ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৭ জুলাই ২০২০, ২৩ আষাঢ় ১৪২৭, ১৫ যিলক্বদ ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

খামখেয়ালী আচরণ, গোয়েন্দা সংস্থায় সংক্রমণ ও সমন্বয়হীতা

হোয়াইট হাউস কথন-২

দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমস | প্রকাশের সময় : ১২ মে, ২০২০, ১২:০৩ এএম

গত শুক্রবার ট্রাম্পের সাথে সাক্ষাত করতে যাওয়া কংগ্রেসীয় রিপাবলিকানরা টেবিলের চারপাশে দূরত্ব নিয়ে ছড়িয়ে বসেন। আগত অতিথিদের মতো একই রকমভাবে তাদের নিকটবর্তী সদস্য কর্মীদেরকে প্রতিদিন পরীক্ষা করা হয়। হোয়াইট হাউসের চিফ অফ স্টাফ, মার্ক মিডোস সাংবাদিকদের বলেছিলেন যে, ‘ঝুঁকি হ্রাস করতে আমরা গত ৪৮ ঘণ্টা ধরে কিছু অতিরিক্ত আচরণবিধি রেখেছি।’ এতে প্রেসিডেন্ট সুরক্ষিত থাকতে পারবেন বলে আস্থা প্রকাশ করেছেন তিনি। তিনি বলেছিলেন, ‘সম্ভবত এটি সবচেয়ে নিরাপদ জায়গা যেখানে আপনি আসতে পারেন।’

তবে ট্রাম্প বা পেন্স কেউই নিয়মিত মাস্ক পরেন না, তাদের বেশিরভাগ সহায়তাকারীও পরেন না। প্রেসিডেন্ট শুক্রবার ওয়াশিংটনে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের স্মৃতিসৌধে রাষ্ট্রপতি পুষ্পস্তবক অর্পণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। তিনি সেখানে নাৎসি জার্মানির বিরুদ্ধে ৭৫তম বিজয় দিবস উপলক্ষে ৯৫ বছর বা এর বেশি বয়সের বেশ কয়েকজন তৎকালীন যোদ্ধাকে আমন্ত্রণ জানান, যদিও তারা করোনার ক্ষেত্রে সবচেয়ে ঝুঁঁকিপূর্ণ বয়সের মধ্যে পড়েন।
এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পেন্সের সদস্যকর্মীদের প্রায় ১০ জনের মতো করে এখন প্রেসিডেন্টের একাধিক সহায়তাকারীকেও প্রতিদিন পরীক্ষা করা হয়। তবে, লাগোয়া আইজেনহাওয়ার এক্সিকিউটিভ অফিস বিল্ডিংয়ে কর্তব্যরত হোয়াইট হাউসের অন্যান্য কর্মকর্তাদের উপর পরীক্ষাগুলি কম ঘন ঘন পরিচালিত হয়। এবং প্রেসিডেন্টে না থাকলেও ওয়েস্ট উইংয়ের সহকর্মীদের সাথে তাদের নিয়মিত দেখাসাক্ষাত হয়।
বর্তমান ও প্রাক্তন সরকারী কর্মকর্তারা শুক্রবার জানিয়েছেন, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থায় ১১টি করোনা রোগী রয়েছেন এবং ২৩ জন সুস্থ হয়েছেন। তবে এটি স্পষ্ট নয় যে, সংক্রমিত সদস্যরা অন্য স্থান বা হোয়াইট হাউস থেকে সংক্রমণের শিকার হয়েছেন কি না। ইয়াহু নিউজ জানিয়েছে, দেশের বিভিন্ন গণ্যমান্য ব্যক্তিদের রক্ষা এবং আর্থিক অপরাধ তদন্তের জন্য এই সংস্থার দেশব্যাপী ১৫০টি কার্যালয়ের আরো ৬০ সদস্য স্বতন্ত্র সঙ্গরোধে রয়েছেন।
নিয়মিত পরীক্ষা করার সময়, প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা কর্মকর্তারা মাস্ক পরেননি এবং সাম্প্রতিক দিনগুলিতে তাদের মধ্যে নতুন নতুন মুখের আবির্ভাব ঘটেছে। অনেক অঙ্গরাজ্য ব্যবসা-বানিজ্য ও সামাজিক সমাবেশের নিষেধাজ্ঞাগুলি তুলতে শুরু করে দেয়ায় করোনা পরীক্ষার কার্যকারিতা নিয়ে জাতীয় বিতর্ককে আরো উস্কে দিয়েছে হোয়াইট হাউসের অভ্যন্তরে সংক্রমণের ঘটনা। তবে, ট্রাম্প বলেছেন যে, করোনা সংক্রান্ত পরীক্ষাগুলি লকডাউন তুলে নেয়ার জন্য যথেষ্ট। এমনকি জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরাও বলেছেন যে, মহামারীর স্পষ্ট চিত্রটি পেতে পরীক্ষা আরো বেশি জোরদার করতে হবে।
হার্ভার্ড গ্লোবাল হেলথ ইনস্টিটিউট এই সপ্তাহে অনুমান করেছে যে, যুক্তরাষ্ট্রে ১৫ মে পর্যন্ত দিনে কমপক্ষে ৯ লাখ পরীক্ষা করা দরকার। তবে এখন এরা কেবল ২ লাখ ৫০ হাজার পরীক্ষা করতে পারছে। অলাভজনক আইনী সংস্থা ন্যাশনাল সেফটি কাউন্সিলের সভাপতি লরেন এম. মার্টিন বলেছেন, ‘আমাদের কর্মীদের সুরক্ষার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপ‚র্ণ উপায় হল আরো পরীক্ষা চালানো।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের কর্মী বাহিনীর জন্য কোভিড-১৯ পরীক্ষার বর্ধিত সুযোগ কর্মক্ষেত্র থেকে করোনা সংক্রমিতদের সরিয়ে ফেলে সংক্রমণ কমাতে সহায়তা করবে। এই মহামারী চলাকালীন আরো ভালভাবে কার্যক্রম রক্ষণাবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ কর্মীদের সুরক্ষা এবং স্বাস্থ্যকে নিশ্চিত করবে।’ (চলবে)

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (5)
elu mia ১১ মে, ২০২০, ৯:৩৫ পিএম says : 0
আর বেশি ছড়ানো দরকার।
Total Reply(0)
মেহেদী ১২ মে, ২০২০, ১:১৯ এএম says : 0
Thank you president for your flip flop activity!
Total Reply(0)
কাজী হাফিজ ১২ মে, ২০২০, ১:২০ এএম says : 0
This guy has to be in media no matter how - last election he did that and won. I think this time he will win too - just becasue people now a days more inclined to the person whom they see more in the social media/newspaper - no matter he is good or bad. He still gets more coverage than any other political leader.
Total Reply(0)
তরুন সাকা চৌধুরী ১২ মে, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
ট্রাম্প আস্তো একটা সাইকো। ওর কারণেই আজ আমেরিকা বিশাল বিপর্যয়ের মধ্যে পড়েছে।
Total Reply(0)
হোসাইন এনায়েত ১২ মে, ২০২০, ১:২৪ এএম says : 0
তবুও দেখা যাবে আগামী ভোটে সেই নির্বাচিত হয়েছে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন