শুক্রবার, ১৯ আগস্ট ২০২২, ০৪ ভাদ্র ১৪২৯, ২০ মুহাররম ১৪৪৪

জাতীয় সংবাদ

ট্রেনের টিকিটের জন্য হাহাকার

কমলাপুরে হাজার হাজার মানুষ ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রথম মিনিটে ৫ লাখ হিট

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২ জুলাই, ২০২২, ১২:০১ এএম

ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের টিকিট বিক্রিতে সেই পুরোনো চিত্র। কমলাপুরে হাজার হাজার মানুষ লাইনে দাঁড়িয়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিলেও মিলছে না কাক্সিক্ষত টিকিট। ৮ থেকে ১১ ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে টিকিটপ্রত্যাশীদের। তবে সবচেয়ে বেশি ভোগান্তি পেতে হয় নারী টিকিটপ্রত্যাশীদের। কাউন্টার, অনলাইন ও মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট বিক্রি করা হলেও কোন কিছুতেই দুর্ভোগ কমাতে পারছে না রেলওয়ে।

প্রথম দিনেই টিকিট না পাওয়ার হতাশা ও ক্ষোভ নিয়ে ঘরে ফিরেছেন অনেকে। গতকাল শুক্রবার সকাল ৮টা থেকে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। দেয়া হয় ৫ জুলাইয়ের টিকিট। তবে টিকিট বিক্রির প্রথম দিনেই তিন ঘণ্টার মধ্যে প্রায় সব টিকিট শেষ হয়ে যায়। প্রথম তিন ঘণ্টায় সব টিকিট বিক্রি হয়ে যাওয়াকে অভিযোগের দৃষ্টিতেই দেখছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা।
সাধারণ যাত্রীদের অভিযোগ টিকিট নিয়ে রেল কর্তৃপক্ষের কালো বিড়াল ও হোয়াইট ইঁদুরের কবল থেকে মুক্ত হতে পারছেনা বলে জানান তারা। অনেকে বলছেন রেলের টিকিট মানেই কষ্ট। রেলের টিকিট মানেই দুর্ভোগ। আর এ দুর্ভোগ নতুন নয়। পুরোনো সমস্যাই নতুন করে প্রকট আকার ধারণ করে ঈদের সময়। প্রত্যেক ঈদের সময়ই টিকিটপ্রত্যাশীদের সীমাহীন কষ্ট করতে হয় পরিবার পরিজন নিয়ে বাড়ি যাওয়ার জন্য টিকিট কাটতে গেলে। এদিকে, ট্রেনের টিকিটের জন্য ই-টিকিটিং ওয়েবসাইটে প্রথম মিনিটে ৫ লাখ হিট করেছে টিকিটপ্রত্যাশীরা। এছাড়া প্রথম তিন ঘণ্টায় সারাদেশে প্রায় ৪৪ হাজার টিকিট বিক্রি হয়েছে। এসব তথ্য জানায় বাংলাদেশ রেলওয়ের টিকিট বিক্রির সহযোগী প্রতিষ্ঠান সহজ-সিনেসিস-ভিনসেন জেভি।
গতকাল কমলাপুর রেলস্টেশনে দেখা যায়, গত বৃহস্পতিবার রাত থেকেই কাউন্টারে দাঁড়িয়েছেন টিকিটপ্রত্যাশীরা। হাতে গোনা কিছু মানুষ ট্রেনের টিকিট পেলেও বেশিরভাগ লোকজনকে ফিরতে হয়েছে হতাশায়। উত্তরবঙ্গের বেশিরভাগ মানুষের যাতায়াতের প্রথম পছন্দ ট্রেন হলেও তারাই বেশি হতাশায় রয়েছেন। কারণ এই এলাকার অনেক লোকজনই গতকাল টিকিট না পাওয়ায় আজ আবার টিকিটের জন্য লাইনে দাঁড়াবেন। অনেকেই যারা টিকিট পাননি তারা নিজেদের মধ্যে সিরিয়াল দেয়ার ব্যবস্থা করেছেন। তাদের মধ্যে একজন থেকে যাবেন। অন্যজন পরবর্তী সময়ে আসবেন। রাতে থাকবেন কয়েকজন। সকালে আবার সবাই এসে লাইনে দাঁড়িয়ে টিকিট কাটার চেষ্টা করবেন।
মগবাজার থেকে আসা জিয়াউল হক বলেন, বৃহস্পতিবার এসে লাইনে দাঁড়িয়েছি। আমি পরিবারের আরো তিনজন নিয়ে রাজশাহী যাবো। শুক্রবার কাউন্টারের কাছাকাছি আসার পর জানলাম টিকিট শেষ। সকালে নাস্তা না খেয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলাম টিকিটের জন্য। কিন্তু এখন আমার সময় গেলো, কষ্ট করলাম তবুও টিকিট পেলাম না। লাইনের প্রথম কিছু লোক টিকিট পেয়েছেন। আমার মতো অনেকেই টিকিট পাননি।
ঈদ উপলক্ষে ট্রেনের টিকিট বিক্রির প্রথম দিনে ঢাকার কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে চরম ভোগান্তির শিকার হয়েছেন নারীরা। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে সারিতে দাঁড়িয়ে ঈদযাত্রার টিকিট কিনছেন নারীরা। কিন্তু অন্য বছরের তুলনায় এবছর টিকিট কিনতে আসা নারীদের সংখ্যা ছিলো বেশি। রাত থেকেই তারা টিকিটের জন্য লাইন ধরে বসে রয়েছেন। আবার অনেকে সকাল হওয়ার সাথে সাথে এসে লাইনে দাঁড়িয়েছেন। কোলের শিশু সন্তানকে নিয়ে কমলাপুর স্টেশনে ঈদের জন্য ট্রেনের টিকিট কাটতে এসেছেন কয়েকজন নারী। তারা দীর্ঘ সময় দাঁড়িয়ে থেকে কষ্ট করছেন টিকিটের জন্য। তবুও মিলছেনা কাক্সিক্ষত টিকিট। কেউ কেউ পেলেও বেশিরভাগ নারীরই শূন্য হাতে ফিরতে হচ্ছে।
কমলাপুর রেলস্টেশনে পুরো উত্তরাঞ্চলগামী আন্তনগর ও বী. মু. সি. ই (পঞ্চগড়) ঈদ স্পেশাল ট্রেনের টিকিট দেয়া হচ্ছে। এখানে ৯ থেকে ১৮ নম্বর পর্যন্ত মোট ১০টি কাউন্টারে টিকিট বিক্রি হচ্ছে। তার মধ্যে মাত্র একটি কাউন্টার থেকে দেয়া হচ্ছে নারীদের টিকিট। নারীদের ১৮ নম্বর থেকে টিকিট দেওয়া হলেও ১৯ ও ২০ নম্বর কাউন্টার বন্ধ ছিল। নারীরা বলছেন, ১৯ ও ২০ নম্বর কাউন্টার থেকেও তাঁদের টিকিট দেয়া হলে তারা ভোগান্তিতে পরতেন না। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়ে থেকে এবং পর্যাপ্ত বৈদ্যুতিক পাখার ব্যবস্থা না থাকায় বেশ কয়েক নারী অসুস্থ হয়ে পড়েন। অনেকে হাতপাখা দিয়ে বাতাস করেন। বসার ব্যবস্থা না থাকায় অনেকেই ফ্লোরে বসে পড়েন।
টিকিট কাটতে আসা কয়েকজন নারী টিকিটপ্রত্যাশী বলেন, একটা কাউন্টার থেকে নারীদের টিকিট দেয়া হচ্ছে। এতে লাইন অনেক দূর পর্যন্ত চলে যায় এবং বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। তাই একাধিক কাউন্টারে টিকিট দিলে ভিড় কম হতো। মহিলাদের কষ্ট কম হতো।
জানা যায়, ঢাকায় ছয় স্টেশন এবং গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশনে বিক্রি হচ্ছে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট। এর মধ্যে কমলাপুর রেলস্টেশনে উত্তরাঞ্চলগামী আন্তঃনগর ট্রেনের। রাজশাহী ও খুলনাগামী ট্রেনের টিকিট কমলাপুর শহরতলী প্ল্যাটফর্ম থেকে। ঢাকা বিমানবন্দর থেকে চট্টগ্রাম ও নোয়াখালীগামী সব আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট। তেজগাঁও রেলস্টেশনে ময়মনসিংহ, জামালপুর ও দেওয়ানগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট। এছাড়া ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট স্টেশনে মোহনগঞ্জগামী মোহনগঞ্জ ও হাওর এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট। ফুলবাড়িয়া রেলস্টেশন থেকে সিলেট ও কিশোরগঞ্জগামী ট্রেনের টিকিট বিক্রি হচ্ছে। ১ জুলাই দেয়া হয় ৫ জুলাইয়ের টিকিট। ২ জুলাই ৬ জুলাইয়ের টিকিট। ৩ জুলাই দেয়া হবে ৭ জুলাইয়ের টিকিট। ৪ জুলাই পাওয়া যাবে ৮ জুলাইয়ের টিকিট এবং ৫ জুলাই দেয়া হবে ৯ জুলাইয়ের টিকিট। এছাড়া ফিরতি টিকিট বিক্রি শুরু হবে ৭ জুলাই থেকে। ওইদিন ১১ জুলাইয়ের টিকিট বিক্রি হবে।
সহজের জনসংযোগ কর্মকর্তা ফারহাত আহমেদ বলেন, সকাল ৮টায় কমলাপুরসহ অন্যান্য রেলস্টেশনগুলোর কাউন্টার, ওয়েবসাইট ও রেল সেবা অ্যাপে টিকিট বিক্রি শুরু হয়। সকাল ৮টা থেকে ১১টা পর্যন্ত সারাদেশের কাউন্টার থেকে ২৩ হাজার ১৮টি ও অনলাইনে ২১ হাজার ৮৯১টি টিকিট বিক্রি হয়েছে। টিকিট প্রত্যাশীদের ভোগান্তি পোহাতে হয়নি।
কমলাপুর স্টেশন ম্যানেজার মোহাম্মদ মাসুদ সারওয়ার বলেন, নারীদের লাইনে শৃঙ্খলা রাখার জন্য আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা কাজ করছেন। এখন তারা নিজেরা যদি না মানেন তাহলে কি করা যাবে। পুরুষেরা সাতটি কাউন্টারে দাঁড়িয়েছেন। প্রত্যেক কাউন্টারে আলাদা এলাকার টিকিট দেয়া হচ্ছে। নারীরা সাতটি কাউন্টারের টিকিট একটি কাউন্টারে পাচ্ছেন। দুই কাউন্টার হলে সাত কাউন্টারের টিকিট এক জায়গায় পাবেন না নারীরা।###

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন