ঢাকা, শনিবার, ১৫ আগস্ট ২০২০, ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭, ২৪ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

ধর্ম দর্শন

জিজ্ঞাসার জবাব

| প্রকাশের সময় : ১৫ ডিসেম্বর, ২০১৬, ১২:০০ এএম

১। মোহাম্মদ আবদুল্লাহ সাকওয়ান, শাহাপুর, কুমিল্লা।
জিজ্ঞাসা : কোরআন-হাদিস ও বিজ্ঞানের সমন্বয় সম্ভব কিনা?
জবাব : স্রষ্টা আল্লাহ বলেন, “হে মানুষ! তোমাদের সম্মুখে বিরাজমান বৈচিত্র্যময় আমার সৃষ্টি জগতের প্রতি দৃষ্টিপাত কর এবং গভীরভাবে চিন্তায় নিমগ্ন হও।” (আল কোরআন)
“মহাবিশ্ব (গগন মন্ডল), পৃথিবীও উহাদের মধ্যবর্তী বিচরণকারী প্রাণী সৃষ্টির (তার সৃষ্টি নৈপুণ্যের) অন্যতম নিদর্শন। আর তিনি যখন ইচ্ছা করবেন তখন উহাদেরকে একত্রিত করতে সক্ষম।” (সূরা : শুরা-২৯ আয়াত)
“আসমানসমূহের মধ্যে ও পৃথিবীতে যত প্রকার জীব ও ফেরেশতাগণ সবাই আল্লাহর উদ্দেশ্যে সিজদা করে।’ (সূরা নাহল-আয়াত-৪৯)
তিনিই আল্লাহ, তোমাদের প্রতিপালক, জগৎসমূহের প্রতিপালক আল্লাহ কত মহান। (সূরা : মু’মিন-আয়াত-৬৫) আল্লাহ সৃষ্টি করেছেন সপ্ত আকাশ এবং উহাদের অনুরূপ পৃথিবীও। (সূরা : তালাক-আয়াত-১২)
রাসূল (সা.) বলেছেন, “পৃথিবীর মতো আরো অনেক গ্রহ আছে যেখানে তোমাদের নবীর মতো নবী, আদমের মতো আদম নূহের মতো নূহ, ইব্রাহীমের মতো ইব্রাহিম এবং ঈসার মতো ঈসা আছে।” (দ্র : শু. আবুল ঈমান, কিতাবুল আসমা ওয়াস সিফাত) ফুতহাতে মক্কিয়ার বরাতে শেখ মুহিউদ্দিন ইবনে আরা বীর উক্তি :
আমাদের আদম থেকে চল্লিশ (৪০) হাজার বছর পূর্বে দুনিয়ায় আরো আদম অতিবাহিত হয়েছেন। অনুরূপভাবে ইমাম রাজী বলেন : এই আদমের পূর্বে, (যিনি আমাদের পিতা) দশ লাখ অথবা তার চেয়ে অধিক আদম (দুনিয়ায়) ছিলেন।
হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত একটি হাদিস হাকিম বর্ণনা করেছেন- “ইবনে আব্বাস (র.), ওয়ামিনাল আরদে মিসলাহুন্না এ আয়াতের ব্যাখ্যায় বলেন- “সাত (৭)টি পৃথিবী আছে। এর প্রত্যেকটিতে তোমাদের নবীর মতো নবী, তোমাদের আদমের মতো আদম, নূহের মতো নূহ, ইব্রাহীমের মতো ইব্রাহিম এবং ঈসার মতো ঈসা আছেন।” শায়খুল হাদিস ইমাম যাহাবী (র.) এ হাদিসের সনদকে হাসান বলেছেন। এ আয়াতের ব্যাখ্যায় অনুরূপ আরেকটি হাদিস হযরত আব্বাস থেকে বর্ণিত আছে। ইমাম যাহাবী এ হাদিস বর্ণনাকারীদের বুখারী ও মুসলিমের শর্ত মুতাবিক উত্তীর্ণ বলে উল্লেখ করেছেন। বর্তমান সময়ের শ্রেষ্ঠ বৈজ্ঞানিক স্টিফেন হকিং বলেন, এই মহাবিশ্বে রয়েছে ১০ হাজার কোটি গ্যালাক্সি। আবার প্রতিটি গ্যালাক্সিতে রয়েছে তার ভাষায়, “হ্যান্ড্রেডস অব মিলিয়ন অব স্টারস।” আমরা জানি ১০ লাখে এক মিলিয়ন, ১০ মিলিয়নে এক কোটি। সে ক্ষেত্রে ‘হ্যান্ড্রেডস অব মিলিয়ন অব স্টারস’ বলতে কোটি কোটি বোঝায়। একটা গ্যালাক্সিতে যদি কোটি কোটি তারকা থাকে তা হলে ১০ হাজার কোটি গ্যাাক্সিতে কত লাখ কোটি তারকা রয়েছে তা চিন্তা ও গবেষণার বিষয়। স্টিফেন হকিংয়ের মতে, এই লক্ষ কোটি মহাজাগতিক বস্তু অর্থাৎ গ্রহ-নক্ষত্রের মাঝেও বুদ্ধিমান প্রাণী থাকতে পারে। তার মতে, পৃথিবীর মতো ক্ষুদ্র উপগ্রহেই শুধু প্রাণের উদ্ভব ও বিকাশ ঘটবে সেটা কীভাবে সম্ভব? পৃথিবী ছাড়া মহাবিশ্বের এই বিশাল বিস্তৃত অঙ্গনেও বুদ্ধিমান প্রাণী থাকতে পারে। তিনি বলেন, “আমার গাণিতিক মস্তিষ্ক বলে, গ্রহ-উপগ্রহের এই যে অফুরান ও অনন্ত সংখ্যা রয়েছে, সেই সংখ্যাই ভিনগ্রহে বুদ্ধিমান প্রাণী অবস্থানের চিন্তাটিকে যুক্তিগ্রাহ্য করে তোলে।
সৌর জগতের রহস্য সম্পর্কে বিবিসি একটা ধারাবাহিক রিপোর্ট প্রকাশ করে এই অনুষ্ঠানে অংশ নিতে গিয়ে ম্যানচেস্টার বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ব্রায়ন কক্স বলেছেন যে, পৃথিবীর বাইরে এই সৌর ম-লের অভ্যন্তরে প্রাণের অস্তিত্ব থাকতে পারে। পৃথিবীতে মাঝে মাঝেই ঊর্ধ্বাকাশ থেকে বিশাল আকারের পাথর খ- পতিত হয়েছে। বিজ্ঞানীরা ধারণা করেছেন, এগুলো মঙ্গল বা বৃহস্পতি গ্রহ থেকে পতিত হয়েছে। এসব পাথরের কোনো কোনোটিকে কেটে ভেতরে পানি পাওয়া গেছে। পানির অপর নাম জীবন। তাই, ধারণা করা হয়েছে, এমন কোনো গ্রহ থেকে এসব পাথর খসে পড়েছে যেসব গ্রহে হয়তো প্রাণের অস্তিত্ব আছে। ‘এমাইনো এসিড’কে বলা হয় প্রাণের নির্যাস এবং প্রাণের উৎপত্তির মূল ভিত্তি।
নোবেল পুরস্কার বিজয়ী প্রফেসর মরহুম আব্দুস সালাম বলেছেন, এই এমাইনো এসিডের উৎপত্তি ও বিকাশ ঘটেছিল সম্ভবত ভিন্ন কোনো গ্রহে। তারপর সেটি পৃথিবীতে এসেছে। এমাইনো এসিড সব সময় বাম দিকে হেলে থাকে। এই বামে হেলে থাকার কারণ হলো এই যে এটিকে আকর্ষণ করছে সেই আবহাওয়া ও পরিবেশ যেখানে বিরাজ করছে হিমাঙ্কের নিচে ৭৩ ডিগ্রি তাপমাত্রা। এই তাপমাত্রা পৃথিবীতে নেই, অন্য কোথাও আছে। (দ্র. দৈনিক ইনকিলাব-৪-৫-১০)
‘র‌্যান্ড কর্পোরেশন’ নামে আমেরিকার একটা প্রতিষ্ঠান মহাশূন্যে পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে একটা সিদ্ধান্তে উপনীত হয়েছে যে, আমাদের পৃথিবী গ্রহটি যে ছায়াপথে অবস্থিত সেই ছায়াপথের মধ্যেই ৬০ কোটি এমন গ্রহ আছে যার সৃষ্টির উপাদান ও প্রাকৃতিক বৈশিষ্ট্য প্রায় আমাদের পৃথিবীর মতো। আর এ কারণেই এসব গ্রহে প্রাণের অস্তিত্ব থাকাও মোটেই অসম্ভব নয়। (দ্র. ইকোনমিস্ট, লন্ডন-২৬-৭-১৯৬৯) কার্ল সাগানের মতে, পৃথিবীর বাইরে প্রাণ থাকার সম্ভাবনা বেশি। মঙ্গলে পানির পর মিলেছে আলোর সন্ধান। একটি ওয়েবসাইটে বলা হয়েছে, মঙ্গলে পাওয়া যাচ্ছে প্রাণীর সন্ধান। (চলবে)
উত্তর দিচ্ছেন : নাজির আহমদ জীবন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন