ঢাকা শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৪ আশ্বিন ১৪২৭, ০১ সফর ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

খালেদা জিয়া-তারেক রহমানের মামলা প্রত্যাহার দাবি বিএনপির

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৪ জুন, ২০২০, ১২:০১ এএম

করোনা মোকাবিলায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের ব্যর্থতা তুলে ধরে কঠোর সমালোচনা করেছেন বিএনপি দলীয় সংসদ সদস্য হারুনুর রশীদ। তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ দলের হাজার হাজার নেতা-কর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার করতে হবে। স্বাস্থ্য অধিদফতর বিকলাঙ্গ প্রতিষ্ঠানে পরিণত হয়েছে। এটা পরিবর্তন করা দরকার। প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি বলেন, স্বাস্থ্যমন্ত্রীকে সরিয়ে দেন। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় উপযুক্ত ব্যক্তিদের বসান। কমিটমেন্ট লোকদের বসান।

গতকাল দুপুরে ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বী মিয়ার সভাপতিত্বে সংসদ অধিবেশনে প্রস্তাবিত ২০২০-২০২১ অর্থবছরের বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এ দাবি করেন। করোনা পরিস্থিতিতে দেশের উন্নয়নের কথা চিন্তা করে মানুষ বাঁচানোর স্বার্থে জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার প্রস্তাব করেন। এ সময় তিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানসহ দলের হাজার হাজার নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলার অভিযোগ তুলে তা প্রত্যাহারের দাবি করেন। সংসদে তারেক রহমানের প্রসঙ্গ ওঠায় সরকারি দলের সংসদ সদস্যরা সবাই তার প্রতিবাদে হইচই করেন। তিনি বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়া ও তারেক রহমানের নাম সংসদে উচ্চারণ করায় ডেপুটি স্পিকার মো. ফজলে রাব্বি এর প্রতিবাদ করেন। পরে একাদশ সংসদ নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় তার ওই শব্দগুলো এক্সপাঞ্জ করা হয়। শেষ দিকে কথা বলার সুযোগ চাইলে সময় বৃদ্ধি না করায় তিনি ওয়াকআউট করেন।

বিএনপির এমপি হারুনুর রশীদ বলেন, চীনা বিশেষজ্ঞরা দল বলেছে দেশের করোনা পরিস্থিতিতে তারা হতাশ। তাই এই সঙ্কট উত্তরণের জন্য জাতীয় ঐক্যমত গড়ে তুলুন। খালেদা জিয়াসহ সকল রাজনৈতিক নেতাদের মামলা প্রত্যাহারের অনুরোধ করেন তিনি।

তিনি বলেন, এমন সময় করোনার আঘাত এসেছে, যখন দেশের অর্থনীতি অত্যন্ত দুর্বল। রেমিট্যান্স ছাড়া সমস্ত কিছু ছিল একেবারে নিম্নমুখী। ব্যাংক খাত, শেয়ার বাজার আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলো নাজুক। এই খাতগুলোরই দরকার ছিল প্রণোদনার। তাই দুর্বল অর্থনীতি নিয়ে করোনা মোকাবিলা করতে হবে। ফলে বাংলাদেশের জন্য করোনা মোকাবিলা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জের। আর সেই চ্যালেঞ্জর মাত্রা নির্ভর করছে বর্তমান পরিস্থিতি কতদিন স্থায়ী হবে তার উপর।

সরকারের উদ্দেশে বলেন, উন্নয়নের রাজনৈতিক চিন্তভাবনা বাদ দিতে হবে। দেশ বাঁচাও মানুষ বাঁচাও রাজনীতির চিন্তা করতে হবে। উন্নয়নের ব্যয় কমাতে হবে। প্রয়োজনে মন্ত্রিপরিষদের আকার ছোট করতে হবে। ব্যাংক কমিয়ে মানুষ বাঁচানোর জন্য পরিকল্পনা প্রণয়ন করতে হবে। বিদেশে টাকা পাচারে অভিযুক্ত সংসদ সদস্য পাপুুলের কারণে দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হয়েছে বলে দাবি করেন। এছাড়া স্বাস্থ্য অধিদফতরের কর্তাব্যক্তিদের সমালোচনা করে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেন তিনি।

পুলিশের সমালোচনা করে বলেন, পুলিশের আইজিপি নতুন নতুন অসিহত দিচ্ছেন। যারা দেশের মানুষের আমানত নষ্ট করেছেন, হক নষ্ট করেছেন, তার জবাবদিহিতা আপনাকে করতে হবে। গত নির্বাচনের সময় পুলিশকে পুরস্কৃত করা হয়েছে। পুলিশের উচ্চতর পদ মর্যাদার ব্যক্তিরা দুর্নীতিতে অংশগ্রহণ করেছে। এই পুলিশ দিয়ে কোন ভাবেই সৎ প্রশাসন গড়ে তোলা সম্ভব নয়। পুলিশ সরকার ও আওয়ামী লীগের গোলাম এবং দাস বাহিনীতে পরিণত হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন