সোমবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২২, ১০ মাঘ ১৪২৮, ২০ জামাদিউস সানি ১৪৪৩ হিজরী

সারা বাংলার খবর

পটুয়াখালী রাঙ্গাবালীতে পানিতে ডুবে পৃথক স্থানে দু’শিশুর মৃত্যু।

পটুয়াখালী জেলা সংবাদদাতা ও রাঙ্গাবালী উপজেলা সংবাদদাতাঃ | প্রকাশের সময় : ৮ অক্টোবর, ২০২১, ৭:৩১ পিএম

আজ জেলার রাঙ্গাবালী উপজেলায় চরমোন্তাজ ইউনিয়নের পৃথক স্থানে মোসাঃ ফাতেমা (০৩)ও মোঃ রাফি (৪)নামে দুই শিশুর পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে।

চর মোন্তাজ ইউনিয়নের চরমার্গারেট এলাকার ইউপি সদস্য মো: কাশেম মোল্লা জানান, চরমোন্তাজ ইউনিয়নের চরমার্গারেট গ্রামের জেলে ফোরকান বয়াতির ৩ বছরের জমজ শিশু কন্যা ফাতেমা ও কুলসুমকে সকাল ১০টার দিকে শিশুদের মা তাহিনুর বেগম ঘরের সামনের উঠানে ঘুম পাড়িয়ে রেখে ঘরের পিছনের দিকে কাজ করতে যান। ১৫ থেকে ২০ মিনিট পরে কাজ শেষে ঘরের সামনে উঠানে এসে ঘুম পাড়ানো জমজ শিশুদের মধ্যে ফাতেমাকে না দেখে খোঁজাখুজি শুরু করেন। পরবর্তিতে ফাতেমাকে বাড়ির পাশে ডোবায় ভাসমান অবস্থায় উদ্ধার করা হয়,খবর পেয়ে স্থানীয় পলীø চিকিৎসক এসে ফাতেমাকে মৃত বলে ঘোষনা করেন।বাদ জুমা ফাতেমাকে দাফন করা হয়।
এ ছাড়াও চরমোন্তাজ ইউনিয়নের নয়াচর এলাকার জেলে মাহবুব হাওলাদারের ৪ বছরের ছেলে শিশু সন্তান মোঃ রাফি আনুমানিক দুপুর ১২টার দিকে সকলের অগোচরে ঘরের বাহিরে চলে যায়। পরবর্তিতে তাকে অনেকক্ষন খোঁজাখুজির করে বাড়ির পুকুরে ভাসমান অবস্থায় দেখতে পান। খবর পেয়ে স্থানীয় পল্লী চিকিৎসক এসে রাফিকে মৃত বলে ঘোষনা করেন, জেলে মাহবুবু হাওলাদারের ৩ছেলে ও ১ মেয়ের মধ্যে রাফি সকলের ছোট ।
নয়ার চর এলাকার ইউপি সদস্য মো: আলমগীর মাল জানান,বঙ্গোপসাগরের নিকটবর্তী এসব এলাকায় বিশুদ্ধ পানির সংকট থাকায় অধিকাংশ লোকজনই ঘরের সাথে পুকুর বা ডোবা রাখতে বাধ্য হন।যার ফলে এসব পুকুর বা ডেবায় প্রতিবছরই এ ধরনের অনাকাংখিত শিশু মৃত্যুর ঘটনা ঘটে থাকে।তিনি আরোও জানান,তার এলাকায় সম্প্রতি ঘূর্নিঝড় ইয়াসে দেড় কিলোমিটার বেড়ীবাধ ছুটে যাওয়ায় বঙ্গোপসাগরের লবনাক্ত পানি এলাকায় প্রবেশ করে সব পুকুর ,ডোবার পানিতে লবনাক্ততা ছড়িয়ে পড়েছে ।নয়ারচর এলাকায় সাড়ে তিনহাজার জনসাধারনের বিশুদ্ধ পানির জন্য মাত্র ৪০-৪৫ টি টিউবওয়েল থাকায় প্রতিদিনই মানুষকে বিশুদ্ধ পানির জন্য দূরদূরান্তে যেতে হয়।
সংবাদ পেয়ে চরমোন্তাজ পুলিশ তদন্তকেন্দ্রের ইনচার্জ এসআই মিজানুর রহমান ঘটনা স্থালে যান,তিনি জানান দুটি ঘটনাই হ্রদয় বিদারক উভয় পরিবারের বাবা,মা সহ পরিবারের লোকজনের কান্নায় এলাকায় শোকাবহ অবস্থা বিরাজ করছে। উভয় পরিবারের বাবা দিনমজুর ,ঘরের ১০ থেকে ১৫ হাতের মধ্যে পুকুর ও ডোবায় পড়ে বাচ্চা দুটি প্রান হারিয়েছে। কোন অভিযোগ না থাকায় স্থানীয় চেয়ারম্যান ও এলাকার গন্যমান্য ব্যাক্তিদের উপস্থিতিতে শিশু দুটিকে দাফনের অনুমতি দেয়া হয়েছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন