ঢাকা শুক্রবার, ৩০ অক্টোবর ২০২০, ১৪ কার্তিক ১৪২৭, ১২ রবিউল আউয়াল ১৪৪২ হিজরী

সারা বাংলার খবর

হাতে কাজ আর ঘরে খাবার নেই

কুড়িগ্রামে বন্যা

কুড়িগ্রাম জেলা সংবাদদাতা : | প্রকাশের সময় : ১ অক্টোবর, ২০২০, ১২:০২ এএম

কুড়িগ্রামের সার্বিক বন্যা পরিস্থিতি কিছুটা উন্নতির দিকে। ধরলা নদীর পানি কিছুটা কমলেও বিপৎসীমার ৫ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বাড়ছে তিস্তায় ও ব্রহ্মপুত্র নদে। ফলে দেড় শতাধিক চর ও চর সংলগ্ন নিচু এলাকা প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকায় দিনমজুররা প্রায় ৩ মাস ধরে টানা কর্মহীন থাকায় দেখা দিয়েছে খাদ্য সঙ্কট। প্রকট হয়েছে গোখাদ্যের সঙ্কটও।
কুড়িগ্রাম কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক শামসুদ্দিন মিঞা জানান, বন্যায় জেলার ১৮ হাজার ৪৫০ হেক্টর জমির ফসল বন্যার পানিতে এখনও নিমজ্জিত হয়েছে। এরমধ্যে ১৭৩৩৫ হেক্টর রোপা আমন, ৬৫৫ হেক্টর মাশকালাই, ৩৫০ হেক্টর শাকসবজি, ৮০ হেক্টর চিনাবাদাম রয়েছে। তিনি আরও জানান, বন্যায় ফসলের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ এখনও নিরুপণ করা সম্ভব হয়নি। সরেজমিন ঘুরে দেখছি তবে অবস্থাদৃষ্টে মনে হচ্ছে বন্যায় ফসলের ক্ষতির পরিমাণ ১০০ কোটির বেশী হবে।
কুড়িগ্রাম সদরের হলোখানা ইউনিয়নের সারোডোব এলাকার কৃষক মতিয়ার , মোজাম্মেল, ভোগডাঙা ইউনিয়নের চর বড়াইবাড়ি গ্রামের সোবহানসহ অনেকেই জানান, ধার দেনা করে ২য় দফা আমন আবাদ করলেও সেসব ফসল এখন বন্যায় নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। পানি নেমে গেলে কিভাবে পরবর্তীতে আমন ধান চাষ করবেন তা তাদের জানা নেই।
এদিকে তিস্তা ভাঙনে গোড়াই পিয়ার, চর বজরা, ধরলার ভাঙনে সারডোব ও জগমোহনের চরসহ বিভিন্ন এলাকায় নদ-নদীর ভাঙন আরো তীব্র হয়েছে। গত তিন দিনে আরো দুই শতাধিক পরিবার নদী ভাঙনের শিকার হয়েছে। স্থানীয় পানি উন্নয়ন বোর্ড ভাঙন প্রতিরোধে অস্থায়ীভাবে জিও ব্যাগ ফেলে কাজ করলেও তা রক্ষা করতে পারছে না বলে স্থানীয়দের অভিযোগ।কুড়িগ্রাম পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো: আরিফুল ইসলাম জানায়, উজানে ভারী বৃষ্টিপাতের ফলে বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। তবে বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা নেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন