ঢাকা, রোববার, ১৮ আগস্ট ২০১৯, ০৩ ভাদ্র ১৪২৬, ১৬ যিলহজ ১৪৪০ হিজরী।

সোনালি আসর

হুমায়ূনের ৬৭টি বেলুন

প্রকাশের সময় : ১৮ জুলাই, ২০১৬, ১২:০০ এএম

র হি মা আ ক্তা র মৌ
গত চারদিন আগে রবি কল করে নিমন্ত্রণ এর কথা স্মরণ করিয়ে দেয়। আসলে এই নিমন্ত্রণ খাওয়া দাওয়ার নিমন্ত্রণ নয়। বিশিষ্ট কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের চতুর্থ মৃত্যুবার্ষিকী। রবিদের সংঘটন পুরো দিনব্যাপী প্রোগ্রাম করবে। অনেক গুণীজনেরা আসবেন। আলোচনা থেকে শুরু করে গান, নাটক সব হবে। সব কাজ গুলো হবে হুমায়ূন কে নিয়েই।
এই প্রথম এমন কোন প্রোগ্রামের নিমন্ত্রণ আমার কৃতিত্বের থলেতে।
গত দুই বছর যাবৎ হুমায়ূন এর জন্মদিন এতটা ঘটা করে পালন করা হচ্ছে। অবশ্য এর আগে ও হয়েছে। তবে এতটা চোখে পড়েনি আমার।
হয়ত আমার দেখার ভুল ও হতে পারে। যাই হোক প্রোগ্রামে যাব এটাই কথা।
আমার জন্যে বরাদ্দ আছে তিনটা সিট। মানে সাথে দুজন গেস্ট নিয়ে যেতে পারবো। অবশ্য রবি নিজেও জানে একা কোথাও যাওয়া হয় না আমার। নীলা আর মিতু সব সময় সাথেই থাকে। তাই আগেই তিনটা সিট রেখে দেয়া।
আগামীকাল প্রয়াত কথা সাহিত্যিক হুমায়ূন আহম্মেদ এর ৭৬তম জন্মদিন। সন্ধ্যা থেকেই পুরো প্রস্তুতি আমার, নীলা আর মিতুর।
এরই মাঝে হুমায়ূন এর বিখ্যাত কবিতা... অনেক বার পড়েছি। মোবাইলে রবিকে শুনিয়েছি। রবি শুনে খুব খুশি। তবে রবির একটা আবদার আছে। নীলাকে একটা গান করতে হবে। নীলা ও রাজি আছে। নীলা গানের প্যাকটিজ ও করে নিয়েছে।
সন্ধ্যার পরপর কথা হয়েছে রবির সাথে। সব কিছু ঠিক আছে বলে দিয়েছি।
তিনজনের হলুদ ড্রেসগুলো আয়রন করাই আছে। অনেকটাই উত্তেজনা কাজ করছে।
রাতে খেতে বসলে মিতু বলে...
--- মনি আমার খেতে ইচ্ছে করে না। তুমি বরং আমায় একটু লেবুর শরবৎ করে দাও।
মিতুকে শরবৎ করে দিয়ে, নিজেরা রাতের খাবার শেষ করি। খুব সকালে উঠতে হবে। রবি বলে দিয়েছে সাতটায় ওখানে উপস্থিত থাকতে। সবাই সবার মতো ঘুমিয়ে পড়ি। মাঝরাতে দেখি মিতু খুব কাঁপছে। থার্মোমিটার দিয়ে মেপে দেখি ১০৩ ডিগ্রী জ্বর গায়ে। সাথে সাথে মাথায় পানি দিয়ে ওষুধ খেতে দিই। একটু কমে আসলে ওর পাশে শুয়ে পড়ি।
ভোর পাঁচটা ত্রিশ মিনিটে ঘুম ভাঙ্গে। মিতুর শরিরে জ্বর নেই। তবে খুবই দুর্বল। বুঝতে পারি যাওয়াটা মোটেও ঠিক হবে না। রবিকে কল করা ঠিক হবে কিনা তাই ভাবছি। ওর মোবাইলে আর ফেবুর ইনবক্সে টেক্স পাঠিয়ে দিই...
--‘রবি মিতুর শরীর ভালো না। তাই আসছি না। চেষ্টা করব বিকেলে শাহবাগ পাবলিক লাইব্রেরীর প্রোগ্রামে যেতে।’
এরপর আবার শুয়ে পড়ি। সকাল আটটায় উঠে নাস্তার আয়োজন করে ওদের কে ডাকি। সবাই মিলে নাস্তা খাই। মিতুর শরিরটা একটু ভালোর দিকে। নাস্তা সেরে উঠে মিতু বলে---
-- মনি তুমি আমার জন্যে যেতে পারো নি। ইসস কেনো যে আজই জ্বরটা আসতে গেলো।
-- দূর পাগলি। আল্লাহ্ যা করেন ভালোর জন্যে করেন।
দেখি পারলে বিকেলের প্রোগ্রামে যাব। তবে তুমি পুরো সুস্থ্য হলেই যাব, নয়তো না।
দুপুরের আগেই মিথিলা কল করে বলে---
-- নন্দিনী আমি আসছি। দুপুরে তোমাদের সাথেই খাব।
সেই ভাবেই রান্না করি। ঠিক সময়ে মিথিলা আসে। প্রোগ্রামের কথা শুনে মিথিলা বলে---
--- কোন সমস্যা নেই, নন্দিনী তুমি নীলাকে নিয়ে যাও। আমি আর মিতু বাসায় থাকি।
সেইভাবে ঠিক তিনটা ত্রিশ মিনিটে বের হই আমি আর নীলা। এখানকার প্রোগ্রাম শুরু হতে কিছু দেরী। নীলা আর আমি রিক্সা নিয়ে বাংলা একাডেমী। সেখানেও চলছে প্রোগ্রাম। কিছুক্ষণ থেকে আবার পাবলিক লাইব্রেরীতে।
অনেক গুণীজনেরা এসেছেন। এসেছেন জাফর ইকবাল স্যার। এসেছেন হুমায়ূন এর স্ত্রী শাওন।
এই প্রথম উনাদের কে সামনে থেকে দেখা। অথচ এনাদের কাজের সাথে সেই কবে থেকে কত জানাশুনা। ভক্তরা সবাই ছবি তুলছে প্রিয় ব্যক্তিদের সাথে। নীলার তেমন কোন ইচ্ছে নেই এইসবে। তবে আমার ইচ্ছে জাফর ইকবাল স্যারের সাথে একটু কথা বলা। একটা ছবি তোলা।
নীলার হাতে মোবাইলটা দিয়ে স্যারের পাশে যাই। দুটো কথা বলি। এই ফ্যাঁকে ছবিতোলা হয়।
প্রোগ্রাম শুরু, গুণীজনেরা সবাই স্টেইজে বসেছেন। দূর থেকে দেখছি আমি আর নীলা।
জন্মদিন উপলক্ষে বেলুন উড়ানো হবে। আগে থেকেই রেডি করা আছে ৬৭টি বেলুন। সব ক্যামেরাম্যান রা রেডি। নীলার হাতে মোবাইল। ও ছবি তুলেই যাচ্ছে। সবাই মিলে যেই বেলুনগুলো উপরের দিকে ছেড়ে দিল, অমনি মাত্র ২০/২৫ ফিট উপরে গিয়ে বেলুন গুলো গাছের সাথে আটকে গেলো।
সবাই তো ছবি তুলেই যাচ্ছে। কিন্তু কি হলো?
বেলুনগুলো আর উপরে যেতে পারলো না। ওখানেই থেকে গেলো।
পুরো দৃশ্যটা একেবারেই অন্য রকম হলো। আলোচনা হলো। অতিথিরা ঘুরে ঘুরে হুমায়ূন বইমেলা দেখলো। নীলাকে বলি---
--- যাও একটা ছবি তুলি।
ও জবাব দিল।
-- সবাইতো কাছে গিয়ে ছবি তোলে, আমি না হয় দূর থেকে কিছু জ্ঞ্যান অর্জন করি। যদি কাজে লাগে।
ওর কথায় সেদিন সত্যিই অবাক হলাম। যতটা অবাক হইনি হুমায়ূন এর ৬৭টি বেলুন গাছের সাথে আটকে যাওয়া দেখে।
সন্ধ্যার পর দুজন বাসায় ফিরি।আসার সময় কিছু খাবার নিয়ে আসি।বাসায় এসে পুরো গল্প বলি মিতুকে।
এবার নিশ্চই ৬৮ টি বেলুন উড়াবে।নিশ্চই বেলুন গুলো গাছের সাথে আটকে যাবে না।দলবেঁধে উড়ে যাবে দূর বহুদুর, যেখানে নেই শব্দ দূষণ, নেই কোলাহল, নেই যানজট, নেই দূষিত বাতাস।আছে সবুজের সমারোহ, আছে পাখপাখালির কলতান, আর আছে মিষ্টি মধুর স্নিগ্ধ বাতাস।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন