মঙ্গলবার, ৩০ নভেম্বর ২০২১, ১৫ অগ্রহায়ণ ১৪২৮, ২৪ রবিউস সানী ১৪৪৩ হিজরী

জাতীয় সংবাদ

শেখ হাসিনার নোবেল না পাওয়ার পেছনে ভারত ও আমলারা দায়ী : ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী

স্টাফ রিপোর্টার | প্রকাশের সময় : ১১ অক্টোবর, ২০২১, ১২:০২ এএম

গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠাতা ডা. জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নোবেল না পাওয়ার পেছনে ভারত এবং আমাদের দেশের আমলারা দায়ী। প্রধানমন্ত্রী নোবেল প্রাইজ পেলেন না কেন তা নিয়ে বিশ্লেষণ হওয়া দরকার। এর কারণ ভারত ও তাদের অনুগত এদেশীয় আমলারা। প্রধানমন্ত্রী যদি অসলো (নরওয়ের রাজধানী) যেতেন তাহলে নোবেল কমিটিকে বোঝাতে পারতেন দেশের জন্য তিনি কী কী করেছেন। গতকাল (১০ অক্টোবর) ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘নাগরিকের ভোটাধিকার, স্বাধীন নির্বাচন কমিশন কোন পথে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।

জাফরুল্লাহ চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গাদের জন্য জাতিসংঘ সাহায্য করতে চেয়েছে। তারা স্বাক্ষর করলেন। এটা তো ১৫ দিন আগেও করতে পারতেন। কেন করতে পারেনি? আমাদের দেশের কিছু আমলা আমাদের থেকে বেতন নেন, কিন্তু ভারতের হুকুমে চলাফেরা করেন। ঠিক এই কারণে আমরা আজ একটা নোবেল পুরস্কার হারালাম।

আলোচনা সভা যৌথভাবে আয়োজন করে গণসংহতি আন্দোলন, রাষ্ট্রচিন্তা ও ভাসানী পরিষদ। সভায় অংশ নেন গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারী জোনায়েদ সাকি, নির্বাহী সমন্বয়কারী (ভারপ্রাপ্ত) আবুল হাসান রুবেল, বীর মুক্তিযোদ্ধা নঈম জাহাঙ্গীর, রাষ্ট্র সংস্কার আন্দোলনের সদস্য অ্যাডভোকেট হাসনাত কাইয়ুম ও ভাসানী অনুসারী পরিষদের সদস্য ব্যারিস্টার সাদিয়া আরমান।

অনুষ্ঠানে মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব বীরমুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু। সভা পরিচালনা করেন গণসংহতি আন্দোলনের সম্পাদকমন্ডলীর সদস্য জুলহাস নাইন বাবু।

গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়ক জোনায়েদ সাকি তার বক্তব্যে নির্বাচন কমিশন গঠনে রাজনৈতিক সমঝোতায় আসার জন্য ক্ষমতাসীন আওয়ামী লীগের প্রতি আহবান জানান। তিনি বলেন, রক্তপাত এড়িয়ে, অরাজনৈতিক প্রক্রিয়া এড়িয়ে যদি আমরা কোনও সমাধানে পৌঁছাতে চাই, তার জন্য প্রয়োজন গণতান্ত্রিক উত্তরণে রাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছানো। না- হলে সকল রাজনৈতিক দল ঐক্যবদ্ধ হয়ে তাদেরকে বাধ্য করতে হবে। ‘নতুন রিপাবলিক (প্রজাতন্ত্র)’ তৈরির পথে অগ্রসর হতে হবে।

নির্বাচন কমিশন গঠন প্রসঙ্গে জোনায়েদ সাকি বলেন, আইন করে নির্বাচন কমিশন সংস্কার করা যাবে না। কেননা, এই সরকারের তৈরি ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন আমরা দেখেছি। জনগণের স্বার্থের পক্ষের কোনও আইন তৈরির ক্ষমতা এই সরকারের নেই। এই সরকারের অধীনে কোনও নির্বাচন আইন চাই না।

সাকি বলেন, প্রথম বিষয় হলো বর্তমান সরকারকে পদত্যাগ করতে হবে এবং অন্তর্র্বতী সরকারের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করতে হবে। ভোটাধিকারকে একটি স্থায়ী অধিকার হিসেবে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। এটাই এখন একদফার লড়াই।

সভায় মূল প্রবন্ধ পাঠ করেন ভাসানী অনুসারী পরিষদের মহাসচিব বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম বাবলু। তিনি বলেন, তত্ত¡াবধায়ক সরকারের অধীনে নির্বাচন করে কোনও সরকার পরপর দুইবার ক্ষমতায় আসতে পারেনি। মানুষ ভোটের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত জানিয়েছে। কিন্তু তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা তুলে দিয়ে মানুষের ভোটের অধিকারকেই কেড়ে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, ত্রয়োদশ সংশোধনী সম্পর্কিত মামলায় ১০ জন এমিকাস কিউরির মধ্যে ৮ জনই এর বিপক্ষে রায় দেন। ৭ জন বিচারকের মধ্যে ৩ জন ভিন্নমত পোষণ করেন। কিন্তু বিচারপতি খাইরুল হক তার সঙ্গীয় ৩ জনকে নিয়ে সিঙ্গেল মেজরিটিতে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা বাতিল ঘোষণা করেন।

 

Thank you for your decesion. Show Result
সর্বমোট মন্তব্য (0)

এ সংক্রান্ত আরও খবর

এ বিভাগের অন্যান্য সংবাদ

মোবাইল অ্যাপস ডাউনলোড করুন