ঢাকা, বুধবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৩ আশ্বিন ১৪২৬, ১৮ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী।

জাতীয় সংবাদ

১৫ আগস্টের বিষয়ে এইচ টি ইমামকে জিজ্ঞেস করুন সব উত্তর পেয়ে যাবেন -ওবায়দুল কাদেরকে রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ২৯ আগস্ট, ২০১৯, ১২:২৭ পিএম

আওয়ামী লীগ দীর্ঘদিন ধরে ইতিহাস বিকৃত করার চেষ্টা করে আসছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সত্যকে ঢেকে দিয়ে মিথ্যাকে প্রতিষ্ঠিত করতে মিথ্যাচার করছে এই দলটি। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের সচিবালয়ে এক আলোচনা সভায় বলেছেন, ৭৫’র ১৫ আগস্ট শেখ মুজিবুর রহমান হত্যাকা-ের মাস্টারমাইন্ড জিয়াউর রহমান। ষড়যন্ত্রের পুনরাবৃত্তি একই সূঁত্রে গাথা। ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধুর কন্যাকেও নিশ্চিহ্ন করতে গ্রেনেড হামলা করা হয়েছিল। এখনো ওদের ষড়যন্ত্র চলছে। এখনো বাতাসে চক্রান্তের গন্ধ আসছে। তার এই বক্তব্যের জবাবে রিজভী বলেন, ওবায়দুল কাদেরের বক্তব্য যদি সত্য হয়, তাহলে ১৫ আগস্টের মর্মষ্পর্শী ঘটনার পর আওয়ামী লীগেরই লোকজন সরকার গঠন করলো কিভাবে? ওবায়দুল কাদের সাহেব আপনি ১৫ আগস্টের বিষয়ে এইচ টি ইমামকে জিজ্ঞেস করুন তাহলেই সব উত্তর পেয়ে যাবেন। যারা সেদিন লাশ ডিঙিয়ে মোশতাক সরকারের স্পিকার থেকে শুরু করে মন্ত্রী-এমপি ছিলেন এদের অনেকেই বর্তমান প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে বড় বড় পদে অধিষ্ঠিত ছিলেন এবং তারা এমপি হলেন কিভাবে? বৃহস্পতিবার (২৯ আগস্ট) দুপুরে নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রুহুল কবির রিজভী বলেন, ১৫ আগস্টের সময় বিএনপি’র সৃষ্টি হয়নি এবং শহীদ জিয়াউর রহমান তখন তো কোন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন না। তাহলে তাঁকে অভিযুক্ত করতে আওয়ামী নেতারা এতো তৎপর কেন? তৎকালীন সেনাপ্রধানের কোন দায় নেই কেন? কারণ তিনি আওয়ামী লীগের এমপি ছিলেন। ইতিহাসই এর প্রমান। যে ব্যক্তিরা সাবেক প্রেসিডেন্ট মরহুম শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকা-ের প্লট তৈরি করেছিল, যে ব্যক্তিরা খন্দকার মোশতাকের শপথে অংশ নিতে বঙ্গভবনে গিয়েছিল। সেই ব্যক্তিরাই এখন সরকারের চারপাশে ঘোরাঘুরি করছে। পঁচাত্তরে আওয়ামী লীগের লোকেরাই একজন আরেকজনকে হত্যা করেছে, একজন আরেকজনের কাছ থেকে ক্ষমতা দখল করেছে।

তিনি বলেন, আজকে পরিষ্কার হয়ে গেছে যে, এই আওয়ামী লীগ শুধুমাত্র ক্ষমতা ধরে রাখার জন্য, নিজেদের ক্ষমতা মগ্নতার কারণে তারা সাবেক প্রেসিডেন্ট শেখ মুজিবুর রহমানের হত্যাকারী এবং সেই হত্যার প্লট যারা তৈরি করেছিল সেইসব ব্যক্তিদের সাথে সখ্যতা করতে পিছপা হয় না। অথচ কেবল প্রেসিডেন্ট শহীদ জিয়াউর রহমানকে হেয় করার জন্য ক্ষমতা দখল করে এধরনের অসত্য বক্তব্যের ধারাবর্ষণ করে যাচ্ছে। কারণ জোর করে ক্ষমতায় থাকার কারণে সরকারী-বেসরকারী প্রচার মাধ্যমের সব আলো গায়ের জোরে ওরা নিজেদের দিকে টেনে রেখেছে। তবে দেশের সচেতন প্রতিটি মানুষ জানেন প্রকৃত ইতিহাস। এসব করে সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানকে জনগণের মনিকোঠা থেকে সরানো যাবে না।

খালেদা জিয়ার অসুস্থতা নিয়ে ফেইসবুকে গুজব ছড়াচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, কারাগারে তাঁর শারীরিক অসুস্থতার ক্রমাগত অবনতি হলেও ক্ষমতা হারানোর ভয়ে মুক্তি দিচ্ছে না সরকার। এ সরকার মানবতাবোধশুন্য এবং বেআইনি কাজে এতো অভ্যস্ত হয়ে পড়েছে যে, তারা বেগম খালেদা জিয়ার বিপদজনক অসুস্থতাও ভ্রুক্ষেপ করছে না। সরকারের অমানবিক ও নিষ্ঠুর আচরণ প্রমান করে দেশনেত্রীর প্রাণনাশ করতে এক গভীর ষড়যন্ত্রে মেতেছে তারা। ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য আইন আদালতকে কব্জা করে দেশনেত্রীর জামিনে বাধা দেয়া হচ্ছে। তাঁর সুচিকৎসা হচ্ছে না। এখন আবার তাঁর অসুস্থতা নিয়ে এই সরকারের বিকৃত মনস্ক লোকজন ফেসবুকে বিভিন্ন গুজব ছড়াচ্ছে। জুলুমবাজ মিডনাইট দখলদারদের বলব-দেশনেত্রীকে মুক্তি দিন এখনি ! আপনাদের দুর্দিন আসতেও বেশী সময় লাগবে না। সময় সব সময় একরকম থাকে না। বাতাস সব সময় একদিক দিয়ে প্রবাহিত হয়না। প্রতিহিংসা আর দাম্ভিকতার পতন শ্বাশ্বত ও অনিবার্য।

মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী মিথ্যাচার করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, গতকাল প্রধানমন্ত্রী নিজ কার্যালয়ে ‘এসোসিয়েশন অব টেলিভিশন চ্যানেল ওনার্স’ এর প্রতিনিধি দলের সাথে সাক্ষাৎকালে বলেন, ‘বাংলাদেশে সব টেলিভিশন চ্যানেল এখন পূর্ণ স্বাধীনতা উপভোগ করছে’। মত প্রকাশের স্বাধীনতার ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর এই বক্তব্য বছরের সেরা মিথ্যাচার উল্লেখ করে তিনি বলেন, স্বাধীন দেশে মানুষ এখন পরাধীন। মানুষের নাগরিক স্বাধীনতা সম্পূর্ণভাবে হরণ করা হয়েছে, কারণ এদেশের মানুষ গুম-খুন তথা রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাসের ভয়ে কথা বলতে ভয় পায়, সত্য কথা বললেই মানুষের ওপর নির্যাতন নেমে আসে। সত্য প্রচারের জন্য গণমাধ্যম বন্ধ করে দেয়া হয় এবং গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের জেল, জুলুম ও গুমের শিকার হতে হয়। সত্য লেখনির জন্য অনেককে দেশ ছেড়ে চলে যেতে হয়েছে। বেশ কয়েকবার প্রধানমন্ত্রী তাঁর সাংবাদিক সম্মেলনে বলেছিলেন-টেলিভিশন আমি দিতেও পারি, নিতেও পারি। অর্থাৎ গণমাধ্যমের স্বাধীনতা নির্ভর করছে প্রধানমন্ত্রীর ইচ্ছা-অনিচ্ছার ওপর। সুতরাং গতকাল প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্য তাঁর কর্মের সাথে সম্পূর্ণ বিপরীত। তাঁর বক্তব্য সত্যের অপলাপ। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে আওয়ামী রসগোল্লা গেলাতে বাধ্য করা হয়। আওয়ামী লীগের প্রোপাগান্ডা মেশিন হিসেবে টিভি চ্যানেলগুলোকে ব্যবহার করা হচ্ছে। এখানে টেলিভিশন মালিক ও সংশ্লিষ্ট কলাকুশলীদের করার কিছুই থাকে না। তাদেরকে বাধ্য হয়ে সরকারী ট্যাবলেট গিলতে হচ্ছে। সত্য প্রচার করতে গেলে তাদের পরিণতি হবে ‘আমার দেশ পত্রিকা কিংবা দিগন্ত ও ইসলামিক টিভি চ্যানেলের মতো। যদি কেউ সত্য ও স্বাধীন মতামত গণমাধ্যমে প্রকাশক করে তাহলে তার ওপর নেমে আসবে অকথ্য জুলুমের ধারালো তরবারী।

ডেঙ্গু নিয়ে এখনো মিথ্যাচার করা হচ্ছে অভিযোগ করে বিএনপির মুখপাত্র বলেন, সারাদেশে ডেঙ্গু মহামারী আকার ধারণ করেছে। মানুষ আতংকে দিনযাপন করছেন। মিডিয়ার খবরে বলা হচ্ছে, প্রতিদিনই গড়ে তিন জন করে ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু ঘটছে। সরকারের মন্ত্রীরা এখনো ডেঙ্গু নিয়ে মিথ্যাচার করছেন। ঢাকা দক্ষিণের মেয়র ডেঙ্গুকে মহামারি অবস্থায় রেখে সিঙ্গাপুর গিয়ে বসে আছেন। উত্তরের মেয়র ব্যস্ত ফটোসেশনে। বিনা ভোটে গদি দখলকরা এই সব মন্ত্রী মেয়রদের জনগণের প্রতি ন্যুনতম দায়বদ্ধতা নেই। সরকার এখনো ডেঙ্গুতে মৃতের প্রকৃত সংখ্যা জানতে দিচ্ছে না মানুষকে। এ নিয়ে লুকোচুরি খেলছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। সরকারী পরিসংখ্যানে বলা হচ্ছে মৃতের সংখ্যা ৫২। আর রোগতত্ত্ব , রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে ১৭৩ জনের মৃত্যুর কথা জানিয়েছে। গতকাল বুধবার খুলনা, যশোর ও ময়মনসিংহে একজন করে মোট তিন ডেঙ্গু রোগীর মৃত্যু হয়েছে। ঢাকার বাইরে বাড়ছে মৃত্যুর সংখ্যা। কিন্তু এডিস মশা নিধনে সরকারের কার্যকর পদক্ষেপ হতাশাজনক। তারা জনগণের ভোটে ক্ষমতায় না আসায় কে বাঁচলো কে মরলো তা নিয়ে মাথা ব্যাথা নেই। তারা উন্নয়নের ফাঁপানো কেচ্ছা কাহিনী শুনিয়ে বাংলাদেশের মানুষকে খুশি রাখার চেষ্টা করছে। আর দুই হাতে তারা কোটি কোটি টাকা লুটপাটে ব্যস্ত। এদের ব্যর্থতা প্রশ্নাতীত।

এসময় সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য প্রফেসর ড. সুকোমল বড়–য়া, আবুল খায়ের ভূইয়া, সাংগঠনিক সম্পাদক মাহাবুবের রহমান শামীম, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক এড. আব্দুস সালাম আজাদ, নির্বাহী সদস্য আমিনুল ইসলাম প্রমূখ।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
rokon ২৯ আগস্ট, ২০১৯, ১:১৬ পিএম says : 0
Risbi sir apnake thanks Apnar party te sodo apni chara r kew potibadi nei sob leader ........, Na hoi andolon hoi na keno? .....................
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন