শনিবার, ০২ জুলাই ২০২২, ১৮ আষাঢ় ১৪২৯, ০২ যিলহজ ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

ডানা মেললো পায়রা

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২১ মার্চ, ২০২২, ১২:২০ পিএম | আপডেট : ১:১৬ পিএম, ২১ মার্চ, ২০২২

এক হাজার ৩২০ মেগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন দেশের সবচেয়ে বড় ও সর্বাধুনিক প্রযুক্তির পায়রা তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্র উদ্বোধন করলেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা

পটুয়াখালীর কলাপাড়ার ধানখালীর পায়রাতে নির্মিত সর্বাধুনিক আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্রটি সোমবার দুপুর ১২টার দিকে উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।

বেলুন উড়িয়ে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি উদ্বোধনের সময় উড়ানো হয় এক হাজার ৩২০টি পায়রা।

এর আগে ঢাকা থেকে হেলিকপ্টারে পটুয়াখালী পৌঁছান প্রধানমন্ত্রী। হেলিপ্যাডে সেখানে অবতরণের পর তাকে গার্ড অব অনার জানায় বাংলাদেশ পুলিশের একটি চৌকস দল।

করোনাভাইরাস মহামারির পর ঢাকার বাইরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া ছাড়া এটি সরকারপ্রধানের প্রথম কোনো সফর।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বর্ণিল সাজে সাজানো হয় পুরো এলাকা। নানা আয়োজনের মধ্যে সবার নজর কেড়েছে প্রধানমন্ত্রীকে বরণ করে নিতে ১৫০টি নৌকা।

জেটিতে রঙিন পাল তোলা এসব নৌকা থেকে জাতীয় পতাকা উড়িয়ে সংগীত পরিবেশনের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে অভিবাদন জানানো হয়। প্রধানমন্ত্রী হাত নেড়ে অভিবাদন গ্রহণ করেন।

এ সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে নিজের মোবাইল ফোন বের করে তার ছবি তোলা বা ভিডিও করতে দেখা যায়।

কলাপাড়ার ধানখালীর পায়রাতে নির্মিত সর্বাধুনিক আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির কয়লাভিত্তিক এ তাপবিদ্যুৎ কেন্দ্রটি নির্মাণে খরচ হয়েছে প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা।

বাংলাদেশের নর্থ ওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন কম্পানি (এনডাব্লিউপিজিসিএল) ও চায়না ন্যাশনাল মেশিনারি এক্সপোর্ট অ্যান্ড ইমপোর্ট করপোরেশনের (সিএমসি) সমান অংশীদারে বিদ্যুৎকেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়েছে।

এই দুটি প্রতিষ্ঠান মিলে কেন্দ্র পরিচালনার জন্য বাংলাদেশ চায়না পাওয়ার কোম্পানি লিমিটেড (বিসিপিসিএল) নামে পৃথক একটি কোম্পানি প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে।

আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে বিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণকারী দেশগুলোর মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের ১৩তম, এশিয়ায় সপ্তম এবং দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ ছাড়া শুধু ভারতে এ ধরনের একটি বিদ্যুৎকেন্দ্র রয়েছে।

এশিয়ার চীন, তাইওয়ান, জাপান ও মালয়েশিয়ায় আলট্রা সুপার ক্রিটিক্যাল প্রযুক্তির বিদ্যুৎকেন্দ্র থাকলেও ঢাকনাযুক্ত কোল ইয়ার্ড ব্যবহার করে চীন ও বাংলাদেশ। যার ফলে বাতাসের মাধ্যমে কয়লা থেকে গুঁড়া ছড়িয়ে পড়ার সুযোগ কমে যায়।

৬৬০ মেগাওয়াটের দুই ইউনিট মিলে এই বিদ্যুৎকেন্দ্র। প্রথম ইউনিট উৎপাদনে আসে ২০২০ সালের ১৫ মে। সমান ক্ষমতার দ্বিতীয় ইউনিট উৎপাদনে আসে ওই বছরের ৮ ডিসেম্বর। বর্তমানে এ কেন্দ্র থেকে প্রতিদিন ৭০০ থেকে এক হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে।

সঞ্চালন অবকাঠামোর নির্মাণ শেষ না হওয়ায় কেন্দ্রটি থেকে ক্ষমতার চেয়ে কম বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ বিভাগ। বিদ্যুৎকেন্দ্রটির জন্য প্রতিদিন ১৩ হাজার টন কয়লা প্রয়োজন। যার জোগান আসছে ইন্দোনেশিয়া ও অস্ট্রেলিয়া থেকে।

বিদ্যুৎ বিভাগ জানিয়েছে, ২০০৯ সালে বিদ্যুৎ সুবিধাপ্রাপ্ত জনগোষ্ঠী ছিল ৪৭ শতাংশ। গত ১৩ বছরে ৫৩ শতাংশ বেড়ে এখন শতভাগ মানুষ বিদ্যুৎ সুবিধার আওতায় এসেছে।

২০০৯ সালে গ্রাহক সংখ্যা ছিল ১ কোটি ৮ লাখ। বর্তমানে বিদ্যুতের গ্রাহক সংখ্যা ৪ কোটি ২১ লাখ। ২০০৯ সালে দেশে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদন ক্ষমতা ছিল ৪ হাজার ৯৪২ মেগাওয়াট। বর্তমানে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য মিলিয়ে বর্তমানে তা ২৫ হাজার ৫১৪ মেগাওয়াটে উন্নীত হয়েছে।

সঞ্চালন লাইন স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে সরকার। তবে দুর্গম এলাকায় সোলার প্যানেল স্থাপনের মাধ্যমে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেয়া হচ্ছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (3)
ম নাছিরউদ্দীন শাহ ২১ মার্চ, ২০২২, ২:৫৯ পিএম says : 0
আলোকিত বাংলাদেশ বিদুৎতে পরিপূর্ণ বাংলাদেশ। বিশালাকার কর্মযজ্ঞে দূয়াদার উন্নয়ন অগ্রগতিতে বাংলাদেশ।অবিশ্বাস্য এই বিষ্ময়কর শক্তিশালী বাংলাদেশের প্রতিষ্টিাতামাননীয় প্রধানমন্ত্রী কে অভিনন্দন শ্রদ্ধা ও সালাম। বাংলাদেশের মানুষ পৃথিবীর মাঝে আত্মমর্যাদার পরিচয় পাচ্ছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছেন এগিয়ে যাবেন প্রতিযোগিতামূলক বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির যুগে এই প্রতিযোগিতার কঠিন সময়ে রাষ্ট্রের নির্বাহীপ্রধান বিচক্ষন জ্ঞানী ভিষন মহাপরিকল্পনার মাঝে আন্তর্জাতিক ও দেশীয় ষড়যন্ত্রের মোকাবেলা করে বাংলাদেশ এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন। বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের মানুষের অকল্পনীয় অগ্রগতি উন্নয়নসব সুচকে দক্ষিণ এশিয়াই বাংলাদেশের শক্তিশালী অর্থনীতি ভবিষ্যতের বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে সম্মানজনক অবস্থায়। এই কঠিন যাত্রা পথে জীবন মৃত্যুর চ‍্যালেঞ্জ। আন্তর্জাতিক ও দেশীয় চ‍্যালেঞ্জ বিশ্বব‍্যাংক আইএমএফ দাতা সংস্থাগুলোর চ‍্যালেঞ্জ। বিশালাকার বিশ্বাস সাহসিকতা রুপকল্প ডেলটা প্লান ভীষণ মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর লিডারশিপে বাংলাদেশ উজ্জল এবং আলোকিত হয়েছে। এই দেশের ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় প্রিন্ট মিডিয়ায় এবং বুদ্ধিজীবীদের জ্ঞানী গুনীদের রাজনৈতিক নেতা কাছে সকলস্তরের মানুষের বিনীতভাবে অনুরোধ থাকবে বঙ্গবন্ধুর কন‍্যা সকল প্রতিযোগিতার উদ্ধে বিশাল মহান নেতা। আন্তর্জাতিকভাবে পৃথিবীর প্রভাবশালী নেতাদেরএকজন দক্ষিণ দক্ষবিচক্ষণ ক‍্যারেশম‍্যাটিক নেতৃত্ব গুনে চীন ভারত আমেরিকা অর্থনৈতিক যুদ্ধ রাজনৈতিক যুদ্ধে দক্ষ কুটনৈতিক প্রজ্ঞায় এই বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী অত্যন্ত মর্যাদা সম্মানজনক অবস্থায়। বাংলাদেশ অত্যন্ত ভাগ‍্যবান প্রধানমন্ত্রীর সুদুরপ্রসারী ভবিষ্যত শক্তিশালী বাংলাদেশের ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক পরাশক্তি হওয়ার বাংলাদেশের। স্বাধীনতা সার্বভৌমত্বের অতদ্র প্রহরীর কাছে বাংলাদেশ। এভাবেই একের পর এক শিরোনাম হবেই। ৪১সালের আগেই বাংলাদেশ উন্নয়নশীল দেশের কাতারে যাবে বাংলাদেশের আটার কোটি মানুষের ভালবাসা প্রশংসনীয় এই বাংলাদেশ শক্তিশালী বাংলাদেশ অর্থনৈতিক পরাশক্তির কারণে যুগের পর যুগ শতাব্দীর পর শতাব্দী বাংলাদেশের ইতিহাসের পাতায় হীরের অক্ষরে স্বর্ণা অক্ষরে লিপিবদ্ধ থাকবে একটি মাত্র নাম। বঙ্গবন্ধুর কন‍্যা মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নাম। এগিয়ে যাও বিশ্ব মানবতার মা। আপনার শারীরিক সুস্বাস্থ্য দীর্ঘায়ু কামনা করছি। মহান আল্লাহর দরবারে।আমিন
Total Reply(0)
mostafizur rahman ২১ মার্চ, ২০২২, ৬:১৫ পিএম says : 0
To Respectable prime minister of Bangladesh Mrs Shekh Hasina Thank you for Establishing a modern Electricity center in Paiyra bondor,Barishal producing 1000 and 320 mega watt electricity.. Mostafizur Rahman Canada
Total Reply(0)
Tareq Sabur ২১ মার্চ, ২০২২, ৪:২১ পিএম says : 0
দেশে এত বিদ্যুৎ উৎপাদনের পরও ভারতে কেন বিদ্যুৎ কেনার নামে এত টাকা রপ্তানী করা হচ্ছে?
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন

Google Apps