ঢাকা বুধবার, ২১ অক্টোবর ২০২০, ৫ কার্তিক ১৪২৭, ০৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

উচ্চ-স্তরের ব্যর্থতার পরে সমস্যা সমাধানে সীমানা নির্ধারণী কমিটিতেই ভরসা ভারত-নেপালের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২০ আগস্ট, ২০২০, ৩:৪৯ পিএম

গত কয়েকদিনের মধ্যে নেপাল ও ভারতের মধ্যে পর পর দুইটি উচ্চ-স্তরের বৈঠক ব্যর্থ হওয়ার পরে, দুই প্রতিবেশী দেশ এখন তাদের সীমানা নির্ধারণী কমিটির একটি বৈঠক আয়োজন করতে চাইছে।

এই বিষয়ের সাথে জড়িত কর্মকর্তারা বলছেন যে, বৈঠকটি খুব শিগগিরই অনুষ্ঠিত হবে এবং দু’দেশের সীমানা বিরোধ সমাধানে এটি খুবই তাৎপর্যপূর্ণ হবে। নেপালের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং জরিপ বিভাগের দু’জন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, নেপাল আগস্টের শেষ সপ্তাহে বা সেপ্টেম্বরের মধ্যে এই বৈঠকের প্রস্তাব দিয়েছে। তারা ভারতের পক্ষ থেকে প্রতিক্রিয়া জানার অপেক্ষায় রয়েছে।

সীমানা নির্ধারণী দল বা বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপ হল নেপাল এবং ভারত সরকার দ্বারা গঠিত একটি যৌথ সংস্থা যা ‘নো-ম্যানস ল্যান্ডের জমি’ নির্ধারণ, সীমানা স্তম্ভগুলি পুনর্নির্মাণ ও মেরামতের ক্ষেত্রে কাজ পরিচালনা এবং অন্যান্য প্রযুক্তিগত কাজ করার জন্য ২০১৪ সালে গঠিত হয়েছিল।

এই দলটি এখনও পর্যন্ত ছয়টি বৈঠক করেছে। সর্বশেষ বৈঠকটি ভারতের দেরাদুনে গত বছরের আগস্টে হয়েছিল। যদিও বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপকে সুস্তা ও কালাপানি নিয়ে তদন্ত করার বাধ্যবাধকতা দেয়া হয়নি, যা নিয়ে নেপাল ও ভারতের মধ্যে সাম্প্রতিক উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। তাদেরকে সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্রসচিব পর্যায়ে গঠিত ব্যবস্থায় তথ্য সরবরাহ করার দায়িত্ব দেয়া হয়েছে।

সুস্তা ও কালাপনি সংক্রান্ত বিরোধ নিষ্পত্তি করার দায়িত্ব দুই দেশের পররাষ্ট্রসচিব স্তরে প্রক্রিয়াধীন। তবে উভয় পক্ষই এর জন্য সদিচ্ছা প্রকাশ করা সত্ত্বেও তারা কোনও বৈঠক করেনি। বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে, দু’দেশের মধ্যে প্রচেষ্টা থাকা ভালো। কারণ এ জাতীয় সভা এবং মতবিনিময়গুলি বিভ্রান্তি ও উত্তেজনা প্রশমনে সহায়তা করে।

এ বিষয়ে নেপালের সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও রাষ্ট্রদূত মধুরামান আচার্য বলেন, ‘দু’দেশের প্রধানমন্ত্রীর মধ্যে টেলিফোনে কথোপকথন এবং আমাদের পররাষ্ট্র সচিব এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূতের মধ্যে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক অবশ্যই সম্পর্কের বরফ ভাঙতে সহায়তা করেছিল।’ তিনি বলেন, ‘আমরা আগামী দিনে আরও দ্বিপক্ষীয় পদক্ষেপের জন্য আশা করতে পারি।’

ভারতের সীমান্তের মধ্যে কালাপানিকে স্থাপন করে নয়াদিল্লি একটি নতুন মানচিত্র প্রকাশের পর গত নভেম্বর থেকে কিছুদিন আগে পর্যন্ত নেপাল ও ভারতের মধ্যে কোনও কূটনৈতিক সংলাপ বা উচ্চ-স্তরের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়নি। এর পরে চলতি বছরের মে মাসের প্রথম সপ্তাহে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে যখন চীনের তিব্বত স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল সংলগ্ন লিপুলেখ হয়ে কৈলাশের মানসরোবর পর্যন্ত একটি সড়ক যোগাযোগ উদ্বোধন করেন ভারতের প্রতিরক্ষমন্ত্রী। জবাবে নেপালও কালাপানী, লিপুলেখ এবং লিম্পিয়াধুরাকে নিজের এলাকার মধ্যে চিত্রিত করে নিজস্ব রাজনৈতিক মানচিত্র প্রকাশ করেছে।

নেপালি কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা অলি এবং তার ভারতীয় প্রতিপক্ষ নরেন্দ্র মোদির মধ্যে গত ১৫ আগস্ট টেলিফোন কথোপকথন এবং ১৭ আগস্ট পররাষ্ট্রসচিব শংকর দাস বৈরাগী এবং ভারতীয় রাষ্ট্রদূত বিনয় মোহন কাওয়াত্রার মধ্যে ভার্চুয়াল বৈঠক সীমানা কার্যনির্বাহী দলের বৈঠকের বিষয় নির্ধারণ করতে সহায়তা করেছে।

নেপালে ভারতের অনুদানপ্রাপ্ত প্রকল্পগুলির অগ্রগতি পর্যালোচনা ও মূল্যায়নের জন্য ১৭ আগস্ট বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল। এ বিষয়ে জরিপ অধিদফতরের মুখপাত্র দামোদর ধাকাল বলেন, ‘উভয় পক্ষ কূটনৈতিক চ্যানেলের মাধ্যমে তারিখ নির্ধারণের জন্য চিঠিপত্র বিনিময় করছে। এবার বৈঠকটি নেপালে হওয়া উচিত তবে কোভিড-১৯ মহামারীর কারণে এটি সম্ভবত ভার্চুয়াল সভা হতে পারে।’

ধাকালের মতে, যেহেতু কূটনৈতিক বিষয়গুলি পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয় দ্বারা পরিচালিত হয়, তাই তারা তারিখগুলো নির্ধারণের পরে জরিপ বিভাগ জানতে পারবে। বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বৈঠকটি গত এক বছরে করা কাজ পর্যালোচনা করবে এবং আগামী বছরের জন্য দায়িত্ব অর্পণ করবে।

গত বছরের আগস্ট মাসে ভারতের দেরাদুনে অনুষ্ঠিত বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপের শেষ ও ষষ্ঠ বৈঠকে উভয় পক্ষ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে সীমানা সংক্রান্ত কাজগুলিকে এগিয়ে নিতে সম্মত হয়। এর মধ্যে রয়েছে আইবিএন জিএনএসএস নেটওয়ার্কসহ (আন্তর্জাতিক সীমান্ত নেভিগেশন / গ্লোবাল নেভিগেশন স্যাটেলাইট সিস্টেম)কন্টিনিউয়াস অপারেটিং রেফারেন্স সিস্টেম (সিওআরএস), হাই রেজোলিউশন স্যাটেলাইট ইমেজারি (এইচআরএসআই) এবং ইউএভি / ড্রোন সমীক্ষা।

সাম্প্রতিক সীমান্ত উত্তেজনা উদ্দীপ্ত হওয়ার পর থেকে উভয় পক্ষই আলোচনা করে ইস্যু সমাধানের ইচ্ছা প্রকাশ করেছে। নেপালের পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ে বৈঠকের প্রস্তাবে প্রাথমিকভাবে দিল্লি কোন প্রতিক্রিয়া জানায়নি। লিপুলেখ হয়ে সড়ক যোগাযোগের বিষয়ে নেপাল আপত্তি জানানোর পরে কোভিড-১৯ মহামারীর পরে ভারত আলোচনার উপর জোর দিয়েছে।

কর্মকর্তারা বলছেন যেহেতু বাউন্ডারি ওয়ার্কিং গ্রুপকে সুস্তা ও কালাপানির সমস্যা সমাধানে গঠিত পররাষ্ট্রসচিব স্তরের ব্যবস্থাপনায় তথ্য সরবরাহ করার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, অদূর ভবিষ্যতে এর বৈঠকটির তাৎপর্য রয়েছে। সূত্র: কাঠমান্ডু পোস্ট।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন