ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ২২ আগস্ট ২০১৯, ০৭ ভাদ্র ১৪২৬, ২০ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়স্বজনদের লুটপাটের জন্যই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১ জুলাই, ২০১৯, ৬:১৯ পিএম

ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়স্বজনদের লুটপাটের জন্যই সরকার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের ১০ বছরে গ্যাসের মূল্য বাড়িয়েছে ৬ বার। এর আগেও ১৯৯৬-২০০১ সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে ২ বার। এক চুলা ১৫০ টাকা ও দুই চুলা ২০০ টাকার গ্যাস এখন ৯২৫ টাকা ও ৯৭৫ টাকা করা হয়েছে। মূলত: ক্ষমতাসীনদের আত্মীয়স্বজনদের লুটপাটের জন্যই গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি করেছে সরকার। সোমবার (১ জুলাই) বিকেলে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনে দুর্ভোগ নেমে আসবে মন্তব্য করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি পেলে বিদ্যুতের দামও বাড়বে। বাড়বে কল কারখানার উৎপাদন খরচও। গ্যাসের দাম বাড়ানোতে অবশ্যই জনজীবনে বিরূপ প্রভাব পড়বে। যারা সীমিত আয়ের লোক তাদের ওপর এর প্রভাব বেশি পড়বে। গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে সবধরনের শিল্প প্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত এবং বিনিয়োগ বাধাগ্রস্ত হবে। ব্যবসা করার খরচ বেড়ে যাবে। ফলে শিল্পপ্রতিষ্ঠানের ওপর চাপ বাড়বে। মূল্যস্ফীতিও বাড়বে। এ পরিস্থিতিতে গ্যাসের দাম বাড়ানোর কারণে দেশের গার্মেন্টস খাত মারাত্মক চাপে পড়ে যাবে। গ্যাসের এই দাম বৃদ্ধির কারণে পরিবহনের ভাড়া বেড়ে যাবে। ব্যবসায়ীদের পরিবহন খরচ বেড়ে যাবে। জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাবে। নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যসহ সবধরনের পণ্যের দাম বাড়বে। এমনিতেই নিত্য প্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম এবং গাড়ি ভাড়া, বাড়ি ভাড়া আকাশছোঁয়া, তার ওপর আবার গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি মানুষের জীবনকে আরও দুর্বিসহ অবস্থার মধ্যে ফেলে দেবে। মানুষের ক্রয় ক্ষমতা হ্রাস পাবে।

তিনি বলেন, গ্যাস উন্নয়ন তহবিলে কয়েক হাজার কোটি টাকা জমা থাকা সত্ত্বেও এবং রাষ্ট্রীয় গ্যাস কোম্পানি লাভজনক অবস্থায় থাকার পরও গ্যাসের মূল্য বৃদ্ধি দুর্নীতিকে আরও পাকাপোক্ত করবে। যার চূড়ান্ত ভুক্তভোগী হবে সাধারণ মানুষ। তাই গ্যাসের দাম বাড়ার কারণে স্বল্প আয়ের মানুষকেই বেশি ভুগতে হবে। সাধারণ মানুষের জীবনে আরও দুর্ভোগ নেমে আনবে। এ সিদ্ধান্ত সম্পূর্ণ গণবিরোধী ও গরীব মারার সিদ্ধান্ত।

দেশে গুম, খুন, ধর্ষণ ও বিচারবহির্ভূত হত্যার হিড়িক চলছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, সারাদেশে নৃশংসতা থামছেই না। প্রতিদিন গণমাধ্যমে বেরিয়ে আসছে লোমহর্ষক নানা ঘটনা। এসব নারকীয় ঘটনার বেশীর ভাগই ঘটাচ্ছে আওয়ামী লীগ ও তাদের সহযোগিরা। দেশে আইনের শাসন নেই, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা না থাকায় গুম, খুন, ধর্ষণ, বিচারবহির্ভূত হত্যার হিড়িক চলছে। সামাজিক অপরাধপ্রবণতা সকল যুগের রেকর্ড অতিক্রম করেছে। শিক্ষা ক্ষেত্রে নৈরাজ্য ও বেকারত্বের কারণে কিশোর-তরুণরা নানা অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। নারকীয় উল্লাসে তারা দেশব্যাপী খুনের উৎসবে মেতে উঠেছে। বর্বরের দল শঙ্কা আর শিহরণের পরিস্থিতি তৈরী করে সমাজকে নৈরাজ্যের ছায়ায় ঢেকে দিয়েছে। দেশের আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভেঙ্গে পড়লেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ মন্ত্রীরা বলছেন-এত সুন্দর পরিবেশ দেশে আগে কখনও ছিলনা। মন্ত্রীরা ঠিকই বলেছেন, কারণ জালিমশাহীর হিং¯্র আঁচড়ে দেশে কবরের শান্তি বিরাজ করে, তাতে নির্ভয় শান্তির পরিবেশ বিরাজ করে না। দেশের মানুষের দুঃখ-দুর্দশা নিয়ে সরকারের মন্ত্রীরা ক্রমাগত এই ধরণের নিষ্ঠুর রসিকতা করে যাচ্ছে।

বরগুনায় রিফাত শরীফের খুনিরা ক্ষমতাসীন দলের পরিচয়েই ক্ষমতাধর ও ছাত্রলীগের সক্রিয় সদস্য জানিয়ে বিএনপির এই নেতা বলেন, বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী দুই নেতা ও এমপি ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভু এবং একই আসনের সাবেক এমপি, বরগুনা জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের লোকজন এ লোমহর্ষক ঘটনায় জড়িত। রিফাত শরীফ হত্যার মূল আসামি নয়ন বন্ড, রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী। হত্যা মামলার মূল আসামিরা বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের চিরচেনা দুই প্রতিপক্ষের ছত্রছায়ায় বেপরোয়া হয়ে ওঠার পাল্টাপাল্টি অভিযোগ বরগুনায় এখন টক অব দ্য টাউনে পরিণত হয়েছে। রিফাত শরীফের হত্যাকারী রিফাত ফরাজী ও রিশান ফরাজী বর্তমান জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান দেলোয়ার হোসেনের ভায়রার ছেলে। দেলোয়ার হোসেনের প্রশ্রয়েই এ দুই ভাই রিফাত হত্যার মতো অপরাধ সংঘটনে দুঃসাহসী হয়ে ওঠে। ধীরেন্দ্র দেবনাথ শম্ভুর ছেলে এবং জেলা আওয়ামী লীগের বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট সুনাম দেবনাথের ছত্রছায়ায় রিফাত হত্যা মামলার প্রধান আসামি নয়ন বন্ডসহ অন্যরা বিভিন্ন অপকর্ম করে আসছে। মামলার চার নম্বর আসামি চন্দন ও ছয় নম্বর আসামি মো. রাব্বি আকন ছাত্রলীগের রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তারা জেলা ছাত্রলীগের সদস্য। এ ছাড়া কিলিং মিশনে অংশ নেয়া আরেক যুবক সুহার্ত বরগুনা জেলা যুবলীগের সভাপতি শাহাবুদ্দিন সাবুর ছেলে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন ছবি থেকে গণমাধ্যমে খবর বেরিয়েছে-ছাত্রলীগের বিভিন্ন মিটিং মিছিলে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন