ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২০, ১১ কার্তিক ১৪২৭, ০৯ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

ইসলামী জীবন

ভিন্ন মতাবলম্বীদের দাওয়াত দেয়ার পদ্ধতি

মাওলানা কালিম সিদ্দীকি | প্রকাশের সময় : ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২০, ১২:১৩ এএম

শেষ
এমনিভাবে দীনি মাদরাসাগুলো ফারেগীন ছাত্রদের জন্য আরেকটি পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারে, তা হলোÑ মাদরাসা কর্তৃপক্ষ প্রথমে ফারেগীন ছাত্রদের জন্য কাজের ময়দান নির্বাচিত করবে। অতঃপর তাদের সেভাবে প্রস্তুত করে তুলবে। জায়গা বিশেষ কাজ করার জন্য তাদের অনুপ্রাণিত করবে। তাদের প্রতি খেয়াল রাখবে। এছাড়া ছাত্রদের একটি জামাতকে দাওয়াতের কাজে লাগিয়ে রাখবে। দাওয়াতী কাজে যেসব শূণ্যতা তৈরি হবে, প্রয়োজনীয় মুহুর্তে যেন এদের মাধ্যমে তা পূরণ করে নেয়া সম্ভব হয়।
মুসলমানদের মাঝে দাওয়াতী কাজ করার পদ্ধতি
নিজের পরিবার-পরিজন এবং কাছের মানুষকে ঈমানের ওপর টিকিয়ে রাখার জন্য এবং তাদেরকে জাহান্নামের আগুন থেকে বাঁচাতে প্রাথমিক দীনি শিক্ষার কোনো বিকল্প নেই। এটা খুবই কার্যকর এবং মৌলিক ভূমিকা পালন করে। এর জন্য গ্রামে গ্রামে প্রাইমারি মক্তব প্রতিষ্ঠা করতে হবে। বড় বড় মাদরাসা এবং প্রত্যেক এলাকার দায়িত্বশীল ব্যক্তিবর্গ এ জাতীয় মাদরাসা প্রতিষ্ঠা করার প্রতি মনোযোগি হবেন। কেউ কেউ মনে করেন, যদি বড় মাদরাসার পাশে নুরানী মাদরাসা প্রতিষ্ঠা হয় তাহলে বড় মাদরাসার প্রভাব কমে যাবে! বাস্তবতার আলোকে এটা একেবারেই ভুল ধারণা। কারণ এ জাতীয় মক্তব বা নুরানী যদি বড় মাদরাসার তত্ত¡াবধান ও দিকনির্দেশনায় হয় তাহলে বড় মাদরাসার প্রভাব ও কার্যকারিতা আরও বেশি দৃঢ় ও মজবুত হয়। যদি এলাকার দায়িত্বশীলদের অন্তরে মক্তবের প্রয়োজনীয়তা বদ্ধমূল করে দেয়া যায়, সেক্ষেত্রে প্রাথমিক শিক্ষার যাবতীয় আসবাবপত্র এবং সরাঞ্জামের ব্যবস্থা এমনিতেই হয়ে যায়।
তাবলীগ জামাতের মুবারক মেহনতের উপকারিতা এবং বরকত উম্মতের সামনে স্পষ্ট। এর পিছনে সাধ্যমতো চেষ্টা ও মেহনত করা চাই। সময় লাগানো চাই। এটা প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ ও মহিলাদের জন্য খুবই কার্যকর একটি খেদমত। এছাড়া বিভিন্ন দল ও প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে সমাজ সংশোধনের জন্য যেসব দীনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয় সেগুলোতেও অংশগ্রহণ করা এবং বিশেষ দৃষ্টি দেয়া জরুরি। বিশেষ করে উলামায়ে কেরাম এবং মসজিদের ইমাম সাহেবগণ যদি বিভিন্ন সামাজিক কুসংস্কার, শরীয়ত বিরোধী কার্যক্রম, বিয়ে-শাদিতে সামাজিক কুপ্রথা এবং সম্পদ বণ্টনের সময় অসতর্কতাসহ যাবতীয় অন্যায়-অবিচারের প্রতি মানুষের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে থাকেন, তাহলে ইসলামকে ধ্বংসের পথে নিয়ে যাওয়া অনেক কুপ্রথা ও রোগ-ব্যধি থেকে সমাজ ও রাষ্ট্র মুক্ত থাকবে। আরেকটি প্রয়োজনীয় কাজ এটাও করতে হবে, নওমুসলিমদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানের জন্য এবং তাদেরকে দীনি প্রশিক্ষণ দেয়ার জন্য দেশের বিভিন্ন স্থানে সুবিন্যস্তভাবে প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং ট্রেনিং কোর্স চালু করতে হবে। যেখানে নওমুসলিমগণ নিরাপত্তা, শান্তি, ভালোবাসা ও আন্তরিক পরিবেশ পাবে। যেখানে তাঁদের জন্য দুশ্চিন্তা, পেরেশানি এবং বিভিন্ন মসিবত ও আপদ-বিপদ থেকে বাঁচার উপায়-উপকরণ থাকবে। অভিজ্ঞতা এটাই বলে, যখন কোনো অমুসলিম ইসলামের ছায়াতলে আসেন তখন তার পরিবার, সমাজ এবং বন্ধু-বান্ধব তাকে দূরে ঠেলে দেয়। সে যেন ইসলামের ওপর অবিচল থাকতে না পারে এর জন্য তারা তার সামনে বিভিন্ন ধরনের সমস্যা ও জটিলতার পাহাড় তৈরি করে। দৃষ্টিভঙ্গি ও মনস্তাত্বিকভাবে তার ওপর হামলা চালায়। এ ধরনের জটিল পরিস্থিতিতে নওমুসলিমদের জন্য প্রশিক্ষণকেন্দ্র খোলা খুবই জরুরি। এটা তাদের প্রতি আমাদের প্রথম কর্তব্য।
সবশেষে বিনয়ের সাথে এই নিবেদনও করছি, যারা যে পর্যায়ে দীনি খেদমত করছেন তাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং সহযোগিতার মানসিকতা থাকা ইখলাসের পরিচায়ক। দুঃখের বিষয় হলো, এই গুণ আমাদের মাঝ থেকে হারিয়ে যাচ্ছে। আমাদের পরস্পরের মাঝে বৈরিতা ও দূরত্ব আমাদের যোগ্যতা নির্মাণের পরিবর্তে বিনষ্ট করে দিচ্ছে।
আফসোস, আজ হক-বাতিলের লড়াইয়ের পরিবর্তে মুসলমানদের পরস্পরের মাঝে লড়াই শুরু হয়ে গেছে। আমাদের মেজাজ ও মনমানসিকতা এখন এই পর্যায়ে দাঁড়িয়েছে যে, আমি যে কাজ করছি সেটাকেই আমি সত্য মনে করছি; চাই আমার কাজে যতই দুর্বলতা ও দোষ-ত্রæটি থাকুক। আর অন্যে যা করছে সেটা ভুল; চাই তা যতই জরুরি ও তাৎপর্যপূর্ণ হোক। অন্যের কাজের স্বীকৃতি, তার প্রতি সহযোগিতা এবং তার ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করা আমাদের জন্য খুবই কঠিন হয়ে গেছে।
কারও ব্যক্তিত্ব, অবদান এবং কাজের সৌন্দর্যের ব্যাপারে আমরা পরিপূর্ণ অবগত হওয়ার পরও সাহস করে তার ব্যাপারে ইতিবাচক মন্তব্য করতে পারি না। অথচ এই লোকেরই যদি সামান্য দোষ-ত্রæটি অস্পষ্ট ও সন্দেহমূলকভাবে আমাদের সামনে আসে, তখন আমরা সেটাকে প্রচার ও প্রসার করতে পরিপূর্ণ ‘চেষ্টা’ করি। এমন মনমানসিকতা দিয়ে কীভাবে কল্যাণ আশা করা সম্ভব? আমাদের এ কথা মনে রাখতে হবে, দীনের একজন খাদেম শত দোষ-ত্রæটির পরও তিনি দীনের খাদেম এবং কর্মী। অন্যদের কাছে এই সম্মানিত মানুষটির দোষ-ত্রæটি অবশ্যই লুকিয়ে রাখতে হবে। দীনের খাদেমদের দোষ-ত্রæটি তালাশ করে জনসম্মুখে প্রচার ও প্রকাশ করার কোনো অধিকার আমাদের নেই। এটা মোটেই কাম্য নয়। এর মাধ্যমে কাজের বরকত এবং কবুলিয়াত বিনষ্ট হয়।

 

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

গত ৭ দিনের সর্বাধিক পঠিত সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন