ঢাকা, শনিবার , ০৭ ডিসেম্বর ২০১৯, ২২ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ০৯ রবিউস সানি ১৪৪১ হিজরী

মহানগর

অসুস্থ রিজভীকে দেখতে নয়াপল্টনে আব্বাস-গয়েশ্বর

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ জুন, ২০১৯, ৭:০৫ পিএম

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অসুস্থ রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে গেছেন দলটির স্থায়ী কমিটির দুই সদস্য মির্জা আব্বাস ও গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে তারা দুইজন দলের নয়াপল্টন কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যান। বিক্ষুব্ধ ছাত্র দলের নেতাকর্মীরা তাদেরকে তালা খুলে দিয়ে প্রবেশ করতে দেয়। দুই নেতাই তৃতীয় তলায় অসুস্থ রুহুল কবির রিজভীকে দেখতে যান এবং চিকিৎসকের সাথে কথা বলে তার স্বাস্থ্যের খোঁজ-খবর নেন। তাদের সাথে দলের স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর সরাফত আলী সপু, সহ-সাংগঠনকি সম্পাদক আবদুস সালাম আজাদ, যুবদল দক্ষিণের রফিকুল ইসলাম মজনুও যান।

২৬ মিনিট পর কার্যালয় থেকে বেরিয়ে এসে মির্জা আব্বাস সাংবাদিকদের বলেন, এটা (বিক্ষুব্ধ ছাত্রদলের নেতা-কর্মীদের কর্মসূচি) কিছু না। ওরা মান-অভিমান করেছে, এটা ঠিক হয়ে যাবে। আপনি দলের নীতিনির্ধারকদের একজন বিক্ষুব্ধরা দাবি জানাচ্ছে এ বিষয়ে জানতে চাইলে মির্জা আব্বাস বলেন, বিষয়টা সাংবাদিকরা যেভাবে সিরিয়াসলি নিয়েছে বা উপস্থাপন করেছে আসলে বিষয়টি সেরকম সিরিয়াস না। এটা পোলা-পানের কাজ-কর্ম, মান-অভিমানের কাজ। কয়েকদিন আগে ঈদ গেছে। মান-অভিমান হয়েছে। এটা ঠিক হয়ে যাবে। কারো কিছু করতে হবে না। কোনো সালিশ, আলোচনা কিছুই করতে হবে না। ওরা রাগ করছে, সব ঠিক হয়ে যাবে।

গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বেরিয়ে এসে বলেন, এটা কোনো পরিস্থিতি না যদি আপনারা ফলাও করে প্রচার না করেন। কেউ ব্যথা পেলে চিৎকার দেয়-এটাই স্বাভাবিক। আমাদের দীর্ঘদিন দলের কতগুলো পদ্ধতিগত কারণে অথবা নিয়মিত কাউন্সিল না হওয়ার কারণে যোগ্য ছেলেরা তাদের আরাধ্য লক্ষ্যে পৌঁছতে পারে নাই। সেই বিষয়টা আমাদের বিবেচনা করতে হবে, এরা দলের জন্য পরিশ্রম করে, এরা বাইরের নয়, এরা দলের মঙ্গল চায়। তিনি বলেন, দলের মঙ্গল এবং ওদেরও যতটুকু প্রাপ্য আছে তা সমাধান করার পখ আমাদের খুঁজতে হবে। এটা অনেক বড় দল, অনেক কর্মী, অনেক নেতা। আমরা বিরোধী দলে আছি, আমাদের সীমাবদ্ধতাও আছে। এই সীমাবদ্ধতার মূল কারণটা হলো আমাদের নিয়মিত কাউন্সিল হয় নাই। মামলা-হামলা-নির্যাতনের কারনে নিয়মিত এই সাংগঠনিক কাজগুলো হয়নি। এই নিয়মিত সাংগঠনিক কাজগুলো হলে ওরাও ছাত্রদল করার জন্য এতো আগ্রহী হতো না।ওরাও বুঝে এটা।

সমাধান কী দেখছেন প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, সমস্যা যেমন আছে, সমাধানও আছে। আলোচনার মাধ্যমে এুটার সমাধান হবে। রিজভী কেমন আছেন জানতে চাইলে গয়েশ্বর বলেন, তিনি (রিজভী) অসুস্থ। তাকে স্যালাইন দিয়ে রাখা হয়েছে। ডাক্তার সেখানে আছে। তিনি কী হাসপাতালে যাবেন কিনা প্রশ্ন করা হলে তিনি বলেন, এটা চিকিৎসকরা ঠিক করবেন। কিন্তু কোনো পরিস্থিতি বা এই ঘটনার জন্য তাকে বাইরে (হাসপাতাল) যেতে হবে-এটা যুক্তিসঙ্গত প্রশ্ন না।

রোববার রাতে হঠাৎ করেই অসুস্থ হয়ে পড়েন রিজভী আহমেদ। তারপর থেকে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী সেখানেই তার চিকিৎসা চলছে। এদিকে ছাত্রদলের নতুন কমিটি গঠনে শিক্ষাবর্ষ নির্ধারণ করে দেয়ার ঘটনায় প্রতিবাদ জানিয়ে সকাল থেকে নয়াপল্টন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভ করছে ছাত্রদলের সিনিয়র নেতারা। এক পর্যায়ে তারা কার্যালয়ে মূল ফটকে তালা লাগিয়ে দেয়। ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতারা রিজভী আহমেদকে কার্যালয় ছেড়ে যাবার দাবিও জানান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন