ঢাকা, বৃহস্পতিবার, ১৩ আগস্ট ২০২০, ২৯ শ্রাবণ ১৪২৭, ২২ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

ধর্ম দর্শন

পথ নির্দেশ : সুদ না মুনাফা?

প্রকাশের সময় : ১১ ফেব্রুয়ারি, ২০১৬, ১২:০০ এএম

মো. আবদুল খালেক
(পূর্ব প্রকাশিতের পর)
দ্বিতীয় প্রশ্নের উত্তর : ইসলাম হারাম পন্থায় অর্থ উপার্জন যেমন নিষিদ্ধ করেছে, তেমনি অর্থ উপার্জনের হালাল পন্থাও বাতলে দিয়েছে। ইসলামী শরী’আহর উৎস কোরআন, সুন্নাহ, ইজমা, কিয়াস, ইসতিহসান ইত্যাদি। এসবের আলোকে ইসলামী শরী’আহ্ বিশেষজ্ঞগণ ইসলামী ফিকহের গ্রন্থাবলীতে হালাল পন্থায় অর্থ বিনিয়োগের পদ্ধতিসমূহ সবিস্তারে আলোচনা করেছেন। পবিত্র কোরআন, সুন্নাহ ও সমৃদ্ধ ইসলামী ফিকহ গ্রন্থাবলী অধ্যয়ন করে বিজ্ঞ আলেমে দ্বীন ও ইসলামী চিন্তাবিদগণ ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে শরী’আহসম্মত বিভিন্ন সুদমুক্ত পদ্ধতি অনুশীলনের পরামর্শ দিয়েছেন। পবিত্র কোরআনে যে আয়াতের মাধ্যমে আল্লাহ তা’আলা সুদকে সুস্পষ্টভাবে হারাম ঘোষণা করেছেন, সে আয়াতেই সুদের পরিবর্তে বৈধভাবে অর্থ উপার্জনের পথও দেখিয়েছেন। আল্লাহ্ তা’আলা বলেছেন, বাংলা অর্থ, ‘আল্লাহ্ ক্রয়-বিক্রয়কে হালাল করেছেন আর সুদকে করেছেন হারাম।’ (সুরা আল-বাকারাহ : ২৭৫)। এ আয়াতের আলোকে ইসলামী ব্যাংকসমূহ সুদ বর্জন করে ক্রয়-বিক্রয়কে বিনিয়োগের বিকল্প পদ্ধতি হিসেবে গ্রহণ করেছে। এখানে উল্লেখ্য ১৯৬৯ সালে মালয়েশিয়ার পার্লামেন্টে আইন পাস করে ইসলামী শরীয়াহভিত্তিক ‘তাবুং হাজী’ নামে সর্বপ্রথম একটি বিশেষায়িত ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা করে। আশির দশকে ইসলামী ব্যাংকিং ব্যাপক প্রসার লাভ করে। এই সময়ের শেষ নাগাদ বিভিন্ন দেশে একশটির বেশি ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে। বাংলাদেশে ইসলামী ব্যাংক প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৮৩ সালে। ইসলামী ব্যাংকিং ব্যবস্থায় শরী’আহর নীতিমালার ভিত্তিতে বিনিয়োগ পদ্ধতি সমূহকে তিনটি ভাগে ভাগ করা যায় ঃ ক) ক্রয়Ñবিক্রয় পদ্ধতি Ñ ১. বাই-মুরাবাহা ২.বাই-মুয়াজ্জাল ৩. বাই সালাম ৪. বাই-ইসতিসনা খ) অংশীদারিত্ব পদ্ধতি : ১) মুশারাকা ২) মুদারাবা গ) মালিকানায় অংশীদারিত্ব বা শিরকাতুল মিলক্। এ সমস্ত বিনিয়োগ পদ্ধতিতে ইসলামী ব্যাংকসমূহ বিনিয়োগ করে থাকে। ইজতিহাদের মাধ্যমে আরও বিনিয়োগের ক্ষেত্র এবং পদ্ধতি প্রসারিত হচ্ছে। রাবেতা, ওয়াইসি মাঝে মধ্যে বিভিন্ন দিক নির্দেশনা দিয়ে থাকে। ইসলামী ব্যাংকিংয়ের কর্মকৌশল এত উন্নত যে তা ব্যক্তি এবং একই সাথে দেশের অর্থনীতির ক্ষেত্রে খুবই কল্যাণকর। আমাদের দেশের প্রচলিত ব্যাংকসমূহের দিকে তাকালে দেখা যায় বহু গ্রাহক ব্যবসা না করে ব্যাংকের অর্থ শেয়ার ব্যবসা, প্লট, ফ্লাট, নির্বাচনের খরচ ইত্যাদি মিটিয়েছেন। এতে ওইসব ব্যাংকসমূহ যেমন অসুবিধার সম্মুখীন হয়েছে তেমনি গ্রাহকগণও বিপদের মধ্যে পড়েছেন। ইসলামী চিন্তাবিদগণ উপরোক্ত পদ্ধতি সমূহ বৈধ হওয়ার জন্য যেসব শর্তারোপ করেছেন ইসলামী ব্যাংক সমূহের সেসব শর্ত যথাযথভাবে পালন করতে হয় এক্ষেত্রে গ্রাহকগণেরও সহযোগিতা প্রয়োজন। দেশের প্রধান দুটি ইসলামী ব্যাংক (ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লি. এবং আল-আরাফাহ্ ইসলামী ব্যাংক লি.) সন্দেহ যুক্ত আয় হওয়ায় প্রতি বছর বিপুল পরিমাণ অর্থ লাভের সঙ্গে যুক্ত না করে অন্য হিসাবে রাখে এবং বিভিন্ন কল্যাণমূলক কাজে ব্যয় করে থাকে। তৃতীয় প্রশ্নের উত্তর : প্রতিটি বাণিজ্যিক ব্যাংক তার ডিপোজিটের একটা অংশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকে বিধিবদ্ধ তারল্য সঞ্চিতি হিসাবে রাখতে হয়। এছাড়া আমদানি রফতানিসহ নানা প্রকার বৈদেশিক বাণিজ্য ও লেনদেনের প্রয়োজনে ইসলামী ব্যাংকগুলো সুদভিত্তিক বিভিন্ন বিদেশী ও আন্তর্জাতিক ব্যাংকের সাথে করেসপন্ডেন্ট সম্পর্ক প্রতিষ্ঠা ও হিসাব পরিচালনা করতে বাধ্য হয়। অনিচ্ছাকৃতভাবে এসে যাওয়া এসমস্ত সুদ ইসলামী ব্যাংকগুলো তার হালাল আয়ের সাথে যুক্ত করে না। প্রকৃতপক্ষে যার সদিচ্ছা আছে তিনি এ ব্যাপারে জ্ঞানার্জন করতে পারেন এবং হারাম থেকে দূরে থাকতে পারেন। কিন্তু অজ্ঞের মতো বলতে পারেন না ক্রয়-বিক্রয় তো সুদের মতো। পবিত্র কোরআনে মহান আল্লাহ বলেন- ‘বলো, আচ্ছা নিজেই লক্ষ্য করে দেখো, যা কিছু আল্লাহ তোমাদের জন্য রিজিক হিসাবে অবতীর্ণ করেছেন, তোমরা সেগুলোর মধ্য থেকে কোনটাকে হারাম কোনটাকে হালাল সাব্যস্ত করেছো? বলো, তোমাদের কি আল্লাহ নির্দেশ দিয়েছেন, নাকি আল্লাহর উপর অপবাদ আরোপ করছো’?

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন