ঢাকা রোববার, ২৪ জানুয়ারি ২০২১, ১০ মাঘ ১৪২৭, ১০ জামাদিউস সানী ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

হত্যার দায় স্বীকার করে দিহানের জবানবন্দি

বিশেষ সংবাদদাতা | প্রকাশের সময় : ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম

রাজধানীর কলাবাগানে ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থীকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যার মামলায় একমাত্র অভিযুক্ত তানভীর ইফতেফার দিহান (১৮) দায় স্বীকার করে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। গতকাল শুক্রবার তাকে ঢাকা মহানগর হাকিম আদালতে হাজির করা হয়। এ সময় আসামি স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিতে রাজি হওয়ায় তা রেকর্ডের আবেদন করেন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আ ফ ম আসাদুজ্জামান। আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকা মহানগর হাকিম মামুনুর রশীদ তার জবানবন্দি রেকর্ড করেন। এর আগে, ওই স্কুলছাত্রীকে (১৭) ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় তার ‘বন্ধু’ তানভীর ইফতেফার দিহানকে (১৮) একমাত্র আসামি করে কলাবাগান থানায় মামলা করেন নিহতের বাবা আলামিন। এ ঘটনায় হাসপাতাল থেকে আটক দিহানের তিন বন্ধুকেও জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। পরে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়েছে।

কলাবাগান থানার পুলিশ পরিদর্শক আসাদুজ্জামান বলেন, গত বৃহস্পতিবার রাতে তানভীর ইফতেফার দিহানকে (১৮) আসামি করে ছাত্রীর বাবা ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগে মামলা করেছেন। মামলাটির তদন্ত চলছে। এ ঘটনায় আরও কেউ জড়িত আছে কিনা, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

পুলিশ জানিয়েছে, গত বৃহস্পতিবার ৭ জানুয়ারি দুপুরে ধানমন্ডির আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কলাবাগান থানায় ফোন করে জানায়, এক কিশোরীকে হাসপাতালে মৃত অবস্থায় এনেছেন এক তরুণ। কিশোরীর শরীর থেকে রক্ত ঝরছে। খবর পেয়ে নিউমার্কেট অঞ্চল পুলিশের জ্যেষ্ঠ সহকারী কমিশনার (এসি) আবুল হাসান ওই তরুণকে আটকে রাখার জন্য হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেন। এরপর কলাবাগান থানার পুলিশ দ্রæত হাসপাতালে গিয়ে ওই তরুণকে আটক করে। খবর পেয়ে ওই তরুণের তিন বন্ধু হাসপাতালে গেলে পুলিশ তাদেরকেও আটক করে। পরে চারজনকে কলাবাগান থানায় নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। পুলিশ পরে ওই ছাত্রীর লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে ময়নাতদন্তের জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল মর্গে পাঠায়। পরে সেখানে ময়না তদন্ত করে লাশ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

এসি আবুল হাসান জানান, পরিবারের সবাই বাইরে থাকার সুযোগে পূর্বপরিচিত ওই স্কুলছাত্রীকে তাদের ডলফিন গলির ফ্ল্যাটে নিয়ে যান দিহান। একপর্যায়ে তাদের মধ্যে শারীরিক সম্পর্ক হয়। এরপরই মেয়েটি অচেতন হয়ে পড়লে তাকে আনোয়ার খান মডার্ণ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সুরতহাল প্রতিবেদনে মেয়েটির শরীরে ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়া গেলে মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানা যাবে।
পুলিশের একজন কর্মকর্তা গতকাল দৈনিক ইনকিলাবকে বলেন জিজ্ঞাসাবাদে দিহান পুলিশকে জানায়, ধর্ষণের পরিকল্পনা আগেই করা ছিলো। বন্ধু হলেও দুজনের প্রেমের সম্পর্ক বেশিদিন হয়নি। মাত্র তিন মাস হলো উভয়ের মধ্যে প্রেমের সম্পর্ক হয়েছে। গ্রুপ স্টাডির নাম করে আনুশকাকে ফোন করে কলাবাগান লেক সার্কাসের একটি বাসায় ডেকে নেয় দিহান। দুপুর ১২ টা থেকে একটার মধ্যে জোরপূর্বক আনুশকাকে ধর্ষণ করে দিহান। দুপুর একটার দিকে আনুশকা রক্তক্ষরণ বন্ধ না হলে অচেতন হয়ে পরে। এরপর তাকে আনোয়ার খান মডার্ন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। সেখানে ডাক্তার মৃত ঘোষনা করেন।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই স্কুলছাত্রীর মৃত্যু : ময়নাতদন্ত রিপোর্ট
রাজধানীর কলাবাগানে ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনায় ‘ও’ লেভেল শিক্ষার্থীর (১৭) ময়নাতদন্তক সম্পন্ন হয়েছে। গতকাল শুক্রবার বিকেলে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ফরেনসিক বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদের নেতৃত্বে ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়। ময়নাতদন্ত শেষে ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ধর্ষণের আলামত পাওয়া গেছে। ধর্ষণের ফলে যৌন ও পায়ু পথে অতিরিক্ত রক্তক্ষরণেই তার মৃত্যু হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এছাড়াও ডিএনএ প্রোফাইলিংয়ের জন্য নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। মৃত্যুর পূর্বে চেতনানাশক কিছু খাওয়ানো হয়েছে কিনা, তার জন্য প্রয়োজনীয় নমুনা সংগ্রহ করে কেমিক্যাল পরীক্ষায় পাঠানো হয়েছে। এসব রিপোর্ট পাওয়ার পর মৃত্যুর প্রকৃত কারণ বলা যাবে। এর আগে বয়স নির্ধারনের জন্য ওই ছাত্রীর লাশের এক্স-রেসহ প্রয়োজনীয় আলামত সংগ্রহ করা হয়। পরে স্বজনরা তার লাশ নিয়ে যান।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (10)
Rdesna Dokka ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১১ এএম says : 0
কঠোর শাস্তি হওয়া উচিত
Total Reply(0)
Anisur Rahman ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১১ এএম says : 0
কোরআন ও হাদিসকে সামনে রেখে! ধর্ষকদের বিচার করা হোক!!
Total Reply(0)
Saymon Mahmmud ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১১ এএম says : 0
এই আধুনিকতার যুগে বাবা-মা কে আগে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে..
Total Reply(0)
Md Sojib Mia Sojib ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১২ এএম says : 0
এসব লোকদের ফাসিঁ হওয়া দরকার। না হলে দেশের মানুষ শান্তিতে বাচঁতে পারবে না।
Total Reply(0)
Md Anwar Hossain ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১২ এএম says : 0
এই জানোয়ারের পুরুষ লিঙ্গ কেটে দেওয়া হয় এটাই তার উপযুক্ত শাস্তি
Total Reply(0)
Jahangir Alom ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১২ এএম says : 0
আর কত বছর দেখতে হবে এরকম নিউজ, তবে সরকারপ্রধানের একটু ভাবা উচিত এ বিষয়টি নিয়ে, মুসলিম দেশ হিসেবে ধর্ষণের শাস্তি ফাঁসি হওয়া উচিত, নয়তো বা ধর্ষণের লিঙ্গ কেটে ফেলা উচিত।আমরা আর দেখতে পারতেছি না মানতে পারতেছিনা আল্লাহর রসতে আমাদের দিকে একটু নজর দেন।
Total Reply(0)
Robi Nirob ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১৩ এএম says : 0
সবাই অপেক্ষা করুন জামিন কবে পায় এটা দেখার জন্য..
Total Reply(0)
Kazi Helena Akhter ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১৪ এএম says : 0
কি ভাবে পারে? ঐ নরপশুদের অন্তরে আল্লাহ পাক কি একটু মায়াও দেন নি? ছিহ্। তোরা মরতে পারিস না?
Total Reply(0)
Parvez Mamoon ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৩:১৪ এএম says : 0
সরকারের উচিত বিচারের নামে টানবাহানা করলে ওরা আইনের ফাঁক ফোকড় দিয়ে বেড়িয়ে আসবে তাই ডাইরেক্ট গুলি করে হত্যা করা, না হয় দ্রুত সর্বোচ্চ শাস্তির ব্যবস্থা নিশ্চিত করা!
Total Reply(0)
মোহাম্মদ আব্দুস সালাম ৯ জানুয়ারি, ২০২১, ৮:৪৮ এএম says : 0
আমি প্রথমেই আলেম সমাজকে অনুরোধ করব আপনারা এই ঘটনা নিয়ে কোন কথা বলবেননা। কারণ এটা আপনাদের কোন প্রতিষ্ঠানের ছাত্র/ছাত্রীদের বিষয় নয়। কেন বলছি শুনবেন? কারন যারা প্রতিটি সময় আপনাদের পিছনে লেগে থাকে তারা কই? আজ নারী বান্ধবেরা কই। নারী বান্ধবদের একটা কথাও নেই কেন? যে ছেলেটি মেয়েটিকে ডেকো ধর্ষণ করল কোথায় পড়াশুনা করে। ঐ স্কুলে কি পড়ানো হয়? সেখানে কি কোন নৈতিকতা পড়ানো হয়? কোন আদর্শ শিখানো হয়? যারা বলেন কওমি মাদ্রাসায় কি পড়ানো হয় তারা এবার স্কুলে কি পড়ানো হচ্ছে। বাংলাদেশের কোন মাদ্রাসায় কোন ছাত্রী ধর্ষিত হয়েছে এমন নজির আমি দেখিনি। যারা মাদ্রাসা নিয়ে সারাক্ষন লেগে থাকেন তারা এই স্কুল ছাত্রীরা ধর্ষনের জবাব দিবেন কি? আর যে ছেলেটি ধর্ষণ করার বিষয়টি নিজে স্বীকার করে নিয়েছে এখনও তার কেন মৃত্যুদন্ড দেয়া হলোনা। কিছুদিন পরই তো ছেলেটি টাকার দাপটে জেলখানা হতে বের হয়ে নব উদ্যমে অন্য মেয়েকে ধর্ষন করবে এবং মেয়ের পরিবারকে হুমকি দিবে। এবার বাবা মা এবং পরিবারের নিকট প্রশ্ন আপনার সন্তান কোথায় কি করে তা কি একটু নজর রাখেন? তাদের চলাফেরার ধরন কি লক্ষ করেন। তারা কাদের সাথে চলাফেরা করে তা কি একবার দেখেন? আর একটি প্রশ্ন একটা প্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েকে একটা প্রাপ্ত ছেলে ডাকবে আর আমাকে সেই ডাকা সাড়া দিতে হবে? আমি কিন্তু কোন মাদ্রাসার ছাত্র নই। কিন্তু আমি সকল অপকর্মের বিরুধী। কারণ আমিও স্কুল কলেজে পড়াশুনা করেছি তখন এ ধর্ষন শুনিনি। আমারও সন্তান রয়েছে। আমি যদি আমার সন্তানকে পড়াশুনা করতে দিয়ে একটু শান্তিতে থাকতে না পারি তাহলে কি হবে এই পড়াশুনা দিয়ে। যারা এ কাজগুলো করে তারাই তো দেশের বড় বড় কর্মকর্তা হবে তাইনা। এবার বলুন তাদের নিকট হতে তার সহপাঠিরা কিভাবে নিরাপদে থাকবে। একারনেই বলি প্রত্যেকটি সিলেবাসে ইসলাম শিক্ষা বাধ্যতামূলক করা উচিৎ। কারন আজ যদি তাদের ইসালামি শিক্ষা থাকতো তাহলে আল্লাহ তায়ালার ভয় অন্তরে থাকতো ফলে ধর্ষনের সাহস করতো না। আর যদি কেও করত তাহলে ইসলামী আইনে বিচার হতো ফলে কেও আর ধর্ষন নামক কাজের ধারে কাছেও যেত না বলে আমি বিশ্বাস করি।
Total Reply(0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন