ঢাকা, মঙ্গলবার , ১৯ নভেম্বর ২০১৯, ০৪ অগ্রহায়ণ ১৪২৬, ২১ রবিউল আউয়াল ১৪৪১ হিজরী

ব্যবসা বাণিজ্য

পিপলস লিজিং পুনর্গঠনের দাবি আমানতকারীদের

অর্থনৈতিক রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৯ নভেম্বর, ২০১৯, ৮:৩৫ পিএম

পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে অবসায়ন না করে বর্তমান পদ্মা ব্যাংকের ন্যায় পুনর্গঠনের দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা। এছাড়া অন্য যে কোনো উপায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের সঞ্চয় ফেরত দেয়ার দাবি জানিয়েছেন আমানতকারীরা। আমানতকারীদের পক্ষে কাউন্সিলের আহবায়ক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, আমাদের মধ্যে একজন ইতিমধ্যে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন। একজন ক্যান্সার আক্রান্ত ব্যক্তি টাকার অভাবে চিকিৎসা করতে পারছেন না। আর তারা টাকা নিয়ে অন্যত্র ব্যবসা করছেন। এটা হতে পারে না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সঠিক তদারকির অভাবেই আজ সবাইকে সর্বশান্ত হতে হয়েছে বলে মনে করেন তিনি।

শনিবার (৯ নভেম্বর) রাজধানীর গুলশানের একটি হোটেলে ‘পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স কোম্পানিতে আমানতকারীদের কাউন্সিল’ ব্যানারে সংবাদ সম্মেলন করা হয়। অনুষ্ঠানে এ সব দাবি জানানো হয়। কাউন্সিলের আহবায়ক মো. আনোয়ারুল হকসহ সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিতি ছিলেন প্রশান্ত কুমার দাস, রানা ঘোষ, কামার আহমেদ, সামিয়া বিনতে মাহবুব, আবু নাসের বখতিয়ার, ড. নাশিদ কামাল প্রমুখ।

এর আগে আমনতকারীরা বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির ও অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সঙ্গে এ বিষয়ে সাক্ষাত করেন। দু’জনেই আমানতকারীদের টাকা ফেরত দেয়ার বিষয়ে আশ্বাস দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হননি ভুক্তভোগীরা। যার পরবর্তীতে শনিবার তারা প্রধানমন্ত্রীকে উদ্দেশ্য করে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করেন। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রী, অর্থমন্ত্রী ও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনটি দাবি জানানো হয়। দাবিগুলো হচ্ছে- পিপলস লিজিং অ্যান্ড ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসকে অবসায়ন না করে পুনর্গঠন (রি-কনস্ট্রাকশন) অথবা অন্য যেকোনো উপায়ে ব্যক্তি আমানতকারীদের কষ্টার্জিত সঞ্চয় দ্রæত ফেরত দিতে হবে। চলতি বছরের ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে ব্যক্তি আমানতকারীদের অর্থ ফেরতের ব্যবস্থা করতে হবে। এছাড়া অবিলম্বে পিপলস লিজিংয়ের সঙ্গে জড়িত দোষীদের আইনের আওতায় এনে শাস্তির ব্যবস্থা করা। বিশেষ করে তারা যাতে বিদেশে পালিয়ে যেতে না পারে সে জন্য তাদের বিদেশ যাওয়ায় নিষেধাজ্ঞা, তাদের সম্পত্তি ও ব্যাংক হিসাব জব্দ করা।

সংবাদ সম্মেলনে আমানতকারীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য তুলে ধরেন কাউন্সিলের প্রধান সমন্বয়কারী মোহাম্মদ আতিকুর রহমান আতিক। প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করে আতিক বলেন, আমরা মনে করি বাংলাদেশের ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ প্রয়োজন। তিনি বলেন, আমাদের টাকা লুট করে পিপলস লিজিংয়ের পরিচালকসহ অন্যান্যরা আরাম-আয়েশি জীবন-যাপন করছে, বিদেশে গিয়ে সেকেন্ড হোম বানাচ্ছে। এ সরকার মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সরকার, শেখ হাসিনার সরকারের আমলে এমন দুর্নীতি তিনি কখনওই প্রশ্রয় দেবেন না বলে আমাদের দৃঢ় বিশ্বাস। আমরা আশাবাদী, প্রধানমন্ত্রীর যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত আমাদের মতো অসহায় আমানতকারীদের জীবন বাঁচাবে এবং বাংলাদেশের ব্যাংকিং ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শৃঙ্খলা ফিরে আসবে।

‘বাংলাদেশ ব্যাংকের ভূমিকা রহস্যজনক’ বলেও মন্তব্য করেন আতিক। তিনি বলেন, পিপলস লিজিংয়ের অনিয়ম ও দুর্নীতির ফলে এখন আমানতকারীরা টাকা পাচ্ছে না। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংক প্রতিষ্ঠানটিকে অবসায়নের পথে নিয়ে হাজার হাজার আমানতকারীকে অনিশ্চয়তার পথে ঠেলে দিচ্ছে। পিপলস লিজিংয়ের এ অবস্থার কারণে বাংলাদেশের অন্যান্য ব্যাংক ও নন-ব্যাংকিং খাত বিপদের মুখে পড়েছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের রহস্যজনক ভূমিকার কারণে বর্তমান সরকারের ভাবমূর্তিও নষ্ট হচ্ছে এবং সাধারণ জনগণ ব্যাংক ও লিজিং কোম্পানিতে তাদের আমানতের টাকা রাখতে ভয় পাচ্ছে। বাংলাদেশ ব্যাংক সঠিক নজরদারি ও সঠিক তদারকি না করার কারণে পিপলস লিজিংয়ের পরিচালকরা অনিয়ম ও দুর্নীতি করার সুযোগ পেয়েছে।

পিপলস লিজিংয়ের বর্তমান আমানত ২ হাজার ৩৬ কোটি ২২ লাখ টাকা। এর মধ্যে ১ হাজার ৩শ কোটি টাকা রয়েছে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের। বাকি ৭শ কোটি টাকা ৬ হাজার ব্যক্তি শ্রেণির আমানত। প্রতিষ্ঠানটি ঋণ দিয়েছে ১ হাজার ১৩১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৭৪৮ কোটি টাকা খেলাপি ঋণ। এটি মোট ঋণের ৬৬ দশমিক ১৪ শতাংশ। খেলাপি ঋণের বড় অংশই নিয়েছে কোম্পানির উদ্যোক্তা পরিচালকরা।

ধারাবাহিকভাবে লোকসানের কারণে ২০১৪ সাল থেকে পিপলস লিজিং লভ্যাংশ দিতে পারছে না। তবে আমানতের বিপরীতে কাগজকলমে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত ৩ হাজার ২৬৯ কোটি টাকার সম্পদ দেখানো হলেও বাস্তবে তিন ভাগের এক ভাগও নেই বলে জানা গেছে।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন