বৃহস্পতিবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২২, ১৪ আশ্বিন ১৪২৯, ০২ রবিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

বিনোদন প্রতিদিন

পাটের শাড়িতে মুগ্ধতা ছড়াচ্ছেন অভিনেত্রী, যা বললেন নেটিজেনরা

রুহুল আমিন | প্রকাশের সময় : ৯ আগস্ট, ২০২২, ৭:৩৯ পিএম

আলো ঝলমলে মঞ্চ। ব্যাকগ্রাউন্ডে বাজছে ইমন চক্রবর্তীর গাওয়া ‘টাপা টিনি’ গান। এ গানের সঙ্গে দলীয় নৃত্য পরিবেশন করছেন কলকাতার অভিনেত্রী মনামী ঘোষ। তার পরনে হলুদ পাটের শাড়ি। মনামীর গান ও নাচ যেমন নজর কেড়েছে, তেমনি দৃষ্টি কেড়েছে তার পরনের শাড়ি। নেটদুনিয়ায় ছড়িয়েপড়া একটি ভিডিও ক্লিপে এমন দৃশ্য দেখা যায়।

মূল বিষয় হলো-মনামীর পরনের শাড়িটি পাটের তৈরি। শুধু তাই নয়, পাটের তৈরি ব্লাউজও পরেছেন এই অভিনেত্রী। এই জুটের শাড়ি বা চটের শাড়িতে বিশেষ কোনো কারুকাজ নেই। যে ধরনের পাটের অংশ থেকে বস্তা তৈরি করা হয়, সেই ধরনের পাট থেকেই তৈরি করা হয়েছে এই শাড়ি। আর তাতে হলুদ রঙের বর্ডার যোগ করা হয়েছে। আঁচলে রয়েছে বিশেষ ডিটেলিং।

কুঁচির পাশ থেকে জোড়া হয়েছে এই আঁচলের অংশ। আর কাঁধ থেকে পাকানো দড়ি দড়ি অংশ রয়েছে। এই বিশেষ ডিটেলিং নজর কেড়েছে সবার। আঁচলের তলার অংশেও হলুদ রঙ দেওয়া হয়েছে। এই শাড়িতে প্রিয় অভিনেত্রীকে দেখে মুগ্ধতা প্রকাশ করছেন নেটিজেনরা।

ছবির ক্যাপশনে অভিনেত্রী লিখেছেন, বাঙালি জীবনের অবিচ্ছেদ্য অঙ্গ পাটের এই শিল্প। এই সাজের মাধ্যমে পাটশিল্পের সেই সমস্ত কারিগরকে কুর্নিশ। যাঁরা দিনরাত পরিশ্রম করে এই শিল্পটিকে বাঁচিয়ে রেখেছেন এবং নিজেদের দক্ষতার মাধ্যমে আমাদের ছোটবেলা ও বড়বেলাকে সমৃদ্ধ করেছেন।

ছবির পরই ভিডিও আপলোড করেন মনামী। যেখানে প্রথমে তাঁকে টাপা টিনি গানের ছন্দে নাচের মহড়া দিতে দেখা যায়। তারপর পাটের তৈরি শাড়ি পরে ডান্স ডান্স জুনিয়র সিজন ৩ শোয়ের সেটে নাচতে দেখা যায়। এরপর থেকেই শুরু হয় সোস্যাল মিডিয়ায় সমালোচনা।

সিনথিয়া রুহি নামে একজন ফেসবুকে লিখেছেন, তাঁরা নায়িকা, তাই তাদের সুন্দর লাগে। আর আমরা পড়লে কাজের বেডি সাবানার মতো লাগবে।

রাফেজা রিক্তা নামে একজন লিখেছেন, সামনে যে দিন আসছে বলে আশঙ্কা করছি, তাতে শুধু মডেল নয় সবারই ছালা-বস্তা পরার অভ্যাস করা উচিত।

মো. ইউনুছ মিনার নামে একজন লিখেছেন, এই শাড়ি পরে তাঁর শরীর চুলকাচ্ছে কি না-আমার খুব জানতে ইচ্ছে করছে।

রূপ কথা নামে একজন লিখেছেন, মনামিকে এ পাটের শাড়ি পড়াতে অনেক সুন্দর লাগছে। আসলে যারা সুন্দরী তাঁরা পাটের শাড়ি হোক আর ছেঁড়া শাড়ি হোক যা পড়বে তাতেই ভালো লাগবে।

মো. আ. হালিম নামে একজন লিখেছেন, খুবই কমফোর্ট ফিল, আমিও অনেকবার পাটের শাড়ি পড়েছি। কত যে বস্তা পেচিয়ে পড়েছি তা বলা মুশকিল।

শারবনি সাদ্দাম নামে একজন লিখেছেন, মনামি পরছে বলেই ভাল্লাগছে, আমরা পরলে ফকিন্নি মনে করে হাতে পয়সা ধরিয়ে দিবে।

শিশির পাল নামে একজন লিখেছেন, আমাদের দেশে এটাকে ছালার চট বলে। শীতকালে গ্রামে গরুকে জামার মতো করে পড়ানো হয়।

রুমান রিমা নামে একজন লিখেছেন, দেখেই আমার শরীর চুলকানি দিছে। সে পড়ে আছে কীভাবে, আমার জানতে ইচ্ছে করছে।

মো. জাকির হোসেন নামে একজন লিখেছেন, পাট শিল্পকে বাঁচিয়ে রাখতে সময়োপযোগী উদ্যোগ।

মো. হানিফ সঙ্কেত নামে একজন লিখেছেন, অর্ধেক শরীর দেখিয়ে, আটা ময়দা মেখে নিন। সবাইকেই সুন্দর লাগবে।

কিন্তু মনামীর এই সাজকে স্বাভাবিকভাবে নেয়নি নেটিজেনের একাংশ। নানারকম আপত্তিকর মন্তব্য করেছেন তারা। কেউ তাকে বলিউডের বিতর্কিত ফ্যাশন তারকা উরফি জাভেদের সঙ্গে তুলনা করেছেন। কেউ আবার তাচ্ছিল্য করে বলেছেন, ‘আমি ঠিক কী দেখলাম! এটা তো বস্তা’।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন