ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৭ অক্টোবর ২০১৯, ০২ কার্তিক ১৪২৬, ১৭ সফর ১৪৪১ হিজরী

স্বাস্থ্য

কিডনী পাথর

ডাঃ মোঃ হুমায়ূন কবীর | প্রকাশের সময় : ২০ সেপ্টেম্বর, ২০১৯, ১২:০৫ এএম

কিডনীতে পাথর একটি পরিচিত রোগের মধ্যে অন্যতম। এ পাথর কিডনী, কিডনীর সাথে সংযুক্ত মুত্রনালি বা মুত্রাশয়েও দেখা দিতে পারে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, প্রতি ২০ জনের মধ্যে একজন কিডনী পাথরে আক্রান্ত হয়। পাথর আকারে ক্ষুদ্র শস্যদানা হতে শুরু করে টেনিস বলের মত বড় পর্যন্ত হতে পারে। পাথরের আকার ছোট হলে ঔষধের মাধ্যমে প্র¯্রাবের সাথে বের হতে পারে। তবে বড় আকারের হলে প্রয়োজনবোধে অবশ্যই চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে। আশার কথা, এখন পাথর হওয়া প্রতিরোধ করাও সম্ভব।

কি কি ধরনের পাথর হয়? : মানবদেহের পাথর হওয়ার জন্য যেসব উপাদান দায়ী তা হল, ক্যালসিয়াম কার্বোনেট, অক্সালেট, ফসফেট ও সাইট্রেট অক্সালেট। এছাড়াও ইউরিক এসিড, সিস্টিন, স্ট্রভাইট ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেশিয়াম, এমোনিয়াম ফসফেট দিয়েও পাথর হতে পারে। পাথরগুলো মানদেহের রক্তের উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এগুলো রক্তের উপাদানের মাত্রা বৃদ্ধি করে। এগুলো নরম থেকে শক্ত হয়ে থাকে। অনেক সময় পাথরের গায়ে কাঁটা কাঁটা দেখা যায়। যা তীব্র ব্যথা ও রক্তকরণের কারন হয়।
কাদের বেশী হয়? : মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের পাথর হওয়ার হার বেশি। ছেলেরা সাধারণত শতকরা ১৩ ভাগ এবং মেয়েরা শতকরা ৭ ভাগ এ ধরনের রোগে আক্রান্ত হয়ে থাকে। ৪০ বছরের পর থেকে ছেলেদের পাথর হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে তা ৭০ বছর পর্যন্ত বাড়তে থাকে। তবে যে কোনো সময়ই কিডনীতে পাথর হতে পারে। যাদের একাধিক বার পাথর হয়েছে, তাদেরও বারবার পাথর হতে পারে।
কারণ কি? : কিডনীতে পাথর তৈরী হওয়ার কারণ এখনো পর্যন্ত স্পস্ট নয়, এর কারন গুলো বেশ জটিল, মাল্টিফ্যাকটেরিয়াল।
তবে ধারণা করা হচ্ছে ঃ-
থাইরয়েড গ্রন্থির কারণেও পাথর তৈরী হয়।
খাদ্যে বেশী পরিমান ক্যালয়িাম জাতীয় গ্রহন করার পর যদি কিডনী সে পারিমান প্র¯্রাবের সাথে বের করতে না পারে, সেক্ষেত্রেও পাথর হতে পারে।
লেবু জাতীয় খাবার কম খাওয়া, অতিরিক্ত লবন খাওয়া, কোমলপানীয় বেশী খাওয়া, পরিমিত পরিমান পানি পান না করার কারণেও পাথর হতে পারে।
মাইগ্রেন ও ব্যথা নাশক ঔষুধ বেশী খেলে মুত্রনালীর পিএইচ এর মাত্রা বেড়ে যায়, ফলে পাথর সৃষ্টি হয়।
ঘন ঘন কিডনীতে সংক্রমন হলে এবং সময় মতো চিকিৎসা না নিলে পাথর তৈরী হতে পারে।
জীনগত ক্রুটি ও পরিবেশগত কারণেও পাথর হতে পারে।
তীব্র গরমে দ্রবণ ও দ্রাবকের অসামঞ্জস্যের কারণেও পাথর হতে পারে।
লক্ষন গুলো কি কি? : কিডনী বা মুত্রনালী বা মুত্রাশয়ে পাথর হলে অনেক ক্ষেত্রে কোন লক্ষন বা উপসর্গ নাও হতে পারে। তবে পাথর বড় হলে কিছু লক্ষণ পরিলক্ষিত হবে। সেগুলো হল:-
যে পাশে পাথর হবে সে পাশের কিডনীতে ব্যথা অনুভব হবে। ব্যথা নিচের দিকে হতে প্র¯্রাবের নল পর্যন্ত অনুভব হবে। নালীপথে জ¦ালা যন্ত্রনা হবে। বারবার প্র¯্রাবের বেগ অনুভব হবে। বমি বমি ভাব থাকবে। কোমরের পেছন হতে শুরু করে কোমরের পাশে, কুঁচকী, পিঠে, তলপেটে প্রচন্ড ব্যথা হবে। জননেন্দ্রিয়েও ব্যথা হবে। পাথর মুত্রনালী পথে এসে নালীপথ বন্ধ করে দিলে কিডনী বিকল হতে পারে। প্র¯্রাবের রং গোলাপী, লাল বা বাদামী হতে পারে।
রোগ নির্নয় : পাথর সৃষ্টি হলে পাথরের অবস্থান, আকার সম্পর্কে পুরোপুরি ধারণার জন্য যে সব পরীক্ষা করতে হবে, সেগুলো হলো:-
প্র¯্রাব পরীক্ষা জগঊ ও ঈ/ঝ, এক্স-রে, রুটিন মাইক্রোসকপিক পরীক্ষা, আইভিইউ, আল্ট্রাসনোগ্রাম, সিটি স্ক্যান
২৪ ঘন্টার প্র¯্রাবের ক্যালসিয়াম, ইউরিক এসিড, সিষ্টিন ইত্যাদির পরিমান দেখা হয়। এ পরীক্ষা মুলত পাথর প্রতিরোধের জন্য জরুরী।
চিকিৎসা কি? : কিডনীতে পাথর হলেই অস্ত্রোপচার করাতে হবে এমনটি হয়। বেশীরভাগ ক্ষেত্রে অস্ত্রোপচার ছাড়াই পাথর বের করা যাবে।
পাথর ৪/৫ মি মি বা তার কম হলে প্র¯্রাবের সাথে বের হয়ে আসবে, তবে এ সময় প্রচন্ড ব্যথা অনুভব হয়। এক্ষেত্রে হোমিওপ্যাথিক ঔষুধ সেবনে ব্যথা মুক্ত থাকা যায়।
পাথর ৫ মিলির উপর গেলে বিভিন্ন ঔষুধ সেবনেও ঘনঘন পানি পান ও হোমিওপ্যাথিক ঔষুধ সেবনে পাথর মুত্র পথে বের করা সম্ভব।
পাথরের আকার যদি এত বড় হয় যা প্র¯্রাবের নালী পথে দিয়ে বের করা সম্ভব নয়, তখন অবশ্যই অস্ত্রোপচার করাতে হবে।
হোমিওপ্যাথিক উপসর্গভিত্তিক চিকিৎসা পদ্ধতি। তাই উপসর্গ অনুসারে চিকিৎসা গ্রহণ করালে পাথর বের করা সম্ভব।
কিভাবে প্রতিরোধ করা যায়? : জীবন যাত্রা ও খাদ্যভ্যাস এর পরিবর্তনই কিডনী পাথর প্রতিরোধ করতে পারে। পাথরের রাসায়নিক বিশ্লেষণ, রক্ত ও ২৪ ঘন্টার প্র¯্রাবে পরীক্ষা করে পাথর সৃষ্টিকারী বিভিন্ন উপাদান শনাক্ত করা অতীব জরুরী।
কিডনী পাথর প্রতিরোধের জন্য দৈনিক পানি পান করতে হবে। প্রতিদিন ৩-৪ লিটার পর্যন্ত পানি পানের অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। যারা বিভিন্ন কারখানায় কাজ করে এবং শরীর হতে প্রচুর পরিমান ঘাম ঝরে, তাদের নিয়মিত পরিমান মত পানি পান করতে হবে। রোগীদের অবশ্যই জীবনধারণ প্রনালির পরিবর্তন আনতে হবে। যে কোন ধরনের কোলা বা পানীয় যা মাত্রাধিক ফসফরিক এসিড সমৃদ্ধ, তা এড়িয়ে চলতে হবে ।

কনসালটেন্ট, রেনেসাঁ হোমিও মেডিকেয়ার
৮৯, সিটি করপোরেশন মার্কেট, নিমতলী, চাঁনখারপুল, ঢাকা-১০০০।
ফোন ঃ ০১৭১৭-৪৬১৪৫০, ০১৯১২-৭৯২৮৯৪

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন