মঙ্গলবার, ২৭ ফেব্রুয়ারি ২০২৪, ১৪ ফাল্গুন ১৪৩০, ১৬ শাবান সানি ১৪৪৫ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

১০ দফা ও রূপরেখা তৃণমূলে পৌঁছাবে বিএনপি

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৩ জানুয়ারি, ২০২৩, ১২:০০ এএম

ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগ সরকারের পদত্যাগ ও নির্দলীয় নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচনসহ ১০ দফা দাবি জানিয়েছে রাজপথের প্রধান বিরোধী দল বিএনপি। এই দাবি আদায়ে রাজপথে কর্মসূচিও পালন করছে বিএনপিসহ সমমনা দলগুলো। গত ১০ ডিসেম্বর রাজধানীর গোলাপবাগে ঢাকা বিভাগীয় গণসমাবেশ থেকে এই ১০ দফা দাবি ঘোষণা করেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। পরবর্তীতে আবার ১৯ ডিসেম্বর রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ২৭ দফা রূপরেখা উপস্থাপন করেন। এখন এই ১০ দফা দাবি ও ২৭ দফা রূপরেখা তৃণমূলে পৌঁছে দেয়ার উদ্যোগ নিয়েছে বিএনপি। এলক্ষ্যে মহানগর, জেলা, উপজেলা, থানা ও পৌরসভা পর্যায়ে ১০ দফা দাবি এবং রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখা বিষয়ে ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণধর্মী আলোচনা সভা, লিফলেট ও বুকলেট বিতরণের উদ্যোগ নিয়েছে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক জানান, আজ থেকেই মহানগর ও জেলা পর্যায়ের আলোচনা সভা শুরু হচ্ছে। ১০ জানুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশের সকল জেলা ও মহানগরে এই কর্মসূচি পালন করবে বিএনপি। পরবর্তীতে একইভাবে উপজেলা, পৌর ও থানা শহরেও আলোচনা সভা, লিফলেট ও বুকলেট বিতরণ করা হবে। এসব সভায় বিএনপির নেতৃবৃন্দ ছাড়াও পেশাজীবী, সুশীল সমাজ এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিদের আমন্ত্রণ জানানো হবে। তাদের সামনে ১০ দফা দাবি ও ২৭ দফা রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের রূপরেখার ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ তুলে ধরবেন কেন্দ্রীয় নেতারা।

তিনি জানান, জেলা ও মহানগরের সভাগুলোতে সংশ্লিষ্ট এলাকর নির্বাহী কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ, সাবেক এমপি, জেলা-মহানগর কমিটির সকল নেতৃবৃন্দ, উপজেলা ও পৌর ইউনিটের শীর্ষ ৫জন নেতা, সকল অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠনের জেলা/মহানগরের ৫ জন এবং পেশাজীবী সংগঠনের প্রতিনিধি উপস্থিত থাকবেন।
বিএনপি সূত্রে জানা যায়, কেন্দ্র থেকে ১০ দফা দাবি ও রূপরেখার কিছু লিফলেট ও বুকলেট জেলা/মহনগারে পাঠানো হয়েছে। স্থানীয় পর্যায়ে তা পুনঃমুদ্রণ করে উপযুক্ত নেতৃবৃন্দের সমন্বয়ে টিম করে সরকারি-বেসরকারি কর্মকর্তা (ডিসি, এসপি, ইউএনও, ওসিসহ অন্যান্য) সুশীল সমাজ, পেশাজীবী (সাংবাদিক, আইনজীবী, শিক্ষক, ব্যবসায়ী, কৃষিবিদ, প্রকৌশলী, চিকিৎসক, ধর্মীয় নেতা, সাংস্কৃতিক কর্মী, মানবাধিকার কর্মীসহ অন্যান্য), অপরাপর রাজনৈতিক দলসহ অন্যান্যদের মধ্যে ১০ দিনের মধ্যে তা বিতরণ করা হবে। জেলা ও মহানগরে আলোচনা সভা শেষ হলে পরবর্তীতে একইভাবে টিম করে উপজেলা, পৌর/থানা পর্যায়েও কর্মসূচি পালন করবে।
বিএনপি নেতারা জানান, এই কর্মসূচির মাধ্যমে বিএনপির আন্দোলনের যে দাবি জানানো হয়েছে এবং সরকার গঠন করলে বিএনপি কি কাজ করতে চায় তা তৃণমূল পর্যায়ে পৌঁছে দেয়া সম্ভব হবে। তারা বলেন, বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতৃবৃন্দ এসব বিষয়ে অবহিত হলেও তৃণমূলের নেতাকর্মীরাও যেন এই ১০ দফা ও রূপরেখা সম্পর্কে পরিষ্কার ধারণা রাখে এবং সাধারণ মানুষের কাছে তা উপস্থাপন করতে পারে সেটিই এই কর্মসূচির লক্ষ্য। এর মাধ্যমে সাধারণ মানুষের পাশাপাশি বিএনপি সকল শ্রেণি-পেশার মানুষকে বিএনপির দাবি ও রূপরেখার সঙ্গে সম্পৃক্ত করতে চায়।

বিএনপির দফতর সূত্রে জানা যায়, এই কর্মসূচির প্রথমটি আজ ঢাকা মহানগর উত্তরে অনুষ্ঠিত হবে। এতে প্রধান অতিথি থাকবেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন। আগামীকাল একই কর্মসূচি অংশ হিসেবে মানিকগঞ্জে স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আবদুল মঈন খান, ঠাকুরগাঁওয়ে নজরুল ইসলাম খান, জামালপুরে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, ফেনীতে ভাইস চেয়ারম্যান মো. শাহজাহান, ঝিনাইদহে নিতাই রায় চৌধুরী উপস্থিত থাকবেন।

৪ জানুয়ারি নীলফামারীে ও সৈয়দপুরে নজরুল ইসলাম খান, লক্ষ্মীপুরে ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলু, নওগাঁয়ে সাংগঠনিক সম্পাদক রুহুল কুদ্দুস তালুকদার দুলু, শেরপুরে ভারপ্রাপ্ত দফতর সম্পাদক সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স। ৫ জানুয়ারি সিলেট জেলা ও মহানগরে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নরসিংদীতে ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল নোমান, টাঙ্গাইলে মো. শাহজাহান, পাবনায় আবদুল আউয়াল মিন্টু, দিনাজপুরে ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন, বরগুনায় এড. জয়নুল আবেদীন, খাগড়াছড়িতে আবুল খায়ের ভূইয়া, জয়পুরহাটে ড. মামুন আহমেদ।

৬ জানুয়ারি পটুয়াখালীতে ব্যারিস্টার শাহজাহান ওমর বীর উত্তম, হবিগঞ্জে ডা. জাহিদ হোসেন, নড়াইলে নিতাই রায় চৌধুরী, গাজীপুর মহানগরে আমান উল্লাহ আমান, নাটোরে মিজানুর রহমান মিনু, রাজবাড়ীতে ইসমাইল হোসেন জবিউল্লাহ, মুন্সিগঞ্জে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় হাবিব উন নবী খান সোহেল, রাঙ্গামাটিতে মাহবুবের রহমান শামীম। ৭ জানুয়ারি ঢাকা মহানগর দক্ষিণে স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, মাগুরায় বরকত উল্লাহ বুলু, মৌলভীবাজারে এজেডএম জাহিদ হোসেন, কুষ্টিয়ায় শামসুজ্জামান দুদু, সাতক্ষীরায় এড. আহমদ আযম খান, বাগেরহাটে নিতাই রায় চৌধুরী, ফরিদপুর জেলা ও মহানগরে এড. এজে মোহাম্মদ আলী, চাঁপাইনবাবগঞ্জে আবুল খায়ের ভূইয়া, চুয়াডাঙ্গায় জয়নাল আবেদীন ফারুক, চাঁদপুরে মনিরুল হক চৌধুরী, নেত্রকোণায় এড. ফজলুর রহমান, ভোলায় বিলকিস জাহান শিরিন, বান্দরবানে ড. আসাদুজ্জামান রিপন।

৮ জানুয়ারি কুমিল্লা মহানগর, উত্তর-দক্ষিণ জেলায় নজরুল ইসলাম খান, নারায়ণগঞ্জে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বগুড়ায় ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, কিশোরগঞ্জে আবদুল আউয়াল মিন্টু, মাদারীপুরে শাহজাদা মিয়া, কক্সবাজারে সৈয়দ মোয়াজ্জেম হোসেন আলাল, গাজীপুর জেলায় আবদুস সালাম আজাদ। ৯ জানুয়ারি ঢাকা জেলায় বেগম সেলিমা রহমান, সিরাজগঞ্জে ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, ঝালকাঠিতে আলতাফ হোসেন চৌধুরী, লালমনিরহাটে শামসুজ্জামান দুদু, কুড়িগ্রামে আবদুল হাই শিকদার, সুনামগঞ্জে খন্দকার আবদুল মোক্তাদির, পিরোজপুর হাবিব উন নবী খান সোহেল, গাইবান্ধা হারুন অর রশিদ, শরীয়তপুরে শামা ওবায়েদ, মেহেরপুরে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত। ১০ জানুয়ারি পঞ্চগড়ে আসাদুল হাবিব দুলু। পরবর্তীতে রাজশাহী জেলা ও মহানগরে গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। ###

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন