ঢাকা শুক্রবার, ১৮ সেপ্টেম্বর ২০২০, ০৩ আশ্বিন ১৪২৭, ২৯ মুহাররম ১৪৪২ হিজরী

সোনালি আসর

পাখির প্রতি ভালোবাসা

প্রকাশের সময় : ২০ জুন, ২০১৬, ১২:০০ এএম

রুমান হাফিজ

বাসার বারান্দায় পা রাখতেই চমকে উঠে রবিন। খাঁচার ভিতর থাকা ময়না পাখিটা কোথায় চলে গেল। এই সময়ে পাখিটা তো খাঁচার ভিতরেই থাকে। স্কুল কিংবা অন্য কোথাও হতে আসার পথে যদি পাখিটা রবিনকে কোনোভাবে দেখতে পায় তাহলে কথা বলতে শুরু করে এবং খাঁচার ভিতরেই উড়াউড়ি করতে থাকে। প্রায় বছরখানেক সময় হবে রবিন এই ময়না পাখিটার দেখভাল করছে। ছোট্ট ময়না পাখিটা এখন একটু আধটু কথাও বলতে পারে। প্রতিদিন পাখিটির খাবার সংগ্রহ করে এবং নিয়মিত পাখিটির সেবা-যতœ করে রবিন। তবুও কেন আজ পাখিটা চলে গেল। কাউকে কিছু না বলেই স্কুল ব্যাগটা বারান্দায় রেখে পাখিটির খোঁজে চলে যায়।
অনেকক্ষণ হলো পাখিটিকে খুঁজছে রবিন। কত শত পাখ-পাখালি গাছে গাছে উড়ে বেড়ালেও দেখা মিলছে না তার ময়না-পাখিটার। বিকাল ঘনিয়ে এখন প্রায় সন্ধ্যার কাছাকাছি। টুকটুকে লাল সূর্যটাও আজকের মতো বিদায় নিতে চাচ্ছে। এসবের দিকে একদমই খেয়াল নেই রবিনের। সেই সকালবেলা স্কুলে চলে যায় হালকা নাস্তা করে এখন পর্যন্ত আর কিছুই খাওয়া হয়নি। পেটের ক্ষিদে এখন আর হাঁটতে পারছে না রবিন। তবুও পাখি প্রেমিক রবিন ব্যর্থ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
ক্লান্ত শরীরে রাস্তার পাশে একটা গাছে নিচে বিশ্রাম নিতে বসে রবিন। নিজের অজান্তে চোখ বেয়ে বেয়ে অশ্রু পড়ছে। এদিকে বাসার সবাই অস্থির হয়ে পড়েছেন। ঘরের বাইরে রবিনের স্কুল ব্যাগ রাখা থাকলেও  রবিনের কোনো খবর নেই। রবিন তো কখনো না বলে কোথাও যায়নি। ক্লাস সিক্স পড়–য়া ছোট্ট শিশুটির বাসায় আসতে না দেখে সবাই ভীষণ চিন্তায় পড়ে গেলেন। আশপাশের পরিচিত সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও কোনো সন্ধান মেলেনি। কেউ কিছুই বলতে পারছে না। রবিনের বড় ভাইয়া তার সন্ধানে বের হলেন। অনেক্ষক্ষণ ধরে খুঁজতেছেন দূর হতে হঠাৎ কান্নার শব্দ ভেসে আসে তার কানে। কাছে যেতেই তিনি দেখতে পান সে তো আর কেউ নয়, তাদের আদরের ছোট্ট রবিন। পাখিটাকে না পেয়ে এখানে বসে ফুপিয়ে ফুপিয়ে কাঁদতেছে। ভাইয়া রবিনকে কোলে করে বাসায় নিয়ে আসেন। বাসায় এসে রবিন তার এই ঘটনাটা খুলে বলে। সব শুনে বাবা বললেন ঠিক আছে আব্বু, এর জন্য এত অস্থির হওয়ার কি আছে। একটা পাখি চলে গেছে তাতে কি। আমি তোমাকে আরেকটা ময়না পাখি কিনে দেব, কেমন। যাও এখন ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে এসো।
রবিন ফ্রেশ হয়ে খাবার খেতে বসে। সারা দিন ধরে উপোস তবুও খেতে মন চাইছে না। বারবার পাখিটার কথা মনে পড়ছে তার।
আব্বু তো আরেকটা পাখি কিনে দেওয়ার কথা বলেছেন, তাতে কী হবে? এই ময়না পাখিটার সাথে তার কত শত স্মৃতি। কত কষ্টই না করেছে পাখিটার জন্য। তবুও পাখিটা চলে গেল! পাখিটার প্রতি রবিনের যে কতটুকু ভালোবাসা সেটা মনে হয় পাখিটা বুঝতে পারেনি। আর বুঝতে পারলে কেনইবা এভাবে চলে যাবে।
সকালবেলা ঘুম থেকে উঠে ঘরের বারান্দায় ঝুলিয়ে রাখা পাখিবিহীন খাঁচাটা হাতে নিতেই চোখ হতে ধর ধর করে পানি পড়তে থাকে। বারান্দায় বসে অপেক্ষা করতে থাকে রবিন, তার ময়না পাখিটা আসবে বলে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (3)
রুমান হাফিজ ২০ জুন, ২০১৬, ৪:১১ এএম says : 0
সত্যিই খুব ভালো লাগছে নিজের লেখটা প্রকাশিত হওয়ায়,অশেষ মোবারকবাদ প্রিয় ইনকিলাব পরিবার।
Total Reply(0)
bodrulalom ২০ জুন, ২০১৬, ৫:০৩ পিএম says : 0
গল্পটা কুব ভালো লাগলো
Total Reply(0)
ইহসান জাহিদ ২১ জুন, ২০১৬, ৮:৫৮ এএম says : 0
গল্পটা চমৎকার হয়েছে।অভিনন্দন লেখককে।
Total Reply(0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন