ঢাকা, শনিবার, ০৮ আগস্ট ২০২০, ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭, ১৭ যিলহজ ১৪৪১ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

মহামারিকে শাসকগোষ্ঠী মুনাফা অর্জনের উপলক্ষ্য বানিয়েছে -রিজভী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ৪ জুলাই, ২০২০, ১:৩১ পিএম

করোনা মহামারির চিকিৎসার দায়িত্ব রাষ্ট্রের জানিয়ে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন, বিশ্বের কোথাও সরকারিভাবে কোভিড টেস্টে অর্থ নেয়া হয় না। দক্ষিণ কোরিয়ায়। দিনে ১ লাখের উপর মানুষের কোভিড টেস্টও করেছে, এমনকি এন্টিবডি টেস্টও করেছে। তাদের সমস্ত টেস্টই বিনামূল্যে করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ার সবচেয়ে গরীব দেশ আফগানিস্থানেও বিনামূল্যে, এমনকি বিশ্বের সবচয়ে গরীব দেশ পশ্চিম আফ্রিকার বুরকিনা ফাসোতেও বিনামূল্যে টেস্ট করা হয়। আমাদের প্রতিবেশী কোন দেশেই টেস্ট করাতে ফি নেয় না। উপরন্তু প্রায় প্রতিটা দেশের সরকার স্বেচ্ছাসেবীদের ঘরে ঘরে পাঠাচ্ছে নমুনা সংগ্রহে। আর আমাদের দেশের শাসকগোষ্ঠী এই মহামারিকেও বানিয়েছে মুনাফা অর্জনের উপলক্ষ্য।

শনিবার (৪ জুলাই) দুপুরে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

অবিলম্বে করোনাভাইরাস টেস্টের ফি বাতিল করে বিনামূল্যে করার আহ্বান জানিয়ে রুহুল কবির রিজভী বলেন, এই সরকার যে কতটা অমানবিক তার নিকৃষ্টতম প্রমাণ এই ফি ধার্য্য। যেখানে বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থা এবং সব বিশেষজ্ঞ করোনা সংক্রমণরোধে টেস্ট বৃদ্ধিকেই প্রধান অবলম্বন বলছেন, সেখানে টেস্ট করাতে ফি ধার্য্যরে সিদ্ধান্ত কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। নিম্ন আয়ের মানুষেরা উপসর্গ থাকার পরও করোনা পরীক্ষা করাতে পারবেন না। এতে সংক্রমণ দ্রুত বাড়তে থাকবে। লাশের মিছিল কেবল দীর্ঘতর হবে।

সরকারের সমালোচনা করে রিজভী বলেন, বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর দলের নেতা মন্ত্রীরা প্রায়শঃই দাবি করে বলেন, বিশ্বে বাংলাদেশ নাকি রোল মডেল। কিসের জন্য বাংলাদেশ মডেল? স্বীকার করতেই হবে বাংলাদেশ এখন দুর্নীতির জন্য সারা বিশ্বের কাছে মডেল। কারণ এরা যেমন ‘স্বর্ণের মেডেল’ থেকে স্বর্ণ চুরি করে আবার করোনায় বিপর্যস্ত মানুষের জন্য বরাদ্দ করা ত্রাণের চাল চুরি ও নকল মাস্কের ব্যবসা করতেও রোল 'মডেল' হয়েছে। এখন মরণঘাতী করোনা মহামারীর ভাইরাস পরীক্ষার ওপর ২০০ টাকা ফি আরোপ করার সিদ্ধান্ত বিস্ময়কর। এমনিতেই অর্থনৈতিক সংকট চরমে। মানুষের ঘরে খাবার নেই। হাসপাতালের দ্বারে দ্বারে ঘুরে অসহায়ভাবে পথে-ঘাটে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছে। প্রয়োজনের তুলনায় পরীক্ষাও হচ্ছে নামমাত্র। এরমধ্যে এই গণবিরোধী সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো।

তিনি বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো সরকার নির্ধারিত সাড়ে ৩ হাজার টাকায় কোভিড টেস্ট করছে না। যে যার মতো ৫-৬ হাজার টাকা পর্যন্ত জনগণের পকেট কেটে নিচ্ছে। সরকার তা নিয়ন্ত্রণের কোনো চেষ্টাই করছে না, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সমস্ত মনোযোগ দুর্নীতি আর লুটপাটে। একটি হাসপাতালে ডাক্তার-নার্সদের খাবার-দাবারের বিল ২০ কোটি টাকা দেখালেও অভিযুক্ত স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলছেন কোন দুর্নীতি হয়নি। অথচ প্রধানমন্ত্রী সংসদে দাঁড়িয়ে এই ২০ কোটি টাকার দুর্নীতি নিয়ে বিস্ময় প্রকাশ করলেও কোন ব্যবস্থা নেয়ার কথা এখনও শোনা যায়নি। সরকার চারিদিক থেকেই শুধু স্বল্প আয়ের মানুষেরই পকেটে হাত দিচ্ছে। এমনিতেই করোনার অভিঘাতে আর্থিকভাবে বিপর্যস্ত সাধারণ মানুষ, এর ওপর বিদ্যুৎ, জ¦ালানী, গ্যাস ও পানির মূল্য বৃদ্ধিতে তারা দিশেহারা, এর সাথে করোনা টেষ্টের ফি ২০০ টাকা ধার্য্য করে সরকার এখন ভ্যাম্পেয়ারের ন্যায় রক্তচোষার ভূমিকায়।

রিজভী বলেন, কোনো নাগরিক যদি টাকার অভাবে করোনা ভাইরাস টেস্ট করতে না পেরে নিজ দেহে করোনা ভাইরাস বহন করে বেড়ায় তাহলে একজন নাগরিক শুধু নিজেরই ক্ষতি করছেন না তিনি অন্যের জন্যও ক্ষতির কারণ হয়ে দাঁড়াবেন। এ কারণেই বিষয়টি নাগরিকদের দায়-দায়িত্বের উপর ছেড়ে না দিয়ে বরং এটি রাষ্ট্রেরই দায়িত্ব, জনস্বার্থে রাষ্ট্র নিজ উদ্যোগে নাগরিকদের বিনামূল্যে করোনা ভাইরাস টেস্ট করানোর সুযোগ সহজ করবে।

সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছেনা অভিযোগ করে বিএনপির এই নেতা বলেন, সরকার বিরোধীদল কিংবা বিশেষজ্ঞদের মতামতকেও তোয়াক্কা করছেনা। জনগণের দল বিএনপির পক্ষ থেকে আমরা করোনা পেন্ডামিক ইস্যুতে সরকারকে বরাবরই সহযোগিতা করতে চেয়েছি। সঠিক পরামর্শ দেয়ার চেষ্টা করেছি। কিন্তু সরকার সেগুলো কানে নেয়নি। দেশে করোনা ভাইরাস টেষ্টের সক্ষমতা বাড়ানোর আহবান জানিয়ে গত ২২ মে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছিলেন, প্রতিটি দেশ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত। করোনা ভাইরাসের চিকিৎসায় এখন পর্যন্ত বিশ্বস্বীকৃত কোনো মেডিসিন আবিষ্কার হয়নি। এই অবস্থায় সবদেশই করোনা ভাইরাস মোকাবেলায় প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থাকেই অগ্রাধিকার দিচ্ছে। প্রতিদিন বেশি সংখ্যক মানুষকে টেষ্টের আওতায় এনে করোনা উপসর্গ থাকলে আগেভাগেই আইসোলেশনে নেয়া কিংবা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণকেই অন্যতম সাফল্য বলে মনে করা হচ্ছে। অথচ বাংলাদেশে ঠিক উল্টো চিত্র। মানুষ নিজ উদ্যোগে করোনা ভাইরাস পরীক্ষা এবং করোনা চিকিৎসা করাতে গিয়েও নানা বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। ফি নির্ধারণ করে স্পষ্টভাবেই প্রতীয়মান হচ্ছে সরকার করোনার ব্যাপারে, টেষ্টের ব্যাপারে নাগরিকদের নিরুৎসাহিত করার পদক্ষেপ নিয়েছে।

রিজভী বলেন, যে কোনো উপায়ে টাকা আয় করে দলীয় নেতাকর্মীদের লুটপাটের সুযোগ এবং বিদেশে পাচার করে দেয়াই যেন এই সরকারের নীতি হয়ে দাঁড়িয়েছে। মানুষকে গুম-খুন-হত্যা করে, মানুষকে ভয় দেখিয়ে এই সরকার নিজেরাই নিজেদের মেয়াদ বাড়িয়ে সময় পার করছে বটে কিন্তু অদূর ভবিষ্যতে এই সরকারের অদক্ষতা, অজ্ঞতা, অব্যবস্থাপনার খেসারত নাগরিকদের হয়তো জীবনের বিনিময়ে দিতে হবে।

তিনি অবিলম্বে করোনা ভাইরাস টেষ্টের জন্য ফি বাতিল করে বিনামূল্যে নাগরিকদের করোনা টেষ্টের ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সারাদেশের জেলা-উপজেলা পর্যায়েও করোনা ভাইরাস টেষ্টের ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান। এককভাবে না পারলে প্রয়োজনে স্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রে সেনাবাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতা নেওয়ারও পরামর্শ দেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন