ঢাকা, শনিবার, ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৯, ৬ আশ্বিন ১৪২৬, ২১ মুহাররম ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

নিয়োগে পুলিশের সততা অনুসরণের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৪ এএম | আপডেট : ১২:২১ এএম, ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯

প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, পুলিশে লোক নিয়োগের ক্ষেত্রে ঘুষ-দুর্নীতির বদনাম ছিল। কিন্তু পুলিশ বর্তমানে নিয়োগের ক্ষেত্রে একটা দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। ঘুষ-দুর্নীতি মুক্তভাবে নিয়োগ হওয়ায় এবার সাধারণ পরিবারের ছেলেমেয়েরাও চাকরি পেয়েছে। পুলিশের এই দৃষ্টান্ত অন্যান্য নিয়োগের ক্ষেত্রেও অনুসরণ করতে হবে।

গতকাল গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে বাংলাদেশ পুলিশ কল্যাণ ট্রাস্টের মালিকানাধীন কমিউনিটি ব্যাংক বাংলাদেশ-এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, জনবান্ধব পুলিশি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করে যাচ্ছে। জনগণ পুলিশের কাছ থেকে যেন স্বল্প সময়ের মধ্যে কাক্সিক্ষত সেবা পায় তা নিশ্চিত করতে হবে। এজন্য প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক পুলিশ গড়ে তোলা হচ্ছে। পুলিশের সেবা তাৎক্ষণিক পেতে জরুরি সেবা ‘৯৯৯’ চালু করা হয়েছে। পুলিশ খুব দক্ষতার সঙ্গে এক্ষেত্রে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা ও সক্ষমতা বাড়াতে নতুন প্রযুক্তি, প্রশিক্ষণ, জনবল বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করেছে সরকার, যার সুফল এরইমধ্যে দেশের জনগণ পেতে শুরু করেছেন। প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, সন্ত্রাস-জঙ্গিবাদ শুধু বাংলাদেশ না, বিশ্বব্যাপী এটা একটা বড় সমস্যা। কিন্তু আমি এইটুকু বলব, আমাদের দেশে পরপর কয়েকটি ঘটনা ঘটল। হলি আর্টিজন বা শোলাকিয়ার ঘটনায় সবার আগেই কিন্তু পুলিশই ছুটে গেছে এবং জীবনও দিয়েছে। জঙ্গিবাদ, সন্ত্রাস ও মাদক দমনে বাংলাদেশ পুলিশের দক্ষতা আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রশংসিত হয়েছে। পুলিশ এক্ষেত্রে দক্ষতার সঙ্গে ভূমিকা রাখছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের অভিযান চলছে চলবে। এক্ষেত্রে পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে আরও সক্রিয় হতে হবে। কারণ, মাদক একটি পরিবার ও সমাজকে নষ্ট করে দেয়।
পুলিশসহ আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি আন্তরিক ধন্যবাদ জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে আন্দোলনের নামে যেভাবে সাধারণ মানুষের ওপর হামলা হয়েছে, সেভাবে পুলিশের ওপরও হামলা হয়। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে তারা যেভাবে জনগণের সেবা করছে, তা সত্যিই প্রশংসনীয়। এছাড়া ঈদের আনন্দে যখন সকলে আনন্দিত হয়, তখন আমাদের পুলিশবাহিনী কিন্তু তাদের নিজের পরিবার পরিজন ছেড়ে দায়িত্ব পালন করে। গোয়েন্দা সংস্থাগুলো তথ্য সংগ্রহ করে। জাতির জন্য তাদের এই আত্মত্যাগ সব সময় আমরা স্বীকৃতি দেই।
তার সরকারের মেয়াদে পুলিশ বাহিনীর কল্যাণে নেওয়া পদক্ষেপ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমি সব সময় চেষ্টা করি আমাদের পুলিশবাহিনী আরও দক্ষ হয়ে গড়ে উঠুক। ১৯৯৬ সালে ক্ষমতায় থাকাকালে আমি স্টাফ কলেজ প্রতিষ্ঠা করে দেই। চিকিৎসার জন্য রাজারবাগে হাসপাতাল নির্মাণ করে দিয়েছি। শতভাগ রেশনের ব্যবস্থাও আমরা করেছি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, পৃথিবী যতটা এগিয়ে যাচ্ছে, অপরাধ প্রবণতার ধরণও ততটা পাল্টাচ্ছে। সাইবার ক্রাইম থেকে শুরু করে নানা ধরনের ক্রাইম এখন হচ্ছে। এর সঙ্গে তাল মেলানোর জন্য পুলিশের দক্ষতা অর্জনে আমরা বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছি এবং আধুনিক প্রযুক্তির শিক্ষার ব্যবস্থা করছি।
২০১৮ সালের ১ নভেম্বর লাইসেন্স পাওয়ার পর এই ব্যাংকটি ৪০০ কোটি টাকা পরিশোধিত মূলধন নিয়ে যাত্রা শুরু করে। প্রথমে ৬টি শাখা দিয়ে ব্যাংকটির কার্যক্রম শুরু হলো। দুটি ঢাকার গুলশান ও মতিঝিল এলাকায়, একটি চট্টগ্রামের আগ্রাবাদ, একটি গাজীপুরের শ্রীপুর মাওনা, একটি নারায়ণগঞ্জের পঞ্চবটি এবং হবিগঞ্জের নোয়াপাড়া।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, অর্থমন্ত্রী আহম মুস্তফা কামাল, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগের সচিব ড. মুস্তফা কামাল অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য রাখেন। প্রধানমন্ত্রীর মুখ্যসচিব মো. নজিবুর রহমান অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন এবং পুলিশের মহাপরিদর্শক ড. মোহাম্মদ জাবেদ পাটোয়ারি বাংলাদেশ কমিউানটি ব্যাংকের বিষয় ভিডিও প্রেজেন্টেশন উপস্থাপনা করেন। প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা এইচটি ইমাম, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এসডিজি বিষয়ক মুখ্য সমন্বয়কারী মো. আবুল কালাম আজাদ, প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের সচিব সাজ্জাদুল হাসান, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব ইহসানুল করিম, এনবিআর চেয়ারম্যান মো. মোশাররফ হোসেন ভুইয়া, ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বিদায়ী কমিশনার মো. আছাদুজ্জামান মিয়া, র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজীর আহমেদ এবং পুলিশের উর্ধ্বতন কর্মকর্তারা অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।#

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (1)
ম নাছিরউদ্দীন শাহ ১২ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ৯:২৭ পিএম says : 0
স্বাধীনতার পর হতে রাজনৈতিক ভাবে যতগুলাে সরকার এসেছেন সবাই রাজনৈতিক সরকার গঠন করে ক্ষমতায় ছিলেন। বাস্তবায়নে আইন শৃংখলা বাহিনী আজীবনের জন্য ক্ষমতাপ্রাপ্ত। আটার কোটি নারী পুরুষের দুইলক্ষ পুলিশ অন্য অন্য আইন শৃংখলা বাহিনী পকৃত অর্থে শাসক ক্ষমতাপ্রাপ্ত প্রতিষ্ঠান। উন্নয়ন অগ্রগতি শান্তি শৃংখলা আইনের শাসন সব কিছুর চাবিকাঠি তাদের হাতে উত্তরাধিকার সুত্রে দুর্নীতির কবলে পড়া এই প্রতিষ্ঠানে গুলোর নৈতিকতা সম্পন্য মানবিক জ্ঞান সৎকর্মশীল আইন শৃংখলা বাহিনীর স্বাধীন মতামতের উপর মাননীয় প্রধান মন্ত্রী দেশ পরিচালনা করুন। বদলী বানিজ্য শত শত আইন শৃংখলা বাহিনীর সমস্যার কথা শুনতে বসুন। আটার কোটি মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিয়োজিত বাহিনীর রাজনৈতিক সামাজিক সম্মান প্রতিষ্টা করতে পারলে। পকৃত শান্তি প্রতিষ্টা হবে। না হয় হাজারো উন্নয়ন অগ্রগতির সাফল্যের কথা মানুষের কাছে মুল্যয়ন হবে না। কারণ মানুষের জীবনের নিরাপত্তা সবার আগে। আমি আইন শৃংখলা বাহিনীকে প্রতি শ্রদ্ধা জানাতে চায়।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন