ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

পার্বত্য চট্টগ্রামকে ভারতের অংশ দাবি ত্রিপুরার চাকমাদের

ইনকিলাব ডেস্ক | প্রকাশের সময় : ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৬:৩৮ পিএম

গত শনিবার ত্রিপুরায় চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ও চাকমা স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশ - ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস


ভারতের স্বাধীনতার প্রায় সাত দশক পর ত্রিপুরায় বসবাসরত চাকমা জনগোষ্ঠীর নেতারা বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামকে ‘ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ’ বলে দাবি করেছে। চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ও চাকমা স্টুডেন্ট এসোসিয়েশনের নেতারা গত শনিবার ত্রিপুরায় আয়োজিত এক সমাবেশ থেকে এই দাবি করার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের কাছে জাতিগত নিপীড়নের বিচার চেয়েছেন। খবর দ্য ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০১৬ সাল থেকে ১৭ আগস্টকে কালো দিবস হিসেবে উদযাপন করে আসছে চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়া ও ত্রিপুরা চাকমা স্টুডেন্ট এসোসিয়েশন। শনিবার ত্রিপুরার আগরতলা, কাঞ্চনপুর, পেচারঠাল, কুমারঘাট, মানু, চাইলেঙটা, চৌমানু, গান্দাছেড়া, নতুনবাজার, সিলাছড়ি, বীর চন্দ্রমানু এলাকায় বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করে ভারতীয় চাকমাদের এ দুই সংগঠন।

চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার ত্রিপুরা শাখার মহাসচিব উদয় জ্যোতি চাকমা ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেসকে বলেন, ১৯৪৭ সালে পাকিস্তানের কাছে পার্বত্য চট্টগ্রামকে হস্তান্তরের ঐতিহাসিক অন্যায়ের প্রতিবাদে এই কালো দিবস উদযাপন করা হয়।

চাকমা ন্যাশনাল কাউন্সিল অব ইন্ডিয়ার ত্রিপুরা শাখার ভাইস প্রেসিডেন্ট অনিরুদ্ধ চাকমা বলেন, ‘আমরা চাকমা জনগোষ্ঠীর মানুষের বিরুদ্ধে জাতিগত নিধন, অস্থিরতা ও অবিচারের প্রতিবাদে প্রত্যেক বছর এই কালো দিবস উদযাপন করছি। আমরা মনে করি, পার্বত্য চট্টগ্রাম ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ এবং এ ব্যাপারে আন্তর্জাতিক আদালত ইন্টারন্যাশন্যাল কোর্ট অব জাস্টিসের কাছে ন্যায়বিচার এবং সহানুভূতি কামনা করছি।’

ঐতিহ্যগতভাবে পার্বত্য চট্টগ্রামে চাকমা, মারমা, তিপেরাস, চাক, মুরং, খুমি, লুশাই, বোম, পাঙ্খ এবং মগসহ কমপক্ষে ১১টি জাতিগত সংখ্যালঘু সম্প্রদায় বসবাস করে। পার্বত্য চট্টগ্রামের আয়তন প্রায় ৫ হাজার ১৩৮ বর্গকিলোমিটার; যার উত্তরে ভারতের ত্রিপুরা, দক্ষিণে মিয়ানমারের আরাকান পর্বত, পূর্বে মিজোরামের লুশাই ও মিয়ানমারের আরাকান পর্বত এবং পশ্চিমে বাংলাদেশের চট্টগ্রাম জেলার অবস্থান।

চাকমা ওই নেতা বলেন, ভারতের স্বাধীনতার সময় পার্বত্য চট্টগ্রামের ৯৮ দশমিক ৫ শতাংশ অধিবাসী ছিল বৌদ্ধ এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের। কিন্তু স্যার সিরিল র‌্যাডক্লিফ নেতৃত্বাধীন সীমান্ত কমিশন পার্বত্য চট্টগ্রামকে পাকিস্তানের ভূখণ্ড হিসেবে ঘোষণা দিয়েছিল।

১৯৪৭ সালের ১৫ আগস্ট পার্বত্য চট্টগ্রামের জেলা সদর দফতর রাঙ্গামাটিতে ভারতীয় পতাকা উত্তোলন করেছিলেন চাকমা নেতা শ্রেয়া কুমার চাকমা। এর দু’দিন পর রেডিওতে আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা দেয়া হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম হবে পাকিস্তানের অংশ। এ ঘোষণার পর ২১ আগস্ট রাঙ্গামাটি থেকে ভারতীয় পতাকা নামিয়ে ফেলে তৎকালীন পাক সামরিক বাহিনী। তখন থেকে চাকমা নেতাদের ভারতের প্রতি সহানুভূতিশীল হিসেবে চিহ্নিত করা হয়।

পার্বত্য চট্টগ্রাম তৎকালীন পূর্ব-পাকিস্তান এবং বর্তমানে বাংলাদেশের ভূখণ্ড হলেও জাতিগত নিপীড়নের অভিযোগ তুলে বিভিন্ন সময়ে পার্বত্য চট্টগ্রামের চাকমারা ভারতে আশ্রয় চেয়ে আসছে বলে দাবি ত্রিপুরার চাকমা নেতাদের। ১৯৮৬ সালে ত্রিপুরা এবং মিজোরামের বিভিন্ন শরণার্থী শিবিরে ৫০ হাজারের বেশি চাকমা আশ্রয় নিয়েছে।

পরে তাদের অনেককে অরুণাচল প্রদেশের বিভিন্ন স্থানে পুনর্বাসন করা হয়। তবে চাকমাদের সর্বশেষ একটি দল ভারতের ত্রিপুরায় আশ্রয়ের আবেদন করেছিল ২০১৩ সালে। কিন্তু সেই সময় তাদের আবেদন প্রত্যাখ্যান করে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

শনিবার ত্রিপুরার টিবি এসোসিয়েশন হলের সামনে বিক্ষোভ করেন উত্তেজিত চাকমারা। বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামকে তারা পুনরায় ভারতীয় ভূখণ্ড হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন। ত্রিপুরার এই চাকমাদের দাবি, বাংলাদেশের পার্বত্য চট্টগ্রামে বসবাস করলেও সেখানকার চাকমা এবং জাতিগত অন্যান্য গোষ্ঠী এখনো ভারতকে তাদের ‘কল্পিত মাতৃভূমি’ হিসেবে মনে করে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (3)
মোহাম্মদ আশরাফুল ইসলাম ১৮ আগস্ট, ২০১৯, ৮:২৫ পিএম says : 0
চাকমারা ছিল পাকিস্তানের দালাল। চাকমা রাজা ত্রিদিব রায় স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানকে সমর্থন করেন এবং দেশ স্বাধীন হওয়ার পর পাকিস্তানে আশ্রয় নেন। সেখানেই তাঁর মৃত্যু হয়। এখন উনারা নতুন কি বানী শোনাচ্ছেন। ১১টি উপজাতির মধ্যে কয়টি ভারত থেকে আসছে ? এর বেশিরভাগই বার্মা থেকে অত্যাচারিত হয়ে বাংলাদেশে এসে আশ্রয় নিয়েছে। তারা বাংলাদেশী। তাদের নিয়ে রাজনীতি করার কোন সুযোগ নেই। তারাও চায়না।
Total Reply(0)
Suruj ali ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ২:৪৫ পিএম says : 0
এইসব কল্পকাহিনী আমাদের স্বাধীনতাকে নষ্ট করে দিচ্ছে আমাদের মাতৃভূমির পুরা ঘামতেছে এটা আমাদের জন্য লজ্জাজনক বিষয় সুতরাং এর জন্য আমাদের সরকার ভারতের রাষ্ট্রদূত কে প্রতিবাদ লিপি হাতে ধরিয়ে দেয় যেন। এটা আমার মাতৃভূমির জন্য আমার একটা আশা
Total Reply(0)
raihan ১৯ আগস্ট, ২০১৯, ৯:৫৫ পিএম says : 0
" আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের কাছে জাতিগত নিপীড়নের বিচার চেয়েছেন।" কোন সমস্যা নেই আগে রহিঙ্গাদের,কাশমিরিদের আর ভারতের মুসলিমদের ওপর যে জাতিগত নিপীড়ন চলছে সেগুলার বিচার হোক তারপর তোমাদের টাতে আসা যাবে।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন