাস, উচ্ছাস কিংবা এতোটা পথ পেরোনোর লদ্ধ অনুভুতি।

কবিতা আমার ভেতর সীমাবদ্ধ না,যার ব্যাপ্তি গন্ডি পেরোনোর, কখনো দেশ, সমাজ, বৈশ্বিক, মননে মগজে বিস্তৃত ভাবনার প্রকাশ সৌন্দর্য্য ই কবিতা। হয়তো আমি লিখছি, আমাকে। তাকে যে নামেই অভিহিত করি ই না কেনো সে আমার ই প্রতিনিধিত্ব করে কিংবা বলা চলে আমারই প্রকাশ আর তাই রহস্য থেকে অধিকতর বাস্তব এবং চিরায়ত সত্যের মতো যার গুঞ্জরণ প্রতিটি মুহূর্তব্যাপি আমি তাকেই ধরে রাখছি শব্দে!শব্দ নিয়ে খেলা, শব্দে শব্দে আমি অতিশয়োক্তি রাখিনি যথেষ্ট স্পষ্ট এবং প্রাসঙ্গিক করে তুলতে চেষ্টা করি জীবনও সমূহ যাপন শব্দের চালে। অর্থাৎ কবিতা আমার একটা আশ্রয়, যেমন কাঁদতে কাঁদতে প্রত্যাশা থাকে এতোটুকু সহানুভুতি ছুঁয়ে যাক সমস্ত ব্যাকুলতায়, আমিও আমার আকুলতার শেষতক গেঁথে দিই কবিতায়। আর তাই স্বারক হয়ে উঠে প্রতিটি শব্দ, আমার সময়; এবং যাপনের।
মানুষ হিসেবে আমার একক স্বত্তা তদোপরি তা সামাজিক স্বত্তার উর্ধ্বে না কখনো, আর তাই প্রেম, আনন্দ, বিষাদ, হর্ষ-জীবনবোধ, শূন্যতা, ন্যায়বোধ, সমস্ত অসংগতির ভাষা যখন নিঃস্বরতা থেকে উঠে আসে শব্দের বন্ধনে তা আর ব্যক্তি কবির একার থাকেনা শুধু ভাবনা কিংবা অনুভূতিটুকু প্রকাশ ধাঁচ কবির,বাকি সবটাই সত্য; মূর্ত হয়ে উঠে সমস্ত জীবনাচরণের সাথে।
জ্ঞানগরিমার বাতিক না রেখে যেটা বলা যায়,তা এই কবির পটভূমি ধারা পাল্টায়!যেমন নিয়ত পাল্টায় মানুষের মন, মেজাজ-ইচ্ছে, অনিচ্ছে। এটা স্বীকৃত সত্যের মতো কবিতায় আরোপিত কেনোনা খরার সময় জলের গান,আর জরার সময় নির্বাণ প্রার্থনার মতো স্তুতি বাজতে থাকে ইন্দ্রিয়ায়। এভাবে যুগে যুগে বহু ব্যাপ্তি, সময়কাল ছাড়িয়ে কবিতাপাঠ ও আধুনিক কবিতায় এসেছে নতুন বাঁক। সে বাঁকে হাঁটছি অভিষ্টতা আমি আঁকড়ে নেই,তবে হেঁটেছি এটাও কম কিসে এই বোধ থেকে লিখি আর জাহির করার মতো যদি বলা লাগে তবে আমি তাতে বিন্দুমাত্র কুণ্ঠাবোধ না রেখে বলতে পারি, কবিতা আমার কাছে নিত্য অভ্যাস। কবিতা এবং আমি পরস্পর নিভর্রশীল।
মানুষ এবং জীবন ক্রমাগ্রসরমান। সভ্যতার আদি পর্বকে অতিক্রম করে যেমনি এই অবধি আজকের মানব সভ্যতা, এই সভ্যতাকে মানবিক চিন্তা থেকে বিচ্যুত রাখা যায়না তাই ক্রমে কবিতা হয়ে উঠেছে মানবিক, প্রেমের কখনো আবার দ্রোহের।
যদি বলি, আমি লিখলাম ঘাস খাবো, ভাত না-তা পাঠে ইর্ষাকারি ছাড়া কোনো সহিষ্ণু পাঠককুলের বিরক্তি চলে না আসে, সে যদি এই লিখায় কোনো সৌন্দর্য্য খুঁজে পায় তা যদি তার ভেতর প্রাণের সঞ্চার ঘটায় ,আনন্দ পায় তবে কবিতা হয়ে উঠে উন্মুক্ত মাধ্যম। যেমন অনেক সময় যা বলতে চেয়েও আমাদের ভেতর ভীতির সঞ্চার হয়,নির্বাক চুপসে যাই,তা যে আসলে আমাদের ভালো রাখে এমন না। আমাদের ভেতর প্রতিবাদ,জিগাংসা কুঁড়ে খায় আর তা ই প্রকাশ করতে আমরা শব্দ আশ্রিত হই লেখনিতে,আর এসব নিঃস্বর কথার যুথবদ্ধ এবং যথেষ্ট সাম্প্রতিক উ”চারণ কবিতা।
আধুনিক বিশ্বের উন্নয়নের ধারার সাথে সাথে সমাজের একটা মৌলিক কাঠামোর ¯’ায়ী বদল ই হলো শিল্পের সৌন্দর্য্য এবং নৈতিক। আর এর মাধ্যম হিসেবে কবিতার অবদান স্বীকার্য্য সত্য যা একজন কবি মননে বুনে চলে নিভৃতাচারে,সময়ে সময়ে তারই ধ্বণী উ”চারিত হয় প্রকাশে।
কবি এবং কবিতা দুটোর মধ্যে রয়েছে জুড়িছাড়া সৌন্দর্য্য, কবি মনের আশা, নিরাশা, আহবাণ সবটা ই জুড়ে থাকে জীবন, মানুষের নিত্যকার আচরণ সর্বোপরি সমাজব্যবস্থার রূপ এবং সমসাময়িক প্রাসঙ্গিক ভাবনার স্ফুরণ। আর তাই উত্তরাধুনিক কবিতার কথা যদি বলি, দিনে দিনে বদল ঘটেছে কবিতার ধরণ,উ”চারণ,গৎবাঁধা ব্যাকরণ। আর এটাই হওয়া উচিত,এতোটা ভাবনার শ্রম খরচ করে, মাথা ঠুকে ঠুকে কবিতা লেখা যেনো হয়ে উঠে কষ্টসাধ্য। আরাধনা যতোই সহজ হবে ততোই তাতে আত্থনিয়োগ করা যাবে,তবুও কবিতার একটা দায় থাকে,আর তা যেনো অত্যন্ত নৈতিক এবং মানবিক। চোখের সামনে দেশটা যদি রসাতলে গেলো,তা যদি কবি মনে সাড়া না হয়ে করি চন্দ্র,সূর্য্য আরাধনা সেখানে প্রশ্নবিদ্ধ কবি মনন। যতোবেশি সমসাময়িক ভাবনার সাথে ঘটবে মেলবন্ধ, চিন্তা, ধ্যান ধারণায় আরোপিত হলে এইসব সত্য তবেই কবিতা হবে আরও বেশি মানবিক, নৈতিক।
প্রেম একটি অলংকার। যে সব জীবনে তা লাভ করেছে সে জীবন রাতারাতি সমৃদ্ধ সৌন্দর্য্যে,আর এই অলংকারের অলঙ্কারিক রূপ হলো কবিতা। কবিতায় উপমিত জটিলতা ব্যতিরেকে দূর্বোধ্যতা, মূল্যোদ্ধার ব্যর্থতা চাপিয়ে সহজ অনুমেয় শাব্দিক ব্যবহারে সহজোচিত ভাব প্রকাশ যেনো হয়ে উঠেছে কবিতার বিশেষ এবং খূবই গুরুত্বপূর্ণ এক কৌশল। আর এই কৌশলে পারদর্শিতার সাক্ষর রাখা সময়ের এক দাবি। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের অলস ব্যবহারে মানুষ খূব বেশি ঝুঁকে গেছে বিভিন্ন সাইটে। তবুও যুগান্তর ব্যাপি কবিতা অনিন্দ্য এক আনন্দ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন