ঢাকা বুধবার, ১৪ এপ্রিল ২০২১, ০১ ব্শৈাখ ১৪২৮, ০১ রমজান ১৪৪২ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

উচ্চমাত্রার সংক্রামক ও বিপজ্জনক হতে পারে

করোনার দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারত কাহিল : চার রাজ্য বিপন্ন

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০১ এএম

ভারতের করোনাভাইরাসের হার্ড ইউমিনিটি কাল্পনিক গল্প হয়েই থাকবে। দেশটির পুরো জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দিতে আশি শতাংশ লোকের এন্টিবডি থাকতে হবে। শনিবার অল ইন্ডিয়া ইনস্টিটিউট অব মেডিক্যাল সায়েন্সেস (এআইআইএমএস)-এর প্রধান ডা. র›দ্বীপ গৌলরিয়া এনডিটিভিকে এমন কথা বলেছেন। কোনো জনগোষ্ঠীর সংখ্যাগরিষ্ঠ যখন একটি সংক্রামক রোগের বিরুদ্ধে প্রতিরোধী হয়, সেই অবস্থা বোঝাতে ‘হার্ড ইমিউনিটি’ পরিভাষা ব্যবহার হয়। সংক্রমণ থেকে সুস্থ হওয়া ও টিকাদানের মাধ্যমে হার্ড ইমিউনিটিতে পৌঁছানো যায়। তিনি বলেন, মহারাষ্ট্রে করোনার যে ভারতীয় নতুন ধরন পাওয়া গেছে, তা আমলে নিয়ে এ কথা বলা যায় যে- হার্ড ইমিউনিটি খুবই কঠিন হবে। কারণ করোনার এই ধরন উচ্চমাত্রার সংক্রামক ও বিপজ্জনক হতে পারে। এমনকি ভাইরাসের এন্টিবডির বিকাশ ঘটলেও নতুন এই ধরনে মানুষের শরীরে পুনঃসংক্রমণ ঘটাতে পারে বলে জানান মহারাষ্ট্রের কোভিড টাস্ক ফোর্সের সদস্য ডা. শশাঙ্ক জোশি। মহারাষ্ট্র ছাড়াও কেরালা, মধ্যপ্রদেশ, ছত্রিশগড় ও পাঞ্জাবেও সংক্রমণ বেড়েছে। হার্ড ইউমিনিটি অর্জনযোগ্য নয় উল্লেখ করে ডা. র›দ্বীপ গৌলরিয়া বলেন, ভাইরাসের রূপান্তর কিংবা ধরন হচ্ছে ‘ভাইরাসের প্রতিরোধ ক্ষমতা এড়ানোর কৌশল’। টিকার মাধ্যমে প্রতিরোধ ক্ষমতা অর্জন করা ব্যক্তির জন্যও এগুলো হুমকি হয়ে উঠতে পারে এবং পুনঃসংক্রমণ ঘটাতে পারে। সেক্ষেত্রে করোনা-উপযুক্ত আচার-আচরণ মেনে চলা অপরিহার্য বলে তিনি মন্তব্য করেন। বললেন, পরীক্ষা, সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের শনাক্তকরণ ও আক্রান্তদের আইসোলেশনের মতো পদক্ষেপগুলো আগ্রাসীভাবে নিতে হবে ভারতকে। করোনাভাইরাসের নতুন ধরনের বিরুদ্ধে ভারতের টিকাগুলো কার্যকর হবে কিনা প্রসঙ্গে গৌলরিয়া বলেন, টিকাগুলো কার্যকর হবে, তবে কার্যকারিতা কিছুটা কম হতে পারে। করোনাভাইরাসের কারণে ভারতের অবস্থা আবারও কাহিল হয়ে পড়েছে। এশিয়ার অন্যদেশগুলোতে যখন এই ভাইরাসের সংক্রমণ কিছুটা কমতে শুরু করেছে তখন ভারতে শুরু হয়েছে এর দ্বিতীয় ঢেউ। অনেকে মনে বিভিন্ন নির্বাচনী জমজমাট প্রচারণার কারণে হঠাৎ করে আবার করোনার বিস্তার ঘটছে। এদিকে কোভিড দেশ থেকে বিদায় নিচ্ছে এমন একটি ধারণা যখন ভারতীয়দের মধ্যে প্রোথিত হচ্ছে, ঠিক সেই সময়ে কোভিডের নতুন ঢেউ ভারতে আছড়ে পড়েছে বিভিন্ন রাজ্যে। ইতিমধ্যে চারটি রাজ্য বিপন্ন কোভিডের দ্বিতীয় আঘাতে। ক্রমবর্ধমান আক্রান্তের সংখ্যা দেখে আতঙ্ক ছড়িয়েছে। জীবাণুর নতুন চেহারা চিন্তার ভাঁজ ফেলেছে বিজ্ঞানীদের কপালে। যে চারটি রাজ্যে কোভিড ফের থাবা গেড়ে বসেছে সেই চারটি রাজ্য হল পাঞ্জাব, মহারাষ্ট্র, কেরালা এবং মধ্যপ্রদেশ। এর মধ্যে মুম্বাই এবং বিদর্ভের কিছু অংশে নতুন করে আংশিক লকডাউন চালু হয়েছে। অন্য রাজ্যগুলিও নিরাপদ তা ভেবে নেয়ার কোনো কারণ নেই। পরপর পাঁচদিন দেশে কোভিড আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে। ১৬ ফেব্রæয়ারি ৯ হাজার ১২১, ১৭ ফেব্রæয়ারি ১১ হাজার ৬১০, ১৮ ফেব্রæয়ারি ১২ হাজার ১৮৭, ১৯ ফেব্রুয়ারি ১৩ হাজার ১৯৩ এবং ২০ ফেব্রæয়ারি ১৩ হাজার ৯৯৩ জন কোভিড আক্রান্ত হন। ২০২০ সালের ১৭ সেপ্টেম্বর ৯৭ হাজার ৮৯৪ জন একদিনে কোভিডে আক্রান্ত হয়েছিল ভারতে। এটিই সর্বোচ্চ আক্রান্তের সংখ্যা। সেদিনের থেকে আক্রান্ত আজ অনেক কম হলেও যে ভাবে তলানিতে পৌঁছেও ফের আক্রান্তের সংখ্যা বাড়ছে তাতে উদ্বিগ্ন প্রশাসন। নতুন করে গাইডলাইন প্রণয়নের কথাও ভাবা হচ্ছে। ভাইরোলজিস্টরা বলছেন মুম্বাই ও বিদর্ভে যে জীবাণুর ভ্যারিয়েন্ট মিলেছে তা আগের জীবাণু থেকেও দ্রæত স¤প্রসারণশীল। এটাই এখন ভাবাচ্ছে ভারতকে। এনডিটিভি, টিওআই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন