ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

চট্টগ্রাম বন্দরে প্রবৃদ্ধি

করোনায়ও বেড়েছে জাহাজ কার্গো কন্টেইনার হ্যান্ডলিং

চট্টগ্রাম ব্যুরো | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০২০, ১২:০০ এএম

করোনা মহামারীতেও প্রবৃদ্ধির ধারাবাহিকতা ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে দেশের অর্থনীতির মূল চালিকা শক্তি চট্টগ্রাম বন্দর। সব শঙ্কা পেছনে ফেলে আগের অর্থবছরের তুলনায় সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে রের্কড পণ্য, কন্টেইনার এবং জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। করোনার মধ্যেই আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় আম্পান। তবে তাতেও তেমন নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি দেশের এ প্রধান সমুদ্রবন্দরে।
চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের সচিব মো. ওমর ফারুক গতকাল শুক্রবার ইনকিলাবকে বলেন, ২০১৯-২০ অর্থবছরে ১০ কোটি ১৫ লাখ ৬৫ হাজার ২৭২ টন কার্গো (পণ্য) হ্যান্ডলিং হয়েছে বন্দরে। এর আগের অর্থবছরে যা ছিলো ৯ কোটি ৮২ লাখ ৪০ হাজার ৬৫৫ টন। প্রবৃদ্ধি হয়েছে ৩ দশমিক ৪ শতাংশ।
বিদায়ী অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে ৩০ লাখ ৪ হাজার ১৪২ টিইইউ’স (২০ ফুট হিসেবে)। আগের অর্থবছরে যা ছিলো ২৯ লাখ ১৯ হাজার ২৩ টিইইইউ’স। এবার প্রবৃদ্ধি ২ দশমিক ৯ শতাংশ। গেল অর্থবছরে বন্দর কর্তৃপক্ষ জেটি ও বহির্নোঙর মিলে জাহাজ হ্যান্ডলিং করেছে তিন হাজার ৭৬৪টি। আগের অর্থবছরে যা ছিলো ৩ হাজার ৬৯৯টি। এবার প্রবৃদ্ধি হয়েছে ১ দশমিক ৭৫ শতাংশ।
চট্টগ্রাম বন্দরের কর্মকর্তারা জানান, দেশের অর্থনীতির চাকা সচল রাখতে করোনা দুর্যোগে জরুরি কিছু সাহসী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ফলে বন্দর এক মুহুূর্তের জন্যও বন্ধ হয়নি। সংক্রমণ ঠেকাতে সামাজিক দূরত্ব নিশ্চিতে সরকার সাধারণ ছুটি ঘোষণা করলেও বন্দর ছিলো সচল। মহাসড়কে যান চলাচল এবং তৈরি পোশাকসহ বিভিন্ন কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আমদানি কাঁচামালের চালান খালাস বন্ধ হওয়ার উপক্রম হয়। এতে বন্দরে জট পরিস্থিতি তৈরি হয়। তবে বন্দরের প্রস্তাব মেনে মন্ত্রণালয় অফডকে প্রায় সব ধরনের কন্টেইনার নিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত দিলে জটের কবল থেকে বন্দর রক্ষা পায়। করোনাকালে জরুরি ওষুধসহ চিকিৎসা সামগ্রী অগ্রাধিকার ভিত্তিতে খালাস করার ক্ষেত্রে ভ‚মিকা পালন করছে চট্টগ্রাম বন্দর।
বন্দরের এ সাফল্যের জন্য সর্বস্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, মেইন লাইন অপারেটর, শিপিং এজেন্ট, টার্মিনাল অপারেটর, বার্থ অপারেটর, শিপ হ্যান্ডলিং অপারেটর, সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, বিজিএমইএ, আমদানিকারক, রফতানিকারকসহ সংশ্লিষ্ট সব স্টেক হোল্ডারদের ভূমিকা রয়েছে বলেও জানান বন্দরের কর্মকর্তারা। সমুদ্রপথের আমদানি-রফতানি বাণিজ্যের ৯২ শতাংশ সম্পন্ন হয় চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে। তার মধ্যে আমদানি বাণিজ্যের ৮৫ ভাগ এবং রফতানির ৮০ ভাগ পরিচালিত হয় এই বন্দর দিয়ে। সদ্য সমাপ্ত অর্থবছরে প্রধান সমুদ্রবন্দর ভিত্তিক দেশের বড় রাজস্ব আদায়কারী প্রতিষ্ঠান চট্টগ্রাম কাস্টম হাউস প্রায় ৪৩ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন