ঢাকা, মঙ্গলবার ১৮ জুন ২০১৯, ৪ আষাঢ় ১৪২৬, ১৪ শাওয়াল ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

সংস্কারের স্মার্ট বাজেট

প্রস্তুত সংসদ : অর্থমন্ত্রীর ঘোষণার অপেক্ষায়

হাসান সোহেল | প্রকাশের সময় : ১৩ জুন, ২০১৯, ১২:০৪ এএম | আপডেট : ১২:০৮ এএম, ১৩ জুন, ২০১৯

বেকারদের জন্য ঋণ তহবিল, ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমপিওভুক্তির ঘোষণা, কৃষকের জন্য পরীক্ষামূলক বীমা প্রকল্প, প্রবাসীদের জন্য বীমা সুবিধার ঘোষণা এবং অন্যান্য খাতে বড় সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আজ ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট পেশ করা হবে। এই বাজেট উপস্থাপন করবেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। এটা হবে অর্থমন্ত্রী হিসেবে তাঁর প্রথম বাজেট। যদিও বিগত সরকারের পরিকল্পনামন্ত্রী হিসেবে অনেক বাজেট প্রণয়নের সঙ্গে তিনি পরোক্ষভাবে জড়িত ছিলেন। অর্থমন্ত্রী এবার তার বাজেটের শিরোনাম দিয়েছেন ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন আমাদের’। এবারের বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৫ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার। এ বাজেট পাস হবে আগামী ৩০ জুন। মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, গতানুগতিক নয়, এবারের বাজেট হবে ‘স্মার্ট’। প্রচলিত ধারা থেকে বেরিয়ে নতুন আঙ্গিকে প্রস্তুত করা হয়েছে প্রস্তাবিত এই বাজেট। বাজেটের বক্তব্য বইও হবে সংক্ষিপ্ত।

চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটের চেয়ে প্রস্তাবিত বাজেট ১২ দশমিক ৬১ ও সংশোধিত বাজেটের চেয়ে ১৮ দশমিক ২২ শতাংশ বড়। এটি দেশের ৪৮তম, আওয়ামী লীগ সরকারের ২০তম ও অর্থমন্ত্রী হিসেবে আ হ ম মুস্তফা কামালের প্রথম বাজেট। আজ বেলা ৩টায় অর্থমন্ত্রী বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তৃতায় এবার ডিজিটাল ডিসপ্লের সঙ্গে যুক্ত হবে একটি ভিডিও চিত্র। ভিডিও চিত্রে বর্তমান সরকারের সামগ্রিক সাফল্য তুলে ধরা হবে। তার আগে সংসদ ভবনে মন্ত্রিসভার বৈঠকে ২০১৯-২০ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট অনুমোদন করা হবে। মন্ত্রিসভার অনুমোদনের পর তা প্রেসিডেন্ট অনুমোদন করবেন। এদিন সংসদ ভবনে উপস্থিত থাকবেন প্রেসিডেন্ট মো. আবদুল হামিদ।

ভ্যাট আইন কার্যকরসহ বেশকিছু নতুন বিষয় থাকতে পারে এবারের বাজেটে। বাজেট বক্তৃতার নামকরণ করা হয়েছে, ‘সমৃদ্ধির সোপানে বাংলাদেশ, সময় এখন বাংলাদেশের, সময় এখন আমাদের।’ বাজেট পেশের দিন বক্তৃতাসহ ১২টি বাজেট ডকুমেন্ট সংসদ সদস্যদের হাতে দেয়া হবে। তবে ইংরেজি-বাংলা মিলিয়ে বাজেট ডকুমেন্টসের সংখ্যা হতে পারে ২৬টি। আগামীকাল শুক্রবার বিকেল ৩টায় বাজেট পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী গণমাধ্যমের মুখোমুখি হবেন বলে অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।

জানা গেছে, অন্যান্য বারের চেয়ে এবারের বাজেট বক্তৃতা অনেকটাই সংক্ষিপ্ত হবে। যার আভাস অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল আগেই দিয়েছিলেন। বক্তৃতা ছোট হলেও বাজেট উপস্থাপনকালে মাল্টিমিডিয়ার মাধ্যমে দেশের স্বাধীনতার পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত বিভিন্ন মেয়াদে আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকান্ড তুলে ধরা হবে। এর আগে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সভাপতিত্বে একনেক বৈঠকে এডিপি অনুমোদন দেয়া হয়েছে। নতুন অর্থবছরের বাজেট জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আগে ২০১৮-২০১৯ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট মন্ত্রিপরিষদে উপস্থাপন করে তা অনুমোদন নেয়া হবে।

সরকারের নীতিনির্ধারণী সূত্রে জানা গেছে, আসন্ন বাজেটে যেসব খাতে ব্যাপক সংস্কারের প্রস্তাব করা হচ্ছে সেগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে-ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার, সঞ্চয়পত্র ও সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি। তবে সামগ্রিকভাবে করমুক্ত রাখা হবে জনগণকে। এতে আরও ঘোষণা থাকবে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এমপিওভুক্তির। এ ছাড়া প্রথমবারের মতো উদ্যোগ থাকবে বেকারদের জন্য ঋণ তহবিল (স্ট্যাট আপ ফান্ড)। এ তহবিল থেকে স্বল্পসুদে সহজ শর্তে ঋণ নিয়ে ব্যবসা কবতে পারবেন বেকাররা। এ ছাড়া কৃষকের জন্য ‘পাইলট প্রজেক্ট’ হিসেবে চালু করা হবে শস্যবীমা। প্রাথমিকভাবে বেছে নেয়া হবে একটি জেলাকে। পরবর্তী সময়ে এটি ছড়িয়ে দেয়া হবে সারা দেশে। এ ছাড়া নতুন উদ্যোগের মধ্যে থাকছে প্রবাসীদের জন্য বীমা সুবিধা।
বর্তমানে বিদেশে ৭০-৮০ লাখ প্রবাসী অবস্থান করছেন। আর প্রতিবছর নতুন করে দেশের বাইরে চাকরিতে যাচ্ছেন ৫-৭ লাখ মানুষ। এদের বীমা সুবিধার আওতায় আনা হবে। কারণ অনেকে বিদেশে গিয়ে চাকরি হারাচ্ছেন, দুর্ঘটনায় পঙ্গু ও নিহত হচ্ছেন। এ ছাড়া নানাভাবে প্রতারণার শিকার হয়ে দেশে ফিরছেন। এসব ঝুঁকির কারণেই তাদের বীমার আওতায় আনা হবে।

প্রথম বাজেট প্রসঙ্গে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল সম্প্রতি সংবাদমাধ্যমকে বলেছেন, আগামী বাজেট এমনভাবে প্রণয়ন করা হবে যা সাধারণ মানুষকে স্পর্শ করবে। নানা ধরনের জনকল্যাণমূলক উদ্যোগ থাকবে। নতুন করে কারও ওপর করের বোঝা চাপিয়ে দেয়া হবে না। তবে করের আওতা বাড়ানো হবে। সার্বিকভাবে বাজেট এক বছরের আয় ও ব্যয়ের হিসাব। কিন্ত এর মধ্যে আগামী ২০৪১ সালের মধ্যে উন্নত রাষ্ট্রের স্বপ্ন বাস্তবায়নের বিষয়টি মাথায় রেখে বাজেট প্রণয়ন করা হচ্ছে। মূলত এতে ৪১’ সালের বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে নেয়া হয়েছে। কারণ ওই সময়ের মধ্যে জাতির জনকের সোনার বাংলা প্রতিষ্ঠায় উন্নত রাষ্ট্রের কাতারে পৌঁছানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে বর্তমান সরকারের। এছাড়া আসন্ন বাজেট সহজ ও বোধগম্য হবে।

বাজেটে মোট আয় : প্রস্তাবিত বাজেটে রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হচ্ছে তিন লাখ ৭৭ হাজার ৮১০ কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে ৩৮ হাজার ৫৩০ কোটি টাকা বেশি। আর অনুদানসহ আয় হবে তিন লাখ ৮১ হাজার ৯৭৮ কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) নিয়ন্ত্রিত কর তিন লাখ ২৫ হাজার ৬০০ কোটি টাকা, এনবিআর-বহির্ভ‚ত কর ১৪ হাজার ৫০০ কোটি, কর ব্যতীত প্রাপ্তি ৩৭ হাজার ৭১০ কোটি এবং বৈদেশিক অনুদানের পরিমাণ ধরা হচ্ছে চার হাজার ১৬৮ কোটি টাকা।
ব্যয়ের খাত : পাঁচ লাখ ২৩ হাজার ১৯০ কোটি টাকার মধ্যে নতুন অর্থবছরের পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে তিন লাখ ১০ হাজার ২৬২ কোটি টাকা, যা আগে অনুন্নয়ন ব্যয় হিসেবে উল্লেখ করা হতো। এর মধ্য থেকে সরকারের আবর্তক ব্যয় দুই কোটি ৭৭ লাখ ৯৩৪ কোটির মধ্যে অভ্যন্তরীণ ঋণের সুদ পরিশোধে ৫২ হাজার ৭৯৭ কোটি টাকা ও বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে চার হাজার ২৭৩ কোটি টাকা ব্যয় হবে। এ ছাড়া, সরকারের মূলধন খাতে ৩২ হাজার ৩২৮ কোটি টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। নতুন অর্থবছরে উন্নয়নখাতে মোট ব্যয় ধরা হয়েছে দুই লাখ ১১ হাজার ৬৮৩ কোটি টাকা। সেখান থেকে ইতোমধ্যে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাবদ দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকা ব্যয় প্রস্তাব অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক কাউন্সিল (এনইসি)।

বাজেটে ঘাটতি : আগামী অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাবে সামগ্রিক ঘাটতির পরিমাণ (অনুদানসহ) দাঁড়াবে এক লাখ ৪১ হাজার ২১২ কোটি টাকা। আর অনুদান ছাড়া এ ঘাটতির পরিমাণ হবে এক লাখ ৪৫ হাজার ৩৮০ কোটি টাকা। তবে অন্য বছরের ন্যায় জিডিপির পাঁচ শতাংশের মধ্যেই রাখা হয়েছে নতুন ঘাটতি বাজেট। এই ঘাটতি মেটাতে বৈদেশিক উৎস থেকে সংগ্রহ করা হবে ৬৩ হাজার ৮৪৮ কোটি টাকা এবং অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ৭৭ হাজার ৩৬৩ কোটি টাকা।
জিডিপির আকার : চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে জিডিপির আকার প্রাক্কলন করা হয়েছিল ২৫ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৯ কোটি টাকা। অর্থাৎ এই অর্থবছরজুড়ে দেশে যে অর্থনৈতিক কর্মকান্ড হবে, তার আর্থিক মূল্য হবে এটি।
বাড়ছে ভর্তুকি : আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে ভর্তুকি, প্রণোদনা ও ঋণ খাতে বরাদ্দ বাড়ছে। এসব খাতে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের বরাদ্দ ছিল ৩৮ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। আগামী অর্থবছরের বাজেটে এ বরাদ্দ ১২ হাজার ১০০ কোটি টাকা বেড়ে হচ্ছে ৫০ হাজার ৬০০ কোটি টাকা।
সঞ্চয়পত্র : সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ এ খাতে কিছু সংস্কার করা হবে। তবে ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে সঞ্চয়পত্রের সুদের হার কমছে না। ইতোমধ্যে সংস্কার কার্যক্রম শুরু হলেও ১ জুলাই থেকে এই গতি আরও বাড়বে। সংস্কার কার্যক্রমে সঞ্চয়পত্রের ক্রেতাদের ডাটাবেজ তৈরি, কেনার সময় করদাতা শনাক্তকরণ নম্বর (টিআইএন), জাতীয় পরিচয়পত্র ও ফোন নম্বর দেয়া বাধ্যতামূলক করা হচ্ছে।

বাজেটে থাকছে ব্যাংক খাতে নির্দেশনা: ব্যাংকিং খাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে বদ্ধপরিকর সরকার। তাই আসন্ন বাজেটে থাকবে সুনির্দিষ্ট দিকনির্দেশনা। সম্প্রতি কিছুটা খোলাসা করেছেন অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল। তিনি বলেছেন, ব্যাংক খাতের জন্য দরকারি সবই আগামী বাজেটে রাখা হবে। দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে ঋণ ও আমানতের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে এক সঙ্গে কাজ করতে পারে এমন নির্দেশনা থাকবে আগামী বাজেটে। পাশাপাশি ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা বাড়ানো এবং ব্যাংকিং খাতে পুঞ্জীভ‚ত মন্দ ঋণ কমাতে কিছু প্রস্তাবনা থাকবে আসন্ন বাজেটে। এদিকে বাজেটে ব্যাংকের পরিচালক নিয়োগের ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা থাকবে। এছাড়া ইলেক্ট্রনিক পেমেন্ট ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীলতা বৃদ্ধির ফলে সাইবার নিরাপত্তা সংক্রান্ত ঝুঁকির বিষয়ে কীভাবে আরও সচেতনতা বৃদ্ধি করা যায় সে বিষয়ে দিকনির্দেশনা থাকবে আসন্ন বাজেটে।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে জানা যায়, সরকারের পাশাপাশি বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু পদক্ষেপ বাজেটের প্রস্তাবনায় দেয়া থাকবে। রেমিট্যান্স ও রফতানি প্রবৃদ্ধি এবং আর্থিক খাত নিয়ন্ত্রক সার্বিকভাবে ব্যাংকিং খাতের মূলধন পর্যাপ্ততা ও ব্যাংকিং খাতে পুঞ্জীভ‚ত মন্দ ঋণ কমাতে কিছু প্রস্তাবনা থাকবে। দেশের প্রবৃদ্ধির ধারা অব্যাহত রাখতে ঋণ ও আমানতের সুদের হার এক অঙ্কে নামিয়ে আনার জন্য ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান কীভাবে এক সঙ্গে কাজ করতে পারে। এছাড়া রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের মূলধন ঘাটতি মোকাবেলায় আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেটে দেড় হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখছে সরকার।
এদিকে পেশাজীবী-ব্যবসায়ী সংগঠনসহ সব মহলের দাবির পরও বাজেটে ব্যক্তি-শ্রেণীর করদাতাদের করমুক্ত আয়ের সীমা বাড়ানো হচ্ছে না। অর্থাৎ আগামী অর্থবছরেও আড়াই লাখ টাকা বেশি বার্ষিক আয় হলে আয়কর দিতে হবে। অন্যদিকে প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্সে প্রণোদনা দেয়া হবে। প্রবাসীরা বছরে যে পরিমাণ রেমিট্যান্স পাঠাবেন তার ওপর দুই শতাংশ হারে এ সুবিধা দেয়া হবে। এজন্য বরাদ্দ রাখা হচ্ছে দুই হাজার ৮০০ কোটি টাকা। প্রস্তাবিত বাজেটে এ বিষয়ে ঘোষণা থাকছে।

এছাড়া রূপকল্প বাস্তবায়নে ২০২১ সালের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা অনুযায়ী ৬০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রফতানি আয় করতে চায় সরকার। এজন্য রফতানিতে উৎসাহী করতে উদ্যোক্তাদের আগামী ১ জুলাই থেকে রফতানিকৃত সব পণ্যে এক শতাংশ নগদ সহায়তা দেয়া হবে। বর্তমান ৪৫টি পণ্য রফতানির ওপর নগদ সহায়তা দেয়া হচ্ছে।
অন্যদিকে পদ্মাসেতু প্রকল্পে নতুন করে বরাদ্দ পাচ্ছে পাঁচ হাজার ৩৭০ কোটি টাকা, ঢাকা-আশুলিয়া এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে নির্মাণ প্রকল্পে ৪০০ কোটি টাকা, কর্ণফুলী নদীর তলদেশে টানেল নির্মাণ প্রকল্পে এক হাজার ৩৫০ কোটি টাকা, গ্রেটার ঢাকা সাসটেইনেবল আরবান ট্রান্সপোর্ট প্রকল্পে (বিআরটিএ) ৪৫৬ কোটি টাকা, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট প্রকল্পের (লাইন-৬) সাত হাজার ২১২ কোটি টাকা, ঢাকা শহরের সাবওয়ে (আন্ডারগ্রাউন্ড মেট্রো) নির্মাণে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা পরিচালনা প্রকল্পে প্রায় ৮২ কোটি টাকা, ‘সাপোর্ট টু ঢাকা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে পিপিপি’ প্রকল্পে ১ হাজার ৩৮ কোটি টাকা, ঢাকা ম্যাস র‌্যাপিড ট্রানজিট (লাইন-১) প্রকল্পে ১৬৮ কোটি টাকা, তৃতীয় কর্ণফুলী সেতু নির্মাণ প্রকল্পে ৬০ কোটি টাকার বরাদ্দ রাখা হচ্ছে। নতুন অর্থবছরের জন্য দুই লাখ দুই হাজার ৭২১ কোটি টাকার এডিপি অনুমোদন করেছে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদ। এর মধ্যে সরকারের নিজস্ব তহবিল থেকে এক লাখ ৩০ হাজার ৯২১ কোটি টাকা এবং বৈদেশিক সহায়তা থেকে ৭১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা খরচের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
শিক্ষিত বেকার তরুণদের জন্য সুখবর থাকছে নতুন বাজেটে। তাদের অগ্রাধিকার দেয়া হচ্ছে। তরুণরা যাতে সহজে ব্যবসা শুরু করে স্বাবলম্বী হতে পারেন, সেজন্য আলাদা একটি তহবিল গঠনের প্রস্তাব করা হচ্ছে এবারের বাজেটে। ‘স্টার্টআপ ফান্ড’ নামে এতে ১০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে। অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, যেসব যুবক ব্যবসা শুরু করতে চাইবেন, তাদের প্রাথমিক পুঁজি সরবরাহ করা হবে এই তহবিল থেকে। দক্ষতা ও প্রশিক্ষণের জন্য সবসময় বরাদ্দ দেয়া হলেও বাজেটে তরুণদের জন্য সরাসরি সহায়তার এমন উদ্যোগ এবারই প্রথম।

এদিকে দীর্ঘদিনের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের জীবন বীমা সুবিধার আওতায় আনার ঘোষণা থাকছে আগামী বাজেটে। এর আওতায় বীমাকারী মৃত্যুবরণ করলে, দুর্ঘটনাজনিত স্থায়ী ও সম্পূর্ণ অক্ষমতা বা পঙ্গুত্ববরণ করলে মূল বীমার শতভাগ পরিশোধ করার বিধান রাখা হয়েছে। অন্যান্য ক্ষয়ক্ষতি নিরূপণের ভিত্তিতে দাবি পরিশোধ করার কথাও থাকবে। অপরদিকে গ্রাম ও শহরের উন্নয়ন বৈষম্য কমিয়ে আনতে এবং গ্রামে শহরের সুবিধা নিশ্চিত করার দিকনির্দেশনা আসছে আগামী ২০১৯-২০ অর্থবছরের বাজেট। গ্রামের মানুষকে জীবনের তাগিদে যেন শহরে ছুটতে না হয়, সেজন্য গ্রামবান্ধব কর্মসূচিতে বিশেষ নজর দিচ্ছে সরকার।
অর্থ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সামাজিক নিরাপত্তার আওতায় আসন্ন বাজেটে সুবিধাভোগীর সংখ্যা ১৩ লাখ বাড়িয়ে ৮৭ লাখে উন্নীত করা হবে।

এছাড়া নতুন বাজেটে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের শততম জন্মবার্ষিকী পালনের প্রতিফলন থাকবে। আর বেশি মনোযোগ থাকবে নির্বাচনী ইশতেহার অনুসারে ‘আমার গ্রাম আমার শহর’ ও কর্মসংস্থান সৃষ্টিতে। দেশের প্রতিটি গ্রামকে শহরে রূপান্তর করার ঘোষণা থাকছে। এতে পরিকল্পিতভাবে গড়ে তোলা হবে গ্রামকে।
আসন্ন বাজেটে আট দশমিক ২০ শতাংশ জিডিপি প্রবৃদ্ধি লক্ষ্য ধরা হয়েছে। চলতি অর্থবছর ৮ দশমিক ১৩ শতাংশ অর্জন হবে- এমন প্রত্যাশা থেকেই আগামী অর্থবছরের এ লক্ষ্য স্থির করা হচ্ছে।
জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম কম থাকবে। অন্যান্য পণ্যের দাম কিছুটা নিম্নমুখী থাকবে। ফলে দেশের ভেতর পণ্যের দাম বাড়বে না- এমন আশা থেকেই নতুন বাজেটে মূল্যস্ফীতি ধরা হয়েছে ৫ দশমিক ৫ শতাংশ।

নতুন বাজেটে ভ্যাট খাতে বড় সংস্কার হবে। আগামী ১ জুলাই থেকে বহুল আলোচিত ভ্যাট আইন কার্যকর করা হবে। সংশ্লিষ্টদের মতে, এটি কার্যকর হলে আগামী বছর রাজস্ব আয়ে গতি আসবে। তবে নতুন আইনে কোনো পণ্যের ওপর ভ্যাট ও করহার বাড়বে না। বরং কমতে পারে। আইনটি বাস্তবায়নে কাউকে হয়রানি ও কষ্ট দেয়া হবে না- এমন প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন অর্থমন্ত্রী নিজেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (8)
Nasrin Prova ১৩ জুন, ২০১৯, ২:৪৫ এএম says : 0
আমরা আশায় আছি
Total Reply(0)
Selina Yesmin Shelly ১৩ জুন, ২০১৯, ২:৩৯ এএম says : 0
বাজেট তো দিবেন ই । কিন্তু দেয়ার যৌক্তিকতা কতটুকু। ভেবেছেন কখনো।পীড়া দেয় না
Total Reply(0)
প্রসেনজিৎ দেবনাথ ১৩ জুন, ২০১৯, ২:৩৯ এএম says : 0
বাজেট....!! উন্নয়নের বাজেট,! উন্নত হচ্ছি তবে? কই দেখিনে তো, হ্যাঁ ইনকাম বেড়েছে,তার সাথেই পাল্লা দিয়ে জিতে যাচ্ছে খরচ! সঞ্চয় হচ্ছে কই? বড় বিল্ডিং, বড় ফ্যাক্টরি, তাতে কি মধ্যবিত্তের জীবন বদলাচ্ছে? কই না তো বরং আরো কঠিন হচ্ছে দিনকে দিন
Total Reply(0)
Badal Hussain ১৩ জুন, ২০১৯, ২:৩৯ এএম says : 0
ইনশাআল্লাহ ভাল কিছু আশা করছি
Total Reply(0)
Abul Kalam Azad ১৩ জুন, ২০১৯, ২:৪০ এএম says : 0
সব থেকে কম বাজেট থাকবে কৃষি খাতে অথচ এখনো ৮০ভাগ লোকজন কৃষি কাজের উপর নির্ভরশিল
Total Reply(0)
Kochi Agrabad ১৩ জুন, ২০১৯, ২:৪০ এএম says : 0
প্রবাসীদের জন্য পেনশন সুবিধা রাখুন।
Total Reply(0)
Md Jakir Hossain ১৩ জুন, ২০১৯, ২:৪২ এএম says : 0
কালো টাকা সাদা করার সুযোগ যাতে না থাকে এই বাজেটে। আর্থিক খাত কে আরো শক্তিশালী স্বচ্ছ ও যথাযত ভাবে ব্যবহারের উপযোগি করে তুলতে হবে।। বাজেটে ধনীরা যাতে আরো ধনী না হয় ঐ বিষয় নজর দিতে হবে।। সর্বোপরি বাজেট যেন জনকল্যাণমুখী ও বাস্তব সম্মত হয় এটাই জনগনের প্রত্যাশা।
Total Reply(0)
Tanvir Ahamed ১৩ জুন, ২০১৯, ৭:১৯ এএম says : 0
বাজেটের আগে বিভিন্ন দপ্তরের একাধিক পর্যায়ে অনিয়ম দূর্নিতি দুর করতে নাম পার, মেগা বাজেটে সাধারণ মানুষের তোকোন পরিবর্তনআসবেনা,রাস্তার বা সরকারি ভবন নির্মাণকরা েথকে শুরু করে ঠিকাদার দের সাথে ইঞ্জিনিয়ার গন যায় করতেছে তার লাগাম না টানতেপারলে,সড়কের উন্নয়ন কোনো কাজে লাগবেনা,সাধারন মানুষ বাজেট বুঝে-না তারা বুঝতে চায়না, তারা দেখে সরকারের কোনকাজের সুফল স্হানীয় পর্যায় পর্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে হচ্ছে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন