ঢাকা, শনিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি ২০২০, ০৯ ফাল্গুন ১৪২৬, ২৭ জামাদিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

সারা বাংলার খবর

শরণখোলায় পিঠা উৎসব দেখেই জিভে পানি

সান্তানুর রহমান খোকন, শরণখোলা (বাগেরহাট) থেকে : | প্রকাশের সময় : ২২ জানুয়ারি, ২০২০, ১২:০১ এএম | আপডেট : ১২:০৪ এএম, ২২ জানুয়ারি, ২০২০

পিঠা, পায়েস দিয়ে অতিথি আপ্যায়ন গ্রামবাংলার বহুকালের পুরনো রীতি হলেও এখন আর তেমনটা চোখে পড়েনা। একান্নবর্তী বাঙালি পরিবারের চিরায়ত এই ঐতিহ্য প্রায় বিলুপ্ত। আধুনিক যুগে ব্যস্ত সময়ে এসবে সময়ও দিতে চান না অনেকে।
বাঙালির সেই পিঠাপুলির ঐতিহ্য ধরে রাখতে ব্যতিক্রমী পিঠা উৎসবের আয়োজন করে বাগেরহাটের শরণখোলা সরকারি কলেজ। গতকাল মঙ্গলবার কলেজ ক্যাম্পাসে ১৪টি স্টলে শোভিত হয় হরেক রকম পিঠা ও পায়েস। সকাল থেকে পুরো ক্যাম্পাস জুড়ে তৈরি হয় বাঙালি আবহ। মৌ মৌ গন্ধে ফুটে ওঠে বাঙালিয়ানা। দূরদুরান্ত থেকে আসা মানুষের ঢল নামে পিঠা উৎসবে। জমজমাট বিক্রিও হয় স্টলগুলোতে। কলেজের শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের সমন্বয়ে পরিচালিত এ আয়োজনে শত শত দর্শনার্থী ও ক্রেতার ভিড় সামলাতে হিমসিম খেতে হয় আয়োজকদের।
সকালে ফিতা কেটে পিঠা উৎসবের উদ্বোধন করেন শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সরদার মোস্তফা শাহিন। অতিথিদের মধ্যে ছিলেন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ, পিরোজপুরের নাজিরপুর উপজেলার মাটিভাঙ্গা কলেজের ভাইস প্রিন্সিপাল এম মনিরুজ্জামান, শরণখোলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ইসমাইল হোসেন লিটন প্রমূখ।
শরণখোলা আইডিয়াল ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় শ্রেণির শিক্ষার্থী শাহরিয়ার সুলতান মুচকি হেসে বলেছে পিঠা কিনবো কি, দেখেই জিবে পানি এসে গেছে। তার মা মরিয়ম বেগম বলেন, কাজের ব্যবস্তায় ঘরে পিঠা বানানো হয় না। তাই উৎসবের কথা শুনে ছেলেকে নিয়ে চলে এলাম। এখনকার ছেলেমেয়েরা অনেক পিঠার নাম জানে না। এধরণের আয়োজন হলে বর্তমান প্রজন্ম বাঙালির ঐতিহ্য সম্পর্কে জানতে পারবে।
কলেজের বাংলা বিভাগের প্রভাষক সারমিন সুলতানা বলেন, শুধু ব্যবসা বা উৎসব পালনের জন্য এই আয়োজন করিনি। বিলুপ্তপ্রায় বাঙালি ঐতিহ্যকে ফেরাতে এবং বর্তমান প্রজন্মের কাছে গ্রামবাংলার পিঠাপুলির পরিচিতি ঘটাতেই এই আয়োজন। প্রিন্সিপাল মো. নূরুল আলম ফকির বলেন, মূলত বাঙালির ঐতিহ্যকে ধরে রাখতেই এই পিঠা উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। সারা রাত জেগে নানান পদের পিঠার সমারোহ তৈরি করেছেন শিক্ষক ও ছাত্রছাত্রীরা। প্রথমবার এই আয়োজনে এলাকায় ব্যাপক সাড়া পড়েছে। পিঠা কেনার পাশাপাশি অনেক আনন্দ উপভোগ করেছে সবাই। শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন বলেন, বাঙালি কালচার ধরে রাখতে পিঠা উৎসব একটি ভালো উদ্যোগ। পাশাপাশি আরো যেসব পার্বন আছে সবই আমাদের পালন করা উচিৎ।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন