ঢাকা রোববার, ২৯ নভেম্বর ২০২০, ১৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৭, ১৩ রবিউস সানি ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ব্যবসায়ীদের ক্ষতি ১০ কোটি টাকা

বাতাসে ভারতীয় পচা পেঁয়াজের গন্ধ হিলিতে পেঁয়াজের ট্রাক সরিয়েছে ভারতীয়রা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:০১ এএম

পচা পেঁয়াজ নিয়ে বিপাকে পড়েছেন আমদানিকারকরা। অনেকে ফ্যানের নিচে শুকাতে দিয়েছেন। আবার অনেকে বিক্রি করছেন নামমাত্র দামে। কারণ তাদের আশঙ্কা, দিন যত যাবে, পেঁয়াজ তত পচতে থাকবে। এছাড়া হিলি সীমান্তে পচতে থাকা ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ সরিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় রফতানিকারকরা ভারত সরকারের অনুমোদন না মেলায় দীর্ঘ নয়দিন ধরে সীমান্তের ভারতীয় অংশে দাঁড়িয়ে ছিল পেঁয়াজবাহী ট্রাকগুলো।

জানা গেছে, গত ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর ভারতের ওপারে আটকা পড়ে সাতক্ষীরার ভোমরা বন্দরের আমদানিকারকদের ১৬৫ ট্রাক পেঁয়াজ। অবশেষে পাঁচ দিন পর শর্ত সাপেক্ষে আগের এলসি করা পেঁয়াজের ট্রাকগুলো বাংলাদেশে প্রবেশের অনুমতি দেয় ভারত। তবে টানা ৭-৮ দিন ট্রাকে আটকে থাকায় এসব পেঁয়াজের অধিকাংশ পচে যায়। বস্তা দিয়ে পানি বের হচ্ছে; দূর্গন্ধ ছড়াচ্ছে এলাকায়। গতকাল পর্যন্ত দেশে আমদানিকৃত ৯২৫ মেট্রিক টন ভারতীয় পেঁয়াজে ব্যবসায়ীদের ক্ষতি হয়েছে দুই কোটি টাকার অধিক। সবমিলে ১৬৫ ট্রাক পেঁয়াজে আমদানিকারকদের ক্ষতি প্রায় ১০ কোটি টাকা।
ভোমরা স্থল বন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে প্রাপ্ত তথ্যে জানা যায়, ১৪ সেপ্টেম্বর ভারতীয় পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ ঘোষণার পর ১৭ সেপ্টেম্বর দেশে আসে আগের এলসি করা ৩১ ট্রাকে ৭২১ মেট্রিক টন পেঁয়াজ। এরপর ২০ সেপ্টেম্বর পাঁচ ট্রাকে ১০৮ মেট্রিক টন, ২১ সেপ্টেম্বর চার ট্রাকে ৯৬ মেট্রিক টন ভারতীয় পেঁয়াজ দেশে আসে। আমদানি করা এসব পেঁয়াজের অধিকাংশই পচা।

ভোমরা স্থলবন্দরের সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজুর রহমান নাসিম বলেন, টানা ৭-৮ দিন ভারতে আটকা পড়ে থাকায় প্রতিটি ট্রাকের ৫০ শতাংশ পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে গেছে। বাকি পেঁয়াজগুলো কিছুটা ভালো। তবে সেগুলো ঢাকা, চট্টগ্রাম অর্থাৎ জেলার বাইরে পাঠানোর অবস্থা নেই। স্থানীয় বাজারে বিক্রি করতে হচ্ছে এসব পেঁয়াজ। ভারতীয় এসব পচা পেঁয়াজ কম দামেও বিক্রি হচ্ছে না। এসব পেঁয়াজ নিয়ে চরম বিপদে পড়েছি আমরা।

তিনি বলেন, প্রতি ট্রাক পেঁয়াজের মূল্য প্রায় ১০ লাখ টাকা। প্রতিটি ট্রাকে ব্যবসায়ীদের পাঁচ-ছয় লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। ওপারে যে ট্রাকগুলো এখনও আটকা রয়েছে সেগুলোর পেঁয়াজ একটাও ভালো থাকবে না। সবমিলে ব্যবসায়ীদের প্রায় ১০ কোটি টাকার লোকসান হয়েছে। তবে এখনও পেঁয়াজ রফতানির ব্যাপারে কোনো সিদ্ধান্ত দেয়নি ভারত। যে পেঁয়াজগুলো এখন আসছে সেগুলো আগের এলসি করা।
সাতক্ষীরার বড় বাজারের পাইকারি পেঁয়াজ ব্যবসায়ী সাকিব এন্টারপ্রাইজের মালিক কামরুজ্জামান মুকুল বলেন, বর্তমানে ভারত থেকে যে পেঁয়াজ আসছে তার সবই পচা। এসব পেঁয়াজের ক্রেতা নেই। কম দামে বিক্রি করছি এসব পেঁয়াজ। ভোমরা স্থলবন্দরের রাজস্ব কর্মকর্তা মহসিন হোসেন বলেন, আগের এলসি করা ৪০ ট্রাকে ৯২৫ মেট্রিক টন পেঁয়াজ এ পর্যন্ত দেশে এসেছে। গতকাল কোনো ট্রাক আসেনি। তবে এখনও কয়েকটি পেঁয়াজের ট্রাক আটকে আছে ভারতে।

এদিকে, অবশেষে হিলি সীমান্ত থেকে সরলো পচতে থাকা ট্রাকভর্তি পেঁয়াজ আটকে থাকা পেঁয়াজ রফতানিতে ভারত সরকারের অনুমোদন না মেলায় দীর্ঘ নয়দিন ধরে সীমান্তের ভারতীয় অংশে দাঁড়িয়ে থাকা পেঁয়াজবাহী ট্রাকগুলোকে সরিয়ে নিয়েছেন ভারতীয় রফতানিকারকরা। বেশ কিছুদিন আটকে থাকার কারণে পেঁয়াজ পচে নষ্ট হতে শুরু করায় তারা ট্রাকগুলো সরিয়ে নিয়েছেন বলে জানা গেছে।
গতকাল বেলা ৪টা পর্যন্ত দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে কোনো পেঁয়াজবাহী ট্রাক দেশে প্রবেশ করেনি। এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার ১১ ট্রাক পেঁয়াজ রফতানি করে ভারত, পরের দিন থেকে আবার পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়া হয়।

ভারতীয় ট্রাকচালক সুশীল কুমার বলেন, পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর ভারতের অভ্যন্তরে হিলিতে ছোট পার্কিং ও বালুপাড়াতে বড় পার্কিংয়ে থাকা ১২০টির মতো পেঁয়াজবাহী ট্রাক দাঁড়িয়ে ছিল। কিন্তু বেশ কয়েকদিন হয়ে যাওয়ার কারণে গরমে ট্রাকে থাকা পেঁয়াজগুলো পচতে শুরু করে গন্ধ বেরিয়ে গেছে। এমন অবস্থায় ওইসব ট্রাক সরিয়ে নিয়ে গুদামে বা বিভিন্ন মোকামে বিক্রি করছেন রফতানিকারকরা। অনেক পেঁয়াজের অবস্থা এমন যে নদীতে ফেলে দিচ্ছেন তারা।

ভারতীয় হিলির সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট খোকন সরকার জানান, ১৪ সেপ্টেম্বর থেকে পেঁয়াজ রফতানি বন্ধ করে দেয়ায় বেশ কিছু পেঁয়াজবাহী ট্রাক সীমান্তে আটকা পড়ে যায়। পরে ১৩ সেপ্টেম্বর টেন্ডার হওয়া ১১ ট্রাক পেঁয়াজ অনুমতি সাপেক্ষে ১৯ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশে রফতানি করা হয়। কিন্তু বাকি ট্রাকগুলোর বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। বেশ কয়েকদিন ট্রাক বোঝাই থাকার কারণে পেঁয়াজগুলোর অবস্থা খারাপ হয়ে গেছে। এমন অবস্থায় রফতানিকারকরা ট্রাকগুলো সীমান্তের কাছ থেকে সরিয়ে নিয়ে তাদের নিজ নিজ গুদামে খালি করে নিচ্ছেন।
হিলি স্থলবন্দর আমদানি রফতানিকারক গ্রুপের সভাপতি হারুন উর রশীদ হারুন বলেন, রফতানি বন্ধের পাঁচদিন পর ভারত ১১ ট্রাক পেঁয়াজ রফতানি করে যার অর্ধেকের বেশি পেঁয়াজ পচা, নষ্ট হয়ে পানি ঝরছিল। কিছু পেঁয়াজ বিক্রি করতে পারলেও অনেক পেঁয়াজ ফেলে দিতে হয়েছে। ওই ১১ ট্রাক পেঁয়াজে অর্ধকোটি টাকারও বেশি ক্ষতি হয়েছে আমাদের। আটকে থাকা সেই পেঁয়াজের অবস্থা নিশ্চয় আরো খারাপ। ভ্যাপসা গরম ও অতিবৃষ্টির কারণে ৭৫ ভাগের বেশি পেঁয়াজ নষ্ট হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন