ঢাকা, মঙ্গলবার, ০৪ আগস্ট ২০২০, ২০ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৩ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বাকশাল হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৮ মার্চ, ২০১৯, ১২:৩৬ পিএম

বাকশালকে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন-বাকশাল মানুষের আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে দিয়েছিল। প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্যে গোটা জাতি আঁতকে উঠেছে, তাঁর এই বক্তব্য শুধু গণতন্ত্র নয়, নাগরিক স্বাধীনতাকে মৃত্যুর দক্ষিণ বাহু দিয়ে পেঁচিয়ে ফেলার আগাম আভাস। বাকশাল হচ্ছে মত প্রকাশের স্বাধীনতার মৃত্যু পরোয়ানা। বাকশাল মানেই হচ্ছে আওয়ামী লীগ ছাড়া এদেশে আর কোন দল থাকবে না। তাদের পোষ্য গণমাধ্যম ছাড়া আর কোন গণমাধ্যম থাকবে না। তাদের বিরদ্ধে কেউ টু শব্দটি উচ্চারণ করতে পারবে না। বিচার বিভাগের স্বাধীনতা থাকবে না।
বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) বেলা ১১টায় নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, বাকশাল মানেই হচ্ছে রাষ্ট্র-সমাজ থেকে প্রাণখুলে কথা বলা ও হাসি-কান্নার বদলে মানুষের ফিসফিস করে কথা বলা। বাকশাল মানেই হাজার হাজার গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের বেকার হওয়া-যেমনটি আমরা ‘৭৫ দেখেছি-অনেক সাংবাদিক চাকরি হারিয়ে হারিয়ে হকারীর মতো পেশাও বেছে নিতে হয়েছে। বাকশাল মানে নিজের ছায়াকেও ভয় পাওয়া। বাকশাল মানে শিক্ষা ব্যবস্থা ধ্বংস করে পরীক্ষা না দিয়ে পাশ করা, মেধাহীন জাতি গঠন করা। প্রধানমন্ত্রীসহ ক্ষমতাসীনরা বাকশাল নিয়ে গলাবাজী ও অপপ্রচারের যতই কেমেষ্ট্রি তৈরী করুন না কেন বাকশাল হচ্ছে বহুদলীয় গণতন্ত্রের সাক্ষাৎ মৃত্যুদূত।
বাকশাল গঠন করতেই বেগম খালেদা জিয়াকে আটকে রাখা হয়েছে অভিযোগ করে তিনি বলেন, জামিনযোগ্য মামলাগুলোতে হুকুম দিয়ে জামিন বাধাপ্রাপ্ত করা হচ্ছে। বেগম জিয়ার প্রতি সরকারের এই ধরণের অন্যায় আচরণই হচ্ছে বাকশালের আলামত। পুনরায় গণতন্ত্রের লাশের ওপর দাঁড়িয়ে পিতার ব্যর্থতাকে ঢেকে দিতে চান শেখ হাসিনা। এক ব্যক্তি ও একটি দলের চিরস্থায়ীভাবে ক্ষমতা ভোগ করার আত্মবিশ্বাস জেগে উঠেছিল সেদিনের বাকশাল প্রবর্তনকারিদের। সেই অমানবিক বাকশাল আবারো বাস্তবায়িত হলে ক্ষমতাসীনদের ছেলে-মেয়েদের বিয়ে হবে সোনার মুকুট পরে নয়, হীরার মুকুট পরে। আর আওয়ামী লীগ ছাড়া দেশের সমগ্র জনগোষ্ঠী দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে সেই হীরার মুকুটের দিকে তাকিয়ে তাকিয়ে দেখবে। প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে সেই বাকশালী আলামত এখন সর্বক্ষেত্রে বিদ্যমান। তাঁর সামান্য সমালোচনা করায় কৃতি ফুটবলার, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, বরেণ্য সাংবাদিক, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীসহ শতাধিক আলোকিত ব্যক্তি আইসিটি আইনে মামলা খেয়ে এখন কারাগারে কিংবা কেউ কেউ জামিনে কারাগার থেকে বেরিয়ে মামলার খড়গ নিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। বাকশাল এমন একটি ব্যবস্থা, যা সরকারের বিরুদ্ধে নিভৃতে সামান্য সমালোচনার সন্ধান পেলেই আনন্দোচ্ছলে চলবে বিরোধী নেতাকর্মী ও ভিন্ন মতাবলম্বীদেরকে গুম-খুন ও বিচার বহির্ভুত হত্যার লীলা।
খালেদা জিয়ার অসুস্থতা এখন বিপজ্জনক পর্যায়ে উপনীত হয়েছে জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, চরম স্বাস্থ্য ঝুঁকি নিয়ে তিনি একটি অস্বাস্থ্যকর ও পরিত্যক্ত কারাগারের মধ্যে বসবাস করতে বাধ্য হচ্ছেন। ৭৪ বছর বয়সের দেশনেত্রীকে আজ এভাবে দীর্ঘ এক বছর যাবৎ নির্মম-নিষ্ঠুর নিপীড়ণের মাঝে বিনা চিকিৎসায় পুরাতন জরাজীর্ণ আবদ্ধ কারাগারে বন্দী করে রাখার উদ্দেশ্যই হচ্ছে এক অনন্ত প্রতিহিংসার জ্বালা মেটানো। দেশনেত্রীকে সরকার সরাসরি গলা টিপে হত্যা না করে এভাবে বিনা চিকিৎসায় অন্ধকার কারাগারে আটকিয়ে রেখে তিলে তিলে হত্যা করার চেষ্টা করছে। দেশনেত্রীর মুক্তি ও সুচিকিৎসার দাবি লক্ষ লক্ষ কন্ঠে কোটি কোটি বার উচ্চারিত হলেও সরকার বেগম জিয়াকে নিয়ে তাদের নিজস্ব জীবনবিনাশী নকশা নিয়েই এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি প্রধানমন্ত্রীর উদ্দেশ্যে বলেন, অনেক অত্যাচার ও জ্বালা-যন্ত্রণা দিচ্ছেন দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে, এক বছরের বেশী সময় কারাগারে আটকিয়ে রেখে কষ্ট দেয়ার পরেও কেন প্রতিহিংসা শেষ হচ্ছে না। এবার তাঁকে মুক্তি দিন। যে বেগম জিয়া স্বৈরতান্ত্রিক একনায়কের বিরুদ্ধে গণতন্তের পক্ষে বছরের পর বছর লড়াই করেছেন, সংগ্রাম করেছেন। জনগণের কাছে গিয়ে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে নেতৃত্ব দিয়েছেন। রাজপথে অবিচল, অকম্প ও নির্ভিক নেতৃত্ব দিয়েছেন। কারাগারে গেছেন। গৃহে অন্তরীণ থেকেছেন। নিজ বাড়ী থেকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে উচ্ছেদ হয়েছেন। তাঁর সন্তানেরা মিথ্যা অভিযোগ, মিথ্যা মামলায় জড়িত হয়ে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার শিকার হয়েছেন। নির্যাতিত হয়েছেন। তারপরেও সবকিছুকে উপেক্ষা করে দেশের মানুষের জন্য, গণতন্ত্রের জন্য, জনগণের মৌলিক অধিকারের জন্য অবিরাম আপোষহীন লড়াইয়ে এই নেত্রী নিজস্ব সুখ-স্বাচ্ছন্দ্য ত্যাগ করে নেতৃত্ব দিয়ে যাচ্ছেন। তাই এই গণমানুষের পক্ষে সংগ্রামী বৈশিষ্ট্যে আপন মহিমায় ভাস্বর দেশনেত্রী বেগম জিয়ার গড়ে ওঠা ভাবমূর্তিকে কোনভাবেই বিতর্কিত করতে না পেরে, জনগণ থেকে বিচ্ছিন্ন করতে না পেরে মধ্যরাতের ভোটের সরকার তাঁকে জোর করে আটকে রেখে বিনা চিকিৎসায় তাঁর জীবন বিপন্ন করতে মরিয়া হয়ে উঠেছে।
খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরের চিন্তা-ভাবনার সমালোচনা করে রিজভী বলেন, দেশনেত্রীকে চিকিৎসা না দেয়ার বিষয়ে সরকারের প্রতি দেশবাসীর যে ধিক্কার উঠেছে সেটিকে আমলে না নিয়ে নাৎসীবাদী পন্থায় তারা তাদের মনুষ্যত্বহীন এজেন্ডা বাস্তবায়ন করেই চলেছে। মিডনাইট নির্বাচনের ও মহা কারচুপির ভোটে মন্ত্রীরা কালাপাহাড়ী মনোভাব নিয়ে কথা বলেন। তারা উচিৎ-অনুচিতের ধার ধারেন না। শুধু বিনাশ ও নির্মূলের মনমানসিকতা এই সরকারের। সরকারবিরোধী দল সমূহকে নতজানু করে রাখতেই বেগম জিয়াকে বিনা কারণে আটকিয়ে রেখেছে। কেরানীগঞ্জ কারাগারের নির্মান কাজ এখনও শেষ হয়নি। সেখানে গ্যাস-পানির এখনও তেমন কোন সুবন্দোবস্ত নেই। নির্মানাধীন একটি কারাগারে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্থানান্তরের সরকারী চিন্তা-ভাবনা মনুষ্যত্বহীন কাজ।আওয়ামী লীগের মনস্তত্বে যেটি নেই সেটি হলো ঔদার্য, ব্যাপক পরিসর, ভিন্ন মত বা বিরোধী দলের প্রতি সহিষ্ণুতা, মানবিকতা, সততা ও সহানুভুতি। গণতন্ত্র হরণ ও বিরোধী দল নিধন যাদের সরকারী কর্মসূচি তাদের কাছ থেকে মানবতা আশা করা যায় না।
তিনি সরকারের উদ্দেশ্যে বলেন, দেশনেত্রী বেগম জিয়ার প্রতি জুলুমের উগ্রগতি বন্ধ করুন। তাঁকে নিয়ে রাজনৈতিক ধুর্তামি বন্ধ করুন। এই মূহুর্তে দেশনেত্রীকে মুক্তি দিয়ে তাঁর সুচিকিৎসা প্রাপ্তির বন্ধ করা পথকে খুলে দিন। মানুষ এই সরকারের কৃত অশান্তির আগুনে ভেতরে ভেতরে দগ্ধ হচ্ছে। দেশনেত্রীর জীবন নিয়ে এই ছিনিমিনি খেলায় জনগণ ক্ষোভে অগ্নিবর্ণ হয়ে উঠেছে। এই সীমাহীন অন্যায়ের জবাব জনগণ একদিন দেবে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন