ঢাকা, মঙ্গলবার, ২২ জুন ২০২১, ০৮ আষাঢ় ১৪২৮, ১০ যিলক্বদ ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ফিলিস্তিনে ইসরাইলি বর্বরতা

পুরো গাজায় বারুদের গন্ধ : স্বজনহারাদের আহাজারিতে আকাশ-বাতাস প্রকম্পিত

মুহাম্মদ সানাউল্লাহ/ইশতিয়াক মাহমুদ | প্রকাশের সময় : ১৮ মে, ২০২১, ১২:০১ এএম

৫২ শিশুসহ ১৮১ জনের শাহাদাতবরণ : ধ্বংস মসজিদ-স্কুল-হাসপাতালসহ অর্ধশতাধিক ভবন
এক সপ্তাহ আগে একতরফা হামলা শুরুর পর গতকাল সবচেয়ে মারাত্মক আক্রমণ চালিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের পেটে জন্ম নেয়া পশ্চিমাদের অবৈধ রাষ্ট্র ইসরাইল। গাজা ভূখন্ডের তিনটি ভবনকে মাটির সাথে মিশিয়ে দেয়া ভয়ঙ্কর এ বিমান হামলায় শাহাদাত বরণ করেছে ৮ নিষ্পাপ শিশু, ১০ নারীসহ ৩৩ জন ফিলিস্তিনি। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৫০ জন। এর ফলে সপ্তাহ আগে শুরু অভিশপ্ত ইহুদীদের নৃশংসতায় শহীদ হয়েছেন ৫২ শিশু, ৩১ নারীসহ ১৮১ গাজাবাসী। আহত হয়েছে কমপক্ষে ১ হাজার ২২২ জন ফিলিস্তিনি। এবারই প্রথম এক হামলায় এতো মানুষ শাহাদাতবরণ করলেন। ইসরাইল দখলিত পশ্চিমতীরেও বিক্ষোভকারী এবং ইসরাইলি নিরাপত্তা রক্ষাকারীদের মধ্যে অসম সংঘর্ষ চলছে। সেখানে ১১ জন শহীদ হয়েছেন বলে জানাচ্ছেন ফিলিস্তিনিরা। লাগাতার বিমান হামলা চালিয়ে গাজায় ফিলিস্তিনিদের আশ্রয় নেয়া অর্ধ শতাধিক মসজিদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতাল ধ্বংস করে দিয়েছে ইসরাইল। বাদ যায়নি এপি ও আল-জাজিরা টেলিভিশনের অফিস থাকা ১২ তলা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবন। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে যে, ইসরাইলি বাহিনী লোকজনকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়ার এক ঘণ্টার মধ্যেই ওই ভবনটিতে আঘাত হানা হয়। হামাস সদস্যরা শেল্টার হিসেবে ভবনটিকে ব্যবহার করতো বলে অভিযোগ করা হলেও এপি প্রেসিডেন্ট এবং সিইও গ্যারি প্রুইট এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে, হামাস বিল্ডিংয়ে ছিল বা ভবনে সক্রিয় ছিল’। ‘এটি এমন একটি বিষয় যা আমরা সক্রিয়ভাবে আমাদের দক্ষতার সেরাটি যাচাই করি। আমরা কখনই জেনেশুনে আমাদের সাংবাদিকদের ঝুঁকির মধ্যে ফেলব না’। প্রুইট বলেছেন: ‘আপনাদের একটি উদ্বেগজনক ঘটনা জানাতে হচ্ছে যে, আমরা অল্পের জন্য প্রাণহানির মতো ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতি এড়াতে পেরেছি। বহু এপি সাংবাদিক এবং শিক্ষানবিশ সাংবাদিক ভবনের ভিতরে ছিলেন এবং ভাগ্যক্রমে আমরা তাদের সবাইকে যথাসময়ে সরিয়ে নিতে পেরেছি।

জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, ভবনটিতে হামলার ঘটনায় তিনি ‘গভীরভাবে উদ্বিগ্ন’। এ নিয়ে মহাসচিবের মুখপাত্র বলেছেন, ‘মহাসচিব সব পক্ষকে মনে করিয়ে দিতে চান যে, বেসামরিক ও গণমাধ্যম অবকাঠামোর ওপর নির্বিচারে হামলা চালিয়ে আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং যেকোনো মূল্যে তা এড়িয়ে যেতে হবে’।
স্থল অভিযান শুরুর লক্ষ্যে গাজা সীমান্তে সৈন্য সমাবেশ করেছে ইসরাইল। যে কোন সময় অভিযান শুরু হতে পারে আশঙ্কায় ১০ হাজারেরও বেশি বাসিন্দা বাড়িঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে গাজা ছেড়ে গেছেন।

এদিকে, রকেট হামলা জারি রেখেছে গাজার সশস্ত্র সংগঠন হামাসও। প্রায় ৯০ ভাগ রকেটই থামিয়ে দিতে সক্ষম হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরাইল। তারপরেও দেশটিতে ১০ জন নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত হওয়া গেছে। পাল্টা হামলা চালিয়ে গুঁড়িয়ে দেয়া হয়েছে গাজায় হামাস প্রধান ইয়াহইয়া আল সিনওয়ারের বাড়ি। হামাসের আল আকসা টেলিভিশনের এক খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে। তবে হামাস প্রধান আহত কিংবা নিহত হয়েছেন কিনা তা জানায়নি সংগঠনটি। ইয়াহইয়া আল সিনওয়ার ২০১৭ সাল থেকে গাজায় হামাসের রাজনৈতিক ও সামরিক শাখার নেতৃত্ব দিয়ে আসছেন। চলমান ইসরাইল-হামাস সঙ্কট নিয়ে রোববার আবারো আলোচনায় বসার কথা ছিল জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের। ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বর্বরতা বন্ধে মধ্যস্থতা করছে কেউ কেউ। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র তাদের বিশেষ দূত হাদি আমরকে এ অঞ্চলে পাঠিয়েছে। তবে ইসরাইলের পক্ষ নেয়ায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতা ফিলিস্তিন মানবে কি না তা বিবেচনার বিষয়। তবে মধ্যস্থতাকারী অন্যরা বলছেন, গত ৩ দিনে প্রধানসহ কমপক্ষে ৩ জন হামাস নেতাকে টার্গেট করার ফলে যুদ্ধবিরতি প্রক্রিয়া কতটা বেগবান হবে তা নিয়ে যথেষ্ট সন্দেহ রয়েছে।

ফিলিস্তিন সমস্যা সমাধানের আহবান বাংলাদেশের : ফিলিস্তিনের সমস্যা সমাধানের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের প্রতি আহবান জানিয়েছে বাংলাদেশ। গতকাল ওআইসি’র নির্বাহী কমিটির বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী এ কে আব্দুল মোমেন এ আহবান জানান। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। ইসরাইলের সন্ত্রাসী কার্যক্রমের নিন্দা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, আল-কুদস আল-শরিফ ও গোটা প্যালেস্টাইনের ওপর সহিংস আক্রমণ করা হচ্ছে। এ বিষয়টি নিয়ে নিরাপত্তা কাউন্সিলের কাজ করা উচিৎ।

মন্ত্রী জানান, জাতিসংঘ রেজ্যুলেশন, আরব শান্তি উদ্যোগ ও কোয়ার্টার রোডম্যাপ নির্ধারিত পথে প্যালেস্টাইনের সমস্যার সমাধান চায় বাংলাদেশ। নিরীহ ফিলিস্তিনি জনগণ ও আল আকসা মসজিদের প্রাঙ্গণে বোমা বর্ষণের মতো সন্ত্রাসী কার্যক্রমের পরিপ্রেক্ষিতে এই বৈঠকের আহবান করা হয়।

এদিকে বিশ্বের বড় বড় শক্তিগুলো ফিলিস্তিনিদের ওপর নৃশংসতার বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেও খোদ যুক্তরাষ্ট্র ইন্ধন যুগিয়ে চলেছে ইসরাইলকে। নির্বাচনে পদ হারাতে বসা নেতানিয়াহুকে ফোন করে ইসরাইলের প্রতি তাদের সমর্থন জানিয়েছেন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। এর ফলে ইসরাইলের বাড়বাড়ন্ত সীমাহীন হয়ে গেছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

গাজায় ইসরাইলের টানা হামলা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রজব তাইয়েব এরদোগান। তিনি বলেন, ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি নিপীড়নের বিষয়টি সারা বিশ্ব এড়িয়ে গেলেও তুরস্ক চুপ থাকবে না। শুক্রবার এক অনলাইন ব্রিফিংয়ে এ কথা বলেন তিনি। এর আগে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা নিয়ে জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে শান্তিপূর্ণ রেজ্যুলেশনের মাধ্যমে সমাধানের আহবান জানিয়েছেন তিনি। অবিলম্বে ইসরাইলের জঘন্য কর্মকান্ড বন্ধের আহবান জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী মুহিদ্দিন ইয়াসিন এবং ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। এক টেলিফোন সংলাপে এ বিষয়ে তারা একমত হয়েছেন।

এদিকে দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইসরাইলের পক্ষে অবস্থান নেয়ায় হোয়াইট হাউজে তার আয়োজনে ঈদ নৈশভোজ বর্জনের ডাক দিয়েছে আমেরিকান মুসলিমস ফর প্যালেস্টাইন নামের একটি সংগঠন। স্থানীয় সময় রোববার তারা ‘ফিলিস্তিনের সঙ্গে ঈদ’ নামের পাল্টা একটি কর্মসূচির ঘোষণা দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রকে দায়ী করছে চীন : ফিলিস্তিনি-ইসরাইল দ্ব›দ্ব নিয়ে চীনের অবস্থান সম্পর্কে শনিবার দেশটির স্টেট কাউন্সিলর ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই নিজেদের অবস্থান ব্যাখা করেছেন। শনিবার পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির সাথে টেলিফোনে আলাপকালে তিনি ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি প্রকাশ ও যুক্তরাষ্ট্রের সমালোচনা করেন।

সাম্প্রতিক দিনগুলিতে ফিলিস্তিনি-ইসরাইল সঙ্ঘাত ধারাবাহিকভাবে বেড়েছে, ফলে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, যা খুবই দুঃখজনক বলে মন্তব্য করেন ওয়াং। প্রথমত তিনি বলেন, পরিস্থিতির অবনতির মূল কারণ হ’ল দীর্ঘকাল ধরে ফিলিস্তিন ইস্যুটির সুষ্ঠু সমাধান না হওয়া। বিশেষত, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে, মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াটি তার মূল ট্র্যাক থেকে বিচ্যুত হয়েছে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবগুলো আন্তরিকভাবে প্রয়োগ করা হয়নি এবং বিশেষত, স্বাধীন রাষ্ট্র গঠনের ফিলিস্তিনের অধিকারকে অব্যাহতভাবে লঙ্ঘিত করা হয়েছে, দুর্দশার মধ্যে পতিত হয়েছে ফিলিস্তিনি জনগণের ভাগ্য, যা ফিলিস্তিনি-ইসরাইল দ্ব›দ্ব এবং বারবার সঙ্ঘাতকে তীব্রতর করে তুলেছে।

দ্বিতীয়ত, ওয়াং বলেন, এখন যুদ্ধবিরতি এবং সহিংসতা বন্ধ ইসরাইলকে চাপ দিতে হবে এবং তাড়াতাড়ি অচলাবস্থা মিটিয়ে সমাধানের দায়িত্ব নিরাপত্তা পরিষদের। তিনি জানান, চীন মে মাসের জন্য নিরাপত্তা পরিষদের প্রেসিডেন্ট হিসাবে পরিষদকে ফিলিস্তিন-ইসরাইল বিরোধের বিষয়ে দুটি জরুরি বৈঠকের জন্য চাপ দিয়েছে এবং পরিষদকে পদক্ষেপ নিতে নির্দেশ দেয়ার জন্য একটি প্রেস বিবৃতি জারি করেছে। তবে দুঃখের বিষয়, নিরাপত্তা পরিষদ এখনও পর্যন্ত একটি সমঝোতায় পৌঁছাতে ব্যর্থ হয়েছে কারণ, আমেরিকা আন্তর্জাতিক ন্যায়বিচারের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে।

তৃতীয়, ওয়াং বলেছেন, ফিলিস্তিনি ইস্যু সমাধানের একটি চ‚ড়ান্ত উপায় দ্বি-রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থা প্রয়োগের মধ্যে রয়েছে। চীন রোববার জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে ফিলিস্তিন-ইসরাইল দ্ব›দ্ব নিয়ে একটি মুক্ত বিতর্কের আয়োজন করবে এবং আশা করছে যে সব পক্ষই এ ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ হবে।

জরুরি আলোচনায় ইইউ : ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে ক্রমবর্ধমান সংঘর্ষ ইস্যুতে জরুরি ভার্চুয়াল সভায় বসছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা। গতকাল এক টুইট বার্তায় বøকের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল এ কথা জানান।

টুইট বার্তায় তিনি লেখেন, ইসরাইল ও ফিলিস্তিনের মধ্যেকার রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষের বিষয়ে গত ১১ মে ইইউর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি ভার্চুয়াল সভার আহবান জানিয়েছি। ইইউ কীভাবে চলমান সহিংসতা থামানোর জন্য সর্বোত্তম চেষ্টা করবে, তা নিয়ে আলোচনা হবে।

পবিত্র রমজানের ২৭ রাতে আল-আকসা মসজিদে নামাজরত মুসল্লিদের ওপর ইসরাইলি বর্বরতা ও একটি ফিলিস্তিনি আবাসিক এলাকায় অবৈধ দখল প্রতিষ্ঠা করতে গেলে সর্বসাম্প্রতিক সহিংসতার সূচনা হয়। ফিলিস্তিনিরা নিজেদের পূর্ব-পুরুষদের বাড়ি রক্ষায় আপ্রাণ চেষ্টা চালালে অবৈধ দখলদাররা আগুন জ্বালিয়ে, গুলি করে তাদের সেখান থেকে সরানোর চেষ্টা করে। নেতানিয়াহুর সেনারা অবৈধ দখলদারদের বাধা না দিয়ে বরং ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদে জঙ্গী ইহুদীদের সহযোগিতা করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে গাজা ভূখন্ড থেকে সেখানকার নিয়ন্ত্রণকারী হামাসের সশস্ত্র শাখা ইসরাইল লক্ষ্য করে রকেট ছুঁড়তে থাকে। সর্বশেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী হামাস প্রায় ৩ হাজার রকেট ছোঁড়ে যার ৯০ শতাংশই আয়রন ডোম নিষ্ক্রিয় করেছে বলে ইসরাইলের দাবি। রকেটের আঘাতে ইসরাইলের প্রভ‚ত ক্ষতি সাধিত হয়েছে বলে হামাসের দাবি। নিহত হয়েছে ২ শিশু ১ সৈন্যসহ ১০ জন ইসরাইলি।

মধ্যপ্রাচ্যের ফিলিস্তিন নামের যে এলাকা, সেটি ছিল অটোমান সাম্রাজ্যের অধীন। কিন্তু প্রথম বিশ্বযুদ্ধে অটোমানদের পরাজয়ের পর ব্রিটেন ফিলিস্তিনের নিয়ন্ত্রণ নেয়। তখন ফিলিস্তিনে যারা থাকতো তাদের সংখ্যাগরিষ্ঠ ছিল আরব, সেই সঙ্গে কিছু ইহুদি, যারা ছিল সংখ্যালঘু। ইহুদিরা এ অঞ্চলকে তাদের পূর্বপুরুষদের দেশ বলে দাবি করে। কিন্তু আরবরাও দাবি করে এ ভূমি তাদের এবং ইহুদিদের জন্য সেখানে রাষ্ট্র গঠনের চেষ্টার তারা বিরোধিতা করে। ১৯৬৭ সালে আরব-ইসরাইল যুদ্ধের সময় ইসরাইল পূর্ব জেরুসালেম দখল করে এবং ১৯৮০ সালে পুরো শহরকে সংযুক্ত করে। তবে তাদের এমন পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক স¤প্রদায়ের কখনও স্বীকৃতি পায়নি।

গত কয়েকদিন ধরে ফিলিস্তিনে ইসরাইলি হামলায় ১৮১ জন প্রাণ হারিয়েছে এবং আহত হয়েছে সহস্রাধিক। ইসরাইলে পাল্টা রকেট হামলা চালাচ্ছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাপন্থী সংগঠন হামাসও। এ সঙ্ঘাতে ইসরাইলের প্রতি পূর্ণ সমর্থন ব্যক্ত করেছে নিরাপত্তা পরিষদের সবচেয়ে প্রভাবশালী দেশ যুক্তরাষ্ট্র। দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, ইসরাইলের আত্মরক্ষার অধিকার আছে।

জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য দেশ ৫টি। এগুলো হলো যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ব্রিটেন, ফ্রান্স ও রাশিয়া। এ ৫টির একটি সদস্য ভেটো দিলেই যেকোনো প্রস্তাব নাকচ হয়ে যায়। যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলের প্রতি সমর্থন দেওয়ায় এককভাবে কোনো সিদ্ধান্তে আসতে পারছে না জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। সূত্র : রয়টার্স, এপি, বিবিসি ও এএফপি।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (14)
Motiur Rahman ১৭ মে, ২০২১, ১:১৮ এএম says : 0
হে আল্লাহ তোমার পবিত্র ঘর " আল্ - আকসা" এবং ফিলিস্তিনের মুসলিম ভাই বোনদেরকে সন্ত্রাসী ইসরায়েলের হাত থেকে রক্ষা করুন আমিন।
Total Reply(0)
Md Faruque Ahmed ১৭ মে, ২০২১, ১:১৯ এএম says : 0
মুসলমান জাতি যদি ধর্মীয় শিক্ষার পাশাপাশি বিজ্ঞান, সমরবিদ্যা এবং সময়ের প্রয়োজনে প্রয়োজনীয় প্রযুক্তির দিকে ধাবিত না হয় এবং নিজেরা ঔক্যবদ্ধ না হতে পারে, তাহলে এভাবে মার খেতেই থাকবে।শত কাঁদলেও আল্লাহ এদেরকে বাচাতে আসবে না।এভাবে আল্লাহ কাউকে একতরফা বাচাতে আসে না।মনে রাখা প্রয়োজন, অতীতে মুসলমানদের গৌরবময় বিজয়ের কারণ ছিল সেই সময়ের তাদের সর্বোচ্চ প্রযুক্তির ব্যবহার এবং জাতি হিসাবে তৎকালীন সময়ে তারা ছিলো সবচাইতে ঔক্যবদ্ধ।
Total Reply(0)
Nil Akash Nil Akash ১৭ মে, ২০২১, ১:১৯ এএম says : 0
সারা বিশ্বের মুসলমান এক হয়ে ইজরায়েলের বিরুদ্ধে ভয়ংকর যুদ্ধ গড়ে তুলতে হবে
Total Reply(0)
Jewel Jewel ১৭ মে, ২০২১, ১:২০ এএম says : 0
অন্যায়কারীকে মনে মনে ঘৃনা করাও জিহাদ , আর এই ঘৃণা করাটাই অভিশাপ ; অন্যায়কারীর অন্যায়ের প্রতিরোধ বা প্রতিবাদ করার শক্তি না থাকলে মনে মনে ঘৃণা করা কোরানের নির্দেশ আছে ; কাজেই শক্তিহীন মানুষ অন্যায়কারীকে ঘৃণা করুন অর্থাৎ অভিশাপ দিন ; আল্লাহ মজলুমের অভিশাপ দ্রুত কবুল করেন
Total Reply(0)
Gazi Mizanur Rahman ১৭ মে, ২০২১, ১:২০ এএম says : 0
· বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী ও দখলদার হলো ইসরাইল রাষ্ট্র। আজকে সেখানে মানবাধিকার লঙ্ঘন হয় না? আজ কি সেখানে আমেরিকার মানবাধিকারের ঝাণ্ডা উড়ে না? আজ কি সেখানে সামরিক হস্তক্ষেপ হয় না? চুপ কেন জাতি সংঘ? চুপ মানবাধিকার সংগঠনগুলো?
Total Reply(0)
Maidul Islam Malek ১৭ মে, ২০২১, ১:২০ এএম says : 0
পাশ্ববর্তী দেশ তুরস্ক ব‌সে ব‌সে তামাশা দেখ‌বে এটা‌ আর আশা করা যা‌চ্ছে না। এর‌দোয়ান ম‌হোদয়‌কে অ‌তি দ্রুত পা‌শে থাকার জন‌্য সৈন‌্য প্রের‌নের আহ্বান জানা‌চ্ছি
Total Reply(0)
Mujib Hasan ১৭ মে, ২০২১, ১:২০ এএম says : 0
ইসরাইলকে উষ্কে দিয়ে আমেরিকা চাই মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র বাণিজ্য চাঙ্গা রাখতে। জাতিসংঘের মাধ্যমে ইজরাইলকে চাপ দিয়ে সমস্যা সমাধান করা জরুরি
Total Reply(0)
Alifa Arham ১৭ মে, ২০২১, ১:২২ এএম says : 0
বতর্মানে মুসলমানের চেয়ে ঈমানদার ব্যাক্তির বড়ই অভাব।ক্ষমতাধর মুসলিম রাষ্ট্রের শাসকরা নামে মুসলিম হলেও তারা এখন দুনিয়ার লোভে বিলাসিতা ও নারী নিয়ে মগ্ন আছে।হালুয়া রুটি খাচ্ছে ও ঘুমাচ্ছে।যতক্ষণে তাদের ঘুম ভাঙছে অনেক দেরি হয়ে যাবে।কপাল চাপড়ালেও কোনো কিছুই তাদের বাঁচাতে পারবেনা দুনিয়াতে ও আখিরাতে জবাবদিহি তো আছেই।একতাই শক্তি।
Total Reply(0)
Latiur Rahman ১৭ মে, ২০২১, ১:২৩ এএম says : 0
কাপুরুষ আরবলিগ কি তামাশা দেখছে ? ওরাতো অধিকাংশ থাকে ভোগবিলাশে । আর পশ্চিমারা দেয় সুন্দরি ললোনা লেলিয়ে ,সাথে মদের পিয়ালা । তারাকি ফিলিস্তি মা বোন আর শিশুদের আর্তনাদ শুনতে পায়,না ?
Total Reply(0)
রাকিবা রাকিবা জান্নাত ১৭ মে, ২০২১, ১:২৩ এএম says : 0
মুসলিম দেশগুলো কেউ সামরিক দিক দিয়ে সাহায্য করতেছে না আর আপনারা বলতেছেন মুসলিমরা জ্ঞান বিজ্ঞান এর দিক দিয়ে উন্নত না হলে মার খেতে হবে।।। সকল মুসলিম দেশগুলো একত্রি হওয়া চাই তারা এ বিষয় নিয়ে মিটিং করুক কিভাবে তাদের দমন করা যায়।
Total Reply(0)
আব্দুল্লাহ্ আল মাহাম্মুদ ১৭ মে, ২০২১, ১:২৪ এএম says : 0
এসব জিনিস দেখলে খুবই খারাপ লাগে,,চোখে পানি চলে আসে মাবুদ তুমি রক্ষা করো ফিলিস্তিন আর এই মসজিদকে
Total Reply(0)
salman ১৭ মে, ২০২১, ৫:৪৬ এএম says : 0
Yeah Allah, tumi HITLAR k khoma kore daw, ai ZALIM Jews der hotta korar Jonno. NEW ak HITLAR pathaw, Nobbo ZALIM Yeahudi der Dhongsho korar Jonno......ameen
Total Reply(0)
sahid ullah ১৭ মে, ২০২১, ৮:২৬ এএম says : 0
ইরাক যুদ্ধে যুক্তরাষ্টকে থামানো যায়নি বাকি ৪টি দেশ ভেটো দেওয়ার পরেও। এখনও নিরাপত্তাপরিষদ সিদ্ধান্ত নিতে পারছেনা তাদের কারনে।এ দেশ গুলোর নিরাপত্তাপরিষদে থেকে লাভ কি?
Total Reply(0)
MOHAMMAD PARVEZ KHAN ১৭ মে, ২০২১, ৯:৫৬ এএম says : 0
বিশ্বের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী রাষ্ট হচ্ছে- আমেরিকা, ইসরাইল, ফ্রান্স ও জার্মানী । আমেরিকা, ইসরাইল, ফ্রান্স ও জার্মানী এদের ধ্বংস না হলে পৃথিবীতে শান্তি আসবে না। জাতিসঙ্গ একটি অকার্যকর সংস্থা। এটি মূলত আমেরিকা, ইসরাইল, ফ্রান্স ও জার্মানী,রাশিয়া , চীন ও যুক্তরাজ্যের স্বার্থ রক্ষার সংস্থা। এটি মুসলিম উম্মা বিরোধি একটি সংস্থা। এটি নির্যাতিত মুসলিমদের পক্ষে কোন পদক্ষেপ গ্রহন করতে পারে না বা করে না। আমেরিকা, ইসরাইল, ফ্রান্স ও জার্মানী,রাশিয়া , চীন ও যুক্তরাজ্যের এরা ইসলামের শতরু। ইসরাইল এর ধ্বংস চাই।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন