ঢাকা, শুক্রবার, ১৪ আগস্ট ২০২০, ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ডা. সাবরিনা গ্রেফতার

করোনা রিপোর্ট কেলেঙ্কারি হৃদরোগ ইনস্টিটিউট থেকে বরখাস্ত

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ১৪ জুলাই, ২০২০, ১২:০২ এএম

জেকেজির চেয়ারম্যান ও জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের কার্ডিয়াক সার্জন ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরীকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। জেকেজি হেলথ কেয়ারের করোনা টেস্ট নিয়ে প্রতারণার অভিযোগে এরইমধ্যে প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী আরিফ চৌধুরীকে গ্রেফতার করা হয়েছে। সাবরিনা তার স্ত্রী। অন্যদিকে জেকেজি হেলথকেয়ারের চেয়ারম্যান ডা. সাবরিনা আরিফ চৌধুরী নামে পরিচিত ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইনকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল মান্নানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

ডিএমপির তেজগাঁও বিভাগের ডিসি মোহাম্মদ হারুন অর রশিদ বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে যেসব প্রশ্ন করা হয়েছে তিনি সেগুলোর সন্তোষজনক উত্তর দিতে পারেননি। তাই তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে। মামলার তদন্তের জন্য তাকে অধিকতর জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে। সোমবার (আজ) তাকে আদালতে পাঠিয়ে রিমান্ড চাইবে পুলিশ। এর আগে গতকাল দুপুর সোয়া ১টায় তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তেজগাঁও ডিসি কার্যালয়ে আনা হয়। তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেন জেকেজির প্রতারণা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও ডিসিসহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। দুই ঘণ্টা পর বিকেল সোয়া ৩টার দিকে তাকে গ্রেফতার দেখানো হয়।
ডা. সাবরিনা জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউটের চিকিৎসক। তিনি গণমাধ্যমে নিজেকে জেকেজির ‘চেয়ারম্যান নয়’ বরং প্রতিষ্ঠানটির ‘কোভিড-১৯ বিষয়ক পরামর্শক’ দাবি করেছেন। তবে পুলিশের তদন্ত বলছে, সাবরিনাই জেকেজির চেয়ারম্যান।
পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে সাবরিনা কী বলেছেন, তা জানা না গেলেও গত শনিবার একটি বেসরকারি চ্যানেলকে সাক্ষাৎকার দেন তিনি। সেখানে সাবরিনা দাবি করেন, আমার জেকেজির চেয়ারম্যান হওয়ার কোনো প্রশ্নই আসে না। বরং এটা ওভাল কোম্পানির একটি অঙ্গ সংগঠন। ওভাল গ্রæপ ব্যক্তি মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান। যেখানকার মালিক হচ্ছেন আরিফুর রহমান।
ডিসি হারুন আরো বলেন, এর আগে করোনাভাইরাস পরীক্ষার নামে জালিয়াতির অভিযোগে জেকেজির যেসব সদস্য গ্রেফতার হয়েছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তাদের সবাই বলেছেন সাবরিনাই জেকেজির চেয়ারম্যান। তাছাড়া তেজগাঁও কলেজে জেকেজির বুথে হামলার অভিযোগ উঠলে সাবরিনাই প্রতিষ্ঠানটির মুখপাত্র হিসেবে সংবাদমাধ্যমে বক্তব্য দেন। অভিযানের একদিন আগে তিনি নিজে প্রতিষ্ঠান থেকে সরে যান। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে তিনি কখনই কোনো প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যানের দায়িত্বপালন করতে পারেন না।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে কী তথ্য দিয়েছেন সাবরিনা জানতে চাইলে হারুন অর রশিদ বলেন, তিনি জেকেজির সঙ্গে সম্পৃক্ততার কথা অস্বীকার করেন। আমরা জিজ্ঞাসা করেছিলাম তিতুমীর কলেজে জেকেজির বুথে হামলার বিষয়ে গণমাধ্যমে আপনি প্রতিষ্ঠানের মুখপাত্র হিসেবে বক্তব্য দিয়েছিলেন কেন? তখন তিনি জানান, আমার স্বামী বলতে বলেছিল। আবার তিনি ফেসবুকে স্বামীর সঙ্গে আলাদা থাকছেন দুই মাস ধরে এসবও লিখেছেন। আসলে আমাদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।
সূত্র জানায়, স্বাস্থ্য অধিদফতরের পক্ষ থেকে বিনামূল্যে নমুনা সংগ্রহ করার চুক্তি করেছিল জোবেদা খাতুন সর্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা (জেকেজি হেলথকেয়ার)। কিন্তু বাসা থেকে ৫ হাজার থেকে ৮ হাজার ৬০০ টাকার বিনিময়ে তারা নমুনা সংগ্রহ করছিলেন এবং ভুয়া প্রতিবেদন দিচ্ছিলেন। একজন ভুক্তভোগীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে পুলিশ প্রথমে সাবরিনা আরিফ চৌধুরীর স্বামী আরিফুল হক চৌধুরীসহ ৫ জনকে গ্রেফতার করে। গত শনিবার স্বাস্থ্য অধিদফতর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানায়, জেকেজি তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছে। স্বাস্থ্য অধিদফতর জেকেজি ওভাল গ্রæপ অব লিমিটেডের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান।
পুলিশ জানিয়েছে, জেকেজি হেলথকেয়ার থেকে ২৭ হাজার রোগীকে করোনা টেস্টের রিপোর্ট দেয়া হয়েছে। এর মধ্যে ১১ হাজার ৫৪০ জনের করোনার নমুনা আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করানো হয়েছিল। বাকি ১৫ হাজার ৪৬০ রিপোর্ট প্রতিষ্ঠানটির ল্যাপটপে তৈরি করা হয়। জব্দ করা ল্যাপটপে এর প্রমাণ মিলেছে। জেকেজির মাঠকর্মীরা ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ, গাজীপুর, সাভার, কেরানীগঞ্জ ও নরসিংদীসহ দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে করোনা উপসর্গ দেখা দেয়া মানুষের নমুনা সংগ্রহ করতো। প্রতি রিপোর্টে পরীক্ষার কথা বলে ৫-১০ হাজার টাকা নিতো। আর বিদেশিদের কাছ থেকে নিতো ৮০ থেকে ১০০ ডলার। সেই হিসাবে করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্টে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে বলে পুলিশের ধারণা।
এদিকে, ডা. সাবরিনাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আবদুল মান্নানের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় হৃদরোগ ইনস্টিটিউট ও হাসপাতালের কার্ডিয়াক সার্জারি বিভাগের রেজিস্ট্রার ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইন চাকরিতে থেকেও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান জেকেজি’র চেয়ারম্যান হিসেবে কর্মরত ছিলেন। করোনা পরীক্ষার ভুয়া রিপোর্ট প্রদান ও অর্থ আত্মসাতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন বলে গতকাল পুলিশের হাতে তিনি গ্রেফতার হয়েছেন।
প্রজ্ঞাপনে আরও বলা হয়, সরকারি কর্মকর্তা হয়ে সরকারের অনুমতি ছাড়াই বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের চেয়ারম্যান পদে অধিষ্ঠিত থাকা এবং অর্থ আত্মসাৎ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা অনুযায়ী শাস্তিযোগ্য অপরাধ। তাই ডা. সাবরিনা শারমিন হুসাইনকে সরকারি কর্মচারী বিধিমালার বিধি ১২ (১) অনুযায়ী সাময়িক বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্ত হবেন। এ আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (12)
Md Pintu ১৩ জুলাই, ২০২০, ১:২৮ এএম says : 0
এরা হচ্ছে দেশী, বিদেশি ... ব্যবসায়ী ।এদের ডাক্তার সনদ যাচাই করলে ওটাও হয়তো ভুয়া পাওয়া যাবে । এমন দুর্যোগে মানুষের কাছ থেকে যেভাবে প্রতারণা করেছে । এটা তো কোরোনা র থেকে ও বিপজ্জনক ।এর যথাযথ প্রতিকার করা দরকার ।
Total Reply(0)
Moniruzzaman Sikder ১৩ জুলাই, ২০২০, ১:২৮ এএম says : 0
বন বিভাগের কাছে আবেদন জানাই, এই বিরল প্রজাতির বন্যপ্রানি সাবরিনাকে সংরক্ষণ করা হোক । নয় তো একদিন বিলুপ্ত হয়ে যাবে ।
Total Reply(0)
Jobaer Hossain ১৩ জুলাই, ২০২০, ১:২৯ এএম says : 0
তার চাহনি এবং চেহারা খুবই সন্দেহ জনক, তাঁকে দেখে ঠিক ডাক্তার বলে মনে হয়না, তার সার্টিফিকেট গুলো ভালো করে যাচাই করে দেখা উচিৎ। তাঁকে দেখতে অনেকটা পর্নোগ্রাফির গার্লদের মতো লাগে।
Total Reply(0)
Tarek Ahmed Sareng ১৩ জুলাই, ২০২০, ১:২৯ এএম says : 0
জেল জরিমানা কিছুই হবে না ওর ,তারচেয়ে ভালো হয় ওকে HIV ভাইরাস শরীরে পুশ করে ছেড়ে দেওয়া, এটা যেহেতু ছোয়াছে নয় তাই ভয়ের ও কিছুই থাকবে না!!
Total Reply(0)
Md Moshin ১৩ জুলাই, ২০২০, ১:২৯ এএম says : 0
আজ বিদেশের মাটিতে সকল প্রবাসীদের মান সম্মান সব ধুলোয় মিশিয়ে দিয়েছে এবং বাংলাদেশকে হুমকির মুখে ঠেলে দিয়েছে এসকল অসাধু ব্যবসায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি না হলে দিন দিন অন্যায় অবিচার আরো বেড়ে যাবে আমরা প্রবাসীরা দিনের-পর-দিন মাসের-পর-মাস বছরের-পর-বছর কষ্ট করে মেহনত করে বাংলাদেশকে উন্নতি করার জন্য প্রবাসে পড়ে আছি আজ আমাদেরকে নিয়ে লীলা খেলা চলতেছে এসকল জানোয়ারদের শাস্তি চাই আমরা শাস্তি চাই
Total Reply(0)
Md Joynul Ctg ১৩ জুলাই, ২০২০, ১:৩০ এএম says : 0
আমরা হতবাক প্রবাসী বাংলাদেশী এতবড় নিষ্ঠুর ক্ষত সৃষ্টি কেউবা করতে পারে। এখানে আমাদের সাথে বিদেশি রা অন্য চোখে দেখেছেন!!!
Total Reply(0)
Ali Hossain ১৩ জুলাই, ২০২০, ১:৩১ এএম says : 0
তার শরীররে ডাক্তার এর এপ্রোন মানায় না,, তা খুলে নেয়া হোক ,,যে অন্যায় করছে বিচার করে শেষ করা যাবে না,,করোনার ভাইরাসে আক্রান্ত করে মারা হোক,,তা হলে মজা টের পাবে,,
Total Reply(0)
Koysar Ahmed ১৩ জুলাই, ২০২০, ১:৩১ এএম says : 0
শাহেদ, সাবরিনা আমাদের দেশকে সোমালিয়া, ইয়েমেনের মত সরকার বিহীন রাষ্ট্রে পরিণত করেছে । পুরো পৃথিবী এখন আমাদের দেশকে সোমালিয়ার মতোই অবস্থাপন্ন দেশ হিসেবে দেখছে । এই মহামারীর সময় তারা জীবন মৃত্যর সনদকে ভুয়া বানিয়ে , আমাদের শিক্ষা সনদ সহ সকল প্রকার তথ্য সনদকে প্রশ্নবিদ্ধ করল বিশ্ব বাসীর কাছে!!
Total Reply(0)
habib ১৩ জুলাই, ২০২০, ৯:৩৭ এএম says : 0
Awamlegue parena emon kono kaz nai...bortoman sorkar ki bangladesh manuser kaz kore?
Total Reply(0)
Mohammed Shah Alam Khan ১৩ জুলাই, ২০২০, ৯:২৮ এএম says : 0
এখানে পুলিশ বলছে প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। আবার পুলিশই বলছে প্রতিষ্ঠানটি আইইডিসিআরের মাধ্যমে সঠিক পরীক্ষা করেছিল ১১ হাজার ৫৪০ জনের। পুলিশ বলেছে তারা প্রতি রিপোর্টে ৫-১০ হাজার টাকা নিতো। আমরা যদি এভারেজে ধরি ৮ হাজার টাকা তাহলে এর অংক আসে ৯ কোটি ২৩ লক্ষ ২০ হাজার টাকা। আবার মিথ্যা রিপোর্ট দিয়েছে ১৫ হাজার ৪৬০ জনকে। একই রেটে ধরলে এখানে আসে ১২ কোটি ৩৬ লক্ষ ৮০ হাজার টাকা। তাহলে মোট টাকার পরিমাণ ২১ কোটি ৬০ লক্ষ টাকা। প্রকৃত হিসাবে এই প্রতিষ্ঠানটি জনগণের কাছ থেকে ২১কোটি৬০লক্ষ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। অপরদিকে পুলিশ বলছে ৮ কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি মোট ২৭ হাজার সনদ দিয়েছে। আমরা যদি ৫ হাজার টাকা করে ধরি তাহলে দেখা যায় ১৩ কোটি ৫০ লক্ষ টাকা পেয়েছে। এই অংকেও পুলিশের হিসাবের সাথে মিলছে না। আবার পুলিশ যদি মনে করে ১৫হাজার ৪৬০ ভুয়া সনদ দেয়ার বিনিময়ে যে টাকা পেয়েছে সেটাই হাতিয়ে নিয়েছে। তাহলে কি হয়, এই হিসাবে দেখা যায় পুলিশ ধরে নিয়েছে প্রতিটি সনদের জন্যে প্রতিষ্টানটি ৫ হাজার ১৭৫ টাকা করে প্রতিটি পরীক্ষার জন্যে নিতো। আসলেই কি তাই??? পুলিশই বলেছে প্রতিটি পরীক্ষার জন্যে নিতো ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা। আমি এখানে অংকটা এনেছি এই কারনে যে পুলিশের বক্তব্য অবশ্যই সঠিক হওয়া উচিৎ। পুলিশ যদি তাদের বক্তব্যের মধ্যে মিথ্যা যোগ করেদেয় তাহলে তাঁর বাকী কথাগুলো যে সত্য সেটা মানতে কষ্ট হয়। আমি মনে করি পুলিশের আইজিপি ড. বেনজীর আহমেদের এই দিকে খেয়াল দেয়া দরকার। সেনা বাহিনী থেকে যখনই কোন বক্তব্য সাংবাদিকদেরকে দেয়া হয় তারা সব কিছুর হিসাব নিকাশ মিলিয়ে একবারেই সব বলেদেয় নিজের থেকে কিছুই তারা যোগ করেনা। আমি মনেকরি পুলিশেরও একই ভাবে তাদের বক্তব্যগুলো আগেই নির্ধারণ করে নিয়ে তারপর সাংবাদিকদের সামনে সেটা বলা এর বাইরে যেন কোন নতুন কিছু যোগ না হয়। আল্লাহ্ আমাদের পুলিশ বাহিনীকে সত্য কথা বলা ও সততার সাথে চলার ক্ষমতা দান করুন। আমিন
Total Reply(0)
jack ali ১৩ জুলাই, ২০২০, ১১:৪২ এএম says : 0
When government is criminal then all the criminal dare to commit crime.. we need to establish the Law of Allah then all these criminal will flee from our Beloved Bangladesh..we will be able to live in peace and with human dignity..
Total Reply(0)
jack ali ১৩ জুলাই, ২০২০, ১১:৪৪ এএম says : 0
She looks like immoral women.. Shameless..
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন