শুক্রবার ০৯ ডিসেম্বর ২০২২, ২৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৯, ১৪ জামাদিউল আউয়াল ১৪৪৪ হিজরী

ধর্ম দর্শন

প্রশ্ন : কীভাবে শ্রেষ্ঠ হলেন আবু বকর সিদ্দিক রা.?

আবদুল আউওয়াল | প্রকাশের সময় : ৬ অক্টোবর, ২০২২, ১২:১৫ এএম

উত্তর: ইসলামের জন্য প্রথম মাল খরচকারী: আবদুর রহমান বিন মুহাম্মাদ বিন কাসেম রাহ. বলেন, ‘ইসলামের পথে আল্লাহর রাসুলের সা: পর সর্বপ্রথম মাল খরচ কারী আবু বকর সিদ্দিক রা.। ইসলামের জন্য তিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ ওয়াকফ করে দিয়েছিলেন। তা ছিল চল্লিাজ হাজার দিনার বা স্বর্ণমুদ্রা। কুরাইশদের যেসব দাস-দাসী ইসলাম গ্রহণের কারণে নির্যাতিত হচ্ছিল, এমন বিশ জনকে তিনি নিজ অর্থে ক্রয় করে মুক্ত করেছিলেন। এদেরই একজন হলেন ইসলামের প্রথম মুয়াযযিন হযরত বিলাল রা.। হযরত উমর রা. বলেন, ‘আমাদের সরদার আবু বকর আরেক সরদার বিলালকে মুক্ত করেছেন।’

একবার নবিজি সা বলেন,‘আমি প্রতিটি মানুষের ইহসান পরিশোধ করেছি। কিন্তু আবু বকরের ইহসান এতো বেশি যে তা পরিশোধ করতে আমি অক্ষম। তার প্রতিদান আল্লাহ দেবেন। তার অর্থ আমার উপকারে যেমন এসেছে, অন্য কারো অর্থ তেমন আসেনি। এ কথা শুনে আবু বকর সিদ্দিক রা. কেঁদে ফেলেন এবং বলেন, ‘ইয়া রাসুলাল্লহা আমি এবং আমার সম্পদ কি আপনি ছাড়া?।’ (আল মুসনাদ)

সাহাবাদের জন্য তিনি ছিলেন মুক্তহস্ত, উদার দিল। তাবুকের যুদ্ধে তিনি তাঁর সমস্ত সম্পদ আল্লাহর রাস্তায় দান করে দিয়েছিলেন। নবিজি সা. যখন তাঁকে প্রশ্ন করেছিলেন, ‘তোমার পরিবারের জন্য কি রেখে এসেছো?’ উত্তর বলেছিলেন: ‘তাদের জন্য আল্লাহ ও তাঁর রাসুলই যথেষ্ট।’ (সুনানে তিরমিযি)

সর্বাপেক্ষা বেশি মুত্তাকি: উম্মতের সর্বাপেক্ষা মুত্তাকি লোক ছিলেন আবু বকর সিদ্দিক রা.। পবিত্র কুরআন তাঁর শানে ঘোষণা দিয়েছে, ‘জাহান্নাম থেকে দূরে রাখা হবে সর্বাপেক্ষা খোদাভীরুকে যে আত্মশুদ্ধির জন্য সম্পদ খরচ করে এবং এতে তার ওপর কারো কোনো প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকেনা, তাঁর মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি অর্জন ব্যতীত। অতি সত্বর সে সন্তুষ্টি লাভ করবে।’ (সুরা লাইল: ১৭-২১) তাঁর বর্ণাঢ্য জীবনের বাঁকে বাঁকে তাকওয়ার বহু ঘটনা জড়িয়ে আছে । হযরত আয়েশা রা. বলেন, ‘আবু বকর রা.-’র একজন গোলাম ছিল। সে তার উপার্জনের একটি অংশ তাঁকে দিত। তিনি তা খেতেন। একদিন সে কিছু (খাবার) নিয়ে এলো। আবু বকর রা. তা থেকে কিছু খেলেন। তখন সে বলল, ‘আপনার কি জানা আছে, এই খাবার আমি কীভাবে লাভ করেছি?’ তিনি জানতে চাইলে সে বলল, ‘জাহেলি যুগে আমি এক ব্যক্তির জন্য গণকের কাজ করেছিলাম। (অর্থাৎ গণকের মত ভবিষ্যতের বিষয় বলেছিলাম।) আমি তো গণকের কাজ পারি না; (তার কাছে গণক সেজেছিলাম) তাকে ধোঁকা দিয়েছিলাম। আজ তার সাথে দেখা হলে সে তার বিনিময়ে এ খাবার দিয়েছে।’ একথা শোনার সাথে সাথে তিনি গলার মধ্যে হাত ঢুকিয়ে দিলেন এবং যা খেয়েছিলেন বমি করে সব বের করে দিলেন।’ (বুখারী) মৃত্যুকালে তিনি সন্তানদের অসিয়ত করেছিলেন- ‘ আমার মৃত্যুর পর আমার সম্পদ বিক্রি করে শাসক হিসাবে নেয়া রাষ্ট্রীয় ভাতা বাইতুল মালে ফেরত দেবে এব আমার শরীরে বর্তমানে যে জামা আছে তা পারিস্কার করে এটা দিয়েই কাফন দেবে।’

নবিজির কাছে কন্যার বিয়ে প্রদান: নবুয়তের তেরোতম বর্ষে হযরত খাদিজা রা. ইন্তেকাল করলে নবিজি সা. ভেঙ্গে পড়েন। কারণ তিনি ছিলেন তাঁর দুর্দিনের পরম প্রিয় সঙ্গিনী। তখন হযরত আবু বকর সিদ্দিক রা. তাঁর আদরের কুমারী কন্যা হযরত আয়েশাকে নবিজির সঙ্গে বিয়ে দিয়ে তাঁর দুশ্চিন্তা বহুলাংশে দূর করেন। এবং নবিজির সা. কাছে আসার আরো সুযোগ গ্রহণ করেন।

হিযরতের একমাত্র সঙ্গী: মদিনার হিযরত ছিল ইসলামের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা। হিযরতের মাধ্যমে ইসলামের মোড় পরিবর্তন হয়। হিযরত হয়েছিল বলেই ইসলামি বিধানসমূহের প্রতিষ্ঠা দান সম্ভব হয়েছিল। সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইসলাম মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়েছিল। তাই নবিজি সা. দোয়া করেছিলেন, ‘হে আল্লাহ! তুমি আমার সাহাবিদের হিযরত জারি রাখ এবং তাদেরকে পিছনে ফিরিয়ে দিয়ো না’ (বুখারী) হযরত উমর রা. হিযরতকে ‘হক ও বাতিলের পার্থক্যকারী’ বলে আখ্যায়িত করেছিলেন এবং একে চিরস্মরণীয় করে রাখার জন্য স্বীয় খেলাফতকালে হিযরিবর্ষ গণনার নিয়ম চালু করেন। যা আজও অব্যাহত আছে।
হিযরতের মতো এমন গুরুত্বপূর্ণ সফরে নবিজির সা. একমাত্র সঙ্গী ছিলেন বিশ্বস্ত সহচর আবু বকর সিদ্দিক রা.। নবুয়তের তেরোতম বর্ষে সকল সাহাবা নবিজির নির্দেশে মদিনায় হিযরত করে চলে গিয়েছিলেন।

উত্তর দিচ্ছেন : আবদুল আউওয়াল, কর্ম: শিক্ষকতা, কাব্যচর্চা ও গবেষণা।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন