ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ০৯ এপ্রিল ২০২০, ২৬ চৈত্র ১৪২৬, ১৪ শাবান ১৪৪১ হিজরী

স্বাস্থ্য

বুকের দুধ কেন সর্বশ্রেষ্ঠ

ডাঃ আহাদ আদনান | প্রকাশের সময় : ৬ মার্চ, ২০২০, ১২:০৪ এএম

নবজাতকের জন্য মায়ের বুকের দুধ সৃষ্টিকর্তার পক্ষ থেকে বিশেষ উপহার। অন্যতম শ্রেষ্ঠ নেয়ামত নিঃসন্দেহে। তারপরও অনেকে এর বদলে কৌটার দুধ, প্রানিজ দুধ (গরু বা ছাগলের দুধ) বাচ্চাকে খাওয়ান। হয়ত অনেকের নানা কারণ বা প্রতিবন্ধকতাও থাকে। তবে এরপরেও তারা যদি বুকের দুধের শ্রেষ্ঠত্ব জানেন তাহলে হয়ত আরেকটু চেষ্টা করবেন বাইরের দুধ না দিতে। তাহলে আসুন দেখে নেই বুকের দুধের তুলনামূলক পুষ্টিগুণ।
১। প্রোটিনঃ প্রানিজ দুধে (গরুর দুধ) প্রোটিন কিন্তু বুকের দুধের তুলনায় বেশি, কিন্তু গুণগতভাবে ক্ষতিকর। এই প্রোটিনের ‘কেসিন’ অংশ মানব শিশুর পাকস্থলিতে দই জাতীয় উপাদানে রুপ নেয় যা বাচ্চার পরিপাকে সমস্যা করে। এছাড়া পাতলা পায়খানা, পেট ব্যথা, চুলকানি সহ আরও নানা সমস্যার কারণ এই কেসিন। শিশুর বৃক্কের (কিডনি) জন্য এটি ক্ষতিকর। প্রানিজ দুধের ৮০ শতাংশ কেসিন, বুকের দুধে যা মাত্র ৩৫ শতাংশ।
২। ল্যাকটোজঃ বুকের দুধে প্রচুর পরিমানে ল্যাকটোজ থাকে যা শিশুর মস্তিষ্ক গঠন এবং পরিপক্বতায় বেশ দরকারি। তাই বুকের দুধ বেশি পাওয়া বাচ্চারা বেশি বুদ্ধিমান এবং মেধাবি হয়ে থাকে। এছাড়া ল্যাকটোজ অন্ত্রের ক্যালসিয়াম শোষণ বাড়িয়ে ‘রিকেটস’ নামক হাড় নরম হওয়া রোগ প্রতিরোধ করে।
৩। ফ্যাটি এসিডঃ শরীরে দুই ধরণের ফ্যাটি এসিড দরকার হয়। অত্যাবশ্যকীয় (শরীর নিজে তৈরি করতে পারেনা, খাবারে থাকতে হয়) এবং অত্যাবশ্যকীয়-নয় (শরীর নিজে তৈরি করতে পারে) এমন ফ্যাটি এসিড। বুকের দুধে অত্যাবশ্যকীয় ফ্যাটি এসিড বেশি থাকে যা মস্তিষ্ক, চোখ এবং রক্তনালী তৈরিতে কাজে লাগে। আর প্রানিজ দুধে বেশি থাকে অত্যাবশ্যকীয়-নয় এমন এসিড। এছাড়া এসব দুধে লাইপেজ নামের এনজাইমের ঘাটতির জন্য চর্বি হজমেও সমস্যা হয়।
৪। লৌহঃ প্রানিজ দুধে লৌহ বেশি থাকে কিন্তু শিশুর শরীরে প্রবেশ করে মাত্র ১০ ভাগ। পক্ষান্তরে বুকের দুধের ৫০ ভাগ লৌহ শোষিত হয়। আবার কৌটার দুধে কৃত্রিমভাবে লোহা সংযুক্ত করা হয় যা পরবর্তীতে ক্ষতির কারণ হতে পারে।
৫। ভিটামিনঃ বুকের দুধে মোটামুটি সব ভিটামিন পর্যাপ্ত পরিমাণে থাকে। প্রানিজ দুধে ভিটামিন সি খুব কম থাকে। অবশ্য শিশুর বয়স ছয় মাস পার হলে বাড়তি ভিটামিন সি যুক্ত খাবার দিতে হবে, নয়ত এর ঘাটতি হতে পারে।
৬। খনিজ লবণঃ প্রানিজ দুধে ক্যালসিয়াম এবং ফসফেট দুটিই বেশি থাকে, কিন্তু অতিরিক্ত ফসফেট ক্যালসিয়াম শোষণে সমস্যা করে। বুকের দুধে এদের মাত্রা যথাযথ থাকে।
৭। রোগ প্রতিরোধী গুণঃ বুকের দুধে বিভিন্ন কণিকা এবং এন্টিবডি রোগ প্রতিরোধ করে। ফলে পাতলা পায়খানা, শ্বাসতন্ত্রের প্রদাহ, কানে প্রদাহ, মস্তিষ্ক এবং প্রশ্রাবের জীবাণুর আক্রমণ কম হয়। প্রানিজ দুধে এসব গুণ নেই বললেই হয়।
মনে রাখবেন, গরুর দুধ বাছুরের জন্য সর্বশ্রেষ্ঠ খাবার, মানব শিশুর জন্য নয়। আর কৌটার দুধ শিশুর অসংখ্য রোগের কারণ। জন্মের প্রথম ঘণ্টার মধ্যেই শালদুধ, প্রথম ছয়মাস শুধুমাত্র বুকের দুধ এবং প্রথম দুই বছর বাড়তি পারিবারিক খাবারের পাশাপাশি বুকের দুধ অব্যাহত রাখার কোন বিকল্প নেই।

রেজিস্ট্রার
আইসিএমএইচ, মাতুয়াইল, ঢাকা।
মোবাইল: ০১৯১২২৪২১৬৮।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন