সোমবার, ১৫ আগস্ট ২০২২, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৯, ১৬ মুহাররম ১৪৪৪

আন্তর্জাতিক সংবাদ

মিয়ানমারের গণহত্যার অভিযোগে সাক্ষ্য দেবেন রোহিঙ্গা নারীরা

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০২২, ১২:০৩ এএম

আশা করা হচ্ছে, বুয়েনেস আয়েরেসের একটি আদালতে একদল রোহিঙ্গা নারী মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে চলমান গণহত্যার অভিযোগের পক্ষে সাক্ষ্য দিতে আগামী ২ মাসের মধ্যে আর্জেন্টিনায় পৌঁছাবেন। যারা প্রাণে রক্ষা পেয়েছেন তারা প্রত্যেকেই দূর থেকেই আদালতের কাছে তাদের যৌন নিপীড়ন বিষয়ে সাক্ষ্য দিয়েছেন। আর্জেন্টিনার আদালত ‘সর্বজনীন ন্যায়বিচারের’ ধারণায় বিশ্বাস করে। অর্থাৎ, দেশটির আদালতের মতে, পৃথিবীর যেখানেই গণহত্যাসহ যেকোনো ধরনের ভয়াবহ ঘটনা ঘটুক না কেনো, সেটার বিচার পৃথিবীর যেকোনো আদালতেই হতে পারে। এই মামলার মূলে আছে ২০১৭ সালে রোহিঙ্গা মুসলমানদের ওপর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর নিপীড়ন। সে বছর রোহিঙ্গা অধ্যুষিত ৩৭০টি গ্রাম আগুনে পোড়ানো হয়। রাখাইন রাজ্যে আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) নামের একটি সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ অভিযান চালায়। শত শত বেসামরিক রোহিঙ্গা নিহত হয়। জাতিসংঘ বলেছে, মিয়ানমার সেনাবাহিনীর এই কর্মকাÐ গণহত্যার নামান্তর। এ অভিযানের পর ৭ লাখ ৪০ হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গা বাংলাদেশে পালিয়ে আসে। বার্মিজ রোহিঙ্গা অর্গানাইজেশন ইউকের (বিআরওইউকে) নামের একটি সংস্থা ২০২১ সালের ১৩ নভেম্বর মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর বিরুদ্ধে মামলা করে, যেটি পরের মাসেই আর্জেন্টিনার কেন্দ্রীয় আদালত গ্রহণ করে। এছাড়াও, মিয়ানমারের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে আন্তর্জাতিক ফৌজদারি আদালত ও জাতিসঙ্ঘের আন্তর্জাতিক বিচারিক আদালতে (আইসিজে) আইনি প্রক্রিয়া চলছে। বিআরওইউকের সভাপতি তুন খিন জানান, এবারই প্রথমবারের মতো রাখাইন রাজ্যে আন্তর্জাতিক আইন লংঘন বিষয়ে কোনো আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা নারীরা সরাসরি সাক্ষ্য দেবেন। বিআরওইউকে’র প্রেসিডেন্ট ত‚ন খিন বলেন, ২০১৭ সালে রাখাইনের উত্তরাঞ্চলে মিয়ামারের সামরিক বাহিনী যে আন্তর্জাতিক আইন লংঘন করেছে সেই অভিযোগের শুনানিতে এই প্রথম রোহিঙ্গা নারী ও মেয়েরা আন্তর্জাতিক আদালতে হাজির হচ্ছেন। সামরিক জান্তার বিরুদ্ধে আদালতে শুনানির বিষয়ে সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র মেজর জেনারেল ঝাও মিন তুন বলেন, ‘আমরা আইসিজেতে জবানবন্দি দিয়েছি, যেটি জাতিসংঘের একটি আনুষ্ঠানিক সংস্থা। সেখানে আমরা ব্যাখ্যা করেছি রাখাইন রাজ্যে আগে স্থিতিশীলতা বজায় ছিল। তিনি আরো বলেন, আরসা জঙ্গি দলের কার্যক্রম শুরুর পর থেকে সংঘর্ষ দেখা দিয়েছে। যারা অভিযোগ করেছেন, তাদের রাখাইন রাজ্যে বিভিন্নক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের পূর্ব ইতিহাস বিশ্লেষণ করা উচিৎ। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেত অন্য দেশগুলোকে আর্জেন্টিনা ও তুরস্কের সাথে আইনই লড়াইয়ে যোগ দেয়ার আহŸান জানিয়েছেন। জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলেট আরজেন্টিনা ও তুরস্কের সাথে অন্যান্য দেশকেও যুক্ত হবার আহŸান জানিয়েছেন। এ দু’টি দেশ বৈশ্বিক বিচার ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্য রেখে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনীর আন্তর্জাতিক আইন লংঘনের বিষয়টি তদন্ত করে দেখছে। ভয়েস অফ আমেরিকা।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন