ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

গণমাধ্যমের উপর ক্ষুব্ধ নিশাচর ট্রাম্প

হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে-৩

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৭ এপ্রিল, ২০২০, ৮:৫৭ পিএম

ট্রাম্প মার্চে ওভাল অফিসে তার বক্তৃতার ১০ মিনিটের সম্প্রচার দেখে ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেছিলেন যা প্রচুর ভুলে ভরা ছিল এবং ঘোষণাগুলি তার এখতিয়ারে করার মতো পদক্ষেপ ছিল না। তিনি সহায়তাকারীদের কাছে অভিযোগ করেন যে, টেলিভিশনে খুব কম লোককেই তার পক্ষ নিতে ইচ্ছুক দেখা গেছে।
সহায়তাকারীরা জানান, সমাধান হিসেবে এর দু’দিন পরই যখন ট্রাম্প রোজ গার্ডেনে জাতীয় জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাব দিতে উপস্থিত হন তিনি ‘বাজে’ প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করার জন্য সাংবাদিকদের তিরস্কার করেন। এভাবে ট্রাম্প তার চারপাশের অনুপস্থিত অনুষঙ্গটি খুঁজে পান। ভাইরাসটি তার উপযুক্ত শত্রæ ছিল না। এটি মোটেই তার চোখ রাঙানির যোগ্য ছিল না। তবে সাংবাদিকদের প্রতি দোষারোপ এবং আক্রমণ করা তাকে উৎফুল্ল করেছিল।
এক প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের সংবাদদাতাদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মোটেই এর দায়দায়িত্ব নেব না।’
সম্মেলেন কক্ষে তার প্রথম বিবৃতির পরের দিন শনিবার, ট্রাম্প একটি পোলো শার্ট এবং বেসবল ক্যাপ পরে অঘোষিতভাবে হোয়াইট হাউসের গোয়েন্দা ব্যবস্থাপনা কক্ষে উপস্থিত হন এবং সমবেতদের জানান যে, তিনি আলোচনায় উপস্থিত থাকার এবং পাশ থেকে একটি চেয়ারে বসে পর্যবেক্ষণ করার পরিকল্পনা করেছেন।
সহায়তাকারীরা যখন ট্রাম্পকে সতর্ক করে বলেছিল যে, এমনকি যদি তিনি ছোট্ট মঞ্চটিতে নাও থাকেন, সাংবাদিকরা তাকে প্রশ্নবাণে বিদ্ধ করবেন, তবু তিনি পডিয়ামে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত নেন। তারপর থেকে তিনি আর পেছনে ফিরে তাকাননি। ট্রাম্প যখন ৯০ বা তারও বেশি মিনিট পর বক্তৃতা শেষ করেন, তখন তিনি টিভিতে এর শেষটা দেখতে ওভাল অফিসে ফিরে যান এবং তার নিজস্ব গÐির চেনাশোনা যারা আছেন তাদের সাথে বক্তব্যগুলির তুলনামূলক আলাপ করেন। প্রেসিডেন্ট হিসাবে তার এই গÐিটি উল্লেখযোগ্যভাবে সঙ্কুচিত হয়ে গেছে।
ট্রাম্পের পরামর্শদাতারা জানিয়েছেন, তার এখতিয়ারের প্রায় যেকোনো ক্ষেত্রেই তিনি সমালোচনার প্রতি বেশি সংবেদনশীল। তিনি কেবল কিছু পুরানো সহায়তাকারীর ওপর এখন নির্ভর করেন। হোপ হিক্স, প্রাক্তন যোগাযোগ পরিচালক যিনি এই বছর প্রেসিডেন্টের পরামর্শদাতা হিসাবে হোয়াইট হাউসে যোগদান করেছেন, ট্রাম্পের প্রতিদিনের সময়সূচি নিয়ন্ত্রণ করেন। তার প্রাক্তন ব্যক্তিগত সহকারী জনি ম্যাকেন্টি বর্তমানে প্রেসিডেন্টের কর্মচারী হিসেবে কাজ করছেন।
প্রেসিডেন্টের সোশ্যাল মিডিয়া গুরু ড্যান স্ক্যাভিনোসহ হিকস এবং ম্যাকেনি যারা তার স্মৃতিমধুর পুরনো দিনের অংশ, তাদেরকে গত সপ্তাহে যোগাযোগ খাতে ডেপুটি চিফ অফ স্টাফ পদে পদোন্নতি দেয়া হয়। এই ৩ বাইরের পরামর্শদাতাই বর্তমানে প্রেসিডেন্টের সাথে যোগাযোগ করার, তার কাছে পৌঁছানোর বা কোনও বার্তা পাঠানোর উপযুক্ত সময় খুঁজে বের করার প্রধান মাধ্যম।
নতুন চিফ অফ স্টাফ মার্ক মিডোস এখনো ট্রাম্পের নিশাচর অভ্যাসের সাথে নিজেকে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করছেন। এক জ্যেষ্ঠ প্রশাসনিক কর্মকর্তা জানান যে, সম্প্রতি ট্রাম্প ভোর ০৩:১৯ মিনিটে মিডোসকে ফোন করেন। মিডোস আরো একজন বিশ্বস্ত বহিরাগতের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন।
প্রেসিডেন্টরা যারা সঙ্কটের সময়ে হোয়াইট হাউসের সাথে ঘনিষ্ঠভাবে ছিলেন, তাদের বিষয়ে জর্জ ওয়াশিংটন বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ঐতিহাসিক ম্যাথু ডালেক বলেছেন, ‘তারা সত্যিকার অর্থেই বন্দিদশায় রয়েছেন এবং রূপকভাবে কারাবদ্ধ আছেন।’
যদিও অনেক কর্মকর্তাকে দূর থেকে কাজ করার জন্য উৎসাহ দেয়া হয়েছে এবং ওল্ড এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিং খালি পড়ে রয়েছে, ওয়েস্ট উইংয়ের ছোটো কোয়ার্টারগুলি এখনো লোকারণ্য। (চলবে)

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
Tutul ২৭ এপ্রিল, ২০২০, ৯:১৮ পিএম says : 0
অনেক পত্রিকায় পড়েছি ডোনাল্ড ট্রাম্প বলছে বাংলাদেশ স্বাধীন. ট্রাম্প আপনাকে ধন্যবাদ.
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন