ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

পথে পথে মহাদুর্ভোগের মধ্যে মন্ত্রী আনন্দের বাঁশী বাজাচ্ছেন- রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ আগস্ট, ২০১৯, ১:২৭ পিএম

ঈদ যাত্রায় ঘরমুখো মানুষ যখন পথে পথে মহাদুর্ভোগ পোহাচ্ছে তখন তা দেখে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রী আনন্দের বাঁশী বাজাচ্ছেন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেছেন, “বাংলাদেশের মানুষ ঈদ যাত্রায় যে দুর্ভোগ সেটাকে দুর্ভোগ হিসেবে মনে করে না। এটা তারা ঈদ আনন্দের অংশ হিসেবে মনে করে। তিনি (ওবায়দুল কাদের) বলেছেন, এবারের ঈদ যাত্রা স্বস্তিদায়ক ছিল। উত্তরের পথে ঢাকা-টাঙ্গাইল সড়কে যানজটের খবর গণমাধ্যমে এলেও তিনি জানিয়েছেন যানজটের কোনো তথ্য তার কাছে নেই। নিশিরাতের ভোটের সরকারের মন্ত্রীদের কথাতেই প্রমানিত হয় রোম পুড়ে ছারখার হয়ে গেলেও নিরোর মতো শাসকরা বাঁশী বাজায়। ওবায়দুল কাদের সাহেব’রা এই মহাদুর্যোগ ও পথে পথে মহাদুর্ভোগের মধ্যে সেই আনন্দের বাঁশী বাজাচ্ছেন।

রোববার (১১ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, অসত্য ও বাস্তবতা বিবর্জিত বক্তব্যই তাদের দিতে হবে, কারন মিথ্যার ওপর দু:শাসন চালাতে গিয়ে সত্য কথা বলার অধিকার তাঁরা হারিয়েছে। ঈদ যাত্রা নিয়ে ওবায়দুল কাদের সাহেবের বক্তব্য দু:খ দুর্দশাগ্রস্ত মানুষের সাথে নিষ্ঠুর রসিকতা। অপরের দু:খ যন্ত্রণাকে আনন্দ উৎসব হিসেবে মনে করা আওয়ামী লীগের রুচি ও সংস্কৃতি।

তিনি বলেন, সেতুমন্ত্রী মানুষের দু:খ দুর্দশা জানবেন কিভাবে, তিনি তো জনগণের মন্ত্রী নন, আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর ভোটে নির্বাচিত মন্ত্রী। হুইসেল বাজিয়ে রাস্তা ফাঁকা করে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত গাড়ীতে ছুটে বেড়ানোর সেতুমন্ত্রীর অবাধ সুযোগ থাকে। সুতরাং ঘন্টার পর ঘন্টা যানযটে রাস্তায় ঈদে ঘরমুখী মানুষের আটকে পড়ার দৃশ্য দেখে আনন্দ পাওয়ারই কথা। মহাসড়কে ঘন্টার পর ঘন্টা মানুষ যানজটে পড়ে আছে। ভাড়া আদায় করা হয়েছে কয়েকগুন বেশী। ৪০ টাকার ভাড়া ৪০০ টাকা, ৩০০,৪০০ টাকার ভাড়া আদায় করা হয়েছে ১২০০ টাকা। ভাড়া নিয়ে নৈরাজ্য চললেও দেখার কেউ নেই। কোন কোন মহাসড়কে ৭০-৮০ কি. মি.যানজট। লঞ্চগুলোতে ধারণ ক্ষমতার চেয়ে বহুগুণ বেশী যাত্রী জীবনের ঝুঁকি নিয়ে বাড়ী যাচ্ছে। ফেরি ঘাটেও গাড়ীর লম্বা লাইন। সবগুলো ট্রেন সিডিউল বিপর্যয়ে পড়েছে। সকালে ট্রেন রাতেও ছেড়ে যায়নি। পরিবার পরিজন নিয়ে স্টেশনগুলোতে বসে থেকে অগণিতি মানুষের কষ্টের সীমা নেই। আর এটাকেই সেতু মন্ত্রী বলছেন, এবারের ঈদযাত্রা স্বস্তিদায়ক ও আনন্দঘন। আওয়ামী লীগের কাজই হলো মানুষের দু:খ দূর্দশা নিয়ে ইয়ার্কী করা, তামাশা করা।

মানুষের মধ্যে ঈদের আনন্দ নেই অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দেশ আজ মহা বিপর্যয়ের মুখে। সর্বগ্রাসী সংকটে টালমাটাল অবস্থা। সমস্যা-সংকট গভীর থেকে গভীরতর, কোন আশার আলো নেই, আছে শুধু অন্ধকার, হতাশা ও অনিশ্চিত আগামী। ক্ষমতাবানরা দায়বোধের অনুশোচনা ভুলেই গেছে। অনাচার ও অসাধুতার প্রকোপে মানুষের স্বাভাবিক মৃত্যুর অধিকারটুকুও কেড়ে নিচ্ছে তারা। ডেঙ্গুর ভয়াবহ ছোবলে দেশ বিধ্বস্ত। এডিস মশার দল রক্ত খেতে ছুটে বেড়াচ্ছে দিকবিদ্বিক। মৃত্যুর মিছিল বড় হচ্ছে দিনকে দিন। বানভাসী মানুষের দুর্দশা চরম শোচনীয়। গুম-ক্রসফায়ারের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। খুন-ধর্ষণ ডালভাত হয়ে দাঁড়িয়েছে। নির্বিচারে গণপিটুনিতে প্রাণ হারাচ্ছে নিরীহ নারী-পুরুষ। আইন আদালতকে ক্ষমতাসীনরা নিজেদের ইচ্ছানুযায়ী ব্যবহার করছে। দুর্নীতির মরণ ছোবল তথা রাহুগ্রাসে দেশ এখন শুন্য গহ্বর। এ যেন এক পৈশাচিক বিকৃতি। এ পরিস্থিতিতে দেশবাসীর মনে ঈদুল আযহার আনন্দ নেই।

ঈদের আগে বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তি না হওয়ায় হতাশা প্রকাশ করে রিজভী বলেন, বাংলাদেশের কোটি কোটি মানুষের প্রত্যাশা ছিল পবিত্র ঈদুল আযহার পূর্বেই মিথ্যা সাজানো মামলায় কারাবন্দি বিএনপি চেয়ারপার্সন বেগম খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। কিন্তু ভোটের আগের রাতের নির্বাচনের সরকার প্রধানের হুকুমেই তাঁকে জামিন দেওয়া হয়নি। তিনি গুরুতর অসুস্থ হলেও এখনও তাঁর সুচিকিৎসা মেলেনি। তাঁকে উন্নত চিকিৎসা দেয়ার জন্য দলের পক্ষ থেকে, পরিবারের পক্ষ থেকে পছন্দের বিশেষায়িত হাসপাতালে চিকিৎসা করার দাবি জানালেও সরকার তোয়াক্কা করছে না। ৪ বারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী, ২ বারের সাবেক বিরোধী দলীয় নেতা, বাংলাদেশের একটি বড় রাজনৈতিক দলের প্রধানকে কারাগারে বন্দি রেখে নিষ্ঠুর নির্যাতন করে, সুচিকিৎসা না দিয়ে সর্বোচ্চ প্রতিহিংসা চরিতার্থ করা হয়েছে।

তিনি বলেন, ক্ষমতার মোহে আওয়ামী লীগ রাজনৈতিক কৃষ্টি কালচার দেশ থেকে বিতাড়িত করে দিয়েছে। কিন্তু ইতিহাস কাউকে ক্ষমা করে না, এ জুলুমের বিচার একদিন হবেই। সেদিন বেশী দুরে নয় যেদিন দেশবাসী ক্ষমতাসীনদের রাষ্ট্রদাসত্ব থেকে মুক্তি পাবে, বাংলাদেশের মানুষ মিডনাইট সরকারের পতন দেখতে পাবে। মানুষ বসে থাকবে না। সকল অত্যাচার, নির্যাতনের শিকল ভেঙ্গে দেশ নেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে মুক্ত করবে। বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি হিংসাশ্রয়ী অবিচার ও অন্যায়ের বিচার এদেশে একদিন হবেই। এখনই জনগণ ঘুরে দাঁড়ানোর স্পর্ধিত বার্তা দিচ্ছে। দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হবে, মানুষ ফিরে পাবে তাদের নাগরিক স্বাধীনতা। দেশবাসীসহ আমরা ব্যথিত, দু:খিত, বেদনার্ত এই ঈদের আগের দিনও বেগম জিয়ার মুক্তি মেলেনি। এ মুহুর্তে বেগম জিয়াকে মুক্তি দিতে হবে।

বেগম জিয়া দেশবাসী, দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন বলে জানান বিএনপির এই নেতা। রিজভী বলেন, একইসঙ্গে দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানও দেশবাসী, দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন। এছাড়াও দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও দেশবাসী, দলের সকল পর্যায়ের নেতাকর্মী এবং গুম-খুন ও নির্যাতনের শিকার পরিবারের সদস্যদের পবিত্র ঈদুল আযহার শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (2)
Sayedur Rahman ১২ আগস্ট, ২০১৯, ৩:২১ এএম says : 0
অনেক সুন্দর কথা বলেছেন রিজভী সাহেব। যদি কোনোদিন তার দল ক্ষমতার স্বাদ পায় তবে নির্ঘাত তিনি বড় একটা পদ পাবেন এই আশা করেই তিনি এই সব প্রেস বিজ্ঞপ্তি
Total Reply(0)
saad ahmed ১২ আগস্ট, ২০১৯, ৮:১১ এএম says : 0
transport minister is not responsible for road jam he was not driving there the drivers are drive the cars in wrong lane for go quicker then other drivers this is why conjunct start you BNP always put complain for nothing .
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন