ঢাকা, বৃহস্পতিবার , ২১ নভেম্বর ২০১৯, ০৬ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২৩ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

আন্তর্জাতিক সংবাদ

অযোধ্যা : মন্দির বানানোর পক্ষেই রায় দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

বিবিসি বাংলা | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:২৬ পিএম | আপডেট : ১:০৩ পিএম, ৯ নভেম্বর, ২০১৯

ভারতের অযোধ্যায় বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানে একটি মন্দির গড়ার জন্যই সে দেশের সুপ্রিম কোর্ট অবশেষে রায় দিয়েছে। মন্দির গড়ার জন্য সরকারকে একটি ট্রাস্ট গঠন করতেও বলা হয়েছে।

তবে অযোধ্যাতেই অন্যত্র একটি মসজিদ গড়ার জন্যও সুন্নি ওয়াকফ বোর্ডকে পাঁচ একর জমি বরাদ্দ করার জন্য কেন্দ্রীয় সরকারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

অযোধ্যার যে ২.৭৭ একর জমিকে বিরোধের মূল কেন্দ্র বলে গণ্য করা হয়, তা বরাদ্দ করা হয়েছে 'রামলালা বিরাজমান' বা হিন্দুদের ভগবান শ্রীরামচন্দ্রের বিগ্রহকে। যার অর্থ সেখানে রামমন্দিরই তৈরি হবে।

ভারতের শীর্ষ আদালতে পাঁচ সদস্যের একটি সাংবিধানিক বেঞ্চ সর্বসম্মতভাবে এই রায় দিয়েছে।

প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈ-এর নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের সাংবিধানিক আদালত এই রায় দিয়েছে।

দিল্লি থেকে বিবিসি বাংলার সংবাদদাতা শুভজ্যতি ঘোষ জানিয়েছেন, এই রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করার কোন সুযোগ নেই, কারণ এটিই ভারতের সর্বোচ্চ আদালত।

সুপ্রিম কোর্টে একটানা ৪০ দিন শুনানি হওয়ার পরে রায় লেখার জন্য মাসখানেক সময় নেয়া হয়।

প্রধান বিচারপতি ছাড়া বেঞ্চের অন্য বিচারপতিরা হলেন এস এ বোডবে, ওয়াই ভি চন্দ্রচূড়, অশোক ভূষণ ও এস আবদুল নাজির।

অযোধ্যার বিতর্কিত ধর্মীয় স্থানটি যে উত্তরপ্রদেশ রাজ্যে, সেখানে ইতিমধ্যেই নিরাপত্তা বাহিনীর অতিরিক্ত বারো হাজার সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। অযোধ্যায় কারফিউ জারি রয়েছে গত প্রায় দুসপ্তাহ ধরে।

এদিন রায় ঘোষণার আগে গতকাল প্রধান বিচারপতি গগৈ গতকাল শুক্রবারই রাজ্যের নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে উত্তরপ্রদেশের শীর্ষ প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের সঙ্গে দীর্ঘ আলোচনা করেছিলেন।

উত্তরপ্রদেশ, দিল্লি, মধ্যপ্রদেশ, কর্ণাটক ও রাজস্থান-সহ দেশের বিভিন্ন রাজ্যে আজ স্কুল-কলেজ সহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানও বন্ধ রাখা হয়েছে। শনিবার হওয়ার কারণে বেশির ভাগ সরকারি অফিসেও ছুটি।

১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার পর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় কমবেশি ২০০০ লোকের মৃত্যু হয়েছিল।

কট্টরপন্থী হিন্দুরা দাবি করেন বাবরি মসজিদের জায়গাতেই ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল এবং একটি রামমন্দির ভেঙ্গে মোগল আমলে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল।

বাবরি মসজিদ আর রাম জন্মভূমি নিয়ে বিতর্ক কয়েক শতাব্দী ধরে।

এ নিয়ে দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে বারে বারে দাঙ্গা হয়েছে।

ব্রিটিশ সরকার ভেতরের অংশটা মুসলিমদের আর বাইরে চত্বরটা হিন্দুদের ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছিল।

কিন্তু ১৯৪৯ সালে মসজিদের ভেতরে কে বা কারা রামের মূর্তি রেখে দেয়। মুসলিমরা তখনই প্রতিবাদ করেন এবং সরকার জমিটিকে বিতর্কিত ঘোষণা করে তালা বন্ধ করে দেয়।

জমির মালিকানা কার সেটা ঠিক করতে সেবছরই আদালতে প্রথম মামলা হয়।

এরপরে ফৈজাবাদের জেলা আদালত ১৯৮৬ সালে তালা খুলে হিন্দুদের পূজার অনুমতি দেন। আর তখন থেকেই রাম জন্মভূমি আন্দোলন জোরদার হয়ে ওঠে।

অন্যদিকে মামলাও চলতে থাকে।

২০১০ সালে এলাহাবাদ হাইকোর্ট নির্দেশ দেয় যে বিতর্কিত জমিটি তিনভাগ হবে - দুভাগ পাবেন হিন্দুরা আর এক ভাগ পাবে সুন্নি ওয়াকফ বোর্ড।

তার বিরুদ্ধে সবপক্ষই সুপ্রিম কোর্টে যায় ২০১১ সালে।

সুপ্রিম কোর্ট আদালতের বাইরে সব পক্ষকে নিয়ে সমাধানের চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু তা ব্যর্থ হওয়ায় মামলাটি বিশেষ বেঞ্চ শুনানি শুরু করে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (7)
সুলতান মাহমুদ ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১:৩৬ পিএম says : 0
আজ দার উল আমান পনথি আলেমরা কোথায়। মুসলিম শাসনের অবসানের পর যখন দারুল ইসলাম প্রতিষ্ঠার জন্য সর্বাত্মক জিহাদের প্রয়োজন ছিল তখন তারা দারুল আমানের দোহাই দিয়ে আপোসকামী হয়। তারই দীর্ঘমেয়াদী ফলস্বরূপ উপমহাদেশের মুসলিমদের আজ এই দুর্দশা। এখন তারা বলুক কিভাবে ভারত দারুল আমান হয়।
Total Reply(0)
Muhammad Saidur Rahman ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৩২ পিএম says : 0
ALLAH TA'LAR adalote mamla korlam.......
Total Reply(0)
parvez ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:২৭ পিএম says : 0
খুব সহজ একটি বিষয় মাথায় ঢুকছে না। রাম একটি কাল্পনিক চরিত্র। কিন্তু বাবর ঐতিহাসিক। ইতিহাসের বিপরীতে কল্পনাকে অগ্রাধিকার যারা দেয়, তাদের আকল কোন পর্যায়ের হতে পারে।
Total Reply(0)
মজলুম জনতা ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১২:৫৪ পিএম says : 0
বাবরি মসজিদ স্থলে রামমন্দির বানানোর রায়- গোটা বিশ্বকে হতাস করেছে।ভারত নিজেকে মুসলীম বিদ্বেসি প্রমান করলো।
Total Reply(0)
Munshi Jahirul Islam ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ১:০৮ পিএম says : 0
হিন্দু সমাজ হিন্দু কর্তৃত্ব সমস্থ বিচারপতিরা হিন্দু সেখানে ........ মোদি মুসলিমদের পক্ষে রায় আসবে এটা ভাবাই ছিল বোকামী। এমন রায় তারা যে মুসলিমদের প্রতি হিংসা করে তারই বহি:প্রকাশ। আরে যে ধর্মের কোন বুনিয়াদই নেই তাদের কাছ থেকে ভাল কিছু আশা করা আর আগুনে ঝাপ দেয়া একই।
Total Reply(0)
parvez ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৫:২৭ পিএম says : 0
খুব সহজ একটি বিষয় মাথায় ঢুকছে না। রাম একটি কাল্পনিক চরিত্র। কিন্তু বাবর ঐতিহাসিক। ইতিহাসের বিপরীতে কল্পনাকে অগ্রাধিকার যারা দেয়, তাদের আকল কোন পর্যায়ের হতে পারে।
Total Reply(0)
Sheikh Faruk ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ২:০৩ পিএম says : 0
আসল কথা বল্লে সবাই না খুশ হবে এর জন্য মুনাফিক মুসলিম নাম দারি ঔ আমলের শাসকরা দাই কারন মুসলিমরা বন্ধু মনে করে বিজাতিদের এখন দেখবেন মেডেল ইষ্টের মুসলিম দেশ দুবাই সৌদি কুয়েত কাতার ওমান মিশর বাহারাই ওরা মুসলিমদের বন্ধু মনে করে না চাকুরী দিচ্ছে .........দের আর তারা এই টাকা নিয়ে বোমা বানায় মুসলিম হত্যা করে তাই বাবরের মসজিদ তা আল্লাহ কবুল করেনি আমি মনে করি
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন