ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০১ অক্টোবর ২০২০, ১৬ আশ্বিন ১৪২৭, ১৩ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

নির্বাচন ও আদালতের কার্যক্রম স্থগিত দাবি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২০ মার্চ, ২০২০, ১২:০৩ এএম

দেশে করোনাভাইরাস সংক্রামণের পরিপ্রেক্ষিতে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনসহ পাঁচ উপ-নির্বাচন এবং আদালতসমূহের কার্যক্রম স্থগিতের দাবি জানিয়েছে বিএনপি। গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এই দাবি জানান।

তিনি বলেন, করোনাভাইরাসের আতংকের কারণে জনগণের কাছ থেকে, বিভিন্ন জায়গা থেকে ইতোমধ্যে নির্বাচন বন্ধ করার কথা এসছে। নির্বাচন কমিশন বলছে যে, ২১ তারিখের নির্বাচনগুলো হবেই এবং ২৯ তারিখের নির্বাচনের ব্যাপারে ২১ তারিখ সিদ্ধান্ত নেবে। আমরা এটাকে একেবারেই একটা একপেশে সিদ্ধান্ত মনে করি এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক বিবর্জিত, জনগণের আশা-প্রত্যাশা যে, এই দুর্যোগের সময়ে কমিশন মানবিক আচরণ করবে তারা সেটা করছেন না বরং অমানবিক আচরণ করছেন।

মির্জা ফখরুল নির্বাচন কমিশনের কাছে আহবান জানিয়ে বলেন, কমিশন তাদের সিদ্ধান্তকে প্রত্যাহার করে তারা জনগণের স্বার্থে, মানুষের বেঁচে থাকার স্বার্থে এই নির্বাচনগুলোকে আপাততঃ স্থগিত রাখবেন। পরবর্তিতে নির্বাচনের তারিখ ঘোষণা করা যেতে পারে। তিনি বলেন, এমনিতে ভোটারের পারসেটেজ যেটা গত নির্বাচনে দেখেছি ৮%-৯% এর বেশি আসবে না। সেই ক্ষেত্রে এই করোনাভাইরাসের কারণে ভোটাররা কত পারসেন্ট আসবে, ভোটের টার্ন আউট কী হবে সেটা আমরা সবাই অনুমান করতে পারি।

বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের আদালতগুলোতে ব্যাপক সংখ্যক মানুষের ভিড় হয়। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে মিথ্যা মামলায় যারা আসামীদের তাদের আসতে হয়, হাজিরা দিতে হয়। প্রায় প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ সেখানে উপস্থিত হন প্রত্যেকটি আদালতগুলোতে। ঢাকায় সবচেয়ে বেশি, অন্যান্যগুলোতে তাই এবং সংখ্যা হাজারের কম হবে না, প্রতিদিন হাজার হাজার লোক সেখানে যায়। আমি যে রিপোর্টটা পেয়েছি যে, ৩০ জন বিচারক ইতোমধ্যে কোয়ারেনটাইনে চলে গেছেন। ৩০ জন বিচারক যদি কোয়ারেন্টাইনে যান, সেক্ষেত্রে এটা পরিস্কার আদালতগুলো এই ভাইরাসের সংক্রামণটা বেশি হচ্ছে। আমরা সেই কারণে আহবান জানাচ্ছি যে, এই পরিস্থিতি বিবেচনা করে, জনগণের স্বাস্থ্যের কথা চিন্তা করে, তাদের জীবনের কথা চিন্তা করে আদালতগুলো আপাতত কিছু দিন বন্ধ রাখা প্রয়োজন। আমাদের আহবান থাকবে, আদালতের কার্যক্রম স্থগিত রাখা যতদিন প্রয়োজন। আমরা আশা করব, সুপ্রিম কোর্টের বিচারকরা দেশের কথা চিন্তা করে, জনগণের কথা চিন্তা করে এই সিদ্ধান্ত নেবেন।

তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করেছি, প্রথম থেকেই সরকার এই করোনাভাইরাসের বিষয়টি গুরুত্ব দেয়নি। আমরা প্রথম সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলাম যে, এখানে দায়িত্বহীনতা পরিচয় দিচ্ছে সরকার। আমরা বলেছিলাম, স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করুন। তারা বন্ধ করেননি। পরে ১৬ তারিখে তারা স্কুল-কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ করার ঘোষণা দিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সেতুমন্ত্রী বলেছেন যে, প্রয়োজন হলে সব সাট ডাউন করা হবে, যা যা দরকার সব বন্ধ করা হবে। এখন তো সাট ডাউন করার জায়গাটা অলরেডি তো এসে গেছে। কারণ সাট ডাউন না করলে যেভাবে ব্যাপক বিস্তৃতি লাভ করেছে তা ভয়াবহ মহামারী আকার ধারণ করবে। কারণ বাংলাদেশ এমনিতেই একটা ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। এদেশে এই ধরনের একটা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়তে শুরু করেছে, এখন এটা বাইরের থেকে আসার দরকার হবে না, এটা দেশের অভ্যন্তরে যারা আক্রান্ত হয়েছেন তাদের দ্বারা সব জায়গায় ছড়াবে।

করোনাভাইরাস মোকাবেলায় সরকার সম্পূর্ণ ব্যর্থতার পরিচয় দিয়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ভাইরাসের সংক্রামকদের চিকিৎসায় বিশেষায়িত হাসপাতাল নির্ধারণ, সংক্রামক সনাক্তকরণসহ চিকিৎসক-নার্সদের প্রয়োজনীয় পোষাক (পিপিই) ও যন্ত্রপাতি কোনো কিছু সরকার ব্যবস্থা করতে পারেনি।
এসময় সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন, দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, নজরুল ইসলাম খান ও ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন