বুধবার গভীর রাতে বিদারের মাহমুদ গাওয়ান মাদরাসা মসজিদে জোরপূর্বক ঢুকে পূজা করেছে হিন্দু জঙ্গীরা। হিন্দুস্তান গেজেট থেকে প্রাপ্ত একটি ভিডিওতে দেখা যাচ্ছে, দশরা উৎসব উপলক্ষে দেবী শোভাযাত্রায় থাকা হিন্দু জঙ্গীদের একটি দল জোর করে তালা ভাঙছে।
হাইকোর্টের অ্যাডভোকেট সৈয়দ তালহা হাশমি সিয়াসাত ডটকমকে বলেছেন, রাত ১টার দিকে ঘটনাটি ঘটেছে। ‘হিন্দু জঙ্গীরা জয় শ্রী রাম, জয় হিন্দু ধরম, বন্দে মাতরম সেøাগান দিয়ে মসজিদ প্রাঙ্গণে পূজা করেছে’।
হাশমি যোগ করেছেন যে, মাহমুদ গাওয়ান মাদরাসা মসজিদটি আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়ার (এএসআই) অধীনস্থ একটি স্থাপনা। ‘ভিডিওটি ভাইরাল হয়েছে। বিকেলে মুসলিম সম্প্রদায়ের সদস্যদের পাশাপাশি এএসআই গিয়ে থানায় অভিযোগ দায়ের করেছেন। একটি এফআইআর নথিভুক্ত করা হয়েছে’ হাশমি বলেন। হাশমির মতে, ইতোমধ্যে একজনকে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। বিদার টাউন থানার পাশাপাশি পুলিশ সুপারের সাথে যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও সিয়াসাত ডটকম কোনো সাড়া পায়নি।
এদিকে দোষীদের বিরুদ্ধে যথাযথ শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে স্থানীয় মুসলিমরা গণগ্রেফতার বরণ এমনকি আজ বাদ জুমা বড় ধরনের বিক্ষোভের হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে।
মাহমুদ গাওয়ানের পেছনের ইতিহাস : বিদারের মাহমুদ গাওয়ান মাদরাসা/মসজিদ হল বাহমানি সাম্রাজ্যের (১৩৪৭-১৫১৮) গৌরবময় দিনের একটি অবশিষ্টাংশ যখন বিদর ছিল দাক্ষিণাত্য রাজবংশের রাজধানী (১৪২৪ থেকে ১৪২৭ সালের মধ্যে যখন এটি গুলবর্গা থেকে স্থানান্তরিত হয়েছিল)। বর্তমান অবস্থা সত্তে¡ও সামনের সম্মুখভাগে স্থাপিত ফার্সি টাইলসের কাজ অতীতের আভাস দেয়।
মাহমুদ গাওয়ান বাহমানি সাম্রাজ্যের একজন শক্তিশালী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন, যিনি সুলতান তৃতীয় শামসুদ্দিন মুহাম্মদ-এর শাসনামলে এ পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন। তার প্রধান অবদানগুলোর মধ্যে একটি হল মাদরাসা (তখন একটি কলেজ/প্রতিষ্ঠান), যার মধ্যে একা মিনারটি ১০০ ফুট পর্যন্ত উঠেছিল, যখন ভবনটির দৈর্ঘ্য ২০৫ ফুট উচ্চতায় উঠেছিল। ১৬৯৫/৯৬ সালে বারুদ বিস্ফোরণের কারণে স্মৃতিস্তম্ভের সামনের অংশের অর্ধেক ধ্বংস হয়ে যায়।
স্মৃতিস্তম্ভটি দাক্ষিণাত্যের একটি চমৎকার স্থাপত্য নিদর্শন। সুপরিচিত রুশ পরিব্রাজক আথানাসিয়াস নিকিতিন লিখেছেন যে, বিদার ছিল ‘পুরো মোহামেডান হিন্দুস্তানের প্রধান শহর’।
মাহমুদ গাওয়ান যদিও তার সামরিক দক্ষতার জন্য এতটাই পরিচিত ছিলেন যে, তার সফল অভিযানের জন্য তাকে লশকরি (যোদ্ধা) উপাধি দেওয়া হয়েছিল। এবং তার মৃত্যু একটি রাজনৈতিক নাটকের কম ছিল না। ষড়যন্ত্রকারীরা তার সিল দিয়ে একটি চিঠি জালিয়াতি করতে সক্ষম হয় (প্রতারণা করে এটি তার সচিবের কাছ থেকে পেয়েছিল) যা মূলত ওড়িশার পুরুষোত্তমকে রাজ্য আক্রমণ করতে বলেছিল।
এটি বাহমানি সুলতানকে দেখানো হয়েছিল, যিনি ক্ষুব্ধ হন এবং গাওয়ানের জীবন শেষ করার সিদ্ধান্ত নেন। তা অস্বীকার করা সত্তে¡ও রাজা শোনেননি এবং ১৪৮১ সালে তার শিরñেদ করা হয়। তবে, যখন শামসুদ্দিন পরে গাওয়ানের সম্পত্তির একটি তালিকা চেয়ে নেন, তিনি অবাক হয়ে দেখেন যে, তার পূর্বসূরির কাছে খুব বেশি কিছু ছিল না এবং তিনি তার ভুল বুঝতে পেরেছিলেন। সুলতান অনুশোচনায় আটকে গেলেন এবং একটি মহান অনুষ্ঠানের মাধ্যমে মৃত ব্যক্তির কফিন বিদরে পাঠিয়ে দিলেন। কাকতালীয়ভাবে এক বছর পর সুলতান ইন্তেকাল করেন। সূত্র : হিন্দুস্তান গেজেট।
মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন
মন্তব্য করুন