ঢাকা, বুধবার, ২৭ মে ২০২০, ১৩ জ্যৈষ্ঠ ১৪২৭, ০৩ শাওয়াল ১৪৪১ হিজরী

ধর্ম দর্শন

পথ নির্দেশ : সুদ না মুনাফা?

প্রকাশের সময় : ৪ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মো. আবদুল খালেক : এখন একটা জিনিস খুব লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে সুদ গ্রহণ নিয়ে কিছু মানুষ খুব একটা মাথা ঘামাচ্ছে না। ব্যাংক থেকে সুদ নেয়া বা ব্যবসার মাধ্যমে সুদ নেয়াকে খুব সাধারণ ভাবছেন। এদের মধ্যে এমন ধরনের অনেক লোক রয়েছেন যারা সময়মত ৫ ওয়াক্ত নামাজ পড়েন, রমজানে সিয়াম পালন করেন, যাকাত দেন এবং পবিত্র হজও করেছেন কিন্তু ব্যাংকের সুদ নেয়াকে স্বাভাবিক মনে করেন। অথচ ইসলামে বলা হচ্ছে, সামর্থ্য থাকা সত্ত্বেও যে ব্যক্তি হজ করে না এবং এ অবস্থায় যদি তার মৃত্যু এসে যায় তবে রাসূল (দ.) বলেছেন, তার পনরুত্থান হবে ইহুদি, নাসারার মতো। অর্থাৎ তার অন্য সমস্ত ভালো কাজ শূন্য হয়ে যায়। একটি ফরজ নির্দেশ ইচ্ছাকৃতভাবে পালন না করার কারণে তার পরিচয় হলো সে একজন নাম ডাকে মুসলিম। আর সুদ গ্রহণ সম্পর্কিত সর্বশেষ যে আয়াতগুলো নাযিল হয়Ñ অনেক তাফসিরবিদ বলেন সেই আয়াতগুলো কোরআনের সর্বশেষ আয়াত (সূরা বাকারা : ২৭৫-২৮১)। সেই আয়াতগুলোর একটি হলো ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং সুদের যা বকেয়া আছে তা ছেড়ে দাও যদি তোমরা মুমিন হও। যদি তোমরা না ছাড় তবে আল্লাহ ও তার রাসূলের সাথে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হও’। পূর্বে আমরা যেমন দেখলাম হজ পালন না করার ব্যাপারে অর্থাৎ একটি ফরজ পালন না করলে মহান আল্লাহ কি ভয়াবহ শাস্তির উল্লেখ করেছেন ঠিক তেমনি আরো কঠোরভাবে সুদ নিলে তাকে যুদ্ধের প্রস্তুতি নিয়ে আসতে বলেছেন। তবে আয়াতে মহান আল্লাহ বলেছেন, আমরা যদি তাকে সত্যিকারভাবে ভয় পাই তবে আমাদের সুদ না নেয়া সহজ হবে। অর্থাৎ যে মহান আল্লাহকে সত্যিকারভাবে ভয় পাবে সে সুদ গ্রহণ করবে না। সুদ গ্রহণ সম্পর্কে আমাদের সমাজে হালকা ধারণা হওয়ার কিছু কারণ রয়েছে এর মধ্যে প্রধান কয়েকটি হলো- এক) প্রচলিত ব্যাংকের শাখা ব্যবস্থাপক এবং কর্মকর্তাগণ গ্রাহকগণকে বলে থাকেন যে ইসলামী ব্যাংকিং এবং প্রচলিত ব্যাংকিং একই, ইসলামী ব্যাংকসমূহ ঘুরিয়ে খায়। দুই) মসজিদের ইমামগণ শেয়ার ব্যবসা, বীমা, ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে কম ধারণা রাখেন, তাই খুতবা বা অন্য সময় এ ব্যাপারে খুব একটা বক্তব্য রাখেন না। তিন) কিছু ব্যক্তি ইসলামী ব্যাংকে অপছন্দ করার কারণে সমস্ত ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে মিথ্যা ধারণা দিয়ে থাকেন। চার) কিছু টিভি আলেম অজ্ঞতা বশতঃ ইসলামী ব্যাংকিং সম্পর্কে নেতিবাচক বক্তব্য রাখেন। বর্তমানে আমাদের যে বিষয়টি জানতে হবে তা হলো- ১) পবিত্র কোরআন যে সুদ নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছে আর প্রচলিত ব্যাংকসমূহ যে সুদ প্রদান করছে তা একই কিনা? অর্থাৎ সহজভাবে বললে প্রচলিত ব্যাংকের প্রদত্ত সুদ হারাম নাকি হারাম নয়। ২) ইসলামী ব্যাংকসমূহ সুদ বিহীন ব্যাংকিং করছে কিনা? ৩) যেহেতু বাংলাদেশ ব্যাংক এবং আন্তর্জাতিক ব্যাংকসমূহ সুদের লেনদেন করে থাকে তাই এ অবস্থায় ইসলামী ব্যাংকিং করা সম্ভব কিনা? এই তিনটি প্রশ্নের উত্তর পেলে আমরা ব্যাংকের সুদ গ্রহণ বা বর্জন সম্পর্কে একটা পরিষ্কার ধারণা পাব।
প্রথম প্রশ্নের উত্তর : মক্কা আল-মুকাররমায় অনুষ্ঠিত রাবেতা আন্তর্জাতিক ফিকহ একাডেমি সম্মেলনে সর্বসম্মতিক্রমে নিম্নরূপ সিদ্ধান্ত গৃহিত হয়, “ইসলামী ব্যাংকের সাথে লেন-দেন করার সুবিধা থাকা সত্ত্বেও দেশে অথবা দেশের বাইরে সুদি ব্যাংকের সাথে লেন-দেন করা প্রত্যেক মুসলমানের জন্য হারাম। কেননা, ইসলামী বিকল্প বিদ্যমান থাকার পর সুদি ব্যাংকে লেন-দেন করা কোন যুক্তিসঙ্গত কারণ নেই। অতএব অপবিত্রতার বদলে পবিত্রতাকে বেছে নেয়া এবং হালাল গ্রহণ করে হারাম বর্জন করা তার জন্য ওয়াজিব”। প্রচলিত ব্যাংকিং সুদ হারাম হওয়ার ব্যাপারে মুসলিম বিশে^র আলেমগণ একমত। মুসলিম বিশে^র শীর্ষস্থানীয় আলেম, অর্থনীতিবিদ ও গবেষকগণ বিভিন্ন আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক সম্মেলনে মিলিত হয়ে ব্যাংকিং সুদের সকল দিক পুঙ্খানুপুঙ্খরূপে বিশ্লেষণ পূর্বক সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত প্রদান করেন যে, ব্যাংকিং সুদ হারাম। ২০০৩ সালের জানুয়ারি মাসে ওআইসিভুক্ত মুসলিম দেশ সমূহের শীর্ষ স্থানীয় আলেম, ফকীহ ও ইসলামী চিন্তাবিদগণের সর্বসম্মতিক্রমে প্রচলিত ব্যাংকের সুদকে হারাম ঘোষণা করা হয় এবং ব্যাংকের সুদ হারাম হওয়ার বিষয়টি একটি মীমাংসিত বিষয়ে পরিণত হয়। (চলবে)

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন