বৃহস্পতিবার, ২০ জানুয়ারী ২০২২, ০৬ মাঘ ১৪২৮, ১৬ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

বিনোদন প্রতিদিন

আইয়ুব বাচ্চু ছাড়া দুই বছর, সন্তানদের আবেগঘন পোস্ট

বিনোদন ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৭ অক্টোবর, ২০২০, ৪:৪৫ পিএম

২০১৮ সালের ১৮ অক্টোবর না ফেরার দেশে চলে যান দেশিয় সঙ্গীতের অন্যতম শিল্পী, গীটারের জাদুকর ও এলআরবি ব্যান্ডের প্রতিষ্ঠাতা আইয়ুব বাচ্চু। ৫৬ বছর বয়সে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে চির বিদায় নেন তিনি। তার হঠাৎ চলে যাওয়ায় শোক নেমে আসে বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে। তিনিহীন দুই বছর। আর আগামীকাল ১৮ অক্টোবর দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী তার।

প্রিয় শিল্পীকে হারানোর দ্বিতীয় বছরের দিনটিতে তাকে মনে করবেন অগুনিত ভক্ত-অনুসারীরা। কিংবদন্তি এই গায়ককে নিয়ে কেউ কেউ সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে আবেগপ্রবণ স্ট্যাটাস দেবেন, দোয়া করবেন। আবার অনেকে দু’এক লাইন লিখতে গিয়ে চোখের জলে ভাসবেন।

এদিকে একদিন আগেই বাবার দ্বিতীয় মৃত্যুবার্ষিকী নিয়ে আবেগঘন এক স্ট্যাটাস দেন গীটারের জাদুকরের মেয়ে ফাইরুজ সাফরা আইয়ুব ও ছেলে আহনাফ তাজওয়ার আইয়ুব। বাবার জন্য সকল ভক্ত-অনুসারীদের কাছে দোয়া চেয়েছেন তারা।

এলআরবি’র ভ্যারিফাইড ফেসবুক পেজে বাবার স্মৃতিচারণ করে তারা লিখেছেন, বাবুইকে (আইয়ুব বাচ্চু) ছাড়া চলে গেল দুই বছর। আরো ক'বছর এভাবে যাবে জানি না। আমাদের মত আপনাদেরও (ভক্তদের) অনেক কষ্টের এই ১৮ অক্টোবর। আমার বাবুই এর জন্য সবাই মন থেকে দোয়া করবেন।

তার ভক্তদের অনেকেরই জানার আগ্রহ আমরা পারিবারিকভাবে কি করছি ঐ দিন তাই এই কথাগুলো লেখা। আমরা আমার বাবুই এর জন্য তার জন্মদিনে ও গত বছর চলে যাওয়ার এই দিনে যতটুকু করলে আল্লাহ্ খুশি হন ততটুকুই করেছি এবং করে যাব ইনশাআল্লাহ।

শুরুতেই বলে নেই, আমরা ঘোষণা দিয়ে কখনোই কিছু করিনি, ঘোষণা দিয়ে করিনি কারণ আমরা আমার বাবুই এর কাছ থেকেই একটা জিনিস খুব ভাল করে শিখেছি যে, তোমার ডান হাত দান করলে তোমার বাম হাত তা জানবে না। নিঃশব্দে কাজ করবা- আল্লাহ্ পাকও তা পছন্দ করেন। গত বছর আমরা চিটাগং এ করেছি তার পছন্দের জায়গাগুলোতে; মাজারগুলোতে। এইবার পেনডেমিক এর জন্য সবকিছু একটু থমকে গেছে।

গতবারের মত এইবারও আমাদের দুই ভাই-বোন এর দেশে যাওয়ার কথা ছিল, কিন্তু পেনডেমিক এর কারণে যেহেতু দেশের বাইরে আছি, আসা আর সম্ভব হলো না। তাই আমরা পারিবারিকভাবে আমার বাবুই এর পছন্দের জায়গাগুলোতেই যেখানে উনি আগেও দিতেন সেই সব জায়গাতেই দোয়া খায়ের করছি। যেমন আমাদের বাসার পাশে মসজিদে পুরো মাস জুড়ে কোরান খতম, পারিবারিকভাবে খতম আর এতিম খানায় খাওয়ানো যেটা বাবুই নিজেই আমাদেরকে সবসময় করার জন্য শিখিয়েছে।

এছাড়া বাবুই এর পছন্দের কয়েকটা এতিম খানায় কিছু জিনিস দিচ্ছি তার নামে। আল্লাহ পাক যেন আমাদের এই দান ও ইবাদত কবুল করে নেন। তার ভক্তদের কাছেও অনুরোধ থাকবে যারা তাকে অন্তর এর গভীর থেকে ভালবাসেন তারা অন্তত ঐদিন তার জন্য দুই রাকাত নামাজ পড়ে তার জন্য দোয়া করবেন।

আল্লাহ্-পাক যেন তার জীবন দশায় যেই সব ভাল কাজ করেছেন, যেই সমস্ত দান নীরবে করেছেন যা কেউ শুধু আমরা ছাড়া জানতেও পারে নাই তার উছিলায় আমার বাবুইকে যেন জান্নাত নসীব করেন। আর আমাদের জন্য দোয়া করবেন যেন আমরা দুই ভাই-বোন আর আমাদের কাছের কয়েকজন মিলে যতদিন বেঁচে থাকবো ততদিন তার জন্য এভাবেই যেন নিঃশব্দে করে যেতে পারি। তার সব সৃষ্টিকে যেন আমরা রক্ষা করতে পারি। তার জন্য যা যা করার ও যতটুকু করার তা আমরা করেই যাব আমাদের শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত।

আমাদের আশা আপনারাও আমাদের এই পথ চলায় সাথে থাকবেন আর বাবুই কে আগের থেকেও বেশী ভালবাসবেন আর তার জন্য অনেক দোয়া করবেন শুধু এটাই আমাদের কামনা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন