শনিবার, ২৭ নভেম্বর ২০২১, ১২ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২১ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

জুলুম ও নির্যাতন থেকে বাঁচতে জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে

বিএনপির নেতা খালেদা জিয়া সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৬ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০০ এএম

বিএনপিকে মানুষ কেনো ভোট দেবে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার এমন মন্তব্যের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আওয়ামী লীগের জুলুম-নির্যাতন থেকে বাঁচতে জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে। তিনি বলেন, ওনারা দেশের যে অবস্থা করেছেন, মানুষের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, জীবিকার কোনো নিরাপত্তা নেই। চতুর্দিকে ভয়, ত্রাস আর সন্ত্রাস ছাড়া আর কিছু নেই। এরফলে মানুষ অতিষ্ঠ হয়ে গেছে। ওই কারণে বিএনপিকে ভোট দেবে যে, ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়াবে বলে আজকে ৭০ টাকা কেজি চাল। ৭০ টাকায় চাল খাওয়া সম্ভব নয় বলেই জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে। বিনা পয়সায় সার দেবে কৃষকদের বলেছিলো সেখানে সারের দাম আকাশচুম্বি। মানুষ নিজের ভোট নিজে দিতে চায় এবং যাকে খুশি তাকে দিতে চায়, সেজন্য বিএনপিকে ভোট দেবে। কর্মসংস্থানের নিশ্চয়তার জন্য জনগণ বিএনপিকে ভোট দেবে। গতকাল মঙ্গলবার সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা ফখরুল বলেন, গত দুই বছরের সরকারের ব্যর্থতার কারণে করোনার সময়ে অর্থনৈতিক প্যাকেজের মাধ্যমে জনগণকে রক্ষা করা যেতো। সেটা না করার কারণে বেশির ভাগ কল-কারখানাগুলো বন্ধ হয়ে গেছে, লোকজন ছাটাই হয়ে গেছে। অপ্রাতিষ্ঠানিক সেক্টারগুলো পূঁজি হারিয়েছে এবং সেসব প্রতিষ্ঠানে কর্মসংস্থান কমে গেছে। দেশটাকে এমন একটা জায়গায় নিয়ে গেছেন যেখান থেকে মানুষ এখন মুক্তি চায়, আওয়ামী লীগের হাত থেকে মুক্তি চায়, শেখ হাসিনার হাত থেকে মুক্তি চায়, এই অবৈধ সরকারের হাত থেকে মুক্তি চায়।

বিএনপির বিগত সরকারের সফলতা তুলে ধরে সাবেক প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিএনপি একমাত্র দল যারা জনগনকে কিছুটা শান্তি দিয়েছিলো। মাইক্রো ইকোনমিক্সকে স্টেবল পজিশনে নিয়ে এসেছিলো। সেজন্য জনগন বিএনপিকে ভোট দেবে।

ফখরুল বলেন, সরকার বলছে, অনেক উন্নয়ন করেছে। যদি এত উন্নয়ন করে থাকে তাহলে তারা একটা সুষ্ঠু নির্বাচন দিক না কেনো? তাহলে আজকে কেনো তারা সংকট সমাধানে রাজনৈতিক দলগুলোর সাথে বসছেন না, সমাধান করছেন না। সরকারকে বলব, এতো কথা বলেন, এতো দাম্ভিকতা দেখান। ভাই একটা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে সুষ্ঠু নির্বাচন করেন দেখেন। মানুষকে ভোট দিতে দেন।

বিএনপি নেতা বলেন, আজকে যতগুলো ইন্টারন্যাশনাল কমিউনিটি আছে, এমনকি জাতিসংঘের কাছ থেকে এমন কথা আসে যে, আমরা নির্বাচনে সহযোগিতা করতে রাজী আছি যদি বাংলাদেশ সরকার বলে। এরকম প্রশ্ন কেনো আছে। কারণ এই নির্বাচন ব্যবস্থার প্রতি কারো আস্থা নেই। না জাতির না আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর।

সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠন প্রক্রিয়া জনগণের সাথে ধোকাবাজি মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সার্চ কমিটির মাধ্যমে নির্বাচন কমিশন গঠনের যে অভিজ্ঞাতা আমাদের আছে, সেই অভিজ্ঞতা হচ্ছে- একেবারেই তাদের (সরকার) নিজস্ব লোকজনকে দিয়ে গঠন করা হয়। এটা জনগণের সাথে ধোঁকাবাজী ছাড়া কিছু নয়। আগের অভিজ্ঞতা থেকে দেখা যায়, এটা সম্পূর্ণভাবে সরকার তার নিজের পছন্দমত লোকজনকে দিয়ে তৈরি করে এবং সেটাকে নির্বাচনে কাজে লাগায়। গতবার দেখলাম, ২০১৮ সালের নির্বাচনে হুদা (কেএম নুরুল হুদা) সাহেবের কমিশন পুরোভাবে সরকারের চেয়েও অনেক ক্ষেত্রে আগ বাড়িয়ে তাদের সেই দলীয় ভূমিকা পালন করেছে।

মির্জা ফখরুল বলেন, যেকোনো নির্বাচন কমিশন গঠনের সময়ে যদি নির্বাচনকালীন সময়ে একটি নিরপেক্ষ সরকার না থাকে তাহলে সেই নির্বাচনটা কখনোই সুষ্ঠু, অবাধ এবং গ্রহনযোগ্য হয় না। এটা আমার কথা নয়, আগে নির্বাচন কমিশনার সাখাওয়াত (সাখাওয়াত হোসেন) সাহেবরা সুস্পষ্ট করে বলেছেন, যে একটা সুষ্ঠু, অবাধ ও গ্রহনযোগ্য নির্বাচন হতে হলে একটা নিরপেক্ষ সরকার থাকাটা সবচেয়ে জরুরী।

তিনি বলেন, আসলে ওটাই হচ্ছে প্রথম সংকট। নির্বাচন কমিশন খুব ভালো করলেন, কিন্তু তারা কাজ করতে পারলো না। সরকার তাদের সাথে সহযোগিতা করলো না বা তাদেরকে কাজ করতে দিলো না। তখন তো নির্বাচন সুষ্ঠু হবে না।

সংবিধানে তত্ত্বাবধায়ক সরকার নেই- সরকারের এরকম বক্তব্য খন্ডন করে তিনি বলেন, সংবিধান কী একটা বাইবেল যে এটা পরিবর্তন করা যাবে না। জনগণের প্রয়োজনে সংবিধান পরিবর্তন করতে হবে আপনাকে। তারাও তো পরিবর্তন করেছে। দুর্ভাগ্যটা কোথায়? তারা তত্ত্বাবধায়ক সরকার চেয়েছিলো এবং ১৭৩দিন হরতাল করেছিলো। সেজন্য কী কিন্তু দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া তত্ত্বাবধায়ক সরকারের বিধান সংবিধানে সংযোজন করেছিলেন। আজকে তারা জেনে গেছে, নিরপেক্ষ সরকারের অধীনে নির্বাচন হলে তারা আর ক্ষমতায় আসতে পারবে না। সেজন্য দলীয় সরকারের অধীনেই নির্বাচনের বিধান রাখতে চায় তারা।

আন্দোলন হবেই: মির্জা ফখরুল বলেন, এদেশের মানুষ আন্দোলন করবেই। আন্দোলন হবেই। কারণ আপনার দাবি আদায়ের জন্য আন্দোলন হবে, এদেশের জনগন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের জন্য আগে আন্দোলন করেছে, এবারো করবে। আমাদের দাবি একটাই, আমরা কিচ্ছু চাই না। আমরা শুধুমাত্র নির্বাচনকালীন সময়ে একটা নিরপেক্ষ সরকার চাই।

বিএনপির নেতা খালেদা জিয়া: নির্বাচনে বিএনপির নেতা কে হবেন সরকারদলীয় নেতাদের এমন বক্তব্যের বিষয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, আমাদের নেতা বেগম খালেদা জিয়া যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী, আমাদের দলের চেয়ারপারসন। উনি তো নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন না এরকম প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, উনি নির্বাচনে অংশ নিতে না পারলে নেতা থাকতে পারবেন না-এটা মনে করার কোনো কারণ নাই। শেখ মুজিবুর রহমানের বিরুদ্ধে মামলা ছিলো তিনি কারাগারে ছিলেন। তিনি কি নেতা ছিলেন না?

মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতের মতো নির্বাচন কোনো মতেই আমাদের কাছে গ্রহনযোগ্য হবে না। আমরা পরিস্কার করে বলছি যে, আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচন হবে না এবং ২০১৪ অথবা ২০১৮ সালের নির্বাচন নির্বাচন খেলায় জনগন আর গ্রহন করবে না। ###

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
মোহাম্মদ দলিলুর রহমান ৬ অক্টোবর, ২০২১, ২:৫৪ এএম says : 0
All right
Total Reply(0)
jack ali ৬ অক্টোবর, ২০২১, ১১:৪৭ এএম says : 0
মানুষ ভুলে গেছে যে আল্লাহ তাদেরকে সৃষ্টি করছে নিকৃষ্ট মাইক্রোস্কোপিক একটা শুক্র দ্বারা, এটা বের হলে গোসল ফরজ হয়ে যায়... আর সেই মানুষ আল্লাহর আইন বাদ দিয়ে কাফেরের আইন চায় আল্লাহর আইন দিয়ে দেশ চালালে জুলুম-নির্যাতন খুন-গুম লুটপাট বেহায়াপনা সব বন্ধ হয়ে যাবে
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন