ঢাকা, মঙ্গলবার, ১৮ মে ২০২১, ০৪ জৈষ্ঠ্য ১৪২৮, ০৫ শাওয়াল ১৪৪২ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

বছরজুড়ে গ্যাস সংকট

চাহিদা মেটানোই পেট্রোবাংলার বড় চ্যালেঞ্জ

পঞ্চায়েত হাবিব | প্রকাশের সময় : ২১ ফেব্রুয়ারি, ২০২১, ১২:০০ এএম

রাজধানী ঢাকার বেশির ভাগ এলাকায় ঘরবাড়িতে সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত গ্যাসের চুলা নিভু নিভু। রঁসুই ঘরে গৃহবধূরা রান্নাবান্না করতে নিয়ে নিদারুণ যন্ত্রণা ভোগ করছেন প্রায় সারাবছর ধরে। তবে অবৈধ সংযোগে গ্যাস চুরি, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা যেন এই সেক্টরে নিয়মে পরিণত হয়েছে।

প্রতিবছর শীত এলে দেখা দেয় রাজধানীজুড়ে এই গ্যাসের সংকট। আবার প্রতিবছর সংকট মোকাবিলায় তিতাস থেকে নেয়া হয় নতুন নতুন প্রকল্প। চলতি সেচ মৌসুম সামাল দিতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে বাংলাদেশ তেল, গ্যাস, খনিজ সম্পদ করপোরেশন পেট্রোবাংলাকে। তার ওপরে শুরু হয়েছে গ্রীষ্মকাল। প্রাকৃতিক গ্যাস কমে যাওয়ায় যে চড়া দামে সরকার এলএনজি আমদানি করছে তাও কম সরবরাহ হচ্ছে জাতীয় গ্রিডে। যেখানে গ্যাস সংকট মোকাবিলায় ১০০০ মিলিয়ন ঘনফুট এলএনজি সরবরাহ করার কথা, সেখানে ডিসেম্বরে সরবরাহ হয়েছে প্রায় ২৫০ মিলিয়ন। জানুয়ারির শেষে তা কিছুটা বেড়ে হয়েছে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুটে। ফলে বরাবরের মতো ভোগান্তিতে পড়তে চলেছেন গ্রাহকরা।

বিদ্যুতের ক্ষেত্রে সরকার যতটা উদ্যোগ নিয়েছে, গ্যাসের বেলায় তা নেই। যতদিন বিদ্যুতের মতো গ্যাসের বেলায় কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হবে না, ততদিন এ সমস্যার সমাধান হবে না বলে মনে করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
এদিকে এলএনজি আমদানিতে অনেক বিষয়ে স্পষ্ট সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। এতে এলএনজির দাম নিয়ে সমস্যা তৈরি হয়েছে। গ্যাস আনতে কার্গো ভাড়ার ক্ষেত্রেও নানা সমস্যা দেখা দিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞরা।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ম. তামিম ইনকিলাবকে বলেন, দেশীয় গ্যাসক্ষেত্রের উৎপাদন ক্রমেই কমছে। হুট করে বড় কোনও ফিল্ড থেকে উৎপাদন বন্ধ হলে মহাসংকটে পড়বো। গ্যাস সংকট কাটাতে বিদ্যুৎ উৎপাদনে কয়লার ব্যবহার বাড়াতে হতে পারে। এলএনজি ভিত্তিক বিদ্যুৎ আসার বিষয়ে বেশ কয়েকটি এমওইউ করা হয়েছে। তবে কাজ এগুচ্ছে না। বড় আকারের স্টোরেজ করা দরকার। তিনি বলেন, এলএনজি আমদানির ক্ষেত্রে যাদের সঙ্গে চুক্তি হয়েছিল, সেখানে থেকেই আমাদের মূল চাহিদা মেটাতে হবে। এ ছাড়া কমদামে স্পট মার্কেট থেকে কিনতে পারি।

জানা গেছে, দেশে গ্যাসের উৎপাদন ২ হাজার ৮৮৯ মিলিয়ন ঘনফুট। এরমধ্যে বাংলাদেশ গ্যাস ফিল্ড থেকে আসছে ৬৬১, সিলেট গ্যাস ফিল্ড থেকে ৯৬, বাপেক্সের ফিল্ডগুলো থেকে ৮৪ এবং এলএনজি আসছে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট। আন্তর্জাতিক তেল-গ্যাস কোম্পানিগুলোর অধীনে থাকা ক্ষেত্রেগুলো থেকে আসছে ১৬১৫ মিলিয়ন ঘনফুট। দেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা ৩ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট। সরবরাহ হচ্ছে ২ হাজার ৮০০ থেকে ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট। এর সঙ্গে এলএনজি সরবরাহ করা হয় আরও ৬০০ মিলিয়ন ঘনফুট। কিন্তু গত ডিসেম্বরে বিশ্ববাজারে এলএনজির দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আমদানি কমে যায়। ফলে জাতীয় গ্রিডে ৪০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস সরবরাহ কমে যায়। এর প্রভাব এরইমধ্যে রাজধানীর বাসাবাড়ি শিল্প-কারখানায় পড়তে শুরু করেছে। ফেব্রæয়ারিতে আরও ২০০ মিলিয়ন এলএনজি যোগ করে মোট ৪০০ মিলিয়ন সরবরাহ করা হলেও সংকট কমছে না জানা গেছে। এমনিতেই পাইপলাইনে কনডেনসেট জমে যাওয়ায় শীতকালে গ্যাসের চাপ ঠিক রাখতে কম্প্রেসার বাড়াতে হয় বিতরণ কোম্পানিগুলোকে। গ্যাস সরবরাহ কম হওয়ার এটিও কারণ বলে উল্লেখ করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা
শ্যামলী, আগারগাঁও, মোহাম্মদপুর, বসিলা, কোরানীগঞ্জ, পুরান ঢাকা, লালবাগ, রামপুরা, গাবতলী, মিরপুর ও উত্তরায় গ্যাসের সরবরাহ দিনের বেলায় বেশ কম বলেও অভিযোগ পাওয়া গেছে। রাজধানী মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা সালমা রশিদ বলেন, প্রতিবছর শীত এলেই বেড়ে যায় গ্যাসের সমস্যা। এবার মনে হয় আরও বেশি। সকালে গ্যাস থাকেই না, আসে বিকেলে। সারাদিন রান্নাই হয় না। একই অভিযোগ আদাবারের শাজানাজ পারভীনের। তিনি বলেন, দুপুরে কখনও কাউকে দাওয়াত দিতে পারি না। নিজেরাই রান্না করার গ্যাস পাই না। গত কয়েক বছরের তুলনায় গ্যাসের সমস্যা আরও পড়েছে। আগে চাপ কম থাকত। এখন একেবারেই নেই।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন